> এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩৮ - Romantic Love Story - Boipoka365
-->

এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩৮ - Romantic Love Story - Boipoka365


Romantic Love Story


ঘড়ির কাঁটা প্রায় মধ্যরাতে গড়িয়েছে। সন্ধ্যাবেলা রায়না আর তনয় চলে গেছে। সবকিছু গোছগাছ করে ঘুমাতে যেতে দেরি হয়ে গেল তুরার। ওড়নায় হাত মুছতে মুছতে ঘরে গিয়ে ঢুকলো তুরা। ঘরের আলো নেভানো।বারান্দার টিমটিমে আলোটা জ্বলছে। সেই আলোতেই আবরারকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বাইরে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে।মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। কদিন ধরে যা গরম পরেছে,তাতে বৃষ্টির ভীষণ প্রয়োজন।কিন্তু বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি এখনও মাটিতে নেমে আসছে না।

তুরা মুখে হাসি ঝুলিয়ে বারান্দার দিকে পা বাড়ালো।আজ তুরার একটা বিশেষ ব্যাপার আছে।ব্যাপারটা হলো,আজ রাত বারোটার পর থেকে তুরার জন্মদিন।তুরা একবার আবরারকে বলেছিল তার জন্ম তারিখ।কিন্তু তুরা নিশ্চিত যে আবরার সেটা ভুলে বসে আছে।তুরার বাবারও এসব বিশেষ দিন তারিখ ভুলে যাবার স্বভাব আছে।খুব ছোটবেলার জন্মদিনে বাবার এই ভুলে যাওয়ার জন্য তুরা সারাদিন মুখ ফুলিয়ে বসে থাকতো।মেয়ের অভিমান দেখে মা বাবাকে টেলিফোন করে মনে করিয়ে দিতো যে আজ তার কন্যার জন্মদিন।রাতে বাড়ি ফেরার সময় উপহার নিয়ে ফিরলে তবেই মেয়ের অভিমান ভাঙতো।তবে তুলি কখনো এমনভাবে মন খারাপ করে বসে থাকে না।নিজের জন্মদিনে নিজেই বাবার কাছে গিয়ে বলে,বাবা,আজ আমার জন্মদিন।তুমি ভুলে গেছো।তাড়াতাড়ি আমাকে একবার শুভ জন্মদিন বলে দাও তো।

মাহবুব সাহেব তখন লজ্জিত ভঙ্গিতে বলেন,আমার এসব দিন তারিখ মনে থাকে না রে মা।তুরা ঠিক করেছে এখন থেকে সেও তুলির পথই অনুসরণ করবে।শুধু শুধু মন খারাপ করে কোনো লাভ নেই।তাছাড়া জন্মদিন ভুলে যাওয়াটা তেমন গুরুতর কিছু নয়। 

.

তুরা আবরারের পাশে গিয়ে বসলো।চুলের খোঁপা খুলে দিয়ে চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে দিতে দিতে বলল, 

"এখানে বসে আছ যে?ঘুমাবে না?"

আবরার হেসে বলল, 

"তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।"

"আমার জন্য অপেক্ষা করছিলে?নাকি এখানে বসে সিগারেট খাচ্ছিলে?"

আবরার হেসে ফেললো।তুরা গাল ফুলিয়ে বলল, 

"বেলাজের মতো হাসে!"

আবরারের হাসি বেড়ে গেল।তুরা দৃষ্টি ফিরিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকালো।বাতাসে তুরার চুল উড়ছে।চোখেমুখে লাগছে বাতাসের ছোঁয়া।আবরার তুরার গা ঘেঁষে বসলো।তুরা বলল, 

"আজ একটা বিশেষ দিন আছে।বলো তো কি?"

আবরার ভ্রু কুঁচকে তাকালো।কি বিশেষ দিন সেটা সে মনে করতে পারছে না।আজ কি তাদের বিবাহবার্ষিকী?না,তা হওয়ার কথা নয়।তাদের বিয়ে তো হয়েছিল বর্ষাকালে,এক ঝুম বর্ষণের দিনে।তাহলে আজ কি?আবরার মনে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো।

তুরা হেসে ফেললো।আবরারের কাঁধে মাথা রেখে বলল, 

"আজ আমার জন্মদিন।জানতাম তোমার মনে থাকবে না।"

আবরার ইতস্তত করে বলল, 

"সরি,মনে ছিল না।তুমি কি মন খারাপ করেছ?"

তুরা মাথা নাড়িয়ে বলল, 

"উঁহু,না।এবার আমাকে শুভ জন্মদিন বলে দাও।"

আবরার হাসলো।তুরার চুল উড়ে তার চোখেমুখে পরছে।স্ত্রীর চুলের অদ্ভুত সৌরভের মাদকতা তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।সে তুরাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিলো।কপালে চুমু খেয়ে চোখে চোখ রেখে বলল, 

"শুভ জন্মদিন।দোয়া করি,শত পুত্র কন্যার জননী হও তুমি।"

বলেই তুরার গলায় মুখ ডোবালো।তুরার সারা শরীর জমে গেল।সে চোখ বন্ধ করে ফেললো।হুট করে ঘরের ভেতর থেকে তুরার ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠলো।আবরার আর তুরা চমকে গেল।তুরা তাড়াতাড়ি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল।

তুরা ফোন হাতে তুললো।তুলি ফোন করছে।ফোন ধরে চিন্তিত গলায় বলল, 

"কিরে,তুলি?এত রাতে ফোন করলি যে?সব ঠিক আছে তো?"

ওপাশ থেকে তুলির উচ্ছ্বসিত কন্ঠ শোনা গেল,

"যাক,ফোনটা তাহলে ধরলে!আমি তো ভেবেছিলাম বরের সাথে ভালোবাসাবাসিতে ব্যস্ত আছ।"

তুলির চাপা হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল।তুরা প্রচন্ড রেগে বলল, 

"তুলি!তুই মহা অসভ্য হয়েছিস।ফোন কেন করেছিস সেটা বল।"

তুলি হাসতে হাসতে বলল, 

"শুভ জন্মদিন,মেজপা।"

তুরার সমস্ত বিরক্তি এক নিমিষেই কেটে গেল,ঠোঁটে ফুটে উঠলো আনন্দের হাসি।বিয়ের আগের প্রত্যেক জন্মদিনেই তুলি তার জন্য কোনো না কোনো উপহার আনতো।ঠিক রাত বারোটাতেই সেটা দিতো।তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও তুলি ভুলে যায় নি!আনন্দে তুরার চোখে জল আসার উপক্রম।সে বোকার মতো বলল, 

"তুই এখনও মনে রেখেছিস?"

তুলি হেসে ফেলে বলল, 

"মনে থাকবে না?কি যে তুমি বলো!শুনো,এখন আবার কাঁদতে বসো না যেন।কাল দুপুরে বাসায় এসো।মা বলেছে আসতে।এখন রাখছি।তুমি বরের সাথে নিশ্চিন্তে প্রেম করো।আমি আর বিরক্ত করবো না।"

কল কেটে গেল।তুলির শেষ কথায় তুরার মেজাজ আবার খারাপ হয়ে গেল।এই তুলিটা বিরাট বদমাশ!তুরা ফোন বালিশের পাশে রেখে ঘুরে তাকালো।পিছনে ঘুরে তাকাতেই আবরার বলল, 

"আমার প্রেমে হাড্ডি হওয়ার জন্য তোমার বোনটাই শুধু বাকি ছিল।"

তুরা ঠোঁট টিপে হেসে বলল, 

"চলো,ঘুমিয়ে পরি।কাল অফিস আছে।"

বলেই বিছানার একপাশে শুয়ে পরলো।আবরার ধীরে ধীরে তুরার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।

.


সকাল নয়টা।তুরা মাত্রই অফিসে ঢুকেছে।রিসিপশনের মেয়েটা তুরাকে দেখামাত্র হাসিমুখে বলল, 

"গুড মর্নিং,ম্যাম।অ্যান্ড অলসো হ্যাপি বার্থডে।"

তুরা দাঁড়িয়ে গেল।হাসিমুখে বলল, 

"ধন্যবাদ।কিন্তু আপনি জানলেন কি করে?"

"কি বলছেন,ম্যাম?জানবো না?স্যার,মানে আপনার বাবা,আজ অফিসে এসেই সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছেন।আর বলেছেন,আপনার জন্য দোয়া করতে।"

তুরা হাসলো।খানিকটা অবাকও হলো।বাবা  মনে রেখেছে-ব্যাপারটা বিস্ময়কর।খুব সম্ভবত তুলি মনে করিয়ে দিয়েছে।

মেয়েটি আবার বলল, 

"ম্যাম,আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।খয়েরি রঙের জামদানিটা আপনাকে খুব মানিয়েছে।"

তুরা হেসে বলল, 

"শাড়িটা আমার বর আমাকে কিনে দিয়েছে।"

মেয়েটি হাসলো।তুরা হাসিমুখেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলো।সোজা গিয়ে ঢুকলো তার বাবার কেবিনে।মাহবুব সাহেব কেবিনে বসে চা খাচ্ছিলেন।তুরা দরজা ঠেলে ভেতরে যেতে যেতে বলল, 

"বাবা,শুভ সকাল।"

মাহবুব সাহেব সামনে তাকালেন।মেয়েকে দেখে হাসিমুখে বললেন, 

"এসেছিস,মা?আয়।"

তুরা তার বাবার কাছে গিয়ে একহাতে 

 চেয়ারে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো।বাচ্চাদের মতো করে বলল, 

"কি হলো,বাবা?শুভ জন্মদিন বলবে না?"

মাহবুব সাহেব হাসলেন।মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, 

"শুভ জন্মদিন,মা আমার।যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাক।"

কথাটা বলতে গিয়ে মাহবুব সাহেবের চোখে হঠাৎ জল চলে এলো।তুরা হাত বাড়িয়ে বাবার চোখ মুছে দিলো।মাহবুব সাহেব প্রাণ ভরে মেয়েকে দোয়া করলেন।তার মেয়েটা এই অল্প বয়সেই অনেক বড় কষ্ট পেয়েছে।ভবিষ্যতে যেন আর কোনো কষ্ট তাকে ছুঁতে না পারে।সে যেন দুধেভাতে থাকে।

_______________

ভরদুপুর।তুরা ধানমন্ডিতে এসে উপস্থিত হয়েছে।রিকশা থেকে নেমে দরজার কাছে যেতেই দারোয়ান মজিদ মিয়া বলল,

"শুভ জন্মদিন,মা।"

তুরা হেসে বলল, 

"ধন্যবাদ,চাচা।তুমি ভালো আছ?"

মজিদ মিয়া একগাল হেসে বলল, 

"আল্লাহ রাখছে,মা।তুমি আছ কেমন?"

"ভালো,চাচা।"

"যাও,মা।ভেতরে যাও।আইজ ম্যালা কিছু রাঁনছে তোমার মা।"

তুরা মৃদু হেসে ভেতরে পা বাড়ালো।একবার কলিং বেলের সুইচ টিপলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজা খুলে গেল।দরজা খুলেছে তুলি।সে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল, 

"মেজপা, এসেছ?মিডলক্লাস দুলাভাই কোথায়?আসে নি?"

তুরা উত্তর দিলো,

"ও আসবে কি করে?ওর অফিস আছে না?সর,ভেতরে যেতে দে।"

তুরা ভেতরে চলে গেল।তুলি সাথে যেতে যেতে বলল, 

"মেজপা,তোমার এই শাড়িটা খুব সুন্দর।আমাকে একবার পরতে দেবে?"

"না।"

"না কেন?আবার ফেরত দিয়ে দেবো তো।"

"এই শাড়ি নয়।তুই অন্য শাড়ি নিস।"

তুরা ড্রয়িং রুমে গিয়ে হাত পা ছড়িয়ে বসে পরলো।তুলি পাশে বসলো।হেসে বলল, 

"বুঝেছি।এই শাড়ি মিডল দুলাভাই পছন্দ করে কিনে দিয়েছে, না?সেজন্যই দিতে চাইছ না।কি প্রেম!"

তুরা এই প্রশ্নের উত্তর দিলো না।ধমক দিয়ে বলল , 

"তুই থাম তো।মা কোথায়?"

"রান্নাঘরে।খাবার রেডি করছে।দাঁড়াও,ডেকে আনছি।"

তুলি উঠে রান্নাঘরের দিকে গেল।কিছুক্ষণ পর রত্না বেগম ছুটে এলেন।তুরাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, 

"শুভ জন্মদিন,মা।"

তুরা মায়ের বুকে মাথা রেখেই বলল, 

"ভালো আছ,মা?"

"আছি,খুব ভালো আছি।তুই ভালো আছিস?"

তুরা হেসে মাথা নাড়লো।রত্না বেগম তুরার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, 

"তুরা,তোর কি অফিসের কাজের জন্য অসুবিধা হচ্ছে?"

"অসুবিধা হবে কেন?"

রত্না বেগম আর কিছু বলার আগেই তুলি বলল, 

"মা,খুব ক্ষিদে লেগেছে।এতক্ষণ তো মেজ আপার জন্য বসিয়ে রেখেছিলে।এখন তো খেতে দাও।"

রত্না বেগম হঠাৎ মনে পরার ভঙ্গিতে বললেন, 

"হ্যাঁ,চল।খেতে চল।তুরা,হাতমুখ ধুয়ে আয়।আমি খাবার দিচ্ছি।"

রত্না বেগম চলে গেলেন।তুলি তুরার দিকে ঝুঁকে এসে বলল, 

"এই মেজপা,দুলাভাই তোমাকে কাল উইশ করেছিল?"

তুরা লাজুক হেসে বলল, 

"হ্যাঁ।তবে আমি মনে করিয়ে দিয়েছি যে আমার জন্মদিন।"

"মিডল দুলাভাইও কি বাবার মতো ভুলে যায়?"

তুরা হেসে বলল, 

"হ্যাঁ।"

"তোমাকে কোনো উপহার দেয় নি,না?মিডল দুলাভাই খুব বোরিং ধরণের মানুষ।"

তুরা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, 

"ও মোটেও বোরিং নয়।জানিস?ও বলেছে আমাকে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে যাবে?"

তুলি চোখ টিপে বলল, 

"বেড়াতে?নাকি হানিমুন করতে?"

প্রশ্নটা করেই তুলি হেসে ফেললো।তুরা ঠাস করে তুলির গালে চড় বসিয়ে দিলো।তারপর উঠে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।

.

হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসেছে তুরা।রত্না বেগম খাবার দিয়ে টেবিল ভর্তি করে ফেলেছেন।তুরা অবাক হয় নি।তাদের তিন বোনের জন্মদিনে উনি এরকম করেই থাকেন।রত্না বেগম তুরাকে খাইয়ে দিচ্ছেন।তুলি বলে উঠলো,

"মা,তুমি খুব একচোখা।"

রত্না বেগম কমলার দিকে তাকিয়ে বললেন, 

"কমলা,পায়েসটা তুলে আন।"

কমলা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।রত্না বেগম এবার তুলির দিকে তাকিয়ে বললেন, 

"তুই খুব হিংসুটে।একদিনই তো ওকে খাইয়ে দিচ্ছি।ও কি আর সবসময় আমার কাছে থাকে নাকি?

তুলি বলল, 

"তাই বলে এত বৈষম্য?আমি তো পাশেই বসে আছি,মা।আমাকেও একটু খাইয়ে দাও।"

রত্না বেগম হাসলেন।তারপর তুলিকেও খাইয়ে দিতে শুরু করলেন।তুরা আর তুলি রীতিমতো কাড়াকাড়ি করে খেতে শুরু করেছে।রত্না বেগম দুই কন্যার খুনসুটি দেখে হাসেন।উনার নিজের ছোটবেলার কথা মনে পরে।দুই বোনের খুনসুটিময় সম্পর্ক কি অদ্ভুত সুন্দর! 

.


বিকাল পাঁচটা।আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছে;যাকে বলে মুষলধারার বৃষ্টি।দুপুরের রোদেলা আমেজ চোখের পলকেই মিলিয়ে গেছে।তুরা গাড়িতে বসে আছে।বৃষ্টির পানিতে গাড়ির উইন্ডো শিল্ড ভিজে যাচ্ছে।সামনে ওয়াইপার চলছে।তুরার হাতে একটা ছোট্ট বাক্স,সেই বাক্সের ভেতরে একটা ছোট্ট সাদা চকচকে পাথরের নাকফুল।এটা তুলি তুরাকে দিয়েছে উপহার হিসেবে।নাকফুলটা উল্টেপাল্টে দেখে তুরা সেটা ব্যাগে রেখে দিলো।ফোন বের করে সময় দেখতেই তার কপালে ভাঁজ পরলো।তাড়াতাড়ি পৌঁছানো নিয়ে সে চিন্তিত।আজও কি আবরারের আগে ফিরতে পারবে না সে?

তুরা সামনে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 

"ড্রাইভার চাচা,উত্তরা পৌঁছাতে কত সময় লাগবে?"

ড্রাইভার উত্তর দিলেন,

"বলতে পারতেছি না,আম্মা।যা বৃষ্টি ধরছে।রাস্তা নির্ঘাত ডুইবা গেছে।"

তুরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।বৃষ্টির পানিতে ঘোলা হয়ে আসা কাঁচের মধ্য দিয়ে বাইরে তাকালো সে।কাঁচে আছড়ে পরা জলের ধারা ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।আবছা আবছা দৃশ্যগুলো হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো তুলোর মতো লাগছে।গাড়িটা রাস্তার মোড়ে উঠতেই তুরার মনে হলো,সে যেন আবরারকে দেখলো!তুরা তাড়াহুড়ো করে বলল, 

"চাচা,গাড়ি থামান।তাড়াতাড়ি।"

গাড়ি থেমে গেল।তুরা গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বাইরে তাকালো।খানিক দূরে একটা দোকানের ছাউনির তলায় সত্যিই আবরার দাঁড়িয়ে আছে।তুরা অত্যন্ত আশ্চর্য হলো।আবরার এখানে কি করছে?

তুরা তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ছাতা বের করলো।বেরুনোর আগে তার মা জোর করে একটা ছাতা গুজে দিয়েছিল হাতে।ভাগ্যিস দিয়েছিল!তুরা ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলল, 

"চাচা,আপনি বাড়ি চলে যান।"

বলেই ছাতা মাথায় করে সে গাড়ি থেকে নেমে পরলো।ড্রাইভার বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে রইলো।কিছুই বুঝতে পারলো না।এই ঝুম বৃষ্টিতে মেয়েটা রাস্তায় নেমে পরলো কেন?এই বাড়ির মেয়েগুলো কেমন যেন আজব কিসিমের।এদের কাজকর্মের মাথামুন্ডু ড্রাইভার সাহেব কিছুই বোঝেন না।এখন বাড়িতে ফিরে গেলে চাকরি থাকবে তো?

.

তুরা ছাতা মাথায় ধরে আবরারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।আবরার আপাদমস্তক ভিজে দাঁড়িয়ে আছে।তুরা গাড়ি থেকে নেমে এতটুকু আসতেই অনেকটা ভিজে গিয়েছে।শাড়ির নিচের দিকে জলে কাদায় মাখামাখি হয়ে একাকার।কপালে ভেজা চুল লেপ্টে পরে আছে,চোখেমুখে বৃষ্টির ছিঁটেফোঁটা।আবরার বলল, 

"তুমি এসেছ?আমি তো ভাবলাম গাড়ি করে বোধহয় চলে যাবে।আমার সাথে দেখাই হবে না।"

তুরা বিস্ময় নিয়ে বলল, 

"তুমি এখানে কি করছো?বাড়িতে যাও নি কেন?আমাকে তো বলো নি তুমি আসবে!"

আবরার স্নিগ্ধ হেসে বলল, 

"তোমাকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম।"

তুরা হাসলো।অদ্ভুত ভালো লাগায় তার মন ভরে গেল।সে ছাতাটা আবরারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

"ধরো।"

আবরার ডানহাতে ছাতা ধরলো।তুরা আবরারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে দু'হাতে আবরারের বামহাত আঁকড়ে ধরলো।মৃদু হেসে বলল, 

"চলো।"

আবরার বাধ্য স্বামীর মতো হাঁটতে শুরু করলো।আবরার আর তুরা ফুটপাত ধরে হাঁটছে।ছাতা বৃষ্টি আটকাতে পারছে না।তারা দুজনেই ভিজে যাচ্ছে।দুজনের ভেতরেই স্নিগ্ধ সুন্দর অনুভূতি কাজ করছে।বৃষ্টিভেজা বিকালে প্রিয় মানুষের হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটার অনুভূতি কি আশ্চর্য রকমের সুন্দর!

.



চলবে.........





Writer: Alo Rahman 

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner