![]() |
Romantic Love Story |
বর্ষার শুরুর দিক। তুরা সকাল থেকে ঘুরেফিরে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। এখন বেলা গড়িয়ে দুপুর প্রায়।এখনও বৃষ্টি নামছে না কেন? এ কেমন বর্ষাকাল?
তুরা কাঁচের জানালার ভেতর দিয়ে আরেকবার বাইরে তাকালো।বৃষ্টি তো দূর,মেঘেরও দেখা নেই।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাজে মন দিলো।তার সামনে একগাদা ফাইল জমা হয়ে পরে আছে।তার বাবা আজ অফিসে আসেন নি।তাই সব কাজ তাকেই সামলাতে হবে।কতক্ষণে সব কাজ শেষ হবে,সেটা সে বুঝতে পারছে না।আজও কি বাড়ি ফিরতে দেরি হবে তার?বেশিরভাগ দিনেই বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।ব্যাপারটা মোটেও ভালো হচ্ছে না।একবার বাবাকে দেখতে যাওয়ারও দরকার ছিল।বাবার অসুস্থতা কমলো কিনা কে জানে?এত চিন্তা কি একসাথে করা যায়?
তুরার ফোন বেজে উঠলো।আবরার ফোন করছে।তুরা হাতের ফাইল উল্টে রেখে একবার ঘড়ির দিকে তাকালো।দুপুর ২:২০।প্রতিদিন এই সময় তুরা আবরারকে ফোন করে।আজ তা করে উঠতে পারে নি।তুরা তাড়াতাড়ি ফোন ধরলো।অপরাধীর মতো বলল,
"সরি,আজ তোমাকে ফোন করে উঠতে পারি নি।অনেক বেশি কাজ তো,তাই!"
ওপাশ থেকে আবরার স্নিগ্ধ গলায় বলল,
"সরির কিছু নেই।প্রতিদিন তোমাকেই ফোন করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।"
তুরার মন ভালো লাগায় ভরে গেল।তার ঠোঁটে হাসি।সে কোমল গলায় প্রশ্ন করলো,
"তুমি খেয়েছ?"
"হ্যাঁ।তুমি?"
"আব...এখনও খাই নি।কাজের চাপে খেয়ালই ছিল না।এক্ষুনি খাবো।"
"আচ্ছা,ঠিক আছে।আজ বাড়ি ফিরবে কখন?"
তুরা ইতস্তত করে বলল,
"আজ দেরি হতে পারে।আসলে বাবার শরীর খারাপ।আজ অফিসে আসে নি।তাই সব আমাকেই সামলাতে হচ্ছে।"
"বাবার শরীর খারাপ?কি হয়েছে?"
"আজ সকালে মাথা ঘুরে পরে গিয়েছিল।সম্ভবত প্রেশার ফল করেছে।তাই আমি বললাম অফিসে আসার দরকার নেই।ভেবেছিলাম একবার বাবাকে দেখে আসবো।কিন্তু কাজ শেষ হতেই অনেকটা সময় লাগবে।যাই হোক,তুমি চিন্তা করো না।আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে আসবো।"
আবরার মৃদু হেসে বলল,
"এক কাজ করলে কেমন হয়,তুরা?আমি অফিস শেষে তোমাকে নিয়ে ধানমন্ডি যাই।তারপর বাবার সাথে দেখা করে দুজন একসাথে বাড়ি ফিরি?"
তুরা আনন্দে স্তব্ধ হয়ে গেল।খুশিতে তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো।সামান্য কয়েকটা কথায় এত খুশি লাগছে কেন তুরা বুঝতে পারছে না।সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
"সত্যি!তুমি সত্যি আসবে?"
"হ্যাঁ,আসবো।এখন রাখি।কাজগুলো শেষ করতে হবে।"
কল কেটে গেল।তুরা ফোন টেবিলে রেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো।বুকের ভেতরে ভীষণ শান্তি শান্তি লাগছে।এই মানুষটা এত ভালো কেন?সে সত্যিই ভাগ্যবতী।লোকে বলে,বিয়ের পরে সময় গড়ানোর সাথে সাথে নাকি সম্পর্ক ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়।সত্যিই কি তাই?তার তো সেরকম মনে হচ্ছে না মোটেও।
.
হঠাৎ করে তুরার কেবিনের ভেতর হুড়মুড় করে কতগুলো মানুষ ঢুকে পরলো।তুরা হকচকিয়ে উঠে দাঁড়ালো।বিস্ময় নিয়ে দেখলো,কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রেখা,মাহিন,মিতি,তিতি আর তুলি।তুরা তাকাতেই সকলে একসাথে চিৎকার করে বলল,
"সারপ্রাইজ!"
তুরার বিস্ময় কাটছে না।সে চোখ গোল গোল করে বলল,
"তোমরা!এখানে?"
মিতি আর তিতি "তুরা মা" বলে চিৎকার করে দৌড়ে তুরার কাছে গেল।তুরা দুজনকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলো।তারপর রেখার দিকে এগিয়ে গেল।রেখাকে জড়িয়ে ধরে চট করে কেঁদে ফেললো।মাহিন বলল,
"তুরা,তোমার আপার সাথে দেখা হলেই তার গলা জড়িয়ে ধরে তোমার কেঁদে ফেলার ব্যাপারটা এখনও আমি বুঝলাম না।"
তুলি বলে উঠলো,
"আপনি কখনো বুঝবেনও না,দুলাভাই।এসব বুঝতে গেলে মন লাগে।আর আপনি তো যন্ত্র মানব।"
তুরা হেসে ফেললো।রেখাকে ছেড়ে দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল,
"কেমন আছেন,দুলাভাই?"
"তোমার আপা ভালো থাকতে দিচ্ছে কোথায়?আমার কত কাজ পরে আছে চট্টগ্রামে।আর রেখা আমাকে ঢাকায় নিয়ে চলে এলো।"
রেখা ভ্রু কুঁচকে বলল,
"তুমি এভাবে বলছো কেন?চলে যাওয়ার আগে একবার সবার সাথে দেখা করে যাবো না?"
তুরা অবাক হয়ে বলল,
"চলে যাওয়ার আগে মানে?কোথায় যাবে,বড় আপা?"
রেখা মলিন মুখে বলল,
"তোর দুলাভাই এক বছরের এক বিজনেস প্রজেক্টের জন্য কানাডা যাচ্ছে।আমাদেরও নিয়ে যাবে।"
রেখা কিঞ্চিৎ মিথ্যা বলেছে।মাহিন তাদের নিয়ে যেতে মোটেই চায় নি।বরং সে নিজেই জোর করে যাচ্ছে।কেন যেন মাহিনকে একা ছাড়তে তার ভরসা হচ্ছে না।
তুরা হতাশ গলায় বলল,
"এক বছর!"
তুরার মন খারাপ হয়ে গেল।বড় আপা চলে যাবে?সে মিতি তিতির মাথায় হাত বুলিয়ে দুজনকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো।তার কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগছে।যদিও বড় আপা আর মিতি তিতির সাথে তার প্রতিদিন দেখা হয় না,তবুও তো তারা দেশে ছিল।ওরা দেশ ছেড়ে এত দূরে চলে যাবে ভাবতেই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠছে তুরার।
রেখা বলল,
"ভাগ্যিস আজ এসেছিলাম।তা নাহলে বাবার যে শরীর খারাপ হয়েছে,জানতেই পারতাম না।বাবাকে একটু দেখতে তো পেলাম।"
তুরা হঠাৎ মনে পরার ভঙ্গিতে বলল,
"বাবা এখন কেমন আছে?"
তুলি উত্তর দিলো,
"ভালো আছে।এখন চলো তো,মেজপা।"
"কোথায় যাবো?"
"আজ আমরা সবাই মিলে একটু ঘোরাঘুরি করবো।তারপর কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে ডিনার করবো।মিডল দুলাভাইকে ফোন করে আসতে বলো।"
তুরা বিপদে পরে গেল।সে ইতস্তত করে বলল,
"আমার এখনও অনেক কাজ বাকি।এগুলো শেষ করতে হবে।তোমরা একটু বসো।আমি চা দিতে বলি।"
রেখা বলল,
"কাজ পরে করিস।একদিন কম কাজ করলে কিছু হবে না।আর আমরা বাবাকে বলেই এসেছি।"
"কিন্তু আপা,হাতের কাজটা অন্তত শেষ করতে দাও।আর তাছাড়া এখন তো ওকে ফোন করলেও ও আসতে পারবে না।ওর অফিস তো শেষ হয় নি।"
মাহিন বলল,
"আবরারের অফিস শেষ হলে ও আমাদের সাথে জয়েন করবে।ততক্ষণ আমাদের সাথে ঘুরে বেড়াও।"
তুরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
"কিন্তু ও অফিস শেষ করে এখানে আসবে বলেছিল।আমাকে নিয়ে বাবাকে দেখতে যাবে বলেছিল।"
রেখা বলল,
"আমরাও তো ঘুরেফিরে আবার বাড়ি যাবো।তখন আমাদের সাথেই যাস।"
তুলি বলল,
"মেজপা,মিডল দুলাভাইকে এখানে আসতে নিষেধ করো।আমরা যেখানে যাবো সেখানে আসতে বলে দিও।এখন প্লিজ চলো।আমরা কত শখ করে এসেছি।তুমি এমন করছো কেন?চলো প্লিজ।"
তুরা কিছুক্ষণ ইতস্তত করলো।তারপর দ্বিধা নিয়ে বলল,
"ঠিক আছে।"
মিতি আর তিতি আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো।তুরা ফাইলপত্র সব গুছিয়ে রেখে ব্যাগ হাতে নিয়ে সবার সাথে পা বাড়ালো।
.
বিকাল পাঁচটা।ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।রায়না চা বানাচ্ছে।তনয় হয়তো এখনই চলে আসবে।বিদ্যুৎ চলে গেছে।কাঁচের জানালা দিয়ে আসা আবছা আলোয় চা বানাতে বেশ মুশকিল হচ্ছে।আইপিএস সাতদিন হলো নষ্ট হয়ে পরে আছে।ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাল আসার কথা ছিল।কিন্তু সে আসে নি।মোমবাতি জ্বালাতে পারলে ভালো হতো।রায়না উঁচু আওয়াজে টুকুনকে ডাকলো,
"টুকুন,একটা মোমবাতি দিয়ে যা তো বাবা।টুকুন!"
টুকুন আধো অন্ধকারে তার দাদির কাছে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।আম্বিয়া বেগম পরম আদরে নাতিকে গল্প শোনাচ্ছেন।টুকুনের সাড়া পাওয়া গেল না।রায়না অগত্যা চুলা বন্ধ করলো।হুইলচেয়ার ঠেলে নিজের ঘরে গেল।ড্রয়ার হাতড়ে মোমবাতি খুঁজতে শুরু করলো।মোমবাতি পাওয়া গেল না।
রায়না পাশের ঘরে গেল।টুকুনের মনোযোগ পুরোপুরি গল্প শোনার দিকে।রায়না বলল,
"টুকুন,মোমবাতি কোথায় রেখেছ?"
গল্প বলা আর শোনা দুটোতেই ব্যাঘাত ঘটেছে।টুকুন মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি জানি না,মা।"
"তুমি জানো না মানে?অবশ্যই তুমি জানো।ঘরের সমস্ত জিনিস তুমিই তো এলোমেলো করো।"
টুকুন চুপ করে রইলো।আসল ব্যাপারটা হলো,সে সবগুলো মোমবাতি ভেঙে ফেলেছে।আর তারপর রান্নাঘরের ডাস্টবিনে সেগুলো ফেলে দিয়েছে।মা জানতে পারলে নিশ্চয়ই চড় খেতে হবে।এ কারণেই সে বলছে না।রায়না এবার ধমক দিয়ে বলল,
"টুকুন,তাড়াতাড়ি বলো।আমার হাতে সময় নেই।"
আম্বিয়া বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন,
"বৌমা,তুমি অযথা ছেলেটারে বকা দাও কেন?ও তো বলল যে জানে না।"
রায়না ছোট করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
"মা,আপনি ওকে চেনেন না।আমি আজ সকালেও ওকে চার চারটা মোমবাতি নিয়ে খেলতে দেখেছি।আমি ধমক দেওয়ার পর ও সেগুলো অন্য কোথাও সরিয়েছে।"
আম্বিয়া বেগম বললেন,
"একটু নিজেই গিয়ে খুঁজে নাও না,বাপু।অযথা ছেলেটাকে বকাবকি কেন?"
রায়না হতাশ হয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়েই চা বানানো শেষ করবে ঠিক করলো।তারপর না হয় মোমবাতি খুঁজে বের করা যাবে।কিন্তু মোবাইলটাই বা কোথায় রেখেছে?টুকুনই একটু আগে কার্টুন দেখছিল মোবাইলে।উফ!এই ছেলের যন্ত্রণায় আর বাঁচা যাচ্ছে না।রায়না আবার ঘরে গেল।জিজ্ঞেস করলো,
"টুকুন,আমার মোবাইল কোথায় রেখেছ?"
টুকুনের কাছেই ছিল ফোনটা।সে বিছানা থেকে নেমে সেটা রায়নার হাতে দিলো।তারপর অপরাধীর মতো বলল,
"মা,একটা কথা আছে।"
রায়না ভুরু কুঁচকে বলল,
"কি কথা?"
"মারবে না তো?"
"মার খাওয়ার মতো হলে অবশ্যই মারবো।মার খাওয়ার মতো কিছু করেছ?"
টুকুন মাথা নিচু করে বলল,
"মা,সকালে খেলতে গিয়ে মোমবাতিগুলো ভেঙে গেছে।তাই রান্নাঘরের ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছি।সরি,মা।আর করবো না।"
রায়না আবছা আলোয় টুকুনের মুখের দিকে তাকালো।টুকুনকে ভীষণ সুন্দর লাগছে।রায়নার মাঝে মাঝে মনে হয়,তার বাচ্চাটা একেবারে রাজপুত্র।অবশ্য মায়ের চোখকে কোনো বিশ্বাস নেই।কেমন ভয়ার্ত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে টুকুন।এই বুঝি মা চড় বসিয়ে দেয় গালে!
রায়না তা করলো না।উল্টে হেসে ফেললো।তারপর ছেলের গালে হাত রেখে বলল,
"আচ্ছা,যাও।এবারের মতো মাফ করা হলো।আর কখনো করবে না এই কাজ।"
টুকুন খুশি হয়ে আবার দাদির কাছে গল্প শুনতে চলে গেল।রায়না ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।রান্নাঘরে যেতে যেতে সে তনয়কে ফোন করলো।তনয় ফোন ধরলো না।সম্ভবত গাড়ি চালাচ্ছে।রায়না রান্নাঘরে ঢুকতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হুইলচেয়ারের একটা চাকা দরজার কোণায় আটকে গেল।রায়না হুমড়ি খেয়ে হুইলচেয়ার থেকে নিচে পরে গেল।পা বেকায়দায় পরে মুচড়ে গেল।প্রচন্ড ব্যাথায় সে চিৎকার করে উঠলো।মনে হচ্ছে,পা বোধহয় ভেঙেই গেছে।এই মুহূর্তে নিজেকে বড্ড বেশি অসহায় মনে হচ্ছে তার।এত অসহায় কেন সে?কেন উঠে দাঁড়ানোর জোর নেই তার?কেন?মচকে যাওয়া পায়ের যন্ত্রণা তাকে খুব বেশি স্পর্শ করলো না।শুধু নিজের ব্যর্থতার কষ্টে তার চোখে জল চলে এলো।
রায়নার চিৎকার শুনে রান্নাঘরে আম্বিয়া বেগম ছুটে এসেছেন।আধো অন্ধকারে রায়নাকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে তিনি আঁতকে উঠলেন।কাছে গিয়ে বললেন,
"বৌমা,কি হইছে?কিভাবে পরলা,মা?কই ব্যাথা পাইছো?"
রায়না দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে বলল,
"পা...পায়ে।"
টুকুন কাছে গিয়ে মায়ের পায়ে হাত দিলো।হাত দিতেই রায়না ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো।টুকুন ভয়ে গুটিশুটি হয়ে হাত সরিয়ে নিলো।আম্বিয়া বেগম রায়নার কাছে বসলেন।রায়নার পায়ের দিকে ভালো করে তাকালেন।তারপর উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন,
"পা তো ফুলে গেছে,মা।তনয়কে কল দাও।তাড়াতাড়ি করো।"
রায়না কোনোমতে ফোন হাতে তুলে নিলো।ঝাপসা চোখে তনয়ের নাম্বারে ডায়াল করলো।
.
আবরার প্রায় আধঘণ্টা ধরে তুরার বাবার অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ঝিরঝির করে বৃষ্টি পরছে।ছাতার প্রান্ত বেয়ে টিপটিপ করে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পরছে।তুরা এখনও নামছে না কেন সেটা আবরার বুঝতে পারছে না।তুরা কি তবে বেরিয়ে গেছে?কিন্তু তেমন তো হওয়ার কথা নয়।তুরার তো অপেক্ষা করার কথা ছিল।
সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এসেছে।ইতোমধ্যে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টগুলোও জ্বলে উঠেছে।সেই আলোয় বৃষ্টি ফোঁটাগুলোকে হলুদ রঙের ক্রিস্টাল বলে মনে হচ্ছে।রাস্তায় শয়ে শয়ে গাড়ি চলছে।গাড়ির চাকার আঘাতে রাস্তায় জমে থাকা পানিগুলো চারদিকে ছিটকে যাচ্ছে।
আবরার বুক পকেট থেকে ফোন বের করলো।ফোন হাতে নিয়েই সে চমকে গেল।বত্রিশ মিসড কল!সবগুলোই তুরার।তুরা এতবার কল করেছে?অথচ সে কিনা একবারও বুঝতে পারলো না!কেন যে ফোনটা সাইলেন্ট করে রাখে?আবরার তাড়াতাড়ি তুরার নম্বরে ডায়াল করতে চাইলো।কিন্তু এর আগেই তার ফোন বেজে উঠলো।স্ক্রিনে ভেসে উঠলো তনয়ের নাম।আবরার ফোন ধরলো,
"হ্যালো,দুলাভাই।ভালো আছেন?"
তনয় এ প্রশ্নের উত্তর দিলো না।রায়নার দুর্ঘটনার খবর আর হাসপাতালের নামটা জানিয়েই তনয় কল কেটে দিলো।আবরার কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকলো।তারপর তাড়াতাড়ি একটা রিকশা ডেকে উঠে পরলো।রিকশাওয়ালা নীল পলিথিন দিয়ে তাকে ঢেকে দিয়েছে।আবরার বলল,
"মামা, জলদি চলুন।"
রিকশা উলকার বেগে ছুটতে শুরু করেছে।পলিথিনের উপর বৃষ্টি এসে আছড়ে পরছে।আর সৃষ্টি করছে অদ্ভুত এক শব্দ "ঝুম....ঝুম...ঝুম"। সেই শব্দে আবরারের বিস্মরণ ঘটছে।মস্তিষ্কের ভেতরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।সেই সাথে তুরাকে যে একবার ফোন করা উচিত সেটাও তার স্মৃতি থেকে সরে যাচ্ছে।
.
চলবে........
Writer: Alo Rahman
