> প্রিয় অসুখ পর্ব ১, ২ | Bangla Story | বাংলা নতুন গল্প | Bangla New Story
-->

প্রিয় অসুখ পর্ব ১, ২ | Bangla Story | বাংলা নতুন গল্প | Bangla New Story

দরজায় ঠকঠক শব্দ হচ্ছে। শীতুলের পড়নে হাফপ্যান্ট। গোসলে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো এমন সময় দরজায় কেউ কড়া নাড়লো। শীতুল একটা তোয়ালে কোমরে জড়িয়ে দরজার কাছে এসে বললো, 'কে?'

ওপাশ থেকে হোটেল বয় এর কণ্ঠ শোনা গেলো, 'স্যার, শরবত টা নিন।'
শীতুল দরজা খুলে শরবতের গ্লাস হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত গলায় বললো, 'ওয়াও, আনারসের শরবত!'
- 'স্যার, যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে কল করবেন।'

শীতুল দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঢকঢক করে শরবত খেয়ে নিলো। তারপর গোসলে ঢুকতে যাবে এমন সময় আবারো দরজায় ঠকঠক শব্দ। শীতুল একা এই হোটেলে উঠেছে, কাজেই ওর রুমে হোটেল বয় ছাড়া আর কারো আসার প্রশ্ন নেই। এবার তোয়ালে ছাড়াই দরজা খুলে মাথা বের করে দিলো শীতুল। দরজার ওপাশে একজন সুন্দরী হাস্যজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে। শীতুল যথাসম্ভব চেষ্টা করলো নিজেকে দরজার পেছনে আড়াল করার। মুখটাও দরজার আড়ালে ঢেকে জানতে চাইলো, 'কি চাই এখানে?'

মেয়েটা স্পষ্টগলায় বললো, 'আমি ভেতরে আসতে পারি?'
- 'না না, পারেন না।'

মেয়েটি থতমত খেয়ে বললো, 'আমার দরকার আছে, ভেতরে আসতেই হবে।'
- 'আগে বলুন কি দরকার?'
- 'একচুয়েলি এই রুমে আমি ছিলাম। কিছুক্ষণ আগেই রুমটা চেঞ্জ করেছি। আমার একটা জিনিস খুঁজে পাচ্ছি না। যদি কাইন্ডলি একটু..'

শীতুল মেয়েটার মুখের উপর দরজা আটকিয়ে দিয়ে বললো, 'ওয়েট এ মিনিট।'

দ্রুত কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে দরজা খুলে দিয়ে বললো, 'আসুন।'

মেয়েটা এতক্ষণে ভালোভাবে খেয়াল করলো শীতুলের চেহারা। নিষ্পাপ বিশুদ্ধ মুখশ্রী। চোখে মুখে শুভ্রতা লেগে আছে। গায়ের রং দেখে মনেহচ্ছে গরুর দুধে কাঁচা হলুদ ও জাফরান মেশানো। সেই রংয়ের উপরে কালো খোঁচা খোঁচা দাড়ি দেখে অভিভূত হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো মেয়েটি। চোখে পানি এসে গেলো ওর। বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম করে হাতুরি পিঠতে লাগলো। হঠাৎ করে এরকম আবেগী হয়ে পড়ার কারণ বুঝতে না পেরে মাথা নিচু করে ফেললো মেয়েটা। 

মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে শীতুলের অস্থির লাগতে শুরু করেছে। কেন যেন মেয়েটাকে সেই চিঠির মেয়েটা মনেহচ্ছে। যার চিঠি পড়ে পাগলের মত অবস্থা হয়ে গেছের শীতুলের। যখন উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করতে যাবে, তোমার নাম কি শ্যামলতা? তার আগেই মেয়েটা বললো, 'হাই, আমি শ্রবণা।'

আশাহত হয়ে মাথা নিচু করে ফেললো শীতুল। শ্যামলতা ছাড়া আর কারো দিকে তাকিয়ে সময় নষ্ট করা মানেই ওকে ঠকানো। শীতুল বাথরুমের দিকে যেতে যেতে শ্রবণাকে বললো, 'আপনার কি হারিয়েছে সেটা খুঁজে নিন।'

শ্রবণা কিছু বলার আগেই বাথরুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো শীতুল। নাম শুনে এরকম মুখ কালো করলো কেন ছেলেটা? কেউ পরিচিত হতে চাইলে নিজের নামটা বলতে হয় সেই ভদ্রতাও নেই নাকি? মনেমনে নানান কথা ভাবতে ভাবতে শ্রবণা নিজের হারানো জিনিসটা খুঁজতে লাগলো। লোকটার সাথে দুটো কথাও হলো না। এটাই প্রিয় অসুখ কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্যও তো কথা বলতে হবে। মন খারাপ করে রুম থেকে বেরিয়ে এলো শ্রবণা। 

শ্রবণা নিজের রুমে এসে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদে ফেললো। বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। এই ছেলেটাকে একেবারে প্রিয় অসুখের মত দেখতে। প্রিয় অসুখ হচ্ছে শ্রবণার কাল্পনিক স্বপ্নপুরুষ। ভালোবাসা জিনিসটা বুঝতে শেখার পর থেকে ও মনেমনে কল্পনা করতো একটা ছেলে রাজকুমারের মত ওর জীবনে আসবে। যে ভালোবাসায় আগলে রাখবে সবসময়। শ্রবণা প্রতিদিন রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখ বন্ধ করে ছেলেটার কথা ভাবতো। কল্পনায় কত কথাই না হতো! কখনো দূরের কোনো পাহাড়ে হারিয়ে যেতো তার সাথে, কখনো জ্বরের ঘোরে কল্পনা করতো ছেলেটা পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এমনকি রাস্তা হাঁটতে হাঁটতেও কল্পনায় তার সাথে কথা বলতো শ্রবণা। ছেলেটাকে ও অসুখ বলে ডাকতো। কল্পনায় যেরকম অবয়ব এঁকেছিলো, মাঝেমাঝে যাকে নিয়ে ঘুমের ঘোরে হাবিজাবি স্বপ্নও দেখতো। শীতুলকে দেখার পর মনেহচ্ছে এটাই সেই অসুখ। হুবহু সেই কাল্পনিক পুরুষটার মত দেখতে। এটা কি করে সম্ভব! সত্যিই কি সেই মানুষটার দেখা পেলাম আমি? যদি তাই হয় তাহলে সে আমার সাথে এরকম আচরণ কেন করলো? নিজের মনকে নিজেই প্রশ্ন করলো শ্রবণা। 

ডায়েরিতে লিখতে হবে কথাগুলি। শ্রবণার একটা কঠিন অভ্যাস হচ্ছে সেই প্রিয় মানুষটার কাছে সবসময়ই ও ডায়েরিতে চিঠি লিখে রাখতো। এখানেও ব্যাগে করে ডায়েরিটা নিয়ে এসেছে ও। কিন্তু ব্যাগ খুলে সব জামাকাপড় বের করেও ডায়েরিটা পেলোনা। হঠাৎ করেই বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো। ডায়েরি কোথায় গেলো? 

চিন্তায় ভেঙে পড়লো শ্রবণা। ডায়েরিটা কোথাও হারিয়ে গেছে। তারপর পরই মনেহলো সেদিন সিএনজিতে পাওয়ার ব্যাংক বের করার সময় ব্যাগ থেকে সবকিছু বের করতে হয়েছিলো। ডায়েরিটা কোনোভাবে পরে যায়নি তো? 
ওহ শিট! মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে বসে পড়লো শ্রবণা। ডায়েরিটা হারিয়ে গেলে শ্রবণা বাঁচবে কি করে? সেটাতে তো এতদিনের কত জমানো কথা, কত চিঠি, কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে! 

গোসল থেকে বের হয়ে শীতুল বিছানায় এসে বসলো। লেপের ভেতরে ঢুকে ব্যাগ থেকে ডায়েরি বের করলো। গতকাল এই ডায়েরিটা কুড়িয়ে পেয়েছে ও। কিন্তু ডায়েরির লেখাগুলো ওর রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। শুধুমাত্র ডায়েরির কয়েকটা চিঠি পড়েই মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছে শীতুল। ডায়েরি খুলে তৃতীয়বারের মত প্রথম পৃষ্ঠাটা পড়তে আরম্ভ করলো-

'আমার একটা অসুখ আছে। অসুখটা হচ্ছে আমার প্রেমিক। সে আর সবার মত ধরাশায়ী নয়। তাকে দেখলেই চেনা যায়, সে খুবই সহজ কিন্তু ব্যখ্যা করা কঠিন । আমার প্রেমিক শুধু ঠোঁট, স্তন, পেট, কোমর এসবের জন্য পাগল হয়না। ও পাগল আমার মায়াভরা চোখ দুটোর জন্য। আমি জানিনা এ চোখে আদৌ মায়া আছে কিনা। কিন্তু ও আমার চোখ দুটো বাধাই করে রাখতে চায়। ওর ভালো লাগে আমার হাত, আমার আঙুল, যে আঙুল কলম ধরতে জানে, কলমের শক্তিতে জয় করে নিতে পারবে হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা। আমি যতবার হেরে যাই, ততবার ই ও আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। 

আমার চঞ্চল পদচালনা ওকে মুগ্ধ করে, আমার দ্রুত কথা বলার ধরণটা ওকে মুগ্ধ করে, আমার সব অভ্যেস ওর ভালো লাগে। ও কখনো আমার ছবি রাখেনা, ও আর সবার মত বারবার ফোনও দেয়না। চোখে দেখা, অন্তরে ধারণ করা আর অনুভূতি গুলো জমিয়ে রাখার পর যখন দেখা হয়, তখন সব আবেগ চোখে ফুটে ওঠে। সেই পুরনো দিনের মত প্রেমিক হতে চায় ও। এই যান্ত্রিক সম্পর্কগুলো ওর ভালো লাগেনা। ও আমাকে ততবেশি মেসেজ পাঠায় না, তবে যেটা পাঠায় সেই কয়েকটা বাক্যেই যেন হাজার হাজার লুকানো অনুভূতি খুঁজে পাই আমি।

ছেলেটার চোখ জোড়া খুবই মায়াবী, মুখে চাপ দাড়ি আর ভ্রু দুটো অনেক ঘন। গায়ের রংটা আমার চেয়ে একটু উজ্জ্বল। অনেক পরিষ্কার পরিপাটি। তবে ওর বেশী জামা কাপড় নেই। ওকে গোসলের পর অনেক স্নিগ্ধ দেখায়! ভেজা চুল গুলো হাত দিয়ে একবার নাড়লে এতটা মিষ্টি দেখায় যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। ও অনেক কবিতা ভালোবাসে, মাঝেমাঝেই কবিতা শোনায় আমাকে। আর আমার প্রতিটা বাক্যই নাকি ওর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মধুর ধ্বনির মত লাগে! আমার কণ্ঠটাকে আমার চেয়েও বেশী ভালোবাসে ও। ও বলে, সবচেয়ে কঠিন তম সৌন্দর্যের একটি হচ্ছে কণ্ঠ। এরকম আবেগী কণ্ঠ শুনে নাকি একটা জীবন পার করে দেয়া যায়। আর আমার গলার স্বরটা যখন ওঠানামা করে, ওর নাকি ধরে ফেলতে ইচ্ছে করে। আমার ঘুম জড়ানো কণ্ঠটা নাকি ওর খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।

বলাই হয়নি ওর কণ্ঠটা অনেক বেশী সুন্দর! ও কিছু জিজ্ঞেস করলেই আমি কেন যেন কথার ঝুড়ি মেলে বসি। অজান্তেই কত কথা বলে ফেলি। কথা বলতে বলতে একসময় অবাক হয়ে উপভোগ করি ওর নিস্তব্ধতা। বুঝতে পারি, ও আমার কণ্ঠটা ভিতরে ধারণ করছে, ভালোবাসছে, ওর ভাষায় খেয়ে ফেলছে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। তখন ও বলে "শ্যামলতা, তোমার নিশ্বাসের শব্দটা অনেক ধারালো।"

এই একটা বাক্যই আমার ভিতরে ঝড় তুলে দেয়। মনে মনে কত আকুতি ভেসে আসে, অজান্তেই হয়ত চোখে পানি এসে যায়। ও অনুভব করে আমার হৃদয়ের কাঁপুনি। এত প্রখর সে কাঁপুনির ফিল টুকু, আমিও বুঝতে পারি আমার মত করেই ওর ভিতরে ঝড় বইছে। এ যে হৃদয়ের জন্য হৃদয়ের আর্তনাদ! কোথায় একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়, একে অপরকে কাছে পেয়ে চোখে চোখ রেখে অঝোর ধারায় চোখ ভেজাতে ইচ্ছে করে। আত্মার সাথে আত্মার মিলন বুঝি এভাবেই হয়! আর শরীর? হ্যা, আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে দুজনের। আমি বুঝতে পারি আমার চেয়ে তার নিঃশ্বাসের শব্দটা আরো বেশী ধারালো। আমাকে একদম ভেঙে চুড়ে চুড়মার করে দিচ্ছে। বারবার কেঁপে ওঠে আমার শরীর, আমার ঠোঁট। তখন আমার কষ্ট হবে বুঝতে পেরে ও কথা ঘুরায়। 

আমি অসুস্থ হলে সারারাত জেগে প্রার্থনা করে আমার সুস্থতার জন্য, সবসময় আল্লাহর কাছে দুয়া করে আমার সফলতার জন্য, আমার শক্তির জন্য। আমি যেদিন অনিয়ম করে খাই, তার পরদিন সেও একইভাবে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়। আমার খুব জ্বর হলে ও সোজা বাসায় চলে আসে। নিজে বালতিতে পানি তুলে রুমে বয়ে এনে আমার মাথায় ঢালতে থাকে। আমার পরিবার নির্বাক চোখে চেয়ে থাকে, বলার মত ভাষা থাকেনা তাদের। ও মাথা মুছিয়ে দেয়, গামছা ভিজে দিয়ে বলে শরীর টা মুছে ফেলো। সেই মুহুর্তে আমার কেন যেন ইচ্ছে করে ওর কলার টেনে ধরে একদম কাছে টেনে নিয়ে বলি, "তোকে ছাড়া আমি অপূর্ণ, আমি পূর্ণ হতে চাই।"

ইচ্ছে করে আমার জ্বরের ঘোরে দূর্বল হয়ে পড়া শরীর টাকে ওর উপর ছেড়ে দিয়ে বলি, "আমাকে একটু ভালোবাসবে?" আমার উঞ্চ ঠোঁট ওর ঠোঁটে রেখে একবার বলতে ইচ্ছে হয়,"ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি.... '

এতদূর পড়ার পর চোখ বন্ধ করে ফেললো শীতুল। প্রত্যেকটা বাক্য যেন ওকে ভেবে লেখা। সব বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি শীতুলের সাথে মিলে যাচ্ছে। শীতুল ফিসফিস করে বললো, 'ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি...'

শীতুল আবারো ডায়েরির পৃষ্ঠায় চোখ বুলালো,

'ওর ভালোবাসার ধরণ টাকে আমি সম্মান করি। আর ও সম্মান করে আমার সবকিছুকে। আমরা একে অপরকে অনেক ভালোবাসি তাইনা? এটাকে ভালোবাসা বলতে চাইনা। কারণ ও আমার সত্তা, আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে গেছে। শুধু ভালোবাসা শব্দটা দিয়ে তুলনা করলে কম হয়ে যায়। ভালোবাসার চেয়েও যদি প্রখর কোনো শব্দ থাকে, আমরা সেটার মধ্যে পড়ি।

ওর নাম হচ্ছে অসুখ। একটু ক্লিয়ার করে বললে বলতে হয়, আমার হ্যালুসিনেশন। অর্থাৎ আমার একটা রোগ। খুব দীর্ঘ সময় একা থাকতে থাকতে আমার মন একটা মানুষকে কল্পনা করে নিয়েছে, দিনদিন কল্পনা গুলো জীবন্ত হয়ে উঠছে। বাসে বসলে মনে হয় সে আমার পাশেই বসেছে, তার কাঁধে মাথা রাখি অনায়াসে। বেলকুনিতে রেলিং ধরে দাড়ালে পিছন দিক থেকে এসে জড়িয়ে ধরে। এরকম ছোট ছোট আদর গুলোর পাশাপাশি আমার সবকিছুতে এত বেশী অবদান রাখছে যা বলার মত না। আমি মাঝেমাঝে খুবই পাগল হয়ে যাই ওর জন্য। যখন বেশী বেশী হ্যালুসিনেশন হতে থাকে। ওকে স্পষ্ট দেখতে পাই চোখের সামনে। খুব যে মন্দ লাগে তা কিন্তু নয়, সে আমাকে আগলে রাখে। আমার কল্পনাশক্তি এত প্রখর কেন আল্লাহ ই জানেন। জানিনা একদিন সে কল্পনা থেকে বাস্তবে এসে হাজির হবে কিনা, তবে কল্পনা থেকে কখনো হারিয়ে গেলে হয়ত আমার মৃত্যু হবে। কারণ ওকে ঘিরেই আমার এতদূর চলে আসা। আমার সব অর্জনের পিছনে ওর অনুপ্রেরণা অনেক বেশী। ও আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে আমার পরিবারের জন্য, আমার দেশের জন্য। ও যেন কখনো না হারায়। এভাবেই থাকুক আমার অস্তিত্বে। আর আমাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে সহায়তা করুক,তারপর ধরা দিক বাস্তবে এসে....... 

শীতুল ডায়েরি থেকে চোখ তুলে বললো, আমি তো এসে গেছি রে পাগলী। কিন্তু তোমাকে আমি কোথায় খুঁজে পাবো? এতদিন ধরে তুমি আমার অপেক্ষায় আছো। আমিও যে তোমারই অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তোমার ঠিকানা জানিনা, নাম জানিনা। ডায়েরির কোথাও তোমার নাম লিখে রাখোনি। আমি কিভাবে খুঁজে পাবো তোমায় বলতে পারো? বুকের ভেতর তোলপাড় করতে শুরু করেছে। একটা মেয়ে এত আবেগ নিয়ে ভালোবাসতে পারে, এত সুন্দর করে কাউকে নিয়ে ভাবতে পারে সেটা ভেবে ওর বুকের ভেতরটা কেমন কেমন করছে। 


শীতুল এসিটা বাড়িয়ে দিয়ে গলা পর্যন্ত লেপ টেনে দিলো। তারপর চোখ বন্ধ করে শ্যামলতাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। শ্যামলতা কথাটা চিঠির মাঝখানেই পেয়েছে শীতুল। এছাড়া আর কোথাও অন্য কোনো নাম এখনো চোখে পড়েনি। শুধুমাত্র এতটুকু একটা নাম দিয়ে এত বড় পৃথিবীতে মেয়েটাকে কোথায় খুঁজে পাবে কে জানে। শীতুল ওর কথা ভেবে সারারাত ছটফট করেছে। কল্পনায় একটা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের মেয়ের ছবি একে নিয়েছে। শ্যামলতা যেভাবে ওকে নিয়ে ভাবে, শীতুল নিজেও মেয়েটাকে মনের মধ্যে গেঁথে ওকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। 

হঠাৎ শীতুলের মনে হলো শ্যামলতা ওর পাশে। ও হাত বাড়িয়ে শ্যামলতাকে জাপটে ধরতেই অনাবিল স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলো। মনেহচ্ছে এতদিন পর পূর্ণ হয়ে গেলো সে। নিজেকে কতটা সুখী মনে হচ্ছিলো শীতুল নিজেও তা অনুধাবন করতে পারছে না। ও জোরে জোরে বললো, 'আজ থেকে তুমিও আমার একটা অসুখ। আমার প্রিয় অসুখ। এখন তোমাকে জড়িয়ে ধরে তোমার কানের কাছে ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে ঘুমাবো আমি। ওকে?'

শীতুল সেটাই করলো। বিড়বিড় করে কথা বলছিলো আর থেকে থেকে শব্দ করে হাসছিলো। হাসতে হাসতে একসময় চোখে ঘুম নেমে এলো। ঘুমিয়েও পড়লো অনায়াসে। 

এদিকে শ্রবণা স্থির থাকতে পারছে না। দরজার সামনে বারবার ঘুরঘুর করছে। লোকটা বাইরে গেছে নাকি ভেতরে আছে বুঝতে পারছে না ও। একবার ওর দরজার সামনে বারান্দাতেই বসে পড়লো শ্রবণা। কিছুক্ষণ মনেমনে প্রার্থনা করলো খুব তাড়াতাড়ি যেন লোকটার সাথে দেখা হয়ে যায় আর কথাও হয়। শ্রবণা নিশ্চিত হতে চায় এটাই ওর অসুখ কিনা। 

গালে হাত দিয়ে অনেক্ষণ বসে রইলো ও। এখনো দরজা খুলছে না। লোকটাকে রুমে একাই দেখেছিলো, একা একটা লোক এতক্ষণ রুমে কি করছে? আজব ব্যাপার। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। মানুষ বউ নিয়ে হানিমুনে এলেও তো একবার রুম থেকে বের হয়। 

শ্রবণার মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। একদিকে ডায়েরি হারিয়ে গেছে আরেকদিকে অসুখ বেড়ে গেছে। প্রিয় অসুখ আজ সামনে এসে হাজির। ওনার মুখটা আরেকবার দেখার জন্য মনটা আকুপাকু করছে উনি সেটা বুঝবেন কি করে। এ যে কেমন জ্বালা, কেবল যার হচ্ছে সেই টের পাবে। ডায়েরিতে লিখলে স্বয়ং ডায়েরিও বুঝবে না মেয়েটার বুকের ভিতর ছিঁড়ে খানখান হয়ে যাচ্ছে। কষ্টে কান্না আসছে শ্রবণার। 

টানা দুই ঘন্টা দরজার সামনে অপেক্ষা করার পরও যদি কেউ দরজা না খোলে এভাবে বসে থাকাটা বোকামি হয়ে যায়। পরক্ষণেই শ্রবণার এটা মনে হলো যে, এতক্ষণ এভাবে বসে থাকার চেয়ে দরজায় নক করলেই তো সে দরজা খুলতো। অসুখকে দেখার পর থেকে সত্যি সত্যিই মাথার নাট বল্টু ঢিলা হয়ে গেছে। একটা বুদ্ধিও আসছে না। 

শ্রবণা দরজায় এসে কয়েকবার ঠকঠক করলো। শীতুলের ঘুম ভেঙে গেছে। ও ঘুমের ঘোরে বললো, 'শ্যামলতা দরজাটা খুলে দাও তো।' পরক্ষণেই লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে বললো, 'না না শ্যাম তুমি শুয়ে থাকো। কে না কে এসেছে। আমি চাইনা আমি ছাড়া আর কোনো পুরুষ তোমাকে দেখুক।'

নিতান্তই একা একা কথা বলতে বলতে উঠে গিয়ে দরজা খুললো শীতুল। ঘুমের ঘোরে দেখলো সামনে শ্যামলতা দাঁড়িয়ে। হার্টবিট অনেকটা বেড়ে গেলো শীতুলের। শ্যামলতা! ও রীতিমত হাঁফাতে শুরু করলো। মনেহচ্ছে হাঁটু কাঁপছে ওর। মাথাটা ঝাড়া দিতেই টের পেলো সকালে যে মেয়েটা রুমে এসেছিলো তিনি আবার এসেছেন। ওনার নাম শ্যামলতা নয়, শ্রাবণী না কি যেন একটা নাম। 

মেয়েটা নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে আছে। একবার চোখের পলকও ফেলছে না। আস্তে আস্তে চোখে পানি জমতে শুরু করেছে। বরফ ফ্রিজ থেকে বের করে বাটিতে রাখার পর যেমন ধীরেধীরে গলতে থাকে, ঠিক সেভাবেই মেয়েটার চোখের মণি থেকে আস্তে আস্তে জল গলছে। পা কাঁপানো থামিয়ে শীতুল জিজ্ঞেস করলো, 'আবার কি খুঁজতে এসেছেন?'
- 'আপনাকে।'
- 'আমাকে? আমি কি আপনার জিনিস?'
- 'জ্বি।'
- 'জ্বি মানে!'

শ্রবণা থতমত খেয়ে বললো, 'সরি। আসলে আপনার সাথে কথা বলতে এলাম।'

শীতুল কথা বলে খুবই ধীরগতিতে। ও ধীরগলায় বললো, 'আমার সাথে কেন? শুনুন, আমি আপনার কোনো জিনিস না। আপনি আমার পরিচিত কেউ না। পরিচিত হওয়ার ইচ্ছেও আমার নেই। আমি ঘুমাচ্ছি, আপনি এখন যান।'

শ্রবণা বললো, 'আপনি ঘুমান। আমি তো আপনাকে ঘুমাতে বারণ করবো না। আপনি ঘুমান না।'
- 'এভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমানো যায়? আমি তো ঘোড়া নই। আমি মানুষ, আমাকে শুয়ে শুয়ে ঘুমাতে হবে।'
শ্রবণা মৃদু স্বরে বললো, 'তাহলে শুয়ে শুয়ে ঘুমান। আমি তো আপনাকে বাঁধা দিচ্ছি না।'

শীতুলের গলা অনেক শীতল, ঠাণ্ডা। অন্যান্য ছেলেদের মত দ্রুতগতিতে ও কথা বলতে পারে না। আর কোনো কথা বলার সময় ওর মুখে হাসিও আসে না। 

শীতুল শীতল গলায় বললো, 'এভাবে দরজা আটকে রাখলে কিভাবে ঘুমাবো? আমি কি দরজায় শুয়ে পড়বো?'
- 'না না, আপনি ভেতরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন।'
- 'একটা মেয়ে মানুষকে দরজায় রেখে আমি দরজা আটকে দিবো?'
- 'না না দরজা আটকাতে হবে না।'
- 'তাহলে কি দরজা খোলা রেখে ঘুমাবো?'
- 'না না, আপনি এক কাজ করুন। দরজা লাগিয়ে দিন।'
- 'ওকে, আপনি তাহলে চলে যান।'
- 'না, না আমি তো চলে যেতে আসিনি।'

শীতুল ভ্রু কুঁচকে বললো, 'তাহলে কি ঘুমাতে এসেছেন?'
- 'না,  না। আমি তো...'
- 'আপনি সেই তখন থেকে না না না না করে যাচ্ছেন। কেন? আগে জানতাম মেয়েরা সুন্দর ছেলেদের দেখলে ভাইয়া বলে ডাকে। আপনি নানা ডাকছেন কেন?'

শ্রবণা শব্দ করে হেসে বললো, 'না,  না। আমি একদমই..'
- 'আবার নানা?'
- 'আচ্ছা বাবা ঠিকাছে। আর বলবো না।'
- 'নানা থেকে বাবা?'
- 'উফফ আপনি এমন ক্যান? যান গিয়ে ঘুমান।'

শীতুল একটা হাই টেনে বললো, 'আপনার সাথে কথা বলতে বলতে আমার ঘুম পালিয়ে গেছে।'
- 'ওয়াও! তাহলে আসুন আমরা চা খেতে খেতে কথা বলি?'

শীতুল কি যেন ভেবে বললো, 'ওকে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। এখানে চা কোথায় পাওয়া যাবে?'
- 'আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি, আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন।'

শীতুল দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে একটা আকাশী রংয়ের টিশার্ট পরে বাইরে এলো। শ্রবণার এদিকে হার্টবিট বাড়তে বাড়তে ফেটে যাওয়ার জোগার। এতক্ষণ কথা বলে ও এতটুকু নিশ্চিত হয়েছে যে প্রিয় অসুখের সাথে শীতুলের অনেক মিল। কথা বলার ধরণ, হাসি, চুল, দাঁত সবকিছুতেই। এখন মনের খোঁজ নিলেই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে এটাই সত্যিকার অসুখ কিনা। 
শীতুল একবারও শ্রবণার দিকে তাকাচ্ছে না। ও মাথা নিচু করে হাঁটছে। বাইরে এসে দুটো চেয়ারে বসে পড়লো দুজনে। শ্রবণা হোটেল বয়কে দুকাপ চা দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে শীতুলকে বললো, 'আপনার ঘুম ভাঙিয়ে তুলে আনার জন্য সরি।'
- 'ইটস ওকে। কিন্তু মিস শ্রাবণী, আপনি কি যেন বলতে এসেছিলেন?'
- 'শ্রাবণী নয়, শ্রবণা।'
- 'ওহ নাইস নেম। আমি শীতুল।'

শ্রবণা একটা ঢোক গিললো। নিশ্বাস ভারী হয়ে এলো ওর। কান দিয়ে শো শো করে বাতাস প্রবেশ করলে যেমন অনুভূত হয়, ঠিক সেরকমই লাগছে। এমন যন্ত্রণা হচ্ছে কেন? শীতুল! মনেহচ্ছে নামটা অনেক পরিচিত, আপন। তবে কি এটাই প্রিয় অসুখটা?

শীতুল বললো, 'কি ভাবছেন?'
চমকে উঠে শ্রবণা বললো, 'কিছু না। কি যেন বলবেন বলেছিলেন?'
- 'না মানে, আচ্ছা আমার কণ্ঠ আপনার কেমন লাগে?'
- 'অদ্ভুত প্রশ্ন! আপনার কণ্ঠ আমার আবার কেমন লাগবে?'

শ্রবণা লজ্জা পেয়ে বললো, 'সরি। আমার গলাটা বসে গেছে তো, সে কারণেই জিজ্ঞেস করলাম। আপনার কি ফ্যাসফেসে লাগছে?'

শীতুল হেসে বললো, 'একদম ই না। কারো বসে যাওয়া গলা যদি এত সুমধুর হয় তাহলে আমি চাইবো জগতের প্রত্যেকটা মেয়ের গলা বসে যাক।'
- 'হা হা হা। কি যে বলেন...'

হেসে উড়িয়ে দিলেও শ্রবণার বুকে শীতল রক্তের স্রোত বইছে। এত বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে সে সামনে এসে দাঁড়ালো। কিন্তু সে কি চিনতে পারবে আমায়? সে হয়ত আমার অসুখ, আমি তাকে নিয়ে ভাবতাম। কিন্তু সে হয়ত কখনোই আমাকে নিয়ে ভাবেনি। তাই তার মাঝে কোনো অনুভূতিও নেই।

আনমনা হয়ে এসব ভাবছিলো শ্রবণা। শীতুল জিজ্ঞেস করলো, 'আপনার কি কোনো সমস্যা হয়েছে?'
- 'না। আপনি কোথায় থাকেন?'
- 'ঢাকায়। কয়েকদিনের চাপে একেবারে ভুনাভাজা হয়ে গিয়েছিলাম। সে জন্যই রিল্যাক্সের প্রয়োজন অনুভব করলাম। ভাবলাম দুটো দিন কোনো রিসোর্টে কাটিয়ে আসি।'
- 'ওহ আচ্ছা। চা টা কিন্তু সুন্দর হয়েছে তাই না?'
- 'হ্যাঁ।'

শীতুল খুব আর্ট করে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। এত আর্ট করে চা খাওয়ার কি আছে, মনেমনে এটা বললেও খুব ভালো লাগছে শ্রবণার। হা করে শীতুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। ছেলেটার চোখেমুখে এত মায়া কেন! নাকটা চিকন আর লম্বা। চুলগুলো যথেষ্ট সিল্কি। ভাবতে ভাবতে শীতুলের পায়ের দিকে তাকালো শ্রবণা। পায়ের নখগুলা দেখেও ওর মায়া লাগলো। খেয়াল করে দেখলো হাত পায়ের নখ বড় বড় হয়ে গেছে। এগুলোতে ময়লা জমলে তো পেট খারাপ করবে। 

উদ্বিগ্ন হয়ে শ্রবণা বললো, 'আপনি নিয়মিত নখ কাটেন না?'
শীতুল লজ্জা পেয়ে হেসে বললো, 'সময় পাইনা। তাছাড়া আমার এসব মনে থাকে না।'
- 'নিজের কেয়ার করার কথা মনে না থাকলে আরেকজনের কেয়ার কি করে করবেন?'
- 'সরি, কি বললেন?'

শ্রবণা এবার লজ্জা পেয়ে বলল, 'কিছু না। বলছিলাম নখ বড় হয়ে গেছে।'

শীতুল অন্যমনস্ক হয়ে পড়লো। আরেকজনের কেয়ার করতে হবে। হ্যাঁ, শীতুল এখন একা নয়। ওর শ্যামলতার কেয়ার ওকেই করতে হবে। এখন থেকে আর আগের মত বেখেয়ালি হলে চলবে না। হঠাৎ একদিন শ্যামলতার সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে। দেখা হলে শ্যাম যেন এতটুকুও কষ্ট না পায়। 

শ্রবণা খেয়াল করে দেখলো শীতুল আনমনা হয়ে কি যেন ভাবছে। ও জানতে চাওয়া মাত্রই শীতুল ব্যস্ত হয়ে বললো, 'আমি একটু রুমে যাবো।'

কথাটা বলেই চায়ের কাপ রেখে দ্রুত রুমের দিকে গেলো শীতুল। শ্রবণা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। এভাবে রুমে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারলো না ও। একটা ছোট্ট নিশ্বাস ফেলে বাকিটুকু চা শেষ করলো। 

শীতুল রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ছুটে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো। ওকে দেখে মনেহচ্ছে বিছানায় ওর পাশে একজন আছে। কিন্তু আদৌ কেউ নেই। তবুও একজনকে কল্পনা করে নিয়ে শীতুল বললো, 'সরি শ্যামলতা। তোমাকে রুমে একা রেখে বাইরে গিয়েছিলাম। মন খারাপ কোরো না প্লিজ। আসো, আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাও।'

তারপর এমনভাবে ডান হাতটা বুকের উপর চেপে ধরলো যেন কেউ ওর বুকে মাথা রেখেছে। একা একা বলতে লাগলো শীতুল। বাস্তবিক পক্ষে ওকে দেখে একা একা কথা বলছে মনে হলেও ও কল্পনায় শ্যামলতার সাথে কথা বলছে। তাকে বলছে, 'আমার বুকে মাথা রাখলে তুমি অনেক শান্তি পাও তাইনা শ্যামলতা? আমাকে তুমি জগতের সবচেয়ে বেশি ভরসা করবে বুঝেছো? তোমার বাবার পরে আমাকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করবে।'

এভাবে শ্যামলতার সাথে কথা চালিয়ে গেলো শীতুল। শ্যামলতার অসুখটা আজ থেকে ওরও প্রিয় অসুখ। বুকের ভেতর কি নিদারুণ যন্ত্রণা হচ্ছে। কবে যে সেই প্রেয়সীর দেখা পাবে! এই যন্ত্রণা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকাও যায় না। বুকের ভেতর শুধু উথাল পাথাল করে শ্যামলতার জন্য। শ্যামলতা, কোথায় তুমি!

এমন সময় আবারো দরজায় ঠকঠক শব্দ!

আবার হোটেল বয় এসেছে। দুপুরের খাবার তৈরি হয়ে গেছে, খাওয়ার জন্য ডাকছে। 

খাবার জন্য ক্যান্টিনে এসে শ্রবণার সাথে দেখা। পুরো ক্যান্টিনে শ্রবণা ছাড়া আর কেউ নেই। সব চেয়ার টেবিল ফাঁকা। শ্রবণার পাশের টেবিলে বসে পড়লো শীতুল। খাবার পরিবেশনের জন্য ছেলেটি আসলে তাকে জিজ্ঞেস করলো, 'পুরোটা ফাঁকা যে?'
- 'স্যার আজকে আমাদের আর কোনো গেস্ট নেই। পুরো রিসোর্ট জুরে শুধু আপনারাই দুজন আছেন।'






চলবে...






Writer:- মিশু মনি

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner