> নফসের বিরুদ্ধে লড়াই | ইসলামিক বই | Book Review
-->

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই | ইসলামিক বই | Book Review

নফস কি?

★ নফস বলা হয় মানুষের কামনা, বাসনা,চাহিদা ইত্যাদি কে।এক কথায় যাকে বলা হয় প্রবৃত্তি। আল্লাহ তা'য়ালা মানুষ সৃষ্টির সময় তার স্বভাবে কতিপয়  চাহিদা দান করেছেন। যেমন-,আহারের চাহিদা,যৌবনের চাহিদা,কর্তৃত্বের চাহিদা,ক্ষমতার চাহিদা, লোভ-লালসা ইত্যাদি সবগুলোকে এক কথায়, 'জৈবিক চাহিদা' বলা যায়। আর এগুলোই হলো নফস বা প্রবৃত্তি।

আচ্ছা বলুন তো - শুধুমাত্র শয়তানই যদি আমাদের কে গুমরাহ করে তো শয়তানকে গুমরাহ করেছে কে? শয়তানই যদি আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে, তো শয়তানকে পথভ্রষ্ট করলো কে? শয়তানের পূর্বে তো কোনো শয়তান ছিলো না, তাহলে শয়তানকে দিকভ্রান্ত করলো কে? শয়তানকে দিকভ্রান্ত করেছে তার নফস। নফস তাকে অহংকারী বানিয়েছে। নফস তাকে উদ্যত করেছে। নফস তাকে দিশেহারা করেছে। নফস তাকে পথভ্রষ্ট করেছে। এতদসত্ত্বেও, কেন আজ নফসের ব্যাপারে আমরা এত উদাসীন?! 

কেন আজ আমরা সবাই নফসের কাছে শেকলবন্দি? উচিত তো ছিলো, আমরা নফসকে শেকলবন্দি করবো কিন্তু উল্টো সে আমাদের শেকল বন্দি করেছে। তাই তো আমরা নামাজ থেকে দূরে; নেক কাজ থেকে বিরত। অশ্লীল কাজে জরিত; পাপের সাগরে ডুবন্ত। 

নফসের গোলামী করাও প্রকার শিরক। কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন,
"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন,যে তার কুপ্রবৃত্তিকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে" (সূরা জাসিয়া,আয়াত-২৩)

এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায়-কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করাও, তার গোলামী করাও এক ধরনের শিরক।আর এটা এভাবে যে-

★ আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশ হচ্ছে -তোমরা নামাজ কায়েম করো।আর নফস বলে- নামাজ রেখে খেলতে যা।

★ আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশ হচ্ছে -তোমরা যাকাত প্রদান করো।আর নফস বলে -যাকাত দিস না, মাল কমে যাবে। 

★ আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশ হচ্ছে -তোমরা রমজান মাসে রোজা রাখো।আর নফস বলে -রোজা রাখলে শুকিয়ে যাবি, তোর কষ্ট হবে।

★ আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশ হচ্ছে -তোমরা যিনার নিকটবর্তী হয়ো না। আর নফস বলে -মেয়েদের পিছনে ছুটতে হবে,তাদের সাথে হারাম সম্পর্কে জরাতে হবে।ভোগ করতে হবে,নিজের যৌন চাহিদা মেটাতে হবে। 

নফস আপনাকে আদেশ করছে, আর আপনি আমি তা বাস্তবায়ন করছি।এখন আপনি যদি নফসের হুকুম মান্য করে চলেন,তার চাহিদার মূল্যায়ন করেন, তবে এটা হবে নফসের গোলামী।আর যদি আল্লাহ তা'য়ালার হুকুম মান্য করেন, তখন সেটা হবে আল্লাহ তা'য়ালার গোলামী।

শরীয়তে যত বিধি বিধান রয়েছে তা পালন করা আমাদের উপর আবশ্যক। আর আমরা তা পালন করার জন্য সর্বদাই চেষ্টা করি। যখন আপনি আমি ওই বিধি-বিধান পালন করতে যাই তখন সেখানে নফস এসে বাঁধা হয়ে দাড়ায়।সে বিপরীত হুকুম প্রদান করে।তখন আপনি আমি যদি তার হুকুম মান্য করে তার ফাঁদে পা দিয়ে দিই তখন সেটা হবে তার গোলামী।আর আমরা ইতোপূর্বে জানতে পেরেছি, নফসের গোলামী করাটাও এক ধরনের শিরক।

নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে জরিমানা আরোপ করা - 
নফস হচ্ছে অবুঝ বাচ্চাদের মতো। বাচ্চাদের যা ভালো লাগে তাই করে আর যা ভালো লাগে না তার ধারে কাছেও যায় না। তেমনি নফস- যখন যা ভালো লাগে তাই করবে। যখন আমরা নফসকে ভয় দেখাবো তখন সে ভালো কাজে উদ্ধুদ্ধ হয়।
যদি আমাদের দ্বারা কোনো গুনাহ সংঘটিত হয়, নেক কাজ ছুটে যায় তওবাহ ও ভর্ৎসনা দ্বারাও ঠিক না হয় ; বার বার খারাপ কাজে লিপ্ত হতেই থাকে তখন নফসের ওপর কিছু শিক্ষামূলক শাস্তি বা জরিমানা আরোপ করা যায়।এতে নফস কিছুটা সোজা হয়ে যাবে।যেমন- আপনি যদি ধনী হয়ে থাকেন, তখন নফসকে বলবেন -হে নফস তুই যদি খারাপ কাজ করিস, তাহলে তোকে ১০০ রাকাত নামাজ পড়তে হবে আর আপনি যদি গরীব হয়ে থাকেন,তখন নফসকে বলবেন, হে নফস তুই যদি খারাপ কাজ করিস, তবে তোকে প্রত্যেক খারাপ কাজের বিনিময়ে মসজিদে ১০০টাকা করে দিতে হবে।দু'দিন চারদিন এভাবে ১০০টাকা কর দিলে, এমনি সে সোজা হয়ে যাবে।কেননা,নিজের ওপর চাপ - নফসও নিতে পারে না, সেটা হোক দৈহিক বা আর্থিক। 
মোট কথা নফসের ওপর কিছু  শাস্তি আরোপ করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। এতে করে ভালো একটা ফলাফল আসবে ইংশাআল্লাহ। 
এভাবে পরিকল্পনা করে, ধীরে ধীরে সময় নিয়ে নফসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।



নফস সম্পর্কে জানতে ও নফসের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করতে হবে এ বিষয়ে জানতে হলে অবশ্যই "মাহমুদ বিন নূর" এর "নফসের বিরুদ্ধে লড়াই " বইটি পড়ুন।



জাযাকুমুল্লাহু খইরান।





Writer:- Unknown
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner