> ভেজাগোলাপ পর্ব ১৬, ১৭, ১৮ | রোমান্টিক প্রেমের গল্প | Bangla Love Story | Love Story Bangla
-->

ভেজাগোলাপ পর্ব ১৬, ১৭, ১৮ | রোমান্টিক প্রেমের গল্প | Bangla Love Story | Love Story Bangla

গোলাপ দিয়ে সাজানো নীরাদের ঘর।বিয়ের শাড়ি পড়ে বিছানার মাঝখানটায় বসে আছে রোদ্রি।চোখে মুখে ভর করেছে একরাশ লাজুকতা।দরজা খোলার আওয়াজে মুখ তুলে তাকায় রোদ্রি।নীরাদ এসেছে।

দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে রোদ্রির দিকে দৃষ্টি দিলো নীরাদ।গুটিশুটি হয়ে বিছানায় বসে আছে সে।ধীরপায়ে রোদ্রির পাশে যেয়ে বসে নীরাদ।হাত বাড়িয়ে রোদ্রির হাতদুটোকে আবদ্ধ করে।রোদ্রির চোখে চোখ রেখে বলে,

-আমার সামনে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।ঠিকাছে?

রোদ্রি উপরে নিচে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোধক সম্মতি দেয়।

-খিদে পেয়েছে?খেয়েছো কিছু?

-জি খেয়েছি।মা খাইয়ে দিয়েছে।

নীরাদ হাসে।পুরুষ মানুষের জীবনে দুইজন নারীর ভূমিকা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ন।একজন তার মা আর আরেকজন তার স্ত্রী।আল্লাহর রহমতে নীরাদের জীবনের এই দুইজন মানুষই খুবই ভালো।

একহাত রোদ্রির গালে রেখে আলতো করে কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় নীরাদ।চোখ বন্ধ করে ফেলে রোদ্রি।নীরাদের ভালোবাসার প্রথম ছোয়াঁ।
পানজাবির পকেট থেকে একটা বাক্স বের করে নীরাদ।খুলে দুইটা স্বর্ণের চিকন বালা বের করে।নিজেই রোদ্রির হাতে পরিয়ে দেয়।রোদ্রির গালে হাত রেখে বলে,

-এটা কখনো খুলবেনা।ঠিকাছে?

-আচ্ছা।

-ওয়াশরুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।মেকাপ তুলে,ভারি শাড়ি ছেড়ে হাল্কা কিছু পরে নাও।

________
একটা সুতির শাড়ি পরে বেরিয়ে আসে রোদ্রি।চুলগুলো ছাড়া।সামনের কিছু চুল ভিজে গেছে।বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে নীরাদ একপাশে আধশোয়া হয়ে বসে ফোন চালাচ্ছে।পরণে সাদা স্যান্ডো গেনজি আর ট্রাওজার।

-একসাথে ঘুমাতে প্রবলেম হবে?তাহলে আমি নাহয় সোফ..

-কোন সমস্যা নেই।বলে মুচকি হাসে রোদ্রি।

সাধারণভাবে বেশ স্নিগ্ধ লাগছে রোদ্রিকে।নীরাদ মুগ্ধ নয়নে দেখে।মেয়েটা শাড়ি পরে আছে।এলোমেলোভাবে গায়ে জড়ানো শাড়িটা।বারবার টানাটানি করছে সে।বুঝাই যাচ্ছে সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।
নীরাদ নরম কন্ঠে বলে,

-শাড়ি পরে আরামে শুতে পারবেনা,অসুবিধা হবে।সকালে শাড়ি পরো।এখন কামিজ পরে নাও।

-কোনো অসুবিধা হবেনা।আমি শাড়িই পরবো।শাড়ি না পরলে বিয়ে বিয়ে ভাব আসবেনা।

নীরাদ শব্দ করে হেসে দেয়।রোদ্রি মুখ কুচকে তাকায়।সন্ধিহান কন্ঠে বলে,

-হাসছেন কেন?আমি কি হাসার মতো কিছু বলেছি?

-নাহ্।ঠিকাছে।এখন ঘুমাও।কাল আবার বৌ-ভাত।রেস্ট না নিলে পরে অসুস্থ হয়ে পরবে।

নীরাদের বা পাশে যেয়ে শুয়ে পরে রোদ্রি।লাইট নিভিয়ে দেয় নীরাদ।সারাদিনের ক্লান্তিতে কিছুক্ষণেই ঘুমিয়ে পরে রোদ্রি।ঘুমের ঘোরে একহাত মেলে দেয় নীরাদের বুকের উপর।নীরাদ আলতো করে সেই হাতের উপর হাত রাখে।কতোইনা অপেক্ষা করেছে সে এই সময়টার জন্য।
জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পরছে রোদ্রির মুখের উপর।ঘুমন্ত মুখের স্নিগ্ধতা যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।
___________
সকাল ৯টা।
নীরাদের ঘুম ভেঙে যায়।কাঁধে ভারি কিছু অনুভূত হতেই চকিতে তাকায় সে।তার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে রোদ্রি।বুকে রাখা হাতটা সারারাতেও ছাড়েনি নীরাদ।
একহাত দিয়ে কাঁথা টেনে দেয় নীরাদ।শাড়ি আর শাড়ির জায়গায় নেই মেয়েটার।ঘুম থেকে উঠে কাপড়ের বেহাল দশা দেখে অন্যকিছু ভেবে ফেলতে পারে।
খুব সন্তর্পণে রোদ্রির মাথাটা বালিশে রাখে নীরাদ।হাতটা ছাড়িয়ে উঠে যায়।

ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখে রোদ্রি উঠে গেছে।পিটপিট করে তাকিয়ে আছে নীরাদের দিকে।
ড্রেসিং টেবিল থেকে চিরুনি নিয়ে চুলটা আচরাতে আচরাতে বলে,

-ঘুম হয়েছে?

-হু।

-উঠে কাপড় পাল্টে রেডি হয়ে নাও।মেহমানরা আসবে তোমাকে দেখতে।বলতে বলতে কাবার্ড থেকে দুটো বক্স বের করলো নীরাদ।টেবিলে রেখে বলল,

-এই গহনা গুলো পরে নিও।আমি নিচে যাচ্ছি।রাতে রিসিপসন অনেক কাজ আছে।

 রোদ্রি টেবিলে রাখা শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।শাওয়ার  নিয়ে শাড়ি পরে বেরিয়ে আসে।গহনাগুলো পরে নিচে চলে যায়।

নিচে নামতেই দেখে....




নিচে নামতেই দেখে মনিরা টেবিলে নাস্তা নিয়ে বসে আছে।পাশে মৌ ও আছে।কাল রাতে রোদ্রির সাথে মৌ ই এসেছে।
রোদ্রি ঠোঁটের কোঁণে হাসি বজায় রেখেই চেয়ার টেনে বসলো।নাস্তা খাচ্ছে আর টুকটাক কথা হচ্ছে তাদের।হঠাৎই মনিরা বললো,

-তোকে কালরাতে উপহার দেয়নি নীরাদ?

মৃদু কন্ঠে রোদ্রি বললো,

-দিয়েছে।

-কি দিয়েছে?

হাত বাড়িয়ে বালা দুটো দেখালো রোদ্রি।

-বাহ্,আপু খুব সুন্দর তো।

-মাশাআল্লাহ।তোরা সুখী হ মা।বলে রোদ্রির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল মনিরা।

নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয় রোদ্রির।এরকম শাশুড়ি পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।ছোট থেকেই মায়ের আদর সেভাবে পায়নি সে।মায়ের অভাবটা সবসময়ই অনুভব হতো।যদিও ভাবি তাকে সবসময় মায়ের মতো করেই আগলে রাখতো।তবুও ভাবিকে তো আর মা ডাকা যায় না।মনিরাকে সে মা বলে ডাকে।মা ডাকটাই মধুর।
_________
নীরাদের পুরা বাড়ি সাজানো হয়েছে।ঝলমলিয়ে উঠেছে "আহমেদ ভিলা"।একটা উৎসব উৎসব ভাব।
বিয়েটা রোদ্রির ইচ্ছায় ছোট করে হলেও রিসিপসনটা নীরাদ বড় আয়োজন করেই করবে।নীরাদের অফিসের মানুষজন আসবে।বন্ধুরা আসবে।তার উপর নীরাদের উৎসাহ,ইচ্ছা দেখে আর না করতে পারেনি রোদ্রি।
সেই সুবাদেই জমকালো আয়োজন করেছে নীরাদ।
মেহমান আসা শুরু করে দিয়েছে।খালি বাড়িটা মানুষ জনে পরিপূর্ণ।রোদ্রির পরিবারের সবাইও চলে এসেছে।

সফল বিজন্যাসম্যান নীরাদ আহমেদ এর স্ত্রী কে দেখার জন্য মুখিয়ে আছে সবাই।এমন সময়ই লাইট কিছুটা নিভিয়ে গেলো।সিড়ির ওপর যেয়ে পরল সব লাইট।সবার চোখ এখন সেদিকেই।

রোদ্রির হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামছে নীরাদ।এতো মানুষ দেখে যাতে রোদ্রি নার্ভাস না হয় তাই শক্ত করেই হাতটা ধরে আছে সে।প্রেস মিডিয়ার কয়েকজনও এসেছে।তারা ছবি তুলছে।নীরাদ অবশ্য চেয়েছিলো এরা যেন না আসে।
পরে ভাবলো ওর বিয়ের ব্যাপারটা এরা আবার খারাপ ভাবে প্রচার করতে পারে।যেটা না হওয়াই ভালো।

একটা কালো রংয়ের গাউন রোদ্রির পরণে।গাইনের মাঝে কালো পাথরগুলো ঝলঝল করছে।পরণের গয়নাগুলো ডায়মন্ডের।চিকচিক করছে সেগুলো কানে গলায় হাতে।
নীরাদ পরেছে ব্ল্যাক সুট।আগাগোড়াই কালো পরেছে সে।
দুজনকে দেখে যে কারোরই চোখ আটকে যাবে।উপস্থিত সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।
সবার মুখে একটাই বুলি"মেইড ফর ইচ আদার"।

সিঁড়ি থেকে নেমে নীরাদ রোদ্রির হাত ছেড়ে নরম কন্ঠে বললো,

-যাও,ভাই ভাবির সাথে দেখা করো।

রিদান মিরা এগিয়ে এসে রোদ্রিকে জড়িয়ে ধরল।মাত্র একদিন হয়েছে রোদ্রি তাদের থেকে দূরে তাতেই যেন বহুকাল মনে হচ্ছে তাদের।বোন সুখে আছে দেখে খুশি হয়ে উঠে রিদানের মন।আজ ভাই হিসেবে সার্থক সে।

-কেমন আছিস বোন?ভাইকে মনে পরেনি?

-পরেছে,খুব মনে পরেছে।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে রোদ্রি।

-এই এখন আবার কান্না করে দিস না পাগলি মেয়ে।সাজ নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু।ভুতের মতো দেখাবে তারপর বুঝিস।

রোদ্রি হেসে দেয়,কিছু বলবে তার আগেই নীরাদ বলে,

-আমার বউকে কাঁদলেও ভুতের মতো দেখাবে না ভাবি।

-হুম,হয়েছে।বলে হাসলো মিরা।তার হাসিতে হাসি মিলাল রিদানও।

স্টেজে উঠে মাইক হাতে নিলো নীরাদ।ভরাট কন্ঠে স্বাগত জানালো সবাইকে।রোদ্রিকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিল সবার কাছে।
ফর্মালিটিস শেষ করে স্টেজে বসলো তারা।সবাই এসে এসে ছবি তুলছে তাদের সাথে।
_________
রাত প্রায় বারোটা বাজে।মেহমানরা চলে গেছে ঘন্টাখানেক আগেই।এতক্ষণ পরিবারের সবাই মিলে কথা বলছিলো।বেশি রাত হয়ে যাওয়াতে রিদান মিরা আর ওর চাচারা একটু আগেই রওনা দিয়েছে।
রোদ্রির মুখ থেকে হাসি সরছিলোই না।ভাই যাওয়ার সময় মনটা একটু খারাপ হয়েছিলো তার।
পরক্ষণেই নীরাদ যখন বললো কাল দেখা করিয়ে নিয়ে আসবে তখন থেকে সেই খারাপ লাগাটাও চলে গিয়েছে।

ঘুমানোর জন্য বিছানাটা একটু ঝেড়ে দিচ্ছিলো রোদ্রি।নীরাদ সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে।
বালিশ গুলো ঠি ক জায়গায় দিয়ে নীরাদকে বললো রোদ্রি,

-আপনি এখন ঘুমাবেননা?

-হ্যাঁ,এইতো কাজ শেষ আমার।বলে ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দিলো নীরাদ।
সেই সময়ই ফোনটা টুংটাং শব্দ করে উঠলো রোদ্রির।এতরাতে কে মেসেজ করেছে ভেবে দ্রুত ফোনটা হাতে নিল রোদ্রি।মেসেজেটা দেখে ভয়ে গলা শুখিয়ে কাঠ হয়ে গেলো তার।মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেলো মুহুর্তেই।নীরাদ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
ভয়ার্ত চোখে কাঁপাকাঁপা হাতে ফোনটা এগিয়ে দিলো সে নীরাদের দিকে...




"নীরাদের সাথে খুব সুখে আছো জান।সুখ কি বেশিদিন সইবে?
চোখ কান খোলা রেখো জান,তোমার নীরাদকে আবার আমি নিয়ে না যাই।তুমিতো আমার খুব প্রিয়,তাই তোমার প্রিয় মানুষগুলাও আমার খুব প্রিয় "জান"।"

ব্যাস এতটুকুই লেখা মেসেজটায়।মেসেজেটা অপরিচিত নাম্বার থেকে এসেছে।তবে এটা যে ফারহান পাঠিয়েছে সেটা বুঝতে একদমই কষ্ট হয়নি নীরাদের।
মেসেজটা দেখে যতটানা রাগ হচ্ছে নীরাদের তার থেকে বেশি রাগ হচ্ছে ফারহানের রোদ্রিকে "জান"
বলে সম্বোধন করায়।রাগে মাথায় রক্ত উঠে গেছে নীরাদের।চোখগুলো লাল হয়ে গেছে।সহজে রাগে না সে।
তবে যে তার রাগী রূপ দেখেছে সে আর দিতীয়বার রাগানোর সাহস করবেনা।

রোদ্রির অবস্থা কাঁদো কাঁদো।চোখ ছলছল করছে তার।অল্পতেই ভয় পেয়ে যায় সে।ফারহানের ব্যাপারে সে এমনেই ভীতু,তার উপর সে থ্রেট দিয়েছে তার ভালবাসার মানুষকে নিয়ে।
নীরাদ ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারে।রাগ কমানোর চেষ্টায় অব্যাহত সে।অন্তত রোদ্রির সামনে তার রাগী রুপটা প্রকাশ হতে দিতে চায় না নীরাদ।সে চায়না তার রোদ্রি তাকে ভয় পাক।
গেনজির হাতায় টান পরতেই রোদ্রির দিকে তাকায় সে।একহাত দিয়ে তার হাতের বাহু খামছে ধরেছে রোদ্রি।
রোদ্রির চোখের দিকে তাকিয়ে থমকায় সে।রোদ্রির চোখে জল।কাঁদছে রোদ্রি।নীরাদ দ্রুত ঝুকে যায়।এক হাঁটু বিছানায় ভর দিয়ে একহাত রোদ্রির চুলের ভাজে দিয়ে রোদ্রির মাথাটা তার বুকে চেপে ধরে।আরেক হাতে দিয়ে পিঠে হাতবুলিয়ে দেয়। স্নেহের কন্ঠে ধীরে ধীরে বলে,

-রোদ্রি,কাঁদেনা।কান্না থামাও।

কান্নার মাঝেই থেমে থেমে রোদ্রি বলে,

-আপ..আপনার কিছু হয়ে গেলে আমি..আমি..

-আরে আমার কি হবে পাগলি?ও কিছুই করতে পারবেনা আমার।তুমি শুধু শুধু কাঁদছো।ও শুধুই আমাদের ভয় দেখাতে চাইছে।তোমার নীরাদ কি এতটাই ভীতু বলো?

কিছুটা শান্ত হয় রোদ্রি।নীরাদ মাথা কিছুটা নামিয়ে রোদ্রির মাথা কপালের দিকে চুমু দেয়।এবার কান্না থেমে যায় রোদ্রির।নীরাদকে শক্তহাতে জড়িয়ে ধরে।নীরাদও কিছু বলেনা।কিছুক্ষণ পর রোদ্রি কাঁপা গলায় বলে,

-উনি যদি..

-হুসস,ওকে নিয়ে আর কোনো কথা নয়।ওকে?

-হুম।

রোদ্রিকে আলতো করে ছাড়িয়ে নেয় নীরাদ।সামনে বসে একহাত গালে রাখে আর একহাত দিয়ে মুখের চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে চোখ মুছে দেয়।

-কখনো কাঁদবেনা।তোমার কান্না যে আমার সহ্য হয়না।

রোদ্রির প্রতিউওর না পেয়ে আবার বলে,

-এখন ঘুমাবে।সারাদিনে একটু রেস্ট করতে পারোনি।বলে উঠে যায় নীরাদ।যেয়ে লাইট বন্ধ করে দেয়।

একপাশে শুয়ে  রোদ্রিকে কাছে টেনে নেয়।নীরাদের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায় রোদ্রি।এই মুহুর্তে এই জায়গাটায় তার সবচেয়ে নিরাপদ মনে হচ্ছে।যেখানে নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে নীরাদের বাহুডোরে আবদ্ধ অবস্থায় পায় রোদ্রি।লাল আভা চলে আসে তার গালে।নীরাদের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।ঠোঁটের কোঁণে হাসি ফুটিয়ে আলতো করে কোমড় থেকে নীরাদের হাতটা সরাতে চায় সে।তবে ব্যর্থ হয়।হাতটা একটু নাড়াতেই নড়েচড়ে উঠে নীরাদ।
ঘুমঘুম কন্ঠে বলে,

-কি হয়েছে?

-আ..আমি উঠবো।ছাড়ুন।

নীরাদ ছাড়েনা।বরং আরো শক্ত করে ধরে ঘুমায়।রোদ্রিও আর কি করবে?লোকটার ঘুম ভাঙাতে ইচ্ছে করছেনা।তাই অগত্যা সেও শুয়ে থাকে।

দশটা বাজলেই এলার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় নীরাদের।হাত বাড়িয়ে সেটা বন্ধ করে নীরাদ।রোদ্রির দিকে তাকিয়ে দেখে সে আগে থেকেই জেগে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
নীরাদ হেসে দেয়।সদ্য ঘুম থেকে উঠা মুখে সে হাসি অদ্ভুত সুন্দর লাগে।
_________
সারাদিন বেশ ভালোই কেটেছে রোদ্রির।মায়ের সাথে গল্পে মেতে ছিলো সে এতক্ষন।বিকেলের দিকে নীরাদ বেরিয়েছে অফিসের কাজে।অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং তাই জরুরীভাবে যেতে হয়েছে তাকে।আজ যেতে পারেনি তাই বলেছে কাল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যাবে।রোদ্রিও আপত্তি করেনি।

টেবিলে খাবার সাজিয়ে নীরাদের জন্য অপেক্ষা করে সে।মনিরাও খায়নি,বলেছে নীরাদ আসলে তাকে ডেকে দিতে।
দশটা বেজে গেলেও নীরাদ ফেরে না।রুমে যেয়ে নীরাদের নাম্বারে ফোন করে সে।কালকে রাতের অজানা সংশয়টা আবারও মাথায় জেঁকে বসে যখনি ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে ভেসে আসে,

"দিস্ নাম্বার ইজ্ কারেন্টলি নট রিজেবল,প্লিজ ট্রাই এগেইন লেটার"







চলবে...







Writer:- মালিহা খান



NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner