"ভালোবাসা"শব্দটা খুব ছোট হলেও এর অনুভূতির বিস্তার প্রকাশ করা সম্ভব নয়।ভালবাসার অনুভূতি কেবল সেই বোঝে সে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারে।
গত কয়েকদিনে নীরাদ আর রোদ্রির মধ্যেকার সম্পর্কটা বেশ সহজ হয়ে ওঠেছে।এখন সংকোচের পাহাড় সমান দেয়ালটা নেই তাদের মাঝে।প্রায়ই নীরাদের বাসায় আসা যাওয়া করে রোদ্রি।মনিরা আহমেদ এর সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক হয়ে উঠেছে তার।এমনকি মিরাও মাঝেমাঝে রোদ্রির সাথে নীরাদের বাসায় যায়।
একসাথে তিনজনের সময়টা বেশ ভালোই কাটে তাদের।
আজ ভার্সিটিতে পরীক্ষা ছিলো রোদ্রির।ফাইনাল পরীক্ষা ছিল তাই পড়াশোনার চাপটাও একটু বেশি ছিলো এই কয়েকদিন।দম ফেলার সময় পায়নি।বেশ রিল্যাকস মুডে ভার্সিটি থেকে বের হলো রোদ্রি।বের হতেই মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা দিলো তার।আশেপাশে কোথাও ড্রাইভার আঙ্কেলকে পেলোনা সে।বেশ গরম পরেছে আজকে।সুর্যের তাপ মনে হয় আজ একটু বেশিই।তাকে কি কেউ নিতে আসেনি নাকি?খুজাখুজি শেষে আবার মেইন গেটের সামনে আসতেই কপাল কুচকে চোখ ছোট ছোট করে ফেলে রোদ্রি।সামনে নীরাদকে দেখে দ্রুতপায়ে এগিয়ে যায়।নীরাদ তখন উল্টোদিকে ফিরে কানে ফোন লাগিয়ে ছিল।
-মি.নীরাদ আপনি এখানে?
রোদ্রির কথায় দ্রুত পেছনে ফিরে নীরাদ।কান থেকে ফোনটা নামিয়ে অস্থির কন্ঠে বলে,
-মিস.রোদ্রি আপনাকে কতবার ফোন করলাম,ফোন কোথায় আপনার?রিসিভ করছিলেন না কেন?কই গিয়েছিলেন?আপনাকে না পেয়ে কতোটা টেনশনে পরে গিয়েছিলাম জানেন?
নীরাদের একঝাঁক প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে যায় রোদ্রি।পরক্ষনেই ভেতরে ভেতরে হেসে উঠে।নীরাদ তার জন্য কতো টেনশন করে।
-আমি আসলে ড্রাইভার আঙ্কেলকে খুঁজতে একটু ওই দিকটায় গিয়েছিলাম।ভাবলাম উনি হয়তো নিতে আসেননি তাই চলে আসলাম আরকি...বলে একটা বোকা বোকা হাসি দিল রোদ্রি।
-আঙ্কেল আসবেনা।আমিই নিতে এসেছি আপনাকে।আজ নাকি আপনার পরীক্ষা শেষ।তাই মা আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে বলেছে।আপনার ভাবিও ওখানেই।এই নিন আপনার ভাবির সাথে কথা বলে নিন।
বলে রোদ্রির দিকে ফোনটা এগিয়ে দিল নীরাদ।
ফোনটা কানে দিয়ে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ব্যস্ত ভঙ্গিতে কথা শোনা গেল মিরার,
-হ্যালো,রোদ্রি।তুই নীরাদের সাথে চলে আয় ওদের বাসায়।চাচী আর আমি মিলে রান্না করছি।তুই চলে আয় তাড়াতাড়ি।ঠিকাছে?বেশ উৎসুক শোনায় মিরার গলা।
-হু,আসছি।
গাড়ীর সামনের অংশ খুলে চিন্তিত চেহারায় বারবার কি যেন করছে নীরাদ।এমন একটা সময় গাড়িটা কিভাবে নষ্ট হলো বুঝতে পারছেনা সে।কিছুতেই স্টার্ট হচ্ছেনা।
পাশেই মাথায় ঘোমটা টেনে দাড়িয়ে আছে রোদ্রি।গরমে শেষ সে।সকালে যে কেন চুলগুলো বেঁধে আসেনি।বারবার ওড়না দিয়ে ঘাম মুছছে।
রোদ্রির দিকে ঘুড়ে খানিকটা ইতস্তত গলায় নীরাদ বললো,
-রিকশায় যেতে পারবেন?গাড়িটায় কি সমস্যা হলো বুঝতে পারছিনা।
রোদ্রি তাকাল নীরাদের দিকে।রিকশায় যেতে ওর সমস্যা নেই।ও প্রায়ই রিকশায় আসা যাওয়া করে।কিন্তু নীরাদের সাথে এক রিকশায় যেতে হবে তাই একটু অসস্তি হচ্ছে।
-জি?রিকশায়?
-হুম।(নীরাদ জানে রোদ্রির অসস্তি হচ্ছে তাই জোর করলোনা)গরমে অসুস্থ হয়ে যাবেনতো।ঘেমে যাচ্ছেন।তাই বললাম।
নীরাদকে গভীরভাবে কয়েক সেকেন্ড খেয়াল করতেই রোদ্রি দেখল।উনার ও টি-শার্ট অর্ধেক ভিজে গেছে।অতিরিক্ত ফর্সা হওয়ার চেহারাটা হাল্কা লাল হয়ে গেছে।কপালে গলায় ঘাম চিকচিক করছে রোদে।হাতের ঘন লোমগুলো ঘেমে লেপটে আছে শরীরের সাথে।ওর জন্য কত কষ্ট করে দাঁরিয়ে আছেন উনি।
-যেতে পারবেন মিস?
-জি আচ্ছা।সমস্যা নেই।
নীরাদ একটা রিকশা ডাকল।রোদ্রিকে উঠিয়ে দিয়ে নিজেও উঠল।
নীরাদ উঠতেই রোদ্রি একটু চেপে গেল।কিন্তু জায়গা কম হওয়াতে গায়ের সাথে গা লেগেই গেল।
রিকশায় হুটতোলা তাই দুজনেই প্রায় দুজনের নি:শ্বাসের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পাচ্ছে।
এখানে রোদ নেই তাই মাথার ঘোমটাটা ফেলে দিল রোদ্রি।চুলগুলা ঠি ক করছে তখন নীরাদ বলল,
-খোঁপা করে ফেলেন।এই গরমে চুল খোলা রেখেছেন কেন?তার উপর যে বড় চুল আপনার।মাশাআল্লাহ।
রোদ্রি কিছু বললোনা।নিরবে চুলগুলা হাতখোপা করতে ব্যস্ত হয়ে পরল।
নীরাদ মুচকি হাসলো।রোদ্রির গালের লাল আভাটা চোখ এড়ায়নি ওর।
হঠাৎই রোদ্রির কি হলো ও নিজেও বুঝলোনা।নীরাদের ঘাড়ে হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে মুছে দিতে দিতে বলল,
-ইশশ..আপনি তো পুরো ঘেমে ভিজে গেছেন।আমার জন্য এতটা কষ্ট করতে হলো আপনার।
নীরাদ হাসলো।রোদ্রির ছোয়াঁতে নিমিষেই নীরাদের ক্লান্তি দুর হয়ে গেলো।
-কষ্টের কিছু নেই মিস.রোদ্রি।আপনি বুঝবেননা।
রোদ্রি এখনো হাত সরায়নি।
-আমার ব্যাগে পানি আছে।বের করে দিব?খাবেন?
নীরাদ আচমকাই মাথা ঘুড়িয়ে রোদ্রির একদম চোখে চোখ রাখল।রোদ্রি নীরাদের দিকেই চেয়ে ছিলো।আচমকা ধরা পরে যাওয়ায় বেশ লজ্জা পেলো সে।
-"খেয়াল রেখেন মিস.রোদ্রি,আপনার করা কেয়ারগুলো আবার আমার অভ্যাসে পরিণত না হয়ে যায়,হলে কিন্তু ঝামেলায় পরবেন"।
রোদ্রির খুব করে বলতে ইচ্ছা হলো"সেই ঝামেলায় আমি বারবার পরতে চাই মি.নীরাদ"।কিন্তু বলতে পারলোনা,কথাগুলো মনের ভিতরেই জমা হয়ে রইলো।হয়তো কোনো এক নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নে সে ব্যক্ত করবে তার অব্যক্ত কথাগুলো।
___________________
বাসায় ঢুকেই বিরিয়ানির সুবাস পেলো রোদ্রি।রান্নাঘরে যেয়ে দেখলো মনিরা আর মিরা মিলে রান্না করছে।কাজের মেয়ে টাও আছে।
রোদ্রিকে দেখে উজ্জল হয়ে উঠলো মনিরার মুখ।উৎফুল্ল কন্ঠে বললো,
-রোদ্রি মা।কতদিন পরে দেখলাম তোমাকে।
-কতদিন না আন্টি।আমি ১৫ দিন আগেই এসেছিলাম।পরীক্ষা শুরু হয়েছিলো তো তাই আসতে পারিনি।আজকেই শেষ হলো।
মনিরা এগিয়ে আসলো মাথার হাত বুলিয়ে বললো,
-কেমন হয়েছে পরীক্ষা?
-ভালো।বসে মুচকি হাসলো রোদ্রি।
-তুই হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় রোদ্রি।খাবার হয়েই গেছে।
______________
ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখলো টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে মিরা আর মনিরা।
-সালাদটা আনতে ভুলে গেছি।বলে কাজের মেয়ে টুম্পা কে ডাকতে গেলে রোদ্রি বলে,
-আমি এনে দিচ্ছি আন্টি।বলে দ্রুতপায়ে রান্নাঘরে ঢুকলো রোদ্রি।প্লেটটা হাতে নিতেই বিস্ফোরিত একটা শব্দ হলো।আগুনের ধোঁয়ায় ভরে গেল পুরো ঘর।
জ্ঞান হারানোর আগমুহুর্তে শুধু পরিচিত কিছু মানুষের কন্ঠের চিৎকার কানে আসলো রোদ্রির।
রোদ্রিকে অজ্ঞান অবস্থায় কোলে নিয়ে দ্রুত নিজের ঘরে গেলো নীরাদ।যত্ন করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ডাক্তার কে কল করলো।মিরা আর মনিরা পাশে বসে কান্না করছে আর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে রোদ্রির।
রান্নাঘরের আগুন ততক্ষনে নিভিয়ে দেয়া হয়েছে।খালি পাতিল চুলায় দিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন মনিরা আহমেদ।পাতিল পুড়ে একপর্যায়ে ফেটে আগুন ধরে যায় আগুন বেশি না লাগলেও ধোঁয়া হয় বেশি।
নাকেমুখে ধোঁয়া ঢুকে যাওয়া আর অতিরিক্ত ভয় পেয়ে ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রোদ্রি।
সোফায় বসে হাঁটুতে হাতের কুনুই ঠেস দিয়ে দুহাতে মুখ চেপে বসে আছে নীরাদ।একটু আগেই ডাক্তার এসে ইনজেকশন দিয়ে গেছে রোদ্রিকে,বলেছে কিছুক্ষন এর মধ্যই জ্ঞান ফিরবে।
মিরা ফোন করে বলাতে রিদানও তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে চলে এসেছে।সেও রোদ্রির পাশেই বসে আছে।কপালে চিন্তার ভাজ স্পষ্ট।
সবাই রোদ্রির প্রতি ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে পারলেও নীরাদ পারছেনা।পারছেনা সে রোদ্রিকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে।
রান্নাঘর থেকে রোদ্রির চিৎকার শুনে তার আত্মাটা কি পরিমাণে কেঁপে উঠেছিলো সেটা কেবল সেই জানে।
ধীরে ধীরে চোখ খুলে রোদ্রি।আশেপাশে তাকিয়ে কিছুটা সময় লাগে তার ব্যাপারটা বুঝতে।
রিদান এগিয়ে এসে গালে হাত রাখে।নরম গলায় বলে,
-শরীর খারাপ লাগছে বোন?
-নাহ্।আমি ঠিক আছি ভাইয়া।
বলে রিদানের সাহায্য উঠে বসলো রোদ্রি।ক্লান্ত লাগছে।বিছানায় হেলান দিয়ে বসলো সে।
-রোদ্রি মা,আমার জন্য তোমার আজকে এত বড় একটা বিপদ হতে গিয়েছিলো।আমাকে মাফ করে দিও।
-আরে আপনি কি সব বলছেন আন্টি।আপনার জন্য হবে কেনো?এটা জাস্ট একটা এক্সিড্যানট।
-জি চাচি।আপনাকে কতবার বললাম আপনি নিজেকে দোষারোপ করবেন না প্লিজ।
কথার মাঝেই রোদ্রির দিকে স্যালাইন মিশানো পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো নীরাদ।মৃদু কন্ঠে বললো,
-এটা খেয়ে নিন।পুরাটা শেষ করবেন।
এতক্ষনে নীরাদকে লক্ষ্য করে রোদ্রি।লোকটার চোখমুখ বিমর্ষ হয়ে আছে।উচ্চস্বরে কথা না বলেও কি সুন্দর শাসন করে নীরাদ ।
বিনাবাক্য পুরাটা শেষ করলো রোদ্রি।নীরাদ ঠায় দাড়িয়ে ছিলো এতক্ষন।খাওয়া শেষ হলে পানির গ্লাসটা নিয়ে পাশের টেবিলে রাখতে রাখতে বললো।"ওকে কিছু খাবার খাইয়ে দিন ভাবি,তারপর ওষুধ খেয়ে কিছুক্ষন ঘুমালেই দুর্বলতা কেটে যাবে।
মিরা বসে বসে রোদ্রিকে খাইয়ে দিচ্ছে।জরুরি মিটিং পড়ে যাওয়ায় রিদান কিছুক্ষন আগেই আবার অফিসে চলে গিয়েছে।বলেছে রাতে এসে রোদ্রি আর মিরাকে নিয়ে যাবে।
নীরাদ সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে আর একটু পরপর আড়চোখে রোদ্রিকে দেখছে।
খাওয়া শেষ হলে মিরা প্লেট রাখতে নিচে চলে যায়।রুমে শুধু নীরাদ আর রোদ্রি।
উঠে যেয়ে পাতা থেকে ওষুধটা বের করে রোদ্রির মুখের সামনে ধরে নীরাদ।
-হা করেন।
একবার তাকিয়ে ছোট করে মুখ খুলে রোদ্রি।ওষুধটা দিয়ে পানিটাও নিজ হাত খাইয়ে দেয় নীরাদ।ঠোঁটের কোঁণে লেগে থাকা পানি আলতো করে মুছিয়ে দিয়ে বলে,
-এখন চুপ করে ঘুমান।রেস্ট নিলে ভালো লাগবে।
-মি.নীরাদ।
রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল নীরাদ রোদ্রির ডাকে পিছনে ফিরলো সে।
-কিছু লাগবে?
-উহু....আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে বাঁচানোর জন্য।
কিছুক্ষন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো নীরাদ।তারপর বেশ শান্ত স্বাভাবিক গলায় বললো,
-আমিতো আপনাকে বাচাইনি।বাচিয়েছি নিজেকে।আমার সম্পূর্ণটা জুড়েইতো আপনি।আমার অস্তিত্বের প্রতিটা কোণায় কোণায় আপনার বিচরণ।অন্তত নিজের অস্তিত্বটা টি কিয়ে রাখার জন্যে হলেও আপনাকে বাঁচানো খুব জরুরি ছিল।নিজের অস্তিত্ব না থাকলে তো মানুষ বাঁচেনা,তাইনা মিস.রোদ্রি?
রোদ্রি কিছু বললোনা।বললোনা বললে ভুল হবে সে আসলে বলার অবস্থায় নাই।
মুচকি হাসলো নীরাদ।
-আচ্ছা,বাদ দিন এসব কথা।আপনার এসব নিয়ে না ভাবলেও চলবে।আপনি ঘুমান।
বলে দরজা আটকে বের হয়ে গেল নীরাদ।রোদ্রি বুঝতে পারছেনা তার কেমন রিয়েকট করা উচিত।মাথাটা একেবারেই খালি খালি লাগছে।
নীরাদের একেবারেই স্বাভাবিকভাবে বলা কথাগুলো প্রচন্ড অস্বাভাবিক ভাবে ভাবিয়ে তুলছে রোদ্রিকে।
রাতের বেলা বেডে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলো নীরাদ।হঠাৎ পাশে চোখ পরতেই খানিকটা হেসে উঠলো সে।এখানেই একটু আগে ঘুমিয়ে ছিল রোদ্রি।জায়গাটায় একহাত রাখলো সে।বিরবির করে বললো,
-আপনাকে এখানে পার্মানেনট ভাবে আনার ব্যবস্থা খুব শীঘ্রই করছি আমি মিস.রোদ্রি।
______________
কেটে গেছে বেশ কিছু সময়।আজকে রোদ্রির ফাইনাল সেমিস্টারের রেজাল্ট বেরিয়েছে।বেশ ভালো রেজাল্ট করেছে রোদ্রি।
ভাই ভাবিকে রেজাল্ট জানিয়ে অনুমতি নিয়ে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে বের হলো রোদ্রি।
বিকেলবেলা ক্লান্ত ভঙ্গিতে বাসায় ঢুকলো সে।ঢুকে মনিরা আহমেদ কে দেখে কিছুটা অবাক হলেও খুশি হলো।
রিদান আর মিরার সাথে কিছু একটা আলোচনা করছিলেন তিনি।রোদ্রি সালাম দিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।অর্ধেক সিঁড়ি উঠতেই একটা কথা কানে আসলো তার।সেখানেই থমকে দাঁড়িয়ে গেলো সে।
-রোদ্রিকে আমি আমার ছেলের বউ করতে চাই রিদান...
মিরাকে রুমে ঢুকতে দেখেই নড়েচড়ে বসলো রোদ্রি।নিজেকে যথাসম্ভব সাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো।
মিরা বেশ বুঝতে পারছে রোদ্রি মনিরা বেগমের কথাটা শুনেছে।আর তার আন্দাজমতে রোদ্রি নীরাদকে ভালোবাসে তাই তার অমত হওয়ার কথা না।কিন্তু শুধু আন্দাজ এর উপর ভিত্তি করেই সে আগেরবারের মতো কোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় না।
মিরাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মৃদু কন্ঠে বললো রোদ্রি,
-বসো ভাবি।
-তোর সাথে কিছু কথা ছিলো রোদ্রি।
-হ্যাঁ বলো।
-তুই হয়তো চাচীর কথাটা শুনেছিস।তাইনা?
-হুম..
-তাহলে..তোর মত কি?
কিছুক্ষন চুপ থাকে রোদ্রি।তারপর বলে,
-তোমরা যা ভালো মনে করো।
রোদ্রির কথায় হতাশ হয় মিরা।মেয়েটা কখনোই মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনা।একেবারেই চাপা স্বভাবের।
-দেখ রোদ্রি,বিয়েটা হবে তোর আর নীরাদের।সংসার করবি তোরা।সেখানে তোর মত টা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন।তোর যদি আপত্তি থাকে তাহলে বল আমি এক্ষুনি চাচীকে মানা করে দিব।তোকে তো তোর ইচ্ছাটা জানাতে হবে বাচ্চা।
প্রচন্ড লজ্জা নিয়ে এবার মুখ ফুটে বলেই দেয় রোদ্রি,
-আমার আপত্তি নেই ভাবি।
হাসি ফুটে উঠে মিরার ঠোঁটের কোঁণে।রোদ্রির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো সে।
মিরা রুম থেকে বেরিয়ে যায়।ঘরের লাইট নিভিয়ে দেয় রোদ্রি।আনমনে নিজেকে প্রশ্ন করে,"সে কি সত্যিই নীরাদকে ভালোবাসে?"উওরটা সে জানেনা।আসলেই জানেনা।সে শুধু জানে,নীরাদের সংস্পর্শ তাকে শান্তি দেয়।কেমন একটা নিরাপদ নিরাপদ অনুভব হয়।মনে হয়,হ্যাঁ এমন একটা আস্থাপূর্ণ ভরসাপূর্ণ মানুষইতো সবাই চায়।
___________
ফোনের রিংটনে ঘুম ভেঙে যায় রোদ্রির।কিছুক্ষন আগেই ঘুমিয়ে ছিল সে।পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে স্ক্রীনে চোখ পরতেই এক লাফে উঠে বসে।স্ক্রীনে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা"MR.Nirad is calling"।
এতরাতে নীরাদ কেন কল দিয়েছে?অবশ্য এখন এতরাত না মাত্র ১১:৩০ বাজে।সেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলো।নীরাদ নিশচয়ই তাদের বিয়ের ব্যাপারে বলতে ফোন করেছে?কি ভাবে কি বলবে সেসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা রিসিভ করলো সে।
-হ্যালো,মিস রোদ্রি?
-জি বলেন।
-আপনি ঘুমিয়েছিলেন?তাহলে পরে ফোন দিবোনে...
-না না বলেন।সমস্যা নেই।
-আপনার রেজাল্টের খুব ভালো হয়েছে শুনলাম।কংগ্রেচুলেশন।
-ধন্যবাদ।
-কালকে ফ্রি আছেননা?
-হুম।
-আচ্ছা ঠি কাছে ঘুমান আপনি।আপনার কন্ঠ শুনেই বোঝা যাচ্ছে ঘুমিয়ে ছিলেন।গুড নাইট।
-গুড নাইট।
_____________
সকালবেলা শাওয়ার নিয়ে বের হতেই বিছানার উপর কয়েকটা প্যাকেট দেখতে পেলো রোদ্রি।ভ্রু কুচকে এগিয়ে গিয়ে একটা প্যাকেট হাতে নিতেই পিছন থেকে মিরা বললো,
-দেখতো তোর পছন্দ হয় নাকি?সকাল সকাল নীরাদ এতকিছু পাঠিয়েছে তোর জন্য।সন্ধ্যায় ওরা আসবে আংটি পড়াতে।এগুলা পড়েই তৈরি হয়ে নিস।ছেলেটা শখ করে পাঠিয়েছে।
-আজকেই?
-হ্যাঁ,নীরাদ নাকি চাইছে যত দ্রুত সম্ভব বিয়েটা করে ফেলতে।তোর সাথে কথা হয়নি ওর?
-হয়েছে...কিন্তু এ বিষয়ে...
মিরার ফোন বেজে উঠে।রোদ্রিকে বলে,
-তোর ভাই ফোন দিয়েছে।আমাদের ও তো একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে।
বলে ফোন কানে লাগিয়ে ব্যস্ত ভঙ্গিতে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
একটা একটা করে প্যাকেট খুলছে আর অবাক হচ্ছে রোদ্রি।একটা মানুষের পছন্দ এতটা সুন্দর কি করে হতে পারে ভেবে পায় না রোদ্রি।হঠাৎই ফোনের টুংটাং শব্দে চমকে উঠে সে।
হাতে নিয়ে দেখে নীরাদের মেসেজ,
-"পছন্দ হয়েছে রোদ্রি?"
চলবে...
Writer:- মালিহা খান