মাধুর্যের যখন ঘুম ভাঙে তখন সে নিজের বিছামায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। পরণে রাতের পোশাক। নিশ্চয় মাম্মিমার কাজ এটা। গতকালকের ঘটনা মনে হতেই ভিতরে দুমড়েমুচড়ে যেতে লাগলো মাধুর্যের।
না সে এত সহজে হেরে যাওয়ার মেয়ে নয়। নিজেকে মানিয়ে নিতে সে জানে।
বিছানার পাশে টেবিলে রাখা ল্যাপটপে দ্রুত সার্চ করল বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী সম্পর্কে। কারণ তার যে বারবার মনে হচ্ছে আরহান নামক মানুষটা তার স্বপ্নে এসেছিল বাস্তবে নয়।
যদি সত্যি ননী বালা দেবী নামক কেউ থেকে থাকে তবে কাল সাঁঝবেলার সেই মুহূর্তটা সত্যি।
হ্যাঁ, এই তো সব তথ্য এসেছে। গতকাল তবে আরহানের বুকে সত্যি মাথা রেখে ঘুমিয়েছিল সে?
ভাবতেই ফাকা ঢোক গিললো মাধুর্য।
পুরোদিন মাধুর্য নানান কাজ করে কাটিয়েছে। বাড়ির উত্তর দিকে যায়নি।কারণ উত্তর দিকে দিঘি পার হলেই সাকিবদের বাড়ি।
বাড়ি থেকে আজ অনেক কাজ করেছে সে। নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে। লাইব্রেরি গুছিয়েছে। সালোয়ার-কামিজ বানিয়েছে। ঘরের পাশে থাকা জারুল গাছের নিচে বসে কচি পেয়ারার পাতা চিবিয়েছে।
এবাড়ির সবাই তখন সাকিবদের বাড়িতে ব্যস্ত তাই নিজের রান্না নিজেই করেছে।
লইট্ট্যা শুটকি ভর্তা সাথে গরম ধোঁয়া উঠা ভাত।
শুটকি ভর্তা করতে প্রথমে শুটকি মাছ ছোটো ছোটো করে কেটেপানিতে ভিজিয়ে রোদে রেখেছে। তারপর পেয়াজ,রসুন কেটেছে। মাছ হালকা সিদ্ধ করে ছেঁচে বেশি করে ঝাল দিয়ে, সরিষার তেলের সাথে ভর্তা করেছে।
রান্না শেষে অনেক সময় নিয়ে গোসল সেরে যখন ঘরে এলো তখন দেখতে পায় ইনহান এবং পত্রী বসে আছে।
"মিস ধানী লংকা, চলে এলাম বিনা দাওয়াতে আপনার বাড়ি।"
ইনহানের কথায় ভেজা চুল মুছতে মুছতে তাদের সামনে এসে দাড়ায় মাধুর্য।
পত্রী না থাকলে এখন ইনহান পৃথিবীর সব'চে দানবীয় চুমুটা খেয়ে নিতো মাধুর্যের ঠোঁটে।
"আমি তো শুধু শুটকি ভর্তা করেছি।"
মাধুর্যের কথায় ইনহান জবাব দেয়,
"চলবে না দৌড়াবে।"
পত্রী ততক্ষণে চার প্লেটে ভাত বেড়ে নিয়েছে।
চার প্লেট দেখে কপাল কুঁচকে মাধুর্য জিজ্ঞেস করে,
"এখানে তিনজন বাকী একজন কে?"
"বাহ্ রে! ছোটো চাচা খাবেন না?সে তো সাকিব ভাইদের বাড়িতে খাবে না। চাচা এলো বলে।"
মাধুর্য দেখতে পেলো তার ছোটো মামা ঘরে ঢুকছে। তার হাতে গাছের পাকা আম।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে এলো মাধুর্য এবাড়ির দিকে আসেনি। সাকিব সকালে একবার ও বাড়ি গিয়েছিল তখন মাধুর্য ঘুমে ছিল।খুব ইচ্ছে করছিল তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কিছু সময় ঘুমাতে কিন্তু হাতে এত কাজ যে সে সময় হয়ে উঠেনি।
ভেবেছিল এতক্ষণে হয়তো সে এসেছে কিন্তু দুপুরে খাওয়ার সময় ওকে না দেখে অর্ণিকে জিজ্ঞেস করলে অর্ণি বলল,
"তামসী কই?"
"কালকের পর আসেনি।"
"একা ওবাড়িতে সারাদিন।"
"থাকুক না দাদাভাই। এত আদিক্ষেতা কীসের?"
"শুনেছিলাম বিয়ের পর মেয়েরা পাল্টে যায়। এতটা বদলে যায়?"
"তুই তাহলে চড় কেনো মেরেছিস?আমি না হয় বিয়ের পর বদলেছি, তুই তো তোর জেরিন আসার নাম শুনেই বদলে গেছিস।মাধু আস্ত একটা আপদ এই পরিবারের কাছে, তোর কাছে, তোর জেরিনের কাছে। থাকুক না দূরে। এ নিয়ে তোর আদিক্ষেতার দরকার নেই।"
খাবার প্লেট রেখেই সাকিব চলল তার মামারবাড়ি। মিনিট দুয়েক এর রাস্তা। দ্রুত হেটে মাধুর্যর ঘরে ঢুকলেও তাকে পেলো না। পুরো বাড়িতে সে নেই।
জারুল গাছের নিচে পড়ে আছে একটা চুড়ি। অথচ মেয়েটা নেই।
সাকিব ভেবেছিল মাধুর্য ফিরবে তার ঘরেই ফিরবে কারণ তার যাওয়ার জায়গা নেই। অথচ সাকিব এটা ভুলে বসেছে
"যার এই পৃথিবীতে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, আস্ত পৃথিবীটাই তার আশ্রয় হয়ে যায়।"
পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ মায়ের বয়স জানেন কত ছিল? মাত্র পাঁচ বছর।
পাঁচ বছর বয়সে সে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেয় লিনা মেডিনা।সবটাই হরমোনাল কারণে। তবুও ভাবুন হরমোনাল কারণে সে হয়তো মা হওয়ার উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য লাভ করে কিন্তু জৈবিক চাহিদা সম্পন্ন না হলে সে গর্ভবতী হতো না।"
ইনহানের কথায় মুখ তুলে তাকালো মাধুর্য।ইনহানের মুখে এক বেদনার স্পষ্ট
মাধুর্যকে চুপচাপ থাকতে দেখে ইনহান আবার বলল,
"টানা চল্লিশ ঘন্টা পাশবিক অত্যাচারিত হওয়ার কষ্ট বুঝতে পারেন মিস ধানী লংকা?আমার বুবুকে ১৭ জন মিলে টানা ৪০ ঘন্টা পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছিল।সেই ৪০টা ঘন্টা পাগলের মতোন খুজেছিলাম বোনকে। আর যখন আরহান ভাই বুবুকে পেলো! জানেন কী অবস্থায় ছিল?"
"টানা চল্লিশ ঘন্টা পাশবিক অত্যাচারিত হওয়ার কষ্ট বুঝতে পারেন মিস ধানী লংকা?আমার বুবুকে ১৭ জন মিলে টানা ৪০ ঘন্টা পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছিল।সেই ৪০টা ঘন্টা পাগলের মতোন খুজেছিলাম বোনকে। আর যখন আরহান ভাই বুবুকে পেলো! জানেন কী অবস্থায় ছিল?
তখনো বুবুর উপরে একজন তার কামনা মেটাতে ব্যস্ত।
কখনো ভেবে দেখেছেন?আপনার প্রিয়তমা, আপনার বাগদত্তা তার নিস্তেজ রক্তাক্ত দেহের উপর এমন অত্যাচার?
তবুও আমার বোন বেঁচে ছিল। হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করেও লড়ছিল।
বিধাতা চায়নি তাই আজ সে নেই।সেই মানুষটা আরহান ভাইয়ের বুকেই মাথা রেখে শেষ শ্বাস ত্যাগ করে।"
কথাগুলো বলার সময় ইনহানের কন্ঠস্বর বেশ কঠিন ছিল।
হাতের মুঠ শক্ত করে রেখেছিল।
তার দিকে তাকিয়ে পত্রী জিজ্ঞেস করল,
"বিচার হয়নি তাদের?"
"ফাসি হয়েছে সবার।"
"আপনাদের সাথে শত্রুতা ছিল?"
"না।"
"তাহলে?"
"বুবু একটা সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান চালাতো।সেখানে একদল মেয়েকে পাচারকারীদের হাত থেকে বাঁচায়। তারাই পরবর্তীতে......"
মাধুর্য এগিয়ে এসে শক্ত হাতে ইনহানের হাত আঁকড়ে ধরে।
হয়তো সে এভাবেই তাকে স্বান্তনা দিচ্ছে।
ইনহান বিস্ময় চোখে মাধুর্যের দিকে তাকিয়ে বলে,
"ভেবে ধরেছেন তো?"
"বন্ধুদের হাত ভেবে ধরতে হয়?"
"যদি আর না ছাড়ি?"
"সমস্যা নেই।বন্ধু হয়েই না হয় রইলাম।"
তাদের কথোপকথনে পত্রী হঠাৎ বলে উঠে,
"আর আমি?"
"তুমি? তুমি তো দুধভাত।"
ইনহানের জবাবে তিনজনের মধ্যে হাসির দমক পড়ে গেলো।
প্রহরশেষের আলোয়
রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ।।
এ সংসারের নিত্য
খেলায় প্রতিদিনের প্রাণের মেলায় বাটে ঘাটে হাজার লোকের
হাস্য-পরিহাস–
মাঝখানে তার তোমার
চোখে আমার সর্বনাশ।।
আমের বনে দোলা লাগে,
মুকুল প’ড়ে ঝ’রে–
চিরকালের চেনা গন্ধ
হাওয়ায় ওঠে ভ’রে।
মঞ্জরিত শাখায় শাখায়, মউমাছিদের পাখায় পাখায়,
ক্ষণে ক্ষণে বসন্তদিন
ফেলেছে নিশ্বাস–
মাঝখানে তার তোমার
চোখে আমার সর্বনাশ।
রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করে অর্ণির দিকে তাকায় ওয়াহেদ।
কেমন গোল আলুর মতোন চোখ করে তাকিয়ে আছে মেয়েটা।
আচ্ছা মেয়েটা কী জানে?এই গোল আলু চোখের মেয়েকে ওয়াহেদ ভালোবাসতে শুরু করেছে?
তাকে দেখলেই কেমন মনের মধ্যে নদীর বালি ঝড়ে পড়তে লাগে?
কেমন হাবুডুবু অনুভূতি হয়?
রাতে যখন মেয়েটা তার সো কল্ড প্যালাজো হাটুর উপরে উঠিয়ে রাখে তখন তার কেমন অনুভূতি হয়?
হয়তো জানে না। জানলে এমন দুঃসাহসিক কাজ কী সে করতো?
কবে যে তাকে ঘরে তুলবে! ভাবতেই মিষ্টি দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো তার বুক চিড়ে।
"আপনি আবৃতি করেন?"
"করা নিষেধ না কী?"
"বেশ ভালো লাগলো।আমি তো আকাম্মাইয়া। কিছুই পারি না।"
"আমি তো জানি যে মেয়েরা কিছুই পারে না, তারা রান্না ভালো পারে।"
"রান্না আর আমি?আন্ডা, আন্ডা পারি আমি।"
অর্ণির কথায় ওয়াহেদ হেসে তার দিকে ঝুকে বলল,
"সব মেয়েরাই ডিম পারে। আর কিছু পারুক না পারুক।ডিম না পারলে বাচ্চা আসবে কই থেকে?"
বলেই শিষ বাজাতে বাজাতে ওদিকে চলে গেলো।অর্ণি বিজ্ঞানের ছাত্রী সে ভালোভাবে জানে ওয়াহেদ কী বলেছে।
এ ছেলে তো! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে অর্ণির।লজ্জায় মুখ রাঙা।
সাকিব প্রায় জোর করেই মাধুর্যের ঘরে ঢুকেছে। মাধুর্য তখন টিভিতে মগ্ন।গোপাল ভাড় দেখছে। সাকিবকে সে দেখেও দেখছে না।
সাকিব তার পাশে গা ঘেঁষে বসেছে।মাধুর্য সরে যেতে চাইলে তার মুখোমুখি বসে পড়ে সে।
ধপ করে মাধুর্যের রাগ কমে যায়।
কারণ এটা সাইকোলজির ব্যপার।যদি আপনার সাথে কেউ রাগ করে তবে আপনি তার সামনাসামনি বসে পড়ুন। তার রাগ কমতে বাধ্য।
"তামসী সারা দিন খাইনি।"
"আমার কী?"
"ক্ষিধে পেয়েছে মোনাই।"
"বাড়ি যাও। লোকে দেখলে নিন্দে মন্দ করবে।"
"করুক না।তাতে কী?"
"বেয়াদবের থেকে দূরে থাকো।"
হঠাৎ বাহিরে বাতাস শুরু হয়েছে। ঝড় উঠছে। বিদুৎ চলে যেতেই আইপিএস চালু হলো।টিভি বন্ধ হয়নি। কারণ মাধুর্যের ঘরের টিভি বিদ্যুৎ না থাকলেও ঘন্টা খানেক চলে।
সাকিব মাধুর্য হাত নিয়ে খেলা করছে।
"ভুল করছো দাদা ভাই। বাড়ি যাও।"
"তোর বিষাক্ত চুমুর বিনিময়ে আজ মরতে ইচ্ছে করছে। ভিলেন হতে ইচ্ছে করছে তোর সিনেমায়। দিবি আজ অবাধ্য হতে?তোর সবটা নিতে?"
সাকিবের কথায় চমকে উঠে মাধুর্য। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখে সাকিবের চোখ ভীষণ লাল।যেভাবে ঢুলছে সে নেশাগ্রস্ত।
মাধুর্য পুরো বাড়িতে প্রায় একা।তার চিৎকার কারো অবধি পৌঁছাতে পারবে না। সাকিবের শক্তির সাথে সে পারবে না।তবে কী তাকে সত্যি কলঙ্কের ভাগীদার হতেই হবে?
মেয়েদের ছোট্ট জীবনে অনেকের সাথে লড়তে হয়। ঘরের সাথে,পরের সাথে কখনো বা নিজের সাথে।
মাধুর্য এখন লড়ছে তার নিজের সাথে। সাকিবের কথায় স্পষ্ট সে নেশায় বুদ অথচ মাধুর্য তো সুস্থ।
সে সব ভাবতে পারছে, চিন্তা করতে পারছে।
এখন যদি সে হাক-ডাক করে তারেকা বানু এবং সাকিবের বাবা অবশ্যই মাধুর্যের দোষ ধরবে।
চরিত্র নিয়ে কথা শোনাতে পিছপা হবে না।
আবার এদিকে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ির দূরত্ব বেশ। সচরাচর শব্দ কী পৌঁছাতে পারবে?
জীবন টা সিনেমা নয়। কিন্তু সিনেমার গল্পগুলো জীবন থেকেই নেওয়া হয়।সিনেমা বা নাটক দিয়ে জীবন চলে না অথচ জীবনের কাহিনি নিয়েই সিনেমা নাটক হয়। আজ এমনি এক নাটকের অংশীদার মাধুর্য।
ভেতরে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাধুর্য বাহিরে স্বাভাবিক।
সাকিবের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো না।
নেশায় মানুষ পশুর থেকে অধম হয়ে যায়।হিতাহিত জ্ঞানশূন্য মানুষ হিংস্র পশুর ন্যায়।
সাকিবের দিকে তাকিয়ে মাধুর্য জিজ্ঞেস করলো,
"ভাত নেই।নুডুলস পাকিয়েছি। খাবে?"
সাকিব মাথা দুলিয়ে স্বীকার করলে মাধুর্য উঠে যায়। সাকিব তখন ঢুলুঢুলু অবস্থায় বিছানায় বসে। মাধুর্য কল দিতে থাকে তার ছোট মামাকে।
কিন্তু অভাগী যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়।
মামা ফোন না তোলায় কল দেয় রৌদ্র কে।
রৌদ্র যখন ঘরে এলো সাকিব তখন প্রায় ঘুমে।
মাধুর্যের ফোনকল পেয়ে দ্রুত ছুটে এসেছে সে। মাধুর্য তখন নুডুলসের নাম করে অন্য ঘরে দরজা দিয়েছে।
এমন নয় সাকিব কিছু বলেনি।তাকে বেশ ডাকাডাকি করেছে।চেচামেচি করেছে। মাধুর্য চুপচাপ তখন অন্য ঘরে বসে আছে।
রৌদ্র এলে মাধুর্য ভাইয়ের আশ্রয়ে যেন নতুন জীবন পেলো।
সাকিবকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে রৌদ্র বোনকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়।এ ঘটনা কাউকে জানানো যাবে না। বিশেষ করে তারেকা বানুকে। কারণ সে জানলে দোষ তো সব মাধুর্যের হবে।
বরপক্ষ চলে গিয়েছে। সকাল সকাল ইনহান বেরিয়েছিল মাধুর্যকে খুঁজতে তবে দেখা মিলেনি।
মাধুর্য আজ বেশ বেলা করে ঘুমিয়েছে। ও বাড়িতে বিয়ের ধুম পড়েছে। ছাদের এ পাশ থেকে দেখা যায়। সেদিনের ঘটনা সে ভুলেনি। তাই যেতে চাচ্ছে না৷
একা একা নীরবতা ঢের প্রিয় তার।
"শুনলাম মাধুর্য না কী বরপক্ষের সাথে ঝামেলা করেছিল?এই মেয়ের আসলেই দোষ আছে। দাদী ঠিক বলে লক্কর জক্কর ভালা না?"
জেরিনের কথা শুনে খুশবু সব'টা সাকিবের মায়ের কাছে বলে। সাকিবের মা তার ছেলের হবু বউ কে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করতেই বলল,
"আপনার কী মনে হয় আমার মুখের ভাষা বস্তি মার্কা?আমি ওমন ভাষা বলি না।"
জেরিনের এমন জবাবে খুশবু জবাব দেয়,
"আমি কী মিথ্যে বলছি?তুমি বলোনি?লক্কর জক্কর ভালা না?"
"সব কথাই নিজেদের দিকে নাও ক্যান?"
"তুমি বলেছো।"
"বোনেরা মিলে গ্যাং চালাও না কী?গুন্ডাবাহিনী? "
"হ্যাঁ আমরা গুন্ডাবাহিনী আর তুমি কী?উইড ব্যবসায়ীর চামচা?"
"এই মেয়ে এই?সাহস কম না?"
"তুমি বললে ভালো আমরা বললে দোষ? "
"সবাই ক্যান তোমার বোনের পিছনেই লাগে?এটা ভাবছো কখনো?"
"কারণ তোমাদের মতোন ফাজিল,শয়তানের নানীদের জবাব দেয় না বলেই আজ এই অবস্থা। জবাব দিলে বেয়াদব খেতাব পেতে হয়। যদি সময় মতো জবাব দিতো তবে কী আর তোমাদের মতো চুনোপুঁটি সাহস করে এসব বলার?"
"খুশবু মুখ সামলে কথা বলো।"
"তুমি মুখ সামলাও। না হলে পানের সাথে বিচুটি পাতা বেটে খাইয়ে মুখ বন্ধ করে দিবো।"
রাগে দুঃখে খুশবুর কান্না পাচ্ছে। মানুষ এত বেহায়া হয় কী করে?এদের আর কোনো কাজ নেই?এরা না কী আবার এই শিক্ষিত সমাজের অংশ!
জানে না কীভাবে সম্মান দিতে হয় আর এসেছে সম্মান নিতে।
জেরিন এসেছে মানে মাধুর্য এবাড়িতে না আসাই ভালো।তারেকা বানু কম ছিল কী যে এই মেয়েটাও হাজির।
বিকেলবেলা মাধুর্য বসে আছে নিজের ঘরের বারান্দায়। থ্রি এ এম উপন্যাস পড়ছিল। হঠাৎ করে তার ফোন বেজে উঠে। বইয়ে চোখ রেখেই মাধুর্য কল রিসিভ করে বলল,
"আসসালামু আলাইকুম।"
"আমি আরহান বলছিলাম।"
ভারী,সাবলীল এবং তীব্র পুরুষ কন্ঠস্বর শুনে মাধুর্যের শুধু মনে হলো,
"ভাগ্যকে কখনো নিমন্ত্রণ দিতে হয় না।জন্ম,মৃত্যু এবং অনেক কিছুই আমাদের না জানিয়ে যথা সময়ে চলে আসে।"
চলবে...
Writer:- সাদিয়া খান (সুবাসীনি)