> এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩২ - Romantic Love Story - Boipoka365
-->

এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩২ - Romantic Love Story - Boipoka365

 


Romantic Love Story


সকালের সূর্য আকাশে উঁকি দিচ্ছে। তুরা বারান্দার গোলাপ গাছটায় পানি দিচ্ছে। এক ফালি সোনালি আলো তার চোখেমুখে এসে পরেছে। কপালের উপরে অবাধ্য চুলগুলো পরে আছে।

প্রায় সাতদিন কেটে গেছে। তুরা নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হন্যে হয়ে খুঁজছে নিজের এই সমস্যার সমাধান। এই কদিনে সবাই তাকে অর্থহীন সান্ত্বনা দিয়ে গেছে। পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলা এসে দুঃখ প্রকাশ করে কিছু কথা বলে গিয়েছেন। তুরা আজকাল আর কাঁদে না। সবার সাথে সে হেসেই কথা বলে। শুধু সকলের আড়ালে গেলেই তার চোখ মাঝে মধ্যে ভিজে ওঠে।

এখন তার দিনগুলো আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই কাটে। রোজ সকাল,বিকাল রান্না করা, ঘরবাড়ি গুছিয়ে রাখা। তবে  দুপুরবেলা আর আগের মতো ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসে না।ইদানীং তুরা সবসময় চেষ্টা করে নিজেকে ব্যস্ত রাখার। হাতের যে কাজগুলো দশ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা, সেগুলো তুরা এক ঘন্টা সময় নিয়ে করে। তার এখন তাড়া নেই, চারপাশে কেউ নেই।

.

আবরার ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো।অতি সাবধানে তুরার দিকে তাকালো সে।আজকাল হুট করে তুরার দিকে তাকালে তার বুকে কেমন ধাক্কা লাগে।তুরা এখন নিজের প্রতি বড্ড উদাসীন।তার শাড়ি অগোছালো হয়ে আছে,চুল এলোমেলো হয়ে পরে আছে,গায়ে কোনো অলংকার নেই,চোখের নিচে জমাট কালি।কাল রাতেও তুরা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে।আবরার বুঝতে পেরেও কিছু বলে নি।ঘুমের ভান করে পরে থেকেছে বিছানায়।কিই বা বলতো সে?সন্তানহারা মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা সে জানে না।

আবরার নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল, 

"এক গাছে আর কত পানি দেবে?"

তুরা আবরারের দিকে তাকালো।পানির পাত্র নামিয়ে রেখে বলল, 

"গাছে কলি আসবে খুব তাড়াতাড়ি।তুমি আজ ফেরার সময় একটা কীটনাশক নিয়ে এসো তো।"

"আচ্ছা,আনবো।"

"তুমি রেডি হয়ে নাও।আমি তোমাকে খেতে দিচ্ছি।"

তুরা ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।আবরার ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।সেখানে একটা খাতা নজরে পরলো তার।আবরার কৌতুহল মেটাতে খাতাটা হাতে নিলো।খাতায় একটা স্কেচ আঁকা।স্কেচটা একটি মেয়ের।মেয়েটির বেশ এলোমেলো।শাড়ির আঁচল উড়ছে,চুল উড়ছে।স্কেচটা নিশ্চয়ই তুরা করেছে।তুরা যে এত সুন্দর স্কেচ করতে পারে তা আবরার আগে জানতো না।আবরার খাতাটা আবার আগের জায়গায় রেখে দিলো।তারপর আলমারির দিকে এগিয়ে গেল।

.

নাস্তার টেবিলে বসে আবরার জানতে চাইলো,

"তুমি স্কেচ করো,তুরা?"

তুরা গ্লাসে পানি ঢালছিল।মৃদু হেসে উত্তর দিলো, 

"একসময় করতাম।টুকটাক ছবি আঁকা শখ ছিল।মাঝখানে বেশ অনেকদিন বন্ধ রেখেছিলাম।"

"বেশ ভালো স্কেচ করো তুমি।বাদ দিও না অভ্যাসটা।"

তুরা মলিন মুখে বলল, 

"এতগুলো দিন তো আমি ব্যস্ত ছিলাম।পড়াশোনা নিয়ে,বিয়ের পর সংসার নিয়ে,তোমাকে নিয়ে।তাই স্কেচ করার সময়ই হতো না।কিন্তু আজকাল সময় কিছুতেই কাটতে চায় না।তাই আবার আঁকছি সময় কাটাতে।"

আবরার কিছু বলতে পারলো না।তুরার অনেক কথার উত্তরেই সে কিছু বলতে পারে না।কি বলবে বুঝে উঠতে পারে না।

খাওয়া শেষ করে আবরার উঠে পরলো।ল্যাপটপের ব্যাগটা হাতে নিয়ে বলল, 

"আসি,তুরা।তুমি সাবধানে থেকো।"

আবরার চলে গেল।তুরা মন খারাপ করে বসে রইলো।কয়েকদিন ধরে অফিস যাওয়ার আগে আবরার তার কপালে চুমু খেতে ভুলে যাচ্ছে।এমন কেন হচ্ছে?তাদের সংসার কি তবে এখন শুধু চাল,ডাল,রান্নাময়?নিজেদের ভেতরের মায়া,ভালোবাসা কি আলগা হয়ে যাচ্ছে?এখন কি আবরারের উচিত নয় আরও বেশি করে তাকে ভালোবাসা? 

তুরা আর ভাবতে পারলো না।অভিমানে তুরার চোখ ছলছল করে উঠলো।কিন্তু সে নিজেও যে আজকাল আবরারকে দরজা অব্দি এগিয়ে দিতে ভুলে যাচ্ছে,সেটা সে খেয়াল করলো না।অভিমান যে উল্টোদিকেও হতে পারে,সেটাও বুঝতে পারলো না।

_______________________________

ভরদুপুরে বিছানায় বসে তুরা বই পড়ছে।ভীষণ গরম পরেছে।ঘরের জানালা,বারান্দার দরজা সব বন্ধ।সব জানালার পর্দা টেনে দিয়েছে সে।মাথার উপরে ফ্যান চলছে।আধভেজা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে।নৌকাডুবি উপন্যাসটায় ডুবেই গিয়েছিল তুরা।মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটলো ফোন বেজে ওঠার শব্দে।

তুরা বইটা উল্টে রেখে ফোন হাতে নিলো।সে ভেবেছিল আবরার ফোন করেছে।কিন্তু আবরার নয়।ফোন করেছে রেখা।তুরা ফোন ধরলো।বলল, 

"হ্যালো,বড় আপা।কেমন আছো তুমি?"

ওপাশ থেকে রেখা বলল, 

"ভালো আছি।তুই ভালো আছিস?"

"আছি।মিতি তিতি কেমন আছে?কই ওরা?"

"ভালো আছে।ওরা ঘুমাচ্ছে।তুই খেয়েছিস?"

তুরা আসলে খায় নি।খেতে যে হবে সেটাও যেন মাথায় আসে নি তার।সে মিথ্যা বলল, 

"হ্যাঁ, খেয়েছি।"

এবার রেখার কণ্ঠস্বর বদলে গেল।সে অত্যন্ত কোমল গলায় বলল, 

"তুরা,আমি যে তোর কাছে একবারও যেতে পারলাম না রে!তুই কিছু মনে করিস না,বোন।আসলে ইচ্ছা থাকলেও আমার পক্ষে সবকিছু সম্ভব হয়ে ওঠে না।"

"আমি কিছু মনে করি নি,আপা।"

"তুরা,তোকে কয়েকটা কথা বলবো।মন দিয়ে শুনবি।"

"বলো,আপা।"

"আমি জানি তুই একটা কঠিন সময় পার করছিস।আমি নিজেও একজন মা।তোর অবস্থা বুঝতে পারছি।কিন্তু বোন,বাস্তবতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াতেই মঙ্গল রে।আল্লাহর উপর ভরসা রাখবি সবসময়।নিশ্চয়ই ভালো সময় আসবে।"

 "আমি চেষ্টা করছি,আপা।নিজেকে কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত রাখছি সারাক্ষণ।এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।"

"হ্যাঁ,নিজেকে ব্যস্ত রাখ।সেই সাথে আরও একটা বিষয় খেয়াল রাখ।এই সময়ে নিজেকে সামলাতে গিয়ে যেন আবরারের সাথে তোর সম্পর্ক শীতল না হয়ে যায়।আবরারের সাথে বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করবি।ওর থেকে দূরে দূরে থাকবি না।বুঝেছিস?"

তুরা ছোট করে জবাব দিলো, 

"হুম।"

"আর একটা কথা বলছি।তুই দ্বিতীয় বার কনসিভ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর।"

তুরা কোনো কথা বলল না।কোনো সাড়া না পেয়ে রেখা বলল, 

"এই তুরা,শুনেছিস আমার কথা?"

তুরা স্বাভাবিক গলায় উত্তর দিলো,

"শুনেছি, আপা।"

"তোকে তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে বলছি না।তুই সময় নে,অনেক সময় নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নে।সবার আগে নিজের দিকে মনোযোগ দে।"

"আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি,আপা।"

"ঠিক আছে,ভালো থাক রে।আমি খুব তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসার চেষ্টা করছি।এখন রাখি।আমার শাশুড়ি মাকে ওষুধ দিতে হবে।"

"তোমরাও ভালো থাকো,আপা।রাখছি।"

তুরা কল কেটে দিলো।দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা রেখে বিছানা ছেড়ে নামলো তুরা।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে সে চমকে উঠলো।কি দুর্দশা করেছে সে নিজের!এই কটাদিন তো আয়নার সামনে দাঁড়াতেই ভুলে গিয়েছিল সে।সে চিরুনি হাতে নিয়ে খুব যত্ন করে চুল আঁচড়াতে লাগলো।আবরারের সাথে তার সম্পর্ক ইতোমধ্যেই শীতল হয়ে গেছে।প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা হচ্ছে না।যতটুকু হচ্ছে,তার সবটুকুই নিতান্ত এক বাড়িতে থাকার কারণেই হচ্ছে।নইলে হয়তো হতো না।তুরা আসলে নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।সবাইকে ভুলে ভেতরে নিজের দুঃখটুকু পুষে রাখতে চেয়েছে।স্বাভাবিক হতে চাইলেই তার মনে হয়েছে,সে বুঝি তার কাজলকে ভুলে যাচ্ছে।কাজলের সাথে অন্যায় করছে।কি করে মন ভালো করবে সে?বাবার বাসায় কি কয়েকটা দিন থেকে আসবে?আবরারেরও তো কিছু ভুল আছে।সে কেন তুরার প্রতি একটু বেশি খেয়াল রাখলো না?তার যে অভিমান হয়েছে সেটা কি সে সরাসরি আবরারকে বলবে?নাকি বলা ঠিক হবে না?কিছু বুঝে উঠতে পারে না তুরা।

তুরার ভাবনা ভাঙে কলিং বেলের শব্দে।তুরা চিরুনি রেখে দরজার দিকে পা বাড়ায়।ভরদুপুরে তার বাসায় আসার মতো দুজন মানুষই আছে।একজন তার মা,আর আরেকজন রায়না।তুরা দরজা খুললো।ওরা কেউ আসে নি।এসেছে তুলি।তুরা অবাক হয়ে বলল, 

"তুই?ইউনিভার্সিটি যাস নি আজ?"

তুলি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, 

"গিয়েছিলাম।আর ক্লাস করতে ভালো লাগছিল না।তাই বেরিয়ে চলে এলাম তোমার কাছে।"

তুরা দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলল, 

"ভালো করেছিস।"

তুলি সোজা শোবার ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পরলো।তুরা বলল, 

"একি?হাতমুখ না ধুয়ে বিছানায় শুবি না তো,তুলি।যা,হাতমুখ ধুয়ে আয়।"

তুলি উঠে বসলো।কাঁধে ঝুলানো ব্যাগটা বিছানায় রেখে বলল, 

"মেজপা,খুব ক্ষিদে লেগেছে।তুমি খাবার রেডি করো।আমি হাতমুখ ধুয়ে আসছি।"

কথা শেষ করে তুলি বাথরুমে চলে গেল।তুরা খুব বিপদে পরে গেল।কারণ সে দুপুরে কিছুই রান্না করে নি।সকালে বানানো একটা রুটি আছে।সেটাই কি তুলিকে খেতে দেবে?নাকি চট করে কিছু রান্না করে ফেলবে?কিন্তু কি রান্না করবে?মেয়েটার নিশ্চয়ই অনেক ক্ষিদে লেগেছে।

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই তুলি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।বিছানায় বসে ব্যাগ থেকে দুটো খাবারের প্যাকেট বের করলো।তুরা ভ্রু কুঁচকে তাকালো।তুলি হেসে বলল, 

"আমি জানতাম তোমার বাসায় এখন খাবার থাকবে না।তাই নিজেই খাবার কিনে এনেছি।"

তুরা বিস্ময় নিয়ে তাকালো।তুলি বলল, 

"এভাবে তাকানোর কিছু নেই।আমি অনেক কিছু আগে থেকে বুঝতে পারি।তোমরা তো ভাবো আমি কিছুই বুঝি না।"

তুলির বলার ধরণে তুরা হেসে ফেললো।বলল, 

"কি খাবার এনেছিস?"

"পরোটা,আর শিক কাবাব।"

"ঠিক আছে।তুই বোস,আমি একটা প্লেট আনছি।"

তুরা রান্নাঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।তুলি বলে উঠলো, 

"একটা নয়,মেজপা।দুটো প্লেট আনবে।"

তুরা থমকে দাঁড়ালো।বলল, 

"দুটো প্লেট?"

"হ্যাঁ।কারণ আমি জানি যে তুমিও এখনো কিছু খাও নি।আজ আমরা একসাথে খাব।"

তুরা অত্যন্ত বিস্মিত হলো।তুলি ঠান্ডা গলায় বলল, 

"আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি,মেজপা।"

তুরা কথা বলতে পারলো না।তুলি বলল, 

"কি হলো?যাও,প্লেট আনো।তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে কাঁচা আম খাব।আমাদের বাগানের গাছ থেকে কাঁচা আম এনেছি আমি।"

তুরা মৃদু হেসে চলে গেল।প্লেট নিয়ে ফিরে এসে তুলির সামনে বসলো।তুলি প্লেটে খাবারগুলো বেড়ে প্রথমেই তুরার মুখের সামনে খাবার তুলে ধরলো।তুরা খাবার মুখে নিয়ে বলল, 

"তুই আসলে আমার মন ভালো করতে এসেছিস।তাই না,তুলি?"

প্রশ্নটা করতে গিয়ে তুরার চোখে পানি এসে গেল।তুলি উঠে গিয়ে তুরাকে জড়িয়ে ধরলো।বলল,

"তুমি আর কাঁদবে না,মেজপা।আর একদম কাঁদবে না তুমি।"

তুরাও হাত বাড়িয়ে তুলিকে জড়িয়ে ধরলো।সে স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারছে এই মেয়েটা তাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে।কি গভীর আত্মার সম্পর্ক তার এই তুলি নামক মেয়েটির সাথে!একেবারে স্বচ্ছ,দীঘির টলটলে জলের মতো। 

.


সন্ধ্যা সাতটা।আবরার বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে।অফিস থেকে এসেই গোসল করেছে সে।বড্ড গরম পরেছে আজকাল।

তুরা এক কাপ চা নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।বিছানায় বসে কাপটা আবরারের দিকে নিঃশব্দে এগিয়ে দিলো।আবরার চা নিয়ে চুমুক দিতে লাগলো।কোনো কথা বলল না।তুরা সামনে বসে উশখুশ করছে।সে ঠিক করেছে তার অভিমানের কথা সে সরাসরি আবরারকে বলবে।সে অনেক ভেবেছে।ভাবতে গিয়ে রায়নার বলা একটা কথা তার মনে পরেছে।রায়না বলেছিল,মনের ভেতর কথা জমিয়ে রাখলে অভিমানের বিশাল দেয়াল তৈরি হয়।ঠিকই বলেছে।সরাসরি বলে দেওয়াই ভালো।ভেতরে অভিমান চেপে রাখা একদম ঠিক নয়।কিন্তু কিভাবে বলবে সেটা বুঝতে পারছে না।

তুরা একটু ভাবলো।তারপর হালকা কেশে বলল, 

"শুনো,আজ আমার রান্না করতে ভালো লাগছে না।"

আবরার সংক্ষেপে জবাব দিলো, 

"ঠিক আছে।আমি অনলাইনে খাবার অর্ডার করে দেবো।"

তুরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, 

"তোমাকে গোলাপ গাছের কীটনাশক আনতে বলেছিলাম।এনেছ?"

আবরার এবারও সংক্ষেপে উত্তর দিলো, 

"হ্যাঁ, আমার ব্যাগে আছে দেখো।"

"আমি দেখতে পারবো না।তুমি এনে দাও।"

আবরার উঠলো।চায়ের কাপ টেবিলে রেখে সোফায় রাখা ব্যাগটা থেকে একটা ছোট্ট বোতল বের করলো।তার সাথে বের করলো একটা ছোট্ট প্যাকেট।বোতলটা টেবিলে রেখে বলল, 

"এই যে তোমার গাছের কীটনাশক।এখানে রাখছি।"

তারপর বিছানায় বসে হাতের প্যাকেটটা তুরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

"এই নাও।এটা তোমার জন্য এনেছি।"

তুরা ভ্রু কুঁচকে বলল, 

"এত বড় প্যাকেটে কি আছে?"

"তুমিই দেখে নাও।"

তুরা প্যাকেট হাতে নিলো।কাগজের মোড়কটা খুলতেই রঙ,তুলি,পেনসিল আর ছবি আঁকার কিছু কাগজ বেরিয়ে এলো ভেতর থেকে।তুরা অবাক হয়ে বলল, 

"এসব কি?"

আবরার আমতা আমতা করে বলল, 

"না মানে,তুমি বলছিলে না যে তুমি ছবি আঁকতে।তাই এনেছি।তুমি ছবি এঁকো।"

তুরা বিস্মিত হয়ে গেল।এত খেয়াল রাখে মানুষটা তার!তাহলে বাইরে বাইরে এমন আচরণ করছে কেন?তুরা রঙ তুলি কাগজ সব বিছানার একপাশে ছুড়ে মারলো।

আবরার থতমত খেয়ে বলল, 

"কি হলো?পছন্দ হয় নি?"

তুরা মুখ ফুলিয়ে বলল, 

"আমি তোমার উপর রেগে আছি।"

আবরার হকচকিয়ে গিয়ে বলল, 

"কেন?"

"তুমি কেমন যেন করছো আজকাল।আমাদের সম্পর্ক আর আগের মতো নেই।আমি কি পুরাতন হয়ে গেছি তোমার কাছে?"

আবরার হতভম্ব হয়ে বলল, 

"এসব কি বলছো?"

তুরা খানিকটা ইতস্তত করে বলল, 

"ঠিকই বলছি।আগে হুটহাট করে আমাকে কাছে টানতে।এখন আর সেটা করো না।এখন অফিসে যাওয়ার আগে আমার কপালে চুমু দিতেও তুমি ভুলে যাও।"

আবরার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।তারপর মৃদু গলায় বলল, 

"আসলে আমার দ্বিধা হয়।"

তুরা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল, 

"দ্বিধা?"

"হ্যাঁ,দ্বিধা।সেদিন রাতের কথা মনে আছে তোমার?তোমার জন্য খাবার এনে তোমায় ডাকছিলাম।তোমার কাঁধে হাত রেখেছিলাম বলে তুমি বিরক্ত হয়েছিলে।আমি জানি যে তোমার মানসিক অবস্থা ঠিক নেই।তাই নিজে থেকে তোমার কাছে যেতে ভয় হয়।যদি তোমার খারাপ লাগে,তুমি কষ্ট পাও।তাই....."

তুরার চোখে পানি এসে গেছে।সে এবার ধীরে ধীরে আবরারের দিকে এগিয়ে গেল।একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল, 

"নাও,আমিই এসেছি তোমার কাছে।এবার কি একটু আদর করবে আমাকে?"

আবরার এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে থাকলো।তারপর তুরাকে কাছে টেনে নিয়ে তুরার মুখ চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।তার হৃদস্পন্দন থেকে একটা কথাই ধ্বনিতে হতে লাগলো।এই অসম্ভব রকমের আদুরে মেয়েটাকে ছাড়া সে কিছুতেই বাঁচতে পারবে না।

.



চলবে........




Writer: Alo Rahman

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner