> প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১০, ১১, ১২ | প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ১ | Love Story Bangla | Bangla Love Story | ভালোবাসার গল্প | রোমান্টিক গল্প
-->

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১০, ১১, ১২ | প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ১ | Love Story Bangla | Bangla Love Story | ভালোবাসার গল্প | রোমান্টিক গল্প

আমার কাছে শাড়ী বা ভালো ড্রেস নেই,কি করে যাবো?আর মিরাকে গিফট ও তো দিতে হবে,খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না,সেই টাকা নেই আমার কাছে,তাই যাব না
.
ওহ এই কারন?ধুর বোকা,আমি তোকে আমার একটা জামা দিব,আর গিফট আমি দিয়ে দিব আমার আর তোর হয়ে
.
তাও আমি কিছু না দিলে কেমন হবে ব্যাপারটা,বাদ দে,আমি যাব না,তুই যা
.
দরকার হলে গিফট তুই চুজ করিস,টাকা আমি দিব,তাহলে দুজনের দেওয়া গিফট হবে,তাও প্লিস আমার সাথে বিয়েতে attend করিস
.
আচ্ছা দেখি

শান্ত কি সমস্যা তোমার?তুমি আমাকে ইগনোর করতেসো কেন?কাল রিয়াজকে বললাম তোমাকে বলতে আমার তোমার সাথে কিছু কথা আছে,আর তুমি কিনা কথা না বলেই বাসায় ফিরে গেলা?আমাকে একবার কল ও করলে না
.
শুনো এলিনা আমি আগেও বলেছি এখনও বলতেসি আমরা জাস্ট নরমাল ফ্রেন্ড এর চেয়ে বেশি কিছু না
.
বেশি কিছু আমি জানি,তুমি বলতে চাও না,বলতেও হবে না,আমি শুনতে চাই না
.
শান্ত ভাইয়া!
.
মিরা?কি হইসে বলো
.
ভাইয়া আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে,শুক্রবারে বিয়ে,আপনি প্লিস আসিয়েন,আপনি আসলে আমি অনেক খুশি হবো,প্লিস প্লিস
এলিনা আপু তুমিও আসিও শান্ত ভাইয়ার সাথে
.
congratulations মিরা আমি অবশ্যই আসবো
.
থ্যাংকস ভাইয়া,থ্যাংক ইউ সো মাচ,কার্ডটা নিন
.
ওয়াও দেখলে সবাই জানে আমি আর তুমি কাপল আর তাই আমাদের একসাথে ইনবাইট করেছে
সেখানে তুমি কিনা আমাকে অস্বীকার করতেসো?
.
শান্ত কিছু না বলে বিরক্ত হয়ে চলে গেলো

এই তুই সারাদিন কার সাথে এমন কথা বলিস দেখি?
আহানা রুপার হাত থেকে ফোন নিয়ে দেখলো নওশাদ লেখা,ওমা নওশাদ??কে এই নওশাদ?
আহানা ফিক করে হেসে দিয়ে এক দৌড় দিলো
.
দাঁড়া আহানা,মজা করিস না প্লিস,আমার ফোন দে,আহানা!!
.
দিব না,আমি দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলবো
আহানা রুপার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে দৌড়াচ্ছে আর দুম করে এক ধাক্কা লেগে গেলো শান্তর সাথে,দুজনেই নিচে পড়ে গেলো
.
বেয়াদব মেয়ে কোথাকার!এটা কি তোমার বাসা নাকি?এরকম পাগলের মত দৌড়াচ্ছিলে কেন,পুরো জ্যাকেট নোংরা করে দিসে আমার
.
আহানা জিহ্বায় কামড় দিয়ে তাকিয়ে আছে,সে নিজেও ঘাসের উপর পড়ে গিয়ে বসে আছে
.
শান্তর মেজাজ এমনিতেও গরম ছিল তার উপর আহানা আরও গরম করে দিসে 
রেগে উঠে দাঁড়িয়ে জ্যাকেট খুলতে লাগলো সে
.
আহানা ভয় পেয়ে ঢোক গিলে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো
শান্ত তার জ্যাকেটটা খুলে আহানার হাতে ধরিয়ে দিলো
.
আহানা ব্রু কুঁচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শান্ত বললো এটা ধুয়ে শুকিয়ে কাল এনে আমাকে দিবে
রিং ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুইবা বুঝছো?অন্য ডিটারজেন্টের ঘ্রান আমার পছন্দ না
.
আজব তো!আমি কেন ধুবো?
.
কেন মানে?তোমার জন্য আমি মাটিতে পড়ে গিয়ে আমার জ্যাকেট নোংরা হয়ে গেছে সো তুমি ধুয়ে শুকিয়ে এনে দিবা আমাকে বুঝছো!
.
আহানা ভেঁংচি দিয়ে উল্টো পথে হাঁটা ধরলো
.
শান্ত মুখ ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে
.
শান্ত এদিকে আয় আজকে ফুটবল ম্যাচ আছে,জয়েন হবি না?
.
আসতেসি!
শান্ত গিয়ে নওশাদ,রিয়াজের সাথে ফুটবল ম্যাচে জয়েন দিলো
ভার্সিটি ছুটি হয়ে গেছে
আহানা হেঁটে হেঁটে টিউশনির দিকে যাচ্ছে,আজ আর ঐ পথে শান্ত আসেনি,যাক বাবা বাঁচলাম,আহানা খুশিতে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হেঁটে যাচ্ছে,একটা গলি পার হলেই একটা বিরাট বড় মাঠ পড়ে
শান্ত সেখানেই ফুটবল খেলতেসে
আহানা জ্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে শান্তকে বকতে বকতে যাচ্ছে মাঠটার পাশ দিয়ে
.
শান্ত কিক মার!!
.
শান্ত জোরে সোরে কিক মারলো বল গোল পোস্টে না ঢুকে আরেক দিকে গেলো,তাও যে দিকে গেলো সেদিকে আহানা ছিল 
বল গিয়ে একদম ওর গায়ে পড়লো,মনে হয় কেউ পাথর মেরেছে
আহানা দুম করে পড়ে গেলো রোডের উপর
.
ইস রে,জনগনরে আঘাত করলি শেষমেষ এবার তুই সামলা,মনে হয় কোনো মেয়ের গায়ে পড়েছে,আমি বল নিতে যামু না,লোকজন ডেকে এবার কেয়ামত করবে
.
তুই চুপ থাক নওশাদ,আমি যাচ্ছি
.
শান্ত মাথার চুল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে এগিয়ে গেলো
আহানা বল সরিয়ে জামা ঝাড়তেছে রাস্তায় বসে বসে
.
ওহ তুমি!দাও বল দাও
.
আপনি?আপনি আমার গায়ে বল মেরেছেন?
ইচ্ছে করেই এমন করেছেন তাই না?সকালের ঘটনার জন্য প্রতিশোধ নিলেন?
.
চুপ!আমার বল দাও
.
আহানা বল নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,তারপর নিজের গায়ের ওড়নাটা খুলে শান্তর দিকে বাড়িয়ে ধরলো
.
শান্ত চোখ কপালে তুলে তাকিয়ে আছে
ওড়না দিতেছে কেন আমাকে মেয়েটা?
শান্ত এদিক ওদিক তাকিয়ে ব্রু নাচিয়ে বললো কি?তোমার ওড়না আমাকে দিচ্ছো কেন?
.
সকালে আমার জন্য পড়ে গিয়ে আপনার জ্যাকেট নোংরা হয়েছিল তাই আমাকে সেটা ধুইতে দিসিলেন
.
হুম তো?
.
এখন আপনার কিক করা বলের কারনে আমি পড়ে গিয়ে আমার ওড়না নোংরা হয়ে গেছে,আপনি ধুয়ে আনবেন বাসা থেকে,শুকিয়ে আনবেন,কেমন?আর হ্যাঁ যেকোনো ডিটারজেন্ট হলেও চলবে আমার,ইটস ওকে
.
শান্ত রাগে গজগজ করতে করতে এগিয়ে গেলো ওর দিকে
.
আহানা একটু পিছিয়ে গিয়ে বললো নাহলে এক কাজ করেন আপনার জ্যাকেটটা নিয়ে যান,আমিও আমার ওড়না ফেরত নিব
.
শান্ত রেগে দাঁতে দাঁত চেপে আহানার ওড়না মুঠো করে ধরলো
.
গুড বয়!
.
তুমি এই অবস্থায় টিউশনিতে যাবে?ওড়না ছাড়াই?
.
না তো!আমার তো অন্য উপায় আছে,এক মিনিট!
আহানা তার চুলের খোঁপা থেকে কাঠিটা খুলে ফেললো,সাথে সাথে খোঁপা খুলে গিয়ে ওর পিঠের নিচ পর্যন্ত চুলগুলো মেলে গেলো
আহানা চুল দুভাগ করে সেগুলো তার সামনে নিয়ে আনলো
তারপর হেসে বললো ব্যাস,হয়ে গেলো না?
আহানা হাসতে হাসতে চলে গেলো
শান্ত অবাক হয়ে আহানার চলে যাওয়া দেখতেসে,তারপর বলটা নিয়ে ফিরে আসলো মাঠে
.
রিয়াজ আর নওশাদ ইয়া বড় হা করে তাকিয়ে আছে
.
হোয়াট?
.
কিরে ভাই তোর হাতে মেয়েদের ওড়না কেন?
.
সবাই হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়লো
.
শান্ত মুখ ফুলিয়ে বললো কিছু না
ওড়নাটা নিয়ে তার স্পোর্টস ব্যাগে ঢুকিয়ে বসে পড়লো চেয়ারে,রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে তার
.
কিরে বললি না ওড়নাটা পেলি কই,আর সেটা ব্যাগে ঢুকালি কেন?
.
কিছু না বাদ দে,খেলা শেষ,আমি যাই
শান্ত ব্যাগ নিয়ে বাইকে উঠে বাসায় ফিরে আসলো
বাসায় ঢুকেই ওড়নাটা ছুঁড়ে মারলো ফ্লোরে
এই মেয়েটার এত এত সাহস আসে কোথা থেকে,আমার কথা আমাকেই ফিরিয়ে দেয়?বেয়াদব মেয়ে
.
আহানা শান্তর কথা মনে করে হাসতেসে বসে বসে
.
ম্যাম কি হয়েছে?হাসতেসেন কেন?
.
না কিছু না,অংকটা লিখে আমাকে দেখাও

বাসায় এসে শান্তর জ্যাকেটটা নিয়ে ভাবলো বাসায় তো রিং পাউডার নেই,ওগুলার দাম যে বেশি,আমি তো সাবান দিয়ে জামা কাপড় ধুই,এখন কি করবো,আচ্ছা থাক সাবান দিয়েই ধুই,কি আর করার
পানিতে ভিজানোর আগেই আহানার মনে হলো জ্যাকেটের পকেটে কিছু একটা আছে
হাত ঢুকিয়ে আহানার চোখ কপালে উঠে গেলো,৫হাজার টাকা,বাপরে বাপ এত টাকা নিয়ে মানুষ ভার্সিটিতে আসে আবার ভুল করে ফেলেও যায়
আহানা টাকা গুলো তার ব্যাগে রেখে দিলো,কাল শান্তকে দিয়ে দিবে
তারপর জ্যাকেটটা ধুয়ে উঠানে মেলে দিয়ে আসলো
আলু ভেজে সেটা দিয়ে গরম ভাত খেয়ে ওযু করে নামাজ পড়ে বিছানায় বই নিয়ে বসলো সে
হঠাৎ পিউর মায়ের নাম্বার থেকে কল আসলো
আহানা কিছুটা ভয় পেয়ে রিসিভ করলো,না জানি বলে আর পড়াতে হবে না,আহানার গা কাঁপা শুরু হয়ে গেছে
উনি বললেন একটা টিউশনির খোঁজ পেয়েছেন,তার খালাতো বোনের মেয়েকে পড়াতে হবে,ক্লাস ওয়ানে পড়ে,সব বিষয় পড়াতে হবে,২হাজার টাকা দিবে
আহানা তো খুশিতে অবাক,অনেক ধন্যবাদ জানালো পিউর মাকে,উনি ঠিকানাটা বলে দিলেন,আহানা নোট করে নিলো সেটা
আহানা খুশি হয়ে গেলো অনেক,কি যে ভালো লাগতেসে তার,মুখে প্রকাশ করে বুঝানো যাবে না,মনে হচ্ছে ২হাজার না ২লাখ বেতন
উনি বললেন ভোর ৬টায় পড়াতে হবে,যার মেয়েকে পড়াবে সে চায় তার মেয়ে যেন সকাল সকাল উঠা হেভিট করে নেয়,তাই এই টাইম ফিক্সড করেছেন
আহানা হ্যাঁ বলে দিলো
পরেরদিন ভোর ৪:৩০এ উঠে গেলো আহানা,খুশিতে চোখে ঘুম নেই তার
নামাজ পড়ে এসে সব গুছিয়ে ঠিক করে রাখলো,৫টা ৩০এ বাসা থেকে বের হলো,ভয় লাগতেসে একা একা হেঁটে যেতে,এত দূর উফ,একটা টাকাও নেই যে একটা রিকসা নিব,অবশ্য এ সময়ে রিকসা পাওয়াও টাফ,গলির পর গলি হেঁটেই চলেছে আহানা,ঠিকানার বাসাটা আসতেসেই না,মনে হচ্ছে পুরো বাংলাদেশ ঘুরা হয়ে গেছে
অবশেষে বাসাটার সামনে এসে দাঁড়ালো সে,ইয়া বড় ১০তলা বিল্ডিং,কি standard রে বাবা,মনে তো হয় কোটিপতিরা থাকে
পিউর মা বলেছেন ৫তলায় বাসা যাকে সে পড়াবে
লিফটে করে ৫তলায় গিয়ে এবার পড়লো কনফিউশনে
২টা ইউনিট,কোনটা ঐ মেয়েটার বাসা কে জানে,পিউর মা তো বলেন নাই কোন ইউনিট
মনে হয় দরজায় সূর্যমুখির ফুল সহ টব আটকানো এই ইউনিট হবে
আহানা গিয়ে দরজা নক করলো,কারোর কোনো response নাই,আবারও নক করলো,ওমা!এবারও response নাই কোনো
.
শান্ত হাই তুলতে তুলতে বিছানা থেকে নামলো,উফ নওশাদ,রিয়াজ সূর্য!!গন্ডারের মত ঘুমাচ্ছিস কেন,কলিংবেল বাজতেসে কানে শুনস না তোরা?আমি আমার রুম থেকে শুনতেসি,আর তোরা সামনের রুমে থেকে শুনস না?ধুর!
শান্ত মাথা চুলকাতে চুলাকতে গিয়ে দরজা খুললো
.
আহানা মুচকি হেসে সালাম দিতে গিয়ে চোখ বড় করে ফেললো শান্তকে দেখে
.
তুমি!!
.
আপনি?!
.
তুমি এখানে কি করো?আমার বাসার ঠিকানা পেলে কই?
.
আপনার বাসা এটা আমি জানতাম না,আমি তো এখানে একটা মেয়েকে পড়াতে এসেছিলাম
.
ওহ,তো আমাকে দেখে তোমার মেয়ে মনে হয়?
.
আহানা চোখ বড় করে বললো আপনার সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট!
আহানা ঘুরে আরেক ইউনিটে যাওয়া ধরতেই শান্ত ওর হাত ধরে টান দিলো
.
কি?
.
আমার জ্যাকেট কই?
.
আমার বাসায়,এখনও শুকায় নাই,যে বস্তা মার্কা জ্যাকেট আপনার,ভার্সিটিতে আসার সময় নিয়ে আসবো,হাত ছাড়ুন আমার
শান্ত ব্রু কুঁচকে আহানার হাত ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো
আহানা ডান পাশের ইউনিটে নক করতেই একজন মহিলা এসে দরজা খুললেন,তার সাথে একটা ছোট্ট বাবু
বাবুটা মুচকি হেসে বললো তুমি বুঝি আমার মিস?
.
আহানা হেসে দিয়ে বললো হুম
.
তার মা তাকে ধমক দিয়ে বললো আপনি করে বলতে
মেয়েটা ভয় পেয়ে বললো আপনি,তারপর আহানার পিছনে তাকিয়ে দেখলো শান্ত দাঁড়িয়ে আছ
.
Santuuuuuuu
.
ওলে আমার মিষ্টিইইইইইই
শান্ত এগিয়ে এসে মিষ্টিকে কোলে তুলে নিলো
.
মিসেস মিশু হক বললেন আসো ভিতরে আসো
উনি আহানাকে নিয়ে চলে গেলেন
শান্ত ভিতরে এসে মিষ্টিকে সোফায় বসালো,নিজেও বসে গেলো
.
এই বান্দরটার সাথে মিষ্টির এত ভাব?বাপরে,আমি তো ভাবলাম উনার মুখ দিয়ে তেতো কথা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না
.
মিস এই হলো আমার Santuuu ভাইয়া,আমাকে প্রতিদিন চকলেট কিনে দেয়
.
হুহ এরে আমি চিনবো না!হারে হারে চিনি 
.
ওকে মিষ্টি তুমি পড়ো আমি যাই
শান্ত বাই বলে চলে আহানার দিকে তাকিয়ে গেলো
.
মিস আপনি বসো,আমি বই নিয়ে আসি
.
আহানা মিষ্টির কথা শুনে হাসতেসে
শান্ত রুমে এসে বিছানায় শুয়ে তো পড়লো কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,এপাশ ওপাশ করে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো,পকেট থেকে সিগারেট একটা নিয়ে লাইটার দিয়ে ধরালো
সিগারেট বেশি খাওয়া হয় না তার!এটা সম্পূর্ন মনের উপর ডিপেন্ড করে,মন চাইলে খাই নাহলে খাই না,নেশা না যে দিনে ৫/৬বার খাবো

মিষ্টিকে পড়াতে বেশ লেগেছে আহানার,৭টা পর্যন্ত পড়িয়ে বাসা থেকে বের হলো সে
.
শান্ত সিগারেটের ধোঁয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ছাড়তেসে,ব্রিক ফিল্ড আমি,হাহাহা
তারপর হঠাৎ ওর নজর গেলো নিচের দিকে,আহানা বাসা থেকে বের হয়ে ফোন বের করে কাকে যেন কল করতেসে
শান্ত ৫তলার উপরে দাঁড়িয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে মুখটা গম্ভীর করে সিগারেটটা আহানার সামনে ছুঁড়ে মারলো উপর থেকে
আহানা ফোন নিয়ে রুপাকে ফোন করলো আজ আসবে কিনা জিজ্ঞেস করার জন্য কিন্তু ফকিন্নিটা মনে হয় ঘুমাচ্ছে,হঠাৎ সামনে কিছু পড়েছে বুঝতে পেরে আহানা নিচে তাকালো,একটা সিগারেটের অর্ধেক অংশ পড়ে আছে,এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে,আহানা চমকে উপরে তাকালো
শান্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা ভাব নিয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে আবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে
.
বেয়াদব একটা!
আহানা পা দিয়ে সিগারেটটটা রোডের সাথে পিষিয়ে দিলো দাঁতে দাঁত চেপে
শান্তর মেজাজ গরম হয়ে গেছে
মন চাচ্ছে ৫তলা থেকে নেমে এক ধোলায় দিতে যেভাবে পিষাচ্ছে মনে হয় শান্তকে পিষাচ্ছে
.
হুহ!
আহানা চলে গেলো ওখান থেকে
.
এই মেয়েটার আজকে ভার্সিটিতে গিয়ে ১২টা বাজাবো আমি
এত ভাব আর সাহস দেখানোর শাস্তি ওর পেতে হবে!
শান্ত গিয়ে বিছানায় আবারও শুয়ে পড়লো
.
কতবড় বেয়াদব হলে একটা মেয়ের সামনে উপর থেকে কেউ সিগারেট ফেলতে পারে!অসভ্য লোক একটা,মন তো চায় ওর জ্যাকেটে বিচুটি পাতা লাগাই দিই!
আহানা বাসায় ফিরার সময় দেখলো একটা দোকানের সামনে সবাই লাইন ধরে আছে,মহিলা আবার পুরুষ ও
একজন মহিলা হাতে ইয়া বড় ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
বোরকা পরা 
মাঝে মাঝে এদিক ওদিক তাকিয়ে ব্যাগটা ভাঁজ করে হাতের মুঠোয় রাখতেসে আবার কিসব ভেবে ব্যাগটা খুলে রাখতেসে
আহানা একটু এগিয়ে গিয়ে মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করলো ব্যাপারটা কি,সবাই এমন লাইন ধরেছে কেন,উনি বললেন এখানে ১০টাকায় ১কেজি চাল দেয়,১০০টাকায় ১০কেজি
আহানা তো অবাক হয়ে গেলো উনার কথা শুনে,ইশ আমার হাতে এখন ১০টা টাকা থাকলে এক কেজি কিনে নিতে পারতাম,কি করবো,বাসায় চাল ও তো কমে আসছে
কানে হাত দিয়ে চুল সরাতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো
আরে আইডিয়া!
কানের দুল গুলো খুলে হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো সে
এগুলো সে মেলা থকে ৩০টাকা দিয়ে কিনেছিল,সে আবার ফিরে এসে মহিলাটির পিছনে থাকা একটা যুবতি মেয়েকে দেখতে পেলো,মেয়েটাকে দেখে মনে হয় তেমন বড়লোক না তবে গায়ের পোশাক আশাকে মনে হয় সাজগোজ পছন্দ করে বেশি
আহানা  মেয়েটাকে বললো আপু আমার এই কানের দুলটা নিবা?আমি ৩০টাকা দিয়ে নিসিলাম তুমি যত দিবে তাই নিব,প্লিস নাও না,আমি ১০/১২দিন পরেছি,এখনও নতুন আছে দেখো
মেয়েটা কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হেসে দিলো,কারন কানের দুল গুলো অনেক সুন্দর ছিল,আহানার পছন্দ অনেক ভালো
মেয়েটা তার ব্যাগ থেকে ২০টাকা নিয়ে আহানাকে দিলো
আহানা তো মহা খুশি,মেয়েটাকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে দুলটা দিয়ে ২০টাকা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো,খুশিতে লাফাতে মন চাচ্ছে তার,চাল কেনা হয়ে গেলে আর কোনো চিন্তা নেই,নুন দিয়ে কচলিয়ে খেয়ে মাস কাটাতে পারলেই হলো
২০টাকা দিয়ে ২কেজি কিনে বাসায় ফিরলো আহানা
চালগুলো তার চালের বালতিতে ঢালতে গিয়ে মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো তার,চাল যদি ৫০% হয় বাকি ৫০% পোকাতে ভরা আর নষ্ট,এমন করে ঠকালো আমাকে?
মানুষ গরীব না হলে তো ১০টাকার জন্য লাইনে দাঁড়ায় না,আর ওরা এভাবে ঠকায় আমাদের,এর চেয়ে তো ৩৫টাকার চালই ভালো,ধুর!
মানুষ ঠকানোর জন্য বেছে বেছে গরীব মানুষ খোঁজে এরা
আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল ১০টাকায় ১কেজি চাল কেন দিবে,নিশ্চয় কোনো গণ্ডগোল ছিল,এটা মাথায় ছিল না একদম
থাক এগুলা পরিষ্কার করলে যা পাবো তাও চলবে,কি আর করার,আমার জন্মই হইসে ঠকে যাওয়ার জন্য

কলিংবেল বাজতেসে
শান্ত এখনও ঘুমায়নি, ৮টা বাজে মনে হয়,বলদগুলো ঘুমায় এখনও
শান্ত গিয়ে দরজা খুললো,একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে,মুরগী হাতে,সম্ভবত কেটে এনেছে
.
কে তুমি?
.
আপনি শান্ত ভাইয়া?
.
হুম,কেন?
.
আমি আছমা বেগমের মেয়ে,আপনার বাসায় যে কাজ করে
.
ওহ আচ্ছা,কি হইসে বলো?
.
আম্মা কইলো মুরগী এটা রাখতে উনি ১০টার দিকে আসি রাঁধি দিব
.
ওকে
শান্ত মেয়েটার হাত থেকে মুরগী নিয়ে হঠাৎ চোখ তুলে মেয়েটার কানের দিকে তাকালো,মেয়েটার কানের এই দুলটা তো একদম আহানার কানের দুলের মতন।



মেয়েটা বুঝতে পারলো শান্ত তার কানের দিকে তাকিয়ে আছে,মুচকি হেসে বললো এই কানের দুলটা আমি নতুন কিনেছি এক বইনের থেকে,হিহি
মেয়েটা হেসে চলে গেলো হাত পা নাচিয়ে
শান্ত কিসব ভেবে দরজা লাগালো
.
ভার্সিটিতে এসে আহানা ক্লাসে ঢুকে চুপচাপ এক কোণায় গিয়ে বসে আছে
রুপা চুপিচুপি এসে আহানার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো
.
কিরে আমাকে কই নেস তুই,ক্লাস করবি না?কিরে?
.
চল তোকে নিয়ে শপিংমলে যাব,মিরার জন্য কিছু কিনতে হবে তো
.
বাজেট কত?
.
৫হাজার
.
কিহ!এত টাকা?
.
তো কিছে?বাবা তো আমাকে ৬হাজার দিসে,আমি ১হাজার মাইর দিসি
রুপা আহানাকে নিয়ে একটা শাড়ীর দোকানে আসলো
.
দোকানদারকে বললো শাড়ী দেখাতে ৫হাজারের মধ্যে
.
আহানা তো রীতিমত অবাক,শাড়ী একটার চেয়ে একটা অসম্ভব সুন্দর,আহানার একটা শাড়ী আছে,তার আশ্রমের মা মারা যাওয়ার পর আসার সময় তার একটা শাড়ী নিয়ে সে এসেছিল,সাদার উপর লাল লাল সুতোর ডিজাইন করা শাড়ীটা,তেমন দামি না,৭০০/৮০০টাকার হবে
.
আহানা মন চাইলেই সেটা পরে পরে দেখে,শাড়ীটা ইউজ করা ছিল বলে আঁচল দিয়ে ছেঁড়া তাই সেটা পরে আহানা কোথাও যায় না
.
কিরে কি ভাবিস কোনটা ভালো লাগে বল
আহানা একটা গোলাপি রঙের শাড়ী হাতে নিয়ে বললো এটা সুন্দর
রুপা সেটাই কিনে নিলো,দুজনে আবার ভার্সিটিতে ফিরে আসলো
.
আহানা শান্তকে দেখে রুপাকে বললো চলে যেতে,তারপর জ্যাকেটটা নিয়ে শান্তর কাছে এসে তার দিকে বাড়িয়ে ধরলো
.
শান্ত জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে তার ব্যাগ থেকে আহানার ওড়নাটা নিয়ে দিলো
আহানা ৫হাজার টাকা নিয়ে শান্তকে বললো নিন আপনার টাকা
.
এই টাকা আমাকে দিচ্ছো কেন?
.
এগুলা আপনার জ্যাকেটের পকেটে ছিল
.
ওহ আমি ভুলে গেসিলাম
শান্ত জ্যাকেটটা নিয়ে ঘ্রান নিয়ে দেখলো রিং পাউডারের সুবাস নয় তবে যে সুবাস সেটা শান্তর ভালো লাগলো কিছুটা
.
রুপা ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে আহানার হাতে ধরিয়ে দিলো
আহানা প্যাকেটটা খুলে দেখলো একটা জামা,খয়েরী রঙের,বেশ দেখতে,আহানা খুব খুশি হলো
.
কাল সেজেগুজে ভার্সিটির আসবি আমি আর তুই মিরাদের বাসায় যাব
.
ওকে
.
এক মিনিট,তোর কানের দুল কই?
.
ইয়ে আসলে হারিয়ে গেছে
.
একসাথে দুটোই?
.
না একটা হারিয়েছে তাই আরেকটা রেখে দিয়েছি
.
ওহ,তো অন্য একটা কানের দুল দিয়ে আসতি
.
বাদ দে,কানের দুল দিলে আমার কানে ব্যাথা করে
.
ওমা সেকি,কি বলিস তুই
.
হুম
.
ভার্সিটিতে ছুটি দেওয়া হয়ে গেছে
আহানা তার ওড়নাটা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে হাঁটতেসে,মনে হয় ভালো করে ধুয়েছে,কি সুন্দর মিষ্টি ঘ্রান আসতেসে,নিশ্চয় রিং পাউডার হবে
আমার ওড়নাকে তো নতুন বানিয়ে দিছে একদম
.
শান্ত ওড়নাটা বুয়াকে দিয়ে ধুইয়েছিল
.
আহানা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচ দিয়ে যাচ্ছে,বাতাসে গাছটা নড়ে উঠতেই ফুল কতগুলো ঝরে নিচে পড়তে লাগলো
আহানা থেমে গিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালো,কি ভালো লাগতেসে,হাত বাড়িয়ে ধরলো আহানা,হাতে কতগুলো ফুল আর ফুলের পাপড়ি পড়ে জমা হচ্ছে
শান্ত ১০হাত দূরে একটা গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,এই নরমাল ফুল মানুষ এত পছন্দ করতে পারে জানতাম না!
আহানা আবারও কতগুলো ফুল কুড়িয়ে ব্যাগ থেকে সুতা টেনে ছিঁড়ে কানের দুল বানালো,কিন্তু কথা হলো কানে ঢুকাবে কি করে
১১
পরে বুদ্ধি করে কানের উপর দিয়ে সুতা নিয়ে গিট্টু দিলো,বাহ আমার কানের দুল হয়ে গেছে
আহানা খুশিতে লেকটার দিকে যাচ্ছিলো নিজেকে দেখার জন্য হঠাৎ ওর চোখ গেলো শান্তর দিকে
শান্ত কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আহানার কানে দুল নেই,তাহলে কি আমার বাসার বুয়ার মেয়ের কানের দুলটা আহানা দিয়েছিলো,কিন্তু কেন?
আহানা আর লেকে গেলো না,নিজের ব্যাগটা নিয়ে হাঁটা ধরলো
.
দাঁড়াও!
.
কি?
.
তোমার কানের দুল কই?
.
আহানা কিছুটা হকচকিয়ে বললো কেন?
.
বলো শুনি
.
আপনাকে কেন বলবো?
.
কাকে দিয়েছো?
.
ককককককি,কাউককককে দিই নাই আমি,হারিয়ে গেছে
.
ওহ!
শান্ত জ্যাকেটটা ঠিক করতে করতে চলে গেলো
আহানা বুঝতেসে না শান্ত কি করে জানলো সে কাউকে দুলটা দিয়েছে ভাবতে ভাবতে হাঁটা ধরলো সে

বুয়া!!বুয়া!
.
জি বলেন বাবা
.
আপনার মেয়েকে একটু ডাকেন তো
.
কেন কি হয়েছে?ও কি কোনো ভুল করেছে?
.
নাহ ভুল করেনি,একটা কাজ ছিল,কিছু কথা জিজ্ঞেস করবো,ডাকেন ওরে
.
আইচ্ছা
বুয়া তার মেয়েকে ডেকে নিলো
মেয়েটা ভয়ে ভয়ে শান্তর সামনে গিয়ে বললো
কি হইসে ভাইয়া?
.
তোমার ঐ কানের দুল কত দিয়ে নিয়েছিলে?
.
২০টাকা
.
২০টাকা?কে দিয়েছিল নাম জানো?
.
না তো,তবে মেয়েটার কাছে টাকা ছিল না বলে কানের দুল বিক্রি করে টাকা নিয়ে চাল কিনেছে
.
২০টাকার চাল?
জি ভাইয়া,১০টাকা করে ২০টাকার ২কেজি চাল
.
ওহ,মেয়েটার কি থুঁতনিতে তিল ছিল?
.
হহহহ ভাইয়া,যা সুন্দর লাগতেসিলো,আমি এরকম আর আগে দেখি নাই কোনোদিন, কিন্তু আপনি জানলেন কেমনে?
.
তোমার ঐ দুল আমাকে দাও,আর নাও ১০০টাকা
মেয়েটা দাঁত কেলিয়ে ১০০টাকার নোট নিয়ে দুলটা খুলে শান্তকে দিয়ে চলে গেলো
.
শান্ত দুলটার দিকে তাকিয়ে বসে আছে,২০টাকার জন্য মানুষ তার দুল বিক্রি করে?তাও যার কাছে একটাই দুল আছে?এই মেয়েটার সাথে অনেক অনেক রহস্য জড়িয়ে আছে
শান্ত দুলটা দেখে আলমারিতে তুলে রাখলো
আহানা বাসায় ফিরে কানের থেকে ফুলের দুলটা খুললো,কান খালি,গলা খালি,হাত ও খালি,কাল জামার সাথে কিছু পরা হবে না,কিরকম লাগবে আমাকে
আগে তো গলায় একটা রুপালি হার ছিল,এমিটেশনের,সেটাও ৩০টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিসিলাম,সেই টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনেছিলাম,আর আজ দুল,আর কিছু নাই যে বিক্রি করবো
পেঁয়াজ একটা কেটে মরিচ নিয়ে ভাতে পানি ঢেলে বাটিটা নিয়ে বসে আছে আহানা,আজ কেন জানি খেতে মন চাচ্ছে না,রোজ রোজ একি খাবার,অবশ্য কাল ভালো খাবার পাবো
আহানা একটু পড়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো,আবার ভোরে উঠে নামাজ পড়ে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলো মিষ্টিদের বাসায় যাওয়ার জন্য
বাসার সামনে এসে হাঁপাচ্ছে আহানা,এতদূর বাসাটা,কমপক্ষে ৫০টাকার ভাড়া হবে,এতদূর কি আর হাঁটা যায়
লিফটে উঠে দোয়া দরুদ পড়লো যাতে শান্তর মুখ না দেখতে হয়,৫তলায় এসে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে দেখলো শান্তর ফ্ল্যাটের দরজা অফ,খুশিতে মিষ্টিদের বাসায় গিয়ে দরজা নক করলো সে,ওদের বুয়া এসে দরজা খুললো
মিষ্টিকে পড়ানো শেষে বাসা থেকে বেরিয়ে আহানা উপরের দিকে তাকালো,শান্তর রুমের বারান্দার দিকে,বারান্দায় একটা কি ২টা ফুলের টব ঝুলছে,আর কিছু দেখা যায় না,অনেক উপরে তো তাই
আহানা হেসে হেসে হাঁটা ধরলো,আজ আর ঐ বেয়াদবটার সাথে দেখা হবে না সারাদিন 
বাসায় এসে আহানা বই নিয়ে বসলো,বই পড়া শেষ করে ১০টায় উঠে রেডি হতে গেলো,জামাটা পরে আহানার মনের ভেতরটা কেমন করতেসে নিজেকে কেমন লাগছে তা জানার জন্য
ফোনে নিজেকে দেখে মুখটা কালো করে ফেললো,গলায় কিছু নেই,হাতেও নেই,আর কান তো
ওড়নাটা পরে একটা পার্স নিয়ে বের হলো আহানা
ভার্সিটির সামনে এসে রুপার জন্য অপেক্ষা করতেসে সে
রুপা ৫মিনিটেই এসে পড়লো,সেও রেডি হয়ে এসেছে কমলা রঙের জামা পরে
.
কিরে,তোর গলায় কানে কিছু দেখি নেই,হাতেও তো নেই
.
বাদ দে,এসব পরতে ভালো লাগে না আমার
.
তাই বলে ওকেশানেও পরবি না?
.
তো কিছে,চল তো,দেরি হয়ে যাবে
দুজনে মিরাদের বাসায় আসলো,এক তলা বাড়ি,পাশে একটা পুকুর,আশেপাশেও বাড়ি আছে
কিছু টিনের কিছু ইটের
আহানা আর রুপা ভেতরে ঢুকতেই মানুষের ঠেলাঠেলিতে ওদের দুজনের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম
বাসাটার পিছনে একটা উঠান,সবাই বাসার ঠেলাঠেলি সহ্য না করতে পেরে উঠানটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে
রুপা গাল ভেটকিয়ে একটা কাছের দিকে তাকিয়ে আছে,পুরা গ্রাম মনে হয় তাই না?
.
তাও তো কি শান্তি এখানে,শহরের কোনো ছাপ নেই,আমার তো বেশ লাগতেসে
.
মিরাকে একটা রুমে পার্লারের লোক সাজাচ্ছে
.
আহানার গলা শুকিয়ে গেছে,বাসার ভেতরে এসে ডাইনিং টেবিল থেকে পানি নিতে গিয়ে চমকে গেলো শান্তকে দেখে,সে সোফায় বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে বিরক্তি নিয়ে
.
আহানা চোখ বড় করে ভাবতে লাগলো ও এখানে কি করে,পাশেই এলিনা বসে আছে,পায়ের উপর পা তুলে,ফোন দেখতেসে,কারোর দিকে তাকাচ্ছে না সে
.
আহানা পানি খেয়ে এক দৌড়ে পালালো
বর এসেছে বলে সবাই চিৎকার দিতেছে
আহানা আর রুপা উঁকি দিয়ে বরকে দেখতে গেছে
শান্ত স্টেজের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছে,এত বরিং লাগতেসে আজ,উফ!!
এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে শান্তর চোখে পড়ে গেলো আহানাকে
আহানা রুপা আর একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতেসে
.
শান্ত আহানাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে এগিয়ে গেলো,যা ভেবেছিলাম তাই!আহানার কান খালি
.
ওটা আহানারই দুল তাহলে
.
খুব জোরে গান বাজতেসে
.
আহানা রুপার সাথে এক কোণে বসে আছে চুপচাপ,মনে হয় এখানে কেউ ওদের চেনে না,সব মিরার রিলেটিভ
একটা মেয়ে ট্রেতে করে পিঠা,শরবত দিয়ে গেলো রুপা আর আহানার সামনে
আহানা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো এটা কি পিঠা,পিঠা জিনিস সম্পর্কে ওর ধারনা কম,সারাজীবন ভাত পেঁয়াজ,আলু আর কিছু তরকারি ছাড়াও যে কিছু খাবার থাকতে পারে তা আহানার অজানা
তো পিঠা দেখে এমন অবাক হওয়ারই কথা
.
কিরে এমন করে চেয়ে আছিস কেন?এটা ডিমের পিঠা
.
ওহ
আহানা মুখে দিয়ে বেশ মজা পেলো,এরকম পিঠা থাকলে তো বাসায় আর বিসকিট খেতে হয় না তার
.
শুন আমার না এখন কিছু খেতে মন চাচ্ছে না,আমি ৫টা পিঠা ব্যাগে করে নিয়ে যাই?
.
ওমা তের খিধা নাই কেন?আচ্ছে নে
আহানা তার ব্যাগে ৫টা পিঠা নিয়ে নিলো,খুশি লাগতেসে,কাল সকালে ভাত খাব না,পিঠা খেয়ে ভার্সিটিতে যাব,ভাত বেঁচে যাবে
.,
বৌকে সাজানো হচ্ছে,রুপা আর আহানা বসে বসে সেটা দেখতেসে
.
আহানা?তুমি একটু সাজো ও নাই কেন,এরকম খালি খালি এসেছো কেন?কেমন লাগতেসে তোমাকে!
.
না আসলে এমনিতেই ভালো লাগে না
.
মিরার খোঁপায় ৪টা গোলাপ ফুল লাগতো,আছে ২টা
মিরাদের বাসা এমন একটা জায়গায় যেখান থেকে মেইন রোড অনেক দূরে,এখন ফুলের জন্য কাকে পাঠাবো সেটা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়ে গেছে
.
আহানার মনে পড়লো রিকসা দিয়ে আসার সময় তারা একটা গোলাপগ্রাম দেখেছিল,বেশি দূরে না সেটা
মিরার যত কাজিন ভাই ছিল তারা নানা কাজে বিজি,একজন তো বলেই দিলো কি দরকার ফুল দিয়ে,এত সং সেজে লাভ কি,ফুল দিলেও বিয়ে হবে না দিলেও বিয়ে হবে
.
এদিকে স্টেজ সাজানো হয়েছে রজনীগন্ধা আর গাঁদা দিয়ে,গোলাপ দিয়ে সাজালে সেখান থেকে থেকে আনা যেতো
শেষে আহানা আর রুপা ঠিক করলো ঐ গোলাপগ্রামে যাবে কারন মিরা ততক্ষণে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে,তার কথা হলো তার বিয়ে perfectly end হবে,কোনো কমতি যদি তার বিয়েতে হয়ে যায় তা সারাজীবন মনে রেখে ফুঁফিয়ে কাঁদবে,এটা সে কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না
আহানা আর রুপা রওনা হলো,হাঁটতেসে চিকন একটা রোড দিয়ে,দুপাশে ক্ষেত,ধানের ক্ষেত
হঠাৎ সামনে নওশাদ এসে দাঁড়ালো
আহানা চমকে তাকিয়ে আছে,কারন নওশাদ এখানে কেন সেটায় ভাবতেসে সে,ওদিকে রুপা মুচকি মুচকি হাসতেসে,ও আচ্ছা তার মানে শয়তান শান্তর চ্যালা নওশাদ হলো রুপার বফ,এবার বুঝলাম আমি
নওশাদ আহানাকে বললো দাঁড়াতে ওরা একটু ঘুরে আসবে বাম পাশের নির্জন রোডটা থেকে
রুপা আহানার হাতে গোলাপ কিনার টাকা দিয়ে চলে গেলো
আহানা ঠিক আছে বলে দাঁড়িয়ে আছে,পরে দেখলো আর কয়েক পা হাঁটলেই গোলাপ গ্রাম,দূর থেকে লাল রঙ চোখে আসতেসে
আহানা হেঁটে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো
হঠাৎ ওর নজরে পড়লো শান্ত আর এলিনাকে,এলিনা একটা ছোট বাচ্চা মেয়েকে দিয়ে পিক তুলাচ্ছে আর শান্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোলাপ গাছ দেখতেসে
.
আহানা চুপচাপ ভেতরে ঢুকে ক্ষেতের মালিককে টাকা দিয়ে দুটো ফুল নিলো,উনি আরেকটা ফ্রি দিয়ে দিলেন
আহানা খুশি হয়ে সেটা কানে গুজে নিলো
.
পেছন থেকে শান্ত বলে উঠলো তোমার কানের দুল কই?
.
আহানা চোখ বড় করে পেছনে তাকালো
.
আমার কানের দুলের পেছনে লাগছেন কেন,বলসি না হারায় গেছে
.
তো বাসায় আর কানের দুল নেই?
.
আপনার কি?আমার ইচ্ছা আমি কানে কিছু লাগাবো না
.
তাহলে ফুল লাগালে কেন
.
আহানা রেগে আর কিছু না বলেই হাঁটা ধরলো
ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে সরু উঁচু পথ,সেটাতে আহানা হেঁটে চলে যাচ্ছে
রেগে শান্তকে বকতেসে সে 
হঠাৎ পড়ে যাওয়া ধরতেই শান্ত হাত ধরে ফেললো ওর 
.
আপনি আমাকে ফলো করতেসিলেন?
.
শুনো এটা তোমার বাপের রাস্তা না,আমি যেখান দিয়ে ইচ্ছা সেখান দিয়ে হাঁটবো,তোমার কি,আর তোমাকে সেভ করায় এ কথা বলতেসো? ফাইন!
শান্ত আহানার হাত ছেড়ে দিলো,আহানা সাথেসাথে দুম করে পড়ে গেলো নিচে
.
হুম এই জায়গা তোমার জন্য ঠিক আছে একদম
.
শান্ত ভেংচি দিয়ে চলে গেলো
আহানা হাত পা মুছে উঠে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে শান্তর দিকে
বেয়াদব কোথাকার,অসভ্য
.
শান্ত আগে আগে হেঁটে যাচ্ছে সরু পথটা ধরে
.
আহানা আস্তে আস্তে পিছন পিছন আসতেসে
শান্ত পিছন ফিরে আহানার দিকে তাকালো,আহানা মুখ বাঁকিয়ে আরেকদিকে ফিরে গেলো
শান্ত দাঁড়িয়ে পড়ে হাতের কব্জি কচলানো শুরু করে দিসে
.
হুহ,আমি ভয় পাই নাকি
আহানা গোলাপে এক চাপ দিলো রাগে,হাতে যে কাঁটাযুক্ত  গোলাপ আছে তা সে জানত না
চাপ দেওয়ার ফলে হাতে কাঁটা ঢুকে গেলো পুরোটা
.
উফ!
হাতের দিকে তাকিয়ে আহানার কলিজা মনে হয় বেরিয়েই যাবে,এত বড় কাঁটা ঢুকে গেছে তার উপর শান্ত কব্জি কচলাচ্ছে
আহানা কাঁটা সমেত হাতটা লুকিয়ে হাঁটা ধরলো আবার।



শান্তর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে আহানা
.
দাঁড়াও!
.
কি?
.
কিছু না যাও
.
আপনি একটা!!!!
.
আহানা হাঁটতে হাঁটতে হাত থেকে কাঁটা ধরে টান দিয়ে খুলে ফেললো,ইস আমি এখন খাবার খাবো কি করে,ডান হাতেই কাঁটা ঢুকতে গেলো,২/৩বছর পর ভালো খাবার খাবো আর সেদিনই হাতে কাঁটা ঢুকতে গেলো,ফুটা কপাল আমার
সব হয়েছে বেয়াদবটার জন্য
.
আহানা একটু হাঁটতেই সামনে রুপা আর নওশাদের সাথে দেখা হয়ে গেলো তার
নওশাদ শান্তর কাছে চলে গেসে
রুপা আর আহানা হেঁটে বাসার দিকে ফিরে গেলো
তারপর সেই ফুল মিরাকে পরিয়ে দিলো
বিয়ে পড়ানো শেষ
আহানা খাবারের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,শেষে বাবুর্চিকে বলে একটা চামচ দিয়ে যা পেরেছে খেয়েছে,তবে তেমনটা খেতে পারে নি
.
আহানা আর রুপা বিকালের দিকে রিকসা ধরে বাসায় ফিরে আসলো,আহানা এর আগে আর শান্তর মুখোমুখি হয় নি
.
বাসায় এসে কোনো কাজই করতে পারছে না হাতের ব্যাথার জন্য,টনটন করতেসে কেমন যেন,উফ কি যন্ত্রনা!
.
পরেরদিন সকালে উঠে আহানা রেডি হতে যাবে তখনই মিষ্টির মায়ের ফোন আসলো,তিনি বললেন কাল মিষ্টি তার নানু বাসায় গেসিলো,আসে নাই,তাই আজকে পড়াতে হবে না
আহানা ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলো,আবার গিয়ে একটু শুতেই ঘুমিয়ে পড়লো সে

কিরে ভাই তুই এমন উদাস হয়ে আছিস কেন?কি হয়েছে তোর?
.
না কিছু না
.
রুপা বললো আজ আহানা আসে নাই ভার্সিটিতে
.
আমি আহানার কথা জিজ্ঞেস করসি তোকে নওশাদ?
.
নাহ ভাবলাম হয়ত ওকে মিস করতেছিস
.
না,আমি ওকে মিস কেন করবো,ওর প্রতি কোনো interest নেই আমার

ইস রে!!দুপুর ১টা বেজে গেলো?আমি এতক্ষন ঘুমালাম,ভার্সিটিতেও যেতে পারিনি ধুর!
আহানা তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লো,টিউশনি করাতেও যেতে হবে
হেঁটে যাচ্ছে আহানা,ভার্সিটির পিছনের রোড দিয়ে যাওয়া সহজ বলে আগে ভার্সিটিতে আসলো আহানা,এখন তো ২টা বাজে মনে হয়
 ৩টা বাজতে ১ঘন্টা বাকি,আহানা ভার্সিটির ক্যামপাসে দাঁড়িয়ে ক্লাসরুমের দিকে একবার তাকালো,রুপা আছে কিনা দেখার জন্য
নাহ দেখা তো যাচ্ছে না,থাক আমি বরং টিউশনির দিকে যাই
আহানা টিউশনির দিকে গেলো কিছুদূর যেতেই শান্তর মুখোমুখি হলো সে,শান্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে
.
আজ ভার্সিটিতে আসলে না কেন?
.
আপনার কি তাতে?
.
আহানা চলে যেতে নিতেই শান্ত ওর হাত মুঠো করে ধরে টান দিলো
.
কিই?হাত ছাড়ুন,এটা কোনো ধরনের বেয়াদবি?কথায় কথায় আমার হাত ধরেন কেন?
.
শান্ত আহানার হাত টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়ে আসলো
.
আহানা এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো ছাড়ুন আমার হাত,ছাড়ুন,এমন করতেসেন কেন!
.
শান্ত তার আরেকহাত উঁচু করে ধরলো আহানার সামনে,তার হাতে কানের দুলগুলো যেগুলো আহানা বিক্রি করে দিয়েছিল
.
আহানা অবাক চোখে কানের দুলের দিকে তাকিয়ে আছে
.
এই দুলটা তোমার না?
.
আমার দুল আপনি পেলেন কই?
.
নিবে নাকি?
আহানা হাত বাড়িয়ে ধরতে যেতেই শান্ত তার হাতটা সরিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে ফেললো
.
কি হলো দিন আমার দুল!
.
২০টাকা দিতে হবে তাহলে দিব
.
আহানা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো এরকম করেন কেন,আমার দুল আমাকে দিন
.
কেন?তুমি তো হারিয়ে ফেলছিলে,তো আমি যখন পেয়েছি তখন এটা নেওয়ার সময় তোমার উচিত আমাকে টাকা দেওয়া হাদিয়া হিসেবে
.
আহানার চোখে পানি এসে গেলো,শান্তর হাতটা ছাড়ানোর জন্য হাত মুছড়াতে লাগলো সে
.
কি হলো বলো?নিবা নাকি নিবা না?নিতে হলে ২০টাকা দিতে হবে
.
থাক.আপনি রেখে দেন,লাগবে না আমার
আহানা তার হাতটা ছাড়িয়ে পিছিয়ে গেলো,তারপর চলে যেতে নিতেই শান্ত বলে উঠলো ২০টাকা নেই তোমার কাছে?তোমার হারিয়ে যাওয়া দুল কিনার জন্য?
.
না থাক,লাগবে না আমার
কথাটা বলে আহানা হেঁটে চলে গেলো
শান্ত দুলটা মুঠো করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে
আহানা ভাবতেসে শান্ত পেলো কই আমার দুলটা,ওটা তো আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম
.
আহানা বাসায় ফিরে বুঝার চেষ্টা করেই যাচ্ছে শান্ত দুলটা পেলো কই
ঘর ঝাড়ু দিতেসে সে, হঠাৎ একটা পোকা দেখলো সে,সম্ভবত চ্যালা হবে
আহানা ভয়ে পিছনে গিয়েই দুম করে দরজার সাথে একটা বাড়ি খেলো কপালে
.
উফ,!পোকার কামড় খাওয়ায় ভালো ছিল,কে জানত এই পোকার ভয়ে মাথায় ব্যাথা পাবো আমি
মাথা ঘষতে ঘষতে বিছানার উপর পা তুলে বসে পড়লো আহানা,ভয় করতেসে,এসব পোকা অনেক ভয় পায় সে,তার উপর বাসায় একা একা কি করবো এখন,না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো সে,ভয়ে আর বিছানা থেকে নামেনি সে,মিষ্টির আম্মু বলেছে ও এখনও নানু বাসা থেকে আসেনি
.
পরেরদিন রেডি হয়ে ভার্সিটিতে এসে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে আহানার
রুপা একটা assignment ধরিয়ে দিসে,ও কাল রাতে করতে পারেনি,আহানা সেটায় করতেসে
.
চল কাজ শেষ এবার ক্যামপাসে ঘুরবো
এক মিনিট তোর কপালে এটা কিসের দাগ?লাল লাল
.
নাহ কিছু না,রঙ লেগেছে মনে হয়
.
ওহহ,চল যাই
রুপা আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ক্যামপাসের দিকে
.
তোর Assignment করে দিয়েছি আমি
.
থ্যাংক ইউ বনু
ক্যামপাসে কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করে আবারও ক্লাসে ফিরে আসলো দুজনে
ক্যামপাসে আজ শান্তকে আহানা দেখেনি একবারও
.
শুন তোর জামাটা আমি ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে এসেছি,দাঁড়া প্যাকেটটা আমার ব্যাগেই
আহানা তার ব্যাগ থেকে জামার প্যাকেটটা টান দিতেই ব্যাগ থেকে বেরিয়ে ফ্লোরে তার কানের দুল জোড়া পড়ে গেলো
.
আরেহহহহ আহানা তোর কানের দুল,দেখেছিস হারায়নি এটা,তোর ব্যাগের ভিতরেই ছিল এটা
.
কিন্তু এটা তো!
আহানা ভাবতেসে শান্ত তো ওকে এটা দেই নি,তাহলে এটা তার ব্যাগে আসলো কি করে
আহানা ভাবতেসে ব্যাপারটা
.
ধুর,কি এমন ভাবিস তুই,দে আমি পরিয়ে দিই
রুপা দুলগুলো নিয়ে আহানার কানে পরিয়ে দিলো
.
দেখ কেমন চকচক করতেসে তোর কান,তোর কান খালি মানায় না একদম
ভার্সিটিতে থেকে বের হওয়ার সময় শান্ত আহানাকে দেখে মুচকি হাসলো ওর কানে দুলটা দেখে তারপর আবার আরেকদিকে মন দিলো
আহানা শান্তর দিকে তাকাতে তাকাতে চলে যাচ্ছে টিউশনির দিকে
গুনে গুনে কদম ফেলতেসে আহানা,প্রতিদিন ২৩কদম হাঁটার পর শান্ত সামনে এসে দাঁড়ায়
২১...২২..২৩
সামনে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে,তবে চোখ আহানার দিকে থাকলেও মন ফোনে,কার সাথে যেনন কথা বলতেসে সে
.
হুম বাবা,আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি,হুম!ওকে ডান
আহানা রোবটের মত দাঁড়িয়ে আছে শান্তর দিকে তাকিয়ে
.
শান্ত আহানাকে পেরিয়ে চলে যাচ্ছিলো,হঠাৎ থেমে গিয়ে পিছিয়ে আবার আহানার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো
আহানা মাত্রই হাঁপ ছাড়তেসিলো,শান্তকে দেখে আবারও দম বন্ধ হয়ে গেলো তার
.
শান্ত আহানার কানের দিকে তাকিয়ে তারপর কপালের দিকে তাকালো
.
কিই?
.
তোমার কপালে কি হয়েছে.?
.
রররররঙ লেগেছে
.
সবাইকে ধোকা দাও,আমাকে দিতে আসিও না,আমি ধোয়া তুলসি পাতা না,দুনিয়ার সব প্যাঁচ বুঝি
শান্ত হাত উঠিয়ে আহানার কপালে চাপ দিয়ে দিলো
.
উহহহ!
.
কি?রঙে ব্যাথা লাগে?
.
আপনি একটা বেয়াদব,জগন্যতম বেয়াদব!!!
আহানা রেগে হনহনিয়ে চলে গেলো
শান্ত হাসতেসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
.
আচ্ছা কে রাখলো দুলটা?
শান্ত?কিন্তু ও যদি ক্লাসরুমে ঢুকতো কেউ না কেউ তো দেখে ফেলতো তখন সারা ভার্সিটি হতো ব্যাপারটা,নিশ্চয় অন্য কাউকে দিয়ে আমার ব্যাগে রেখেছে,এত ঢং না করে তখন দিয়ে দিলেই ঝামেলা চুকে যেতো
.
তুমি হয়ত ভাবছো তখন কেন দিই নাই,এর কারন হলো আমি রহস্য একটার উত্তর বের করার জন্য আমি তোমার থেকে ২০টাকা চেয়েছি,তুমি বললা ২০টাকা দিবে না দুল আমার কাছেই থাক এর মানে তোমার হাতে টাকা নেই,এবার তোমার বাসা পর্যন্ত আমি পৌঁছে যাবো,রহস্য ভেদ করতে বেশ লাগে
.
আহানা খাটে বসে কানের দুলগুলো হাতে নিয়ে তাকিয়ে আছে,বিক্রি করা জিনিস আবার ফেরত এসে গেলো,লাভ কি,আমার চাল দরকার হলে আবার বিক্রি করে দিব আমি
.
শান্ত একটা বলপয়েন্ট নিয়ে বসে আছে,এই মেয়েটার বাবা কি চাকরি করে না??মেয়ের একটা কানের দুল কেনার সামর্থ্য ও তার নেই?মেয়েকে এতগুলো টিউশনি করে টাকা ইনকাম করতে হয়
ধুর আমিও না,কার জন্য এত ভাবতেসি,যে কিনা আমাকে চড় মেরেছিল?!!উফ শান্ত এসব ভাবা বাদ দে
.
আহানা দাঁত কেলিয়ে বসে আছে,পিউর মায়ের একটা রেসিপি আজ সে ফলো করেছে,কাঁচামরিচ বেটে পেঁয়াজ দিয়ে মেখে ভাজবে,তারপর সেটা ২দিন ধরে খাবে,এটা ভেবে তার মন আজ খুশির আলমারি হয়ে আছে
পেঁয়াজকে কেটে কুচিকুচি করে কাঁচামরিচ বেটে সেটার সাথে মিশিয়ে বসে রইলো,পিউর মাকে দেখলাম সাথে রসুন ও দিচ্ছিলো,এখন আমি রসুন পাবো কই
.
আহানা সারা বাসা তন্নতন্ন করে খুঁজে খাটের নিচ থেকে রসুনের একটা কোয়া পেয়ে লাফাতে লাফাতে রান্নাঘরে গিয়ে সেটা কুচিকুচি করে কাটলো তারপর মেখে নিলো,পিউর মা তো তেল দিয়ে ভেজেছিল,আমি তেল দিয়ে ভাজবো?না না,তেল শেষ দেওয়া ঠিক না,আচ্ছা একটুখানি তেল দিই
তেল দিয়ে না ভাজলে গন্ধ আসবে ঝাঁঝ ও আসবে পরে পানি খেয়েই পেট পুরাতে হবে,তেল একটু দিয়ে ভেজে ২ভাগ করে নিলো সে
এক ভাগ কালকের জন্য রেখে বাকিটা নিয়ে বসলো,খেতে ঝাল তবে বেশ লেগেছে,রোজ রোজ একি খাবারের চেয়ে এটা বেটার
পরেরদিন আবার ভোরে রেডি হয়ে ছুটলো আহানা,গন্তব্য মিষ্টিদের বাসা,ওদের বাসায় এসে লিফটে উঠে ভাবতে লাগলো ঐ বাঁদরটার সাথে যেনো দেখা না হয়
লিফট থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে এগোনোর জন্য এক পা রাখতেই শান্ত সামনে এসে পড়লো,পরনে জগিং স্যুট
শান্ত আহানাকে না চেনার ভান করে চলে গেলো
.
ওমা!এই ছেলেটার মাঝে মাঝে কি হয় কে জানে
আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে শান্তর চলে যাওয়া দেখতেসে।






চলবে...






Writer:- Afnan Lara

 
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner