> প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩, ১৪, ১৫ | প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ১ | Love Story Bangla | Bangla Love Story | ভালোবাসার গল্প | রোমান্টিক গল্প
-->

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ১৩, ১৪, ১৫ | প্রেমের পাঁচফোড়ন সিজন ১ | Love Story Bangla | Bangla Love Story | ভালোবাসার গল্প | রোমান্টিক গল্প

মিস জানো Santu ভাইয়ার অনেক দুঃখ,সে কদিন বাদেই মন খারাপ করে থাকে,কাল বিকালে আমি যখন মাম্মির সাথে ছাদে গেছিলাম গাছে পানি দেওয়ার জন্য তখন দেখলাম মন খারাপ করে দোলনায় বসে আছে
.
কেন?
.
জানি না তো,আমি অনেক জিজ্ঞেস করেছি,বলে না আমাকে
.
ওহ
আহানা মিষ্টিকে পড়িয়ে বাসায় ফিরার সময় তার চোখে পড়লো ১০তলা বিল্ডিংটার  একটু দূরে কচু গাছের ক্ষেত
আহানা কচু গাছ অনেক খুঁজে এখন পেয়েছে,কচু গাছের পাতা সিদ্ধ করে মসলা দিয়ে রাঁধলে খুব ভালো লাগে এবং এটা অনেক উপকারী,বিশেষত চোখের জন্য
.
আহানা চুপিচুপি গিয়ে একটা একটা করে পাতা ছিঁড়তে লাগলো
অনেকগুলো পাতা নিয়ে রোডে এনে রাখলো,,আরও ২/৩টা নিলে বেশ হতো,২দিনের জন্য রান্না করতে পারতাম আমি
আহানা আবার ভিতরে গিয়ে পাতায় হাত দিতে গিয়ে পায়ের দিকে নজর গেলো তার,ইয়া বড় বড় দুটো জোঁক আরামসে নিশ্চুপ ভাবে তার রক্ত চুষে যাচ্ছে যা এতক্ষণ সে টেরই পায়নি
চিৎকার দিয়ে মাটিতে বসে পড়লো আহানা,কি করবে কোথায় যাবে বুঝতেসে না
চোখ বন্ধ করে বসে আছে,সকাল ৭টায় তো ঢাকার অভিজাত এলাকার মানুষদের রাস্তায় চোখেই পড়ে না,আর সেই অভিজাত এলাকায় সে চিৎকার করেও মানুষ পাবে না
শান্ত কানে ইয়ারফোন দিয়ে জগিং করতে করতে যাচ্ছে রোড দিয়ে
.
গানের তালে তালে মাথা হেলিয়ে দুলিয়ে কচু ক্ষেতের দিকে একবার তাকিয়ে আবার আরেকদিকে তাকিয়ে থেমে গেলো,এক মিনিট কাকে দেখলাম?
.
শান্ত আবারও তাকালো সেদিকে,আহানা চোখ বন্ধ করে ক্ষেতের মাঝখানে বসে আছে,ভয়ে বিড়বিড় করে কিসব বলতেসে মনে হচ্ছে
কানের থেকে ইয়ারফোনটা খুলতে খুলতে শান্ত সেদিকে এগিয়ে গেলো
.
এই মেয়ে?মাথা ঠিক আছে তোমার??এরকম জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে মাটিতে বসে কি করতেসো তুমি?
.
প্লিস আমাকে বাঁচান
.
কি হয়েছে?আশেপাশে কোনো গুণ্ডাপাণ্ডা তো দেখতেসি না আমি
.
আরে আমার পা
.
শান্ত এগিয়ে এসে তাকিয়ে দেখলো আহানার পায়ের পাতাতে একটা জোঁক আরেকটা পায়ের টাকনুর উপরে,বড় বড়
.
এগুলাকে সরান না প্লিস
.
তুমি এখানে আসতে গেসো কেন,আর মাঝখানে কেনোই বা আসলা?
আহানা জবাব না দিয়েই পড়ে যাচ্ছে
- লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জুয়ালিমিন
.
শান্ত হাত দিয়ে জোঁক সরাতে যেতেই আহানা চিৎকার দিয়ে বললো এই কি করতেসেন,হাত দিয়ে ধরতেসেন কেন আপনি!!!
.
হাত দিয়ে ধরে সরাতে ইজি হবে বুঝছো?
.
শান্ত হাত লাগাতেই আহানা ভয়ে শান্তর টি- শার্ট টেনে ধরলো
.
ঐ দেখো তোমার ঘাড়ে একটা
আহানা আর থাকতে পারবে না,শান্তর মুখে এ কথা শুনে এগিয়ে এসে শান্তর কাছে গিয়ে বসে পড়লো ভয়ে
.
প্লিস ঘাড় থেকে সরান,
.
শান্ত হেসে দিয়ে আহানার পায়ের জোঁক ২টো সরিয়ে ফেললো
.
কই ঘাড়ের টা সরিয়েছেন?
আহানার চোখ বন্ধ,শান্ত বললো সরিয়েছি
আহানা এবার হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো,উফ,পা কি জ্বালা করতেসে,উঠে দাঁড়াতেই শান্ত ১০০টা প্রশ্ন করে বসলো,এখানে কেন এসেছে আহানা,কিসের জন্যে এসেছে!
.
কচু পাতা নিতে এসেছিলাম আমি
.
তোমার কি এখন চড়ুই ভাতি খেলার বয়স?ছোটবেলায় আমি কচু পাতা দিয়ে শাক রান্না করে আমার পাতানো বউকে খাওয়াতাম,কাঁচা কাঁচা,সে খেয়েও নিতো,একটা বলদই ছিল
.
পাতানো বউ?
.
ছোটবেলায় সবার এমন পাতানো বউ থাকো,তোমার পাতানো বর নাই?
.
নাহ
.
ওহ তাহলে তোমাকে বুঝিয়ে লাভ নেই,এই পাতা দিয়ে কি করবা সেটা বলো
.
কি করবো আর,রান্না করবো
.
হোয়াটটটটট!!!রান্না?তোমার মাথা ঠিক আছে?এ বয়সে কচু পাতা রেঁধে চড়ুই ভাতি খেলবা তুমি?
.
না ধুর,বলতে তো দিবেন,আর এমন ভাব করেন কেন,জীবনে কচু পাতা রান্না করা খাননি?
.
নাহ, জীবনে এ প্রথম শুনলাম কচু পাতা রেঁধেও খাওয়া যায়,ও মাই গড!
.
এটা সিদ্ধ করে মসলা দিয়ে ভাজি করলে অনেক মজা
.
শান্ত নিচে তাকিয়ে দেখলো আহানার পায়ে আরেকটা জোঁক
.
শান্তর চাহনি দেখে আহানাও তার পায়ের দিকে তাকালো!
আহানা জোঁক দেখে আবারও চিৎকার করে শান্তর হাত চেপে ধরলো
.
প্লিস এটাকে সরান প্লিস!
.
এক শর্তে
.
কি শর্ত?
.
তুমি যে ডিস রান্না করবা আমার জন্য ও আনতে হবে
.
আচ্ছা আনবো, সরান প্লিস প্লিস
.
আমার হাত না ছাড়লে সরাবো কি করে?
.
আহানার এবার হুস আসলো সে শান্তর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রেখেছে
তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলো ওর হাত
শান্ত ঝুঁকে এই জোঁকটাও সরিয়ে ফেলো দিলো
.
আহানা আর না দাঁড়িয়ে রোডের দিকে দৌড় মারলো,এখানে থাকা আর পসিবল না বাপরে বাপ
জোঁক ১০০টা ধরসে আমাকে
.
মনে থাকবে তো শর্তের কথা?
আহানা কচুপাতা যেগুলো তুলেছিল সেগুলো হাতে নিতে নিতে বললো ঠিক আছে আনবো
বাসায় ফিরে কচুপাতাগুলো কাটতে বসে পড়লো সে,ভালো করে ধুয়ে কেটে সিদ্ধ করে রেখে দিলো,ভার্সিটি থেকে এসে রাঁধবে
সেদিনের পিঠা ২টা ছিল,সেগুলো খেয়ে বের হলো বাসা থেকে,তখন সকাল ১০:১৪বাজে
.
আহানা রুপাকে নিয়ে ক্যামপাসে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,শান্তকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না
.
আমাকে খুঁজতেসো?
.
আহানা চোখ বড় করে পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত মুচকি হেসে ফোনে কথা বলতে বলতে চলে যাচ্ছে
.
কথাটা আমাকে বললো নাকি ফোনে যার সাথে কথা বলতেসে তাকে বললো?আজব লোক,কখন কি করে বুঝি না আমি
.
আজ শান্ত একটা কাজে চলে গেসে তাই আর আহানাকে টিউশনি যাওয়ার পথে ডিস্টার্ব করতে আসেনি
আহানা তো ভয়ে ভয়ে রোড পেরিয়ে চলে গেসে,যাক বাবা বাঁচলাম!
আল্লাহ এই বাঁদরটাকে সুবুদ্ধি দিয়েছে,আলহামদুলিল্লাহ
আহানা বাসায় ফিরে এসে সিদ্ধ করে রাখা কচু পাতাগুলো মসলা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিলো,একটা ছোট বক্সে শান্তর জন্য আলাদা করে রেখে দিলো
মীম আপু বাসায় আছে আজকে,তার ডিউটি শেষ,আহানা উনার থেকে গোটা জিরা এক চামচ নিয়ে ভেজে কচুপাতার উপরে ছিঁটিয়ে দিলো,এতে করে স্বাদ হাজারগুন বেড়ে যায়
যাক হয়ে গেছে,কাল সকালে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবো
পরেরদিন ভোরে আহানা বের হলো বক্সটা ব্যাগে নিয়ে,সোজা গিয়ে শান্তর বাসার দরজায় নক করলো
মনে হয় শান্ত ওর জন্যই অপেক্ষা করতেসিলো,নক করার ১০সেকেন্ডের মধ্যেই শান্ত এসে দরজা খুললো
.
নিন আপনার খাবার
.
শান্ত বক্সটা খুলে দেখলো শুধু কচু পাতার আইটেম টা সাথে আর কিছু নেই
.
একি??শুধু এটা?এটা যেটা দিয়ে খাব সেটা আনো নাই?
.
মানে?আপনি তো বলছেন এটা খাবেন,আবার সাথে অন্য কিছু আনতে হবে সেটা তো বলেন নাই
.
এটা কি দিয়ে খায়?
.
গরম ভাত
.
বুয়া তো ৯টা বাজা ছাড়া আসবে না,ততক্ষণ ওয়েট করার ধৈর্য্য আমার নেই,এক কাজ করো তুমি ভাত রেঁধে দাও আসো
.
কিহহ,আমি?আপনার মাথা ঠিক আছে?
.
কেন?কি সমস্যা?
.
আপনার মা কে বলেন
.
মা এখানে থাকলে তো আর তোমাকে বলতাম না
.
তার মানে আপনি বাসায় একা?আমি একা একটা ছেলের বাসায় যাব না
.
আমি কি তোমাকে খেয়ে ফেলবো নাকি?
.
খেতেও তো পারেন
.
উফ!!
.
তাহলে বোন থাকলে বোনকে বলেন
.
শুনো আমার বাসায় আমি, নওশাদ,সূ্র্য আর রিয়াজ থাকি
.
কিহহহহ?আমি যেখানে এতগুলো ছেলে আছে সেখানে যাবো?ইমপসিবল
.
মিষ্টিইইইইইইই!
.
কিই Santuuu?
.
মিষ্টির মা বললেন কি হয়েছে শান্ত?
.
আন্টি মিষ্টি আজ আহানার কাছে আমার বাসায় পড়লে কোনো সমস্যা আছে?আসলে আমার আহানার থেকে একটা assignment নেওয়ার আছে,নোট করে নিতে হবে
.
ওকে  সমস্যা নেই,যাও মিষ্টি বই খাতা নিয়ে শান্ত ভাইয়ার বাসায় যাও
.
আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে,মিথ্যুক কোথাকার!
.
কি?মিষ্টি থাকলে তো আর আমি আর তুমি একা না তাই না?
.
আহানা মুখ বাঁকিয়ে মিষ্টিকে নিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকলো
.
কি সুন্দর বাসা!!আল্লাহ গো!
মিষ্টি সোফায় গিয়ে বসে পড়লো খাতা কলম নিয়ে
আহানা ওকে একটা অংক করতে দিয়ে শান্তর দিকে তাকাতেই শান্ত বললো শুনো আমাদের ফ্রিজে ফ্রাইড রাইস আছে,ওটা দিয়ে এই ডিসটা খাওয়া যাবে?
.
কি বললেন?ফ্রাইড রাইস? সেটা কি?ভাজা ভাত?সেটা কেমনে খায়
.
কিহ?তুমি ফ্রাইড রাইস চিনো না?জীবনে খাও নাই?
.
না
.
পোলাও চিনো?
.
হ্যাঁ চিনি তো,ঐদিন মিরার বিয়েতে খেয়েছি
.
এর আগে খাও নাই?
.
না
.
ও মাই গড! ওকে ওয়েট
শান্ত ফ্রিজ থেকে ফ্রাইড রাইসের বাটিটা বের করে আহানাকে দেখালো
.
ওহহহ আচ্ছা এগুলো হলো পোলাও ভাজা তার সাথে সবজি,এটা বললেই হতো
.
আমি কি জানি তুমি উপকরন শুনে খাবার চিনো,নাম শুনো নয়
.
না না এটা দিয়ে কচু পাতা খাওয়া যাবে না,জীবনেও এমন নাম শুনি নাই,গরম ভাত দিয়েই খাওয়া যাবে
.
রাঁধতে পারো তো?
.
কেন পারবো না,আমাকে রান্নাঘর দেখিয়ে দিন
.
শান্ত রান্নাঘর দেখিয়ে দিলো,আহানা ভিতরে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলো,ওমা রান্নাঘর দেখি সোফার রুমের চাইতেও সুন্দর,প্লেট,বাটি,গ্লাস রাখার একটা ওয়াল কেবিনেট,আহানা হা করে সেটাই দেখতেসে
.
তারপর পাতিল হাতে নিলো চাল ধোয়ার জন্য
.
এই যে শুনুন!!
.
শান্তর বুকে ধুক করে উঠলো আহানার ডাক শুনে 
এগিয়ে এসে বললো এই খবরদার আমাকে এমন করে ডাকবা না একদম!
.
আহানা বিস্মিত হয়ে বললো কেন কি হয়েছে?
.
আমার কেমন যেন লাগে,আর তুমি এমন ভাবে ডাকতেসো যেন আমি তোমার বিয়ে করা বর!
.
আজব তো,আমি এতসব ভেবে ডেকেছি নাকি?আর আপনি এত উল্টা পাল্টা চিন্তাভাবনা নিয়ে থাকেন কেন?আমার ঠ্যাকা পড়ে নাই আপনাকে ভাত রেঁধে খাওয়ানোর,চাল কোথায় তা জানার জন্য ডেকেছি
.
এই বালতির ভিতরে
.
আহানা বালতির দিকে তাকাতেই ওর চোখ কপালে উঠে গেলো,এত বড় বালতি ভরা চাল!!
.
তো?
.
আহানা চুপচাপ বালতি থেকে পাতিলে চাল নিলো,তারপর ধুয়ে ভাত বসিয়ে দিলো,এরপর এসে মিষ্টিকে পড়াতে বসে গেলো,শান্ত একবার এক রুমে পায়চারি করতেসে
.
সোফার রুমের সামনে ২টো রুম,একটাতে নওশাদ,সূর্য আর রিয়াজ থাকে আরেকটায় শান্ত থাকে
.
মিষ্টি তুমি কিছু খাবে?
.
গোলাপজাম খাবো
.
তাহলে মিষ্টি মিষ্টিকে খাবে
.
হু
.
শান্ত আহানার দিকে তাকাতেই আহানা বললো ও কিছু খাবে না
.
তোমাকে জিজ্ঞেস করি নাই আমি
শান্ত মিষ্টি এনে দিলো,মিষ্টি তার অংক করা শেষে করেই খাওয়া শুরু করে দিসে
আহানা ভাত দেখতে রান্নাঘরে এসে এদিক ওদিক দেখতেসে,কি বিশাল রান্নাঘর,২০জন লোক দাঁড়াতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না
.
এই আমাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দাও
.
কফি বানায় কেমনে?
.
জানো না?
.
না
.
কি জানো?তোমার আম্মু তোমাকে রান্নাবান্না শেখায় নি?
.

.
শান্ত নিজে নিজে কফি বানালো,আহানার জন্য ও এক কাপ বানালো,কারন আহানা মিষ্টিকে পড়ানোর সময় ঝিমতেসিলো শান্ত দেখেছিল সেটা
.
মিষ্টির জন্য ভুলে কফি বানিয়ে ফেলসিলাম,বাট ও তো বাচ্চা মেয়ে এসব খায় না,লাইক ও করে না,বরং তুমি খাও এটা
.
আমি?
.
না তোমার ভূত!!
.
আহানা কফি এক চুমুক দিয়ে চোখ,ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
ইচচচ কি তিতা,আমাকে এসব কি খেতে দিসেন,এর চেয়ে তো রঙ চা ভালো
.
কফি তো এমনই হয়
.
না আমি খাবো না,এটাকে পানীয় আইটেম বানিয়েছে কে?,কি দেখে বানিয়েছে কে জানে!
.
ভাত রাঁধা হয়ে গেছে, আহানা একটা প্লেটে রান্না করা কচুপাতা নিয়ে ভাত বেড়ে ডাইনিং এ এনে রাখলো
.
শান্ত হাত ধুয়ে বসে ছিল সেই কখন থেকে
আহানা প্লেট রাখতেই মেখে এক লোকমা মুখে দিয়ে দিলো সাথে সাথে
.
উমমম এটা তো খুব টেস্টি,আরেহহ এটা তো পাতাবাটা
.
পাতাবাটা?
.
হ্যাঁ!আমার মা এই ডিসটা বানাতো কিছুদিন পরপর,আমি এটাকে পাতাবাটা বলতাম,একদম আমার মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ,সেম টু সেম,আমার মা ও এভাবে উপর দিয়ে জিরা গুড়া ছিঁটিয়ে দিতো
.
বানাতো মানে?এখন আর বানায় না?
.
শান্তর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো মূহুর্তেই,নিচের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ খাবারটা শেষ করে উঠে চলে গেলো হাত ধোয়ার জন্য
.
আহানা ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে,কি বললাম,এভাবে রিয়েক্ট করলেন কেন উনি?
আহানা ভাবতে ভাবতে প্লেটটা নিয়ে ধুয়ে রেখে দিলো
.
আচ্ছা আমি যাই
.
শান্ত তার রুমে বিছানায় আরেকদিকে মুখ করে বসে আছে,কথা বলার মুড নেই তার
আহানা কথাটা বলে চলে গেলো মিষ্টিকে তাদের বাসায় দিয়ে এসে।



আহানা বাসায় ফিরে দেখলো ৯টা ২০বাজে,এত দেরি?তাড়াতাড়ি করে ঘর গুছিয়ে আবার ভার্সিটিতে যেতে হবে
আহানা ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে হঠাৎ ফোন আসলো আকাশের মায়ের,উনি বললেন আজ আকাশকে ২ঘন্টা বেশি পড়াতে,কাল ওর পরীক্ষা 
.
আহানা ভেবে বললো কিন্তু আন্টি তাহলে তো আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে
পিউকেও তো আজ ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পড়াবো বলেছি আমি,কারন পিউয়ের ও কাল পরীক্ষা,৫টা থেকে ৬টা লেগে যাবে আকাশদের বাসায় হেঁটে যেতে যেতে,তারপর আকাশকে ৬টা থেকে ২ঘন্টা পড়ালে তো ৮টা বেজে যাবে
আপনাদের বাসা তো দূরে
.
উনি বললেন রিকসা করে আসতে তো ৩০মিনিট লাগে 
উনি তো আর জানেন না আহানা হেঁটে উনাদের বাসায় যায়,হেঁটে আসতে ৫০মিনিট লাগে প্রায়ই
.
আহানা হ্যাঁ বলে দিলো,কারন আকাশ সবসময় অংকতে ফেল করে,ম্যাথ বলতে কাঁচা সে,কাল ভালো করে বুঝিয়ে পড়িয়ে দিলে হয়ত পাস করতে পারবে 
৮টার সময় তো সব অন্ধকার হয়ে যায়,হ্যাঁ তো বলে দিলাম কিন্তু বাসায় ফিরবো কি করে যদি পথে বিপদ হয়,
ভার্সিটিতে এসে ভেবে যাচ্ছে আহানা কি করে রাত করে বাসায় ফিরবে,যে গলি দিয়ে আসা লাগে সেটা অত্যান্ত নির্জন এলাকা,ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে
.
কিরে?কি এত ভাবিস?
.
নাহ কিছু না
.
আজ শান্ত ভার্সিটিতে আসে নাই মনে হয়,আমার কথায় এত কষ্ট পেলো?আমি কি এমন বললাম যে ভার্সিটিতেই আসলোনা,আজব!

বাবা আমি ব্যাংকের সব কাজ fulfill করে দিয়েছি,আর টেনসন নিও না ওকে?
.
ওকে
শুন!এবার ঈদে কিন্তু অবশ্যই আসবি আমার কাছে
.
আচ্ছা আসবো

২০,২১,২২,২৩!!
আহানা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,ওমা শান্ত নেই,হুর আমিও না
প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটবে তা তো নয়
আহানা ২৪তম কদম ফেলার আগেই সামনে শান্ত এসে দাঁড়ালো
পরনে কালো টি-শার্ট তার উপর হলুদ জ্যাকেট,ইয়া লম্বু
আহানা হা করে উপরে তাকিয়ে আছে শান্তর মুখের দিকে চেয়ে
.
শান্ত বাবাকে বাই বলে ফোনটা পকেটে ঢুকালো
.
আহানা কি বলবে বুঝতেসে না,পাশ দিয়ে চলে যেতে নিতেই শান্ত বললো দাঁড়াও!
.
কি?
.
থ্যাংকস!
.
কেন?
.
আমাকে ঐ পাতাবাটা রেঁধে খাওয়ানোর জন্য
.
ওহ,সরি
.
সরি কেন?
.
আমি আপনাকে তখন আপনার মা কচুপাতা রেঁধে খাওয়ায় না কেন সেটা বলে কষ্ট দিয়েছিলাম
.
ইটস ওকে,তুমি তো সবটা জানো না
.
হুম,যাই
আহানা চলে গেলো ওখান থেকে
শান্ত ভার্সিটির দিকে গেলো তমালের সাথে কিছু কাজ আছে তার
৮টা বাজতে ১০মিনিট বাকি,আহানা বারবার ঘড়ি দেখতেসে
চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছে,জানালা দিয়ে আহানা বারবার একটুখানি আলো চোখে পড়ে কিনা তা দেখার চেষ্টা করতেসে,নাহ একটু আলো ও নেই,আরও মনে হচ্ছে রাতের গভীরতা বেড়ে আসতেসে
.
৮টা বাজে আহানা আকাশদের বাসা থেকে বের হলো অবশেষে,ভয়ে ভয়ে কিছুটা জোরেই হেঁটে চলেছে সে,দুপাশে বিল্ডিং,মাঝখানে চিকন গলি,সেটা দিয়ে হেঁটে চলেছে সে
এখন পর্যন্ত কোনো বখাটে বা ছেলেদের আড্ডামহল চোখে পড়েনি তার
ভয়ে ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে,আজ নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হচ্ছে আহানার
.
যে গলি দিয়ে আহানা হেঁটে যাচ্ছে সেই গলিটা যেখানে শেষ হয়ে আরেকটা গলি শুরু হবে ঠিক সেই জায়গায় ৫টা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,ল্যাম্পপোস্টের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাদের
আহানা তাদের দেখেছে এবং তারাও আহানাকে দেখেছে,নির্জন এলাকা বলে ছেলেগুলো বাদে আশেপাশে কোনো মানুষ চোখে পড়তেসে না
.
আহানা ছেলেগুলোকে পেরিয়ে চলে গেলো,কিন্তু তার মনে হচ্ছে কেউ তাকে ফলো করছে,পিছনে তাকাতেই আহানার মনে হলো ভয়ে জ্ঞান হারাবে এখন,সেই ৫টা ছেলেগুলো কিভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে,তার পিছু পিছু আসতেসে
আহানা এখন কি করবে,ওর যদি কোনো ক্ষতি করে ফেলে
আহানা হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো,খুব জোরে হেঁটে যাচ্ছে সে
কিন্তু না!!ছেলে ৫টার মধ্যে ২জনই সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো
.
ককককি আআআআমমমমার পপপথ আটকিয়েছেন কককেন?
.
কেন জানো না?একা পথে সুন্দরি নারী দেখলে হাতছাড়া কি করে করি বলো
.
আহানা এদিক ওদিক তাকালো,সম্ভবত সে এখন ঐ রোডে যেখানে এক পাশে একটা ডোবা আর আরেকপাশে মাঠ
অন্ধকারে ঠিকমত বুঝা যায় না ভালো করে,কিন্তু একটা পিলার দেখে আহানা আন্দাজ করলো সে এখন কোথায়
.
ছেলেগুলো আরও কাছে আসতেসে,আহানা সরে দাঁড়ালো,পিছনে বাকি ৩জন,বাজে ভাষায় গান গাইতেসে তারা
.
আহানা সুযোগ খুঁজতেসে পালিয়ে যাওয়ার,কারন এখানে চিৎকার দিয়েও কাউকে পাবে না সে জানে,কারন বাসা বাড়ি পিছনে ফেলে এসেছে সে,এই জায়গাটা যে গলির জন্য তার কাছে নির্জন মনে হতো এটাই সেই গলি
.
আহানা তার সামনের ২টো ছেলের পাশে ফাঁক দেখে সময় নষ্ট না করে এক দৌড় দিলো,যার পাশ দিয়ে দৌড় দিলো সে আহানাকে ধরার জন্য ওর কাঁধ ধরতে গেলো
কিন্তু আহানা খুব জোর গতিতে দৌড় মেরেছিলো
যার কারণে ছেলেটার হাতটা আহানার হাতের উপর দিয়ে স্লিপ খেয়ে গেলো
তার নখের আঁচড়ে আহানার হাতের উপরিভাগ ছড়ে গেছে,এতই জোরে ধরতে গিয়েছিল যে আহানার জামাও ছিঁড়ে গেছে কিছুটা হাতার উপর দিয়ে
.
আহানা প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে,এখন তার ইজ্জত আগে পরে বাকি সব
দৌড়াতে দৌড়াতে একটা বিল্ডিং এর পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লো সে
ছেলেগুলো অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারলো না আহানা কোনদিকে গেছে
আহানা হাঁপাতে হাঁপাতে উঁকি দিয়ে দেখলো ছেলেগুলো এখনও রোডে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর কিসব বলতেসে
৫মিনিট ধরে আহানা চুপচাপ বিল্ডিংটার পিছনে দাঁড়িয়ে রইলো ছেলেগুলো চলে যাওয়া পর্যন্ত,ওরা চলে যেতেই আহানা রোডে এসে ভালো করে চারিদিক দেখে ক্ষিপ্রগতিতে বাসায় ফিরে আসলো
রাত ৯টা ৩০বাজে,আজ খুব বাঁচা বেঁচেছি আমি,হাত খুব ব্যাথা করতেসে
জামা খুলতেই আহানা চমকে উঠলো তার হাতে ৪ আঙ্গুলের আঁচড় দেখে
জামাও ছিঁড়ে গেছে,থাক আমার মানসম্মানের কাছে এগুলা কিছু না
জামাটা ধুয়ে মেলতে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালো সে
হঠাৎ খুব কান্না পেয়ে গেলো,কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লো সে
আমার এই দুনিয়াতে কেন কেউ নেই?কেন আমার পরিবার নেই?আমাকে এত এতিম কেন বানালে?এত অসহায় কেন বানালে?কি দোষ করেছিলাম আল্লাহ?এতদিন ধরে কত মানুষের পশুত্ব চেহারা সামনে এসেছে সবসময় নিজের ইজ্জত বাঁচিয়ে রেখেছি আমি আর এখন তো মনে হয় নিজের এই সম্মানটুকুও শেষ হয়ে যাবে,কেন আমি একাই কষ্ট পাই,কেন সবসময় আমার সাথেই এমন হয়,না মা আছে না বাবা আছে,না ভাইবোন আছে,আমাকে দেখে রাখার জন্য কাউকে পাঠালে না তুমি,আমার নিজের উপর নিজের দায়িত্ব দিয়েছো তুমি
পারলে পারবো না পারলে মরবো তাই না?
মরতেও দাও না,মরন দাও না আমার!!
আহানা চোখ মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়ালো,চুপচাপ খাটের উপর এসে বসে আছে সে,কচুর তরকারি আছে,ভাত রেঁধে খেতে হবে
না খেলে নষ্ট হয়ে যাবে,ভাত বসিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো সে
পরেরদিন ভোরে রোবটের মত হেঁটে যাচ্ছে আহানা
গন্তব্য স্থান মিষ্টিদের বাসা,রাস্তা খালি তাও বারবার গা শিউরে উঠছে তার,এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটতেসে সে,বুকের ভেতর ধরফর ধরফর করেই যাচ্ছে,থামাথামি নেই কোনো,কেন এমন হচ্ছে,আচ্ছা আমি আজ আবার আকাশদের বাসার ওদিকে যাব কি করে,যদি ছেলেগুলো আবারও এসে যায়,ভাবতে ভাবতে লিফটের দরজা খুলে গেলো,আহানা অন্যমনস্ক হয়ে লিফট থেকে বের হচ্ছে ধীর গতিতে
শান্ত লিফটের সামনেই ছিল,নিচে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ
হঠাৎ লিফটের দরজাটা আটকে যেতে লাগলো,আহানা এখনও বের হয়নি,দরজার মাঝ বরাবর সে
শান্ত চোখ বড় করে হাত এগিয়ে নিয়ে আহানাকে টান দিয়ে বের করে আনলো লিফট থেকে
.
আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড?
.
আহানা চমকে এদিকে ওদিক তাকিয়ে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করলো
.
কি?কথার উত্তর দিচ্ছো না কেন?
.
আহানা এখনও বুঝতেসে না কি হচ্ছে,কি নিয়ে কথা বলতেসে শান্ত,কাল সারা রাত ঘুমাতে পারেনি আহানা ভয়ের চোটে,এখন একটা ঘোরের মধ্যে আছে সে
শান্ত আহানার কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বললো কি হয়েছে তোমার?
আহানা কেঁপে উঠলো ব্যাথায় কারন  আঁচড় যেখানে লেগেছিল শান্ত সেটাই চেপে ধরে আছে
আহানা শান্তর হাত সরিয়ে একটু পিছিয়ে গেলো,চুল ঠিক করে বললো না কিছু না
তারপর মিষ্টিদের বাসায় চলে গেলো
.
এই মেয়েটার মাঝে মাঝে কি হয় আমি বুঝি না!!
.
আহানা ভার্সিটিতে এসে মনমরা হয়ে বসে আছে
রুপা বারবার জিজ্ঞেস করতেসে কি হয়েছে
.
আহানা আর কষ্ট চেপে রাখতে পারলো না,কেঁদেই দিলো
ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে
.
কিরে এমন করে কাঁদছিস কেন,দেখি আমার দিকে তাকা,আহানা?কি হয়েছে তোর?কেউ কিছু বলেছে?
.
আহানা চোখ মুছে পাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে
এখানে আর না থেকে বেরিয়ে চলে গেলো সে
রুপা ডাকতে ডাকতে আসতেসে পিছন পিছন
আহানা চলে যাচ্ছে ভার্সিটির থেকে
শান্ত বাইকে বসে যখন বাসায় ফেরার জন্য বাইক ঘুরালো তখনই দেখলো আহানা বের হয়ে যাচ্ছে জোরে হেঁটে হেঁটে
রুপা আর আহানার সাথে দৌড়ে না পেরে ক্যামপাসের মাঝপথেই থেমে গেলো
শান্ত এবার চিন্তায় পড়লো কি হয়েছে তা জানার জন্য
.
আজ আর কদম গুনে নাই আহানা চোখ মুছতে মুছতে হাঁটতেসে সে
কৃষ্ণচূড়া গাছটার কাছে এসে হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো
এই রোডটাতে মানুষের চলাচল একদম কম,বলতে গেলেই একদমই নেই
কারন এটা ভার্সিটির পেছনের রোড
আহানা নিচে রাস্তায় বসে কেঁদে যাচ্ছে,কেউ নেই সে জানে তাই চিৎকার করে কাঁদতেসে,সে চাইলেই টিউশনি ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু ছেড়ে দিলে তাকে রাস্তায় বাসা বানাতে হবে এসব ভেবে কাঁদতেসে সে,আর টিউশনি না ছাড়লে সেই ছেলেগুলোর মুখোমুখি হতে হবে আবারও
শান্ত থ হয়ে আহানার কান্না দেখছে,কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না সে,পাবে কি করে,কি করে সান্ত্বনা দিবে সেটার কোনো কূল কিনারা সে খুঁজেই পাচ্ছে না
বাতাসে গাছের কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরে আহানার গায়ে, সামনে পড়তেসে একের পর এক
আজ আহানা হাত পাতে নি,তার খেয়ালই নেই তার প্রিয় ফুল ঝরে পড়ে যাচ্ছে
শান্ত কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাশের একটা নাম না জানা গাছের শেকড়ে বসেছে
আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে হাতপা গুটিয়ে কেঁদেই চলেছে,এই কান্নার থামাথামি নেই কোনো
শান্ত ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার আহানার দিকে তাকাচ্ছে,আবার ভাবতেসে কি কারন হতে পারে
সে আহানার খুব কাছে,আহানা টেরও পায়নি,কারন শান্ত একটুও নড়তেসে না,যেটা নড়তেসে সেটা হলো ওর চোখের পাতা,আহানাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরক করছে সে
আহানা মুখ তুলে লেকটার দিকে তাকিয়ে আছে,আর চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পড়তেসে তার
লেকটার ওপাশে ঘন গাছগাছালি,আহানা সেটাই দেখতেসে
.
শান্ত এবার দেখলো আহানার চোখের পানি গড়িয়ে ওর থুতনির উপরের ঘাড়ো কালো রঙের তিলটার উপর দিয়ে বেয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে,শান্ত সেটা দেখে নড়ে উঠলো,তারপর মুখ খুললো
.
আবার কানের দুল হারিয়েছে বুঝি?
.
আহানা চমকে পাশে তাকিয়ে দেখলো শান্ত ওর থেকে একটু দূরে গাছের শেকড়ে বসে চেয়ে আছে ওর দিকে
ব্যাপারটা বুঝতে পেরে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট টা ভিজিয়ে হাত দিয়ে মুখটা ভালো করে মুছে দাঁড়িয়ে পড়লো সে
.
আপনি এখানে?
.
আমার প্রশ্নের জবাব পেলাম না,তাহলে তোমার প্রশ্নের জবাব কেন দিব?
.
আহানা মুখটা নিচু করে ব্যাগ কাঁধে নিতে নিতে বললো কানের দুল তো কানেই আছে
পালাতে যেতেই শান্ত সামনে হাত দিয়ে ওর পথ আটকালো
আহানা শান্তর চোখে চোখ রাখতেই ওর আরও জোরে কান্না পাচ্ছে,দাঁত মুখ খিঁচে ওড়নাটা মুঠো করে চেপে ধরে কান্না থামানোর চেষ্টা করতেসে সে
.
কাঁদো,আমি দেখি
.
না কিছু হয়নি,হাত সরান,আমার টিউশনিতে দেরি হচ্ছে
.
কিছু না হলে কেউ চিৎকার করে কাঁদে না
.
আমার পার্সোনাল লাইফে ইনটারফেয়ার করার অধিকার আমি আপনাকে দিই নাই
.
আমাকে কেউ অধিকার দেয় না,আমার অধিকার আমি নিজে তৈরি করি,তুমি আমাকে না বললে আমি তোমাকে এখান থেকে যেতে দিব না


আহানা ঘাপটি মেরে রাস্তার মাঝখানে বসে আছে সেই কখন থেকে
শান্ত তার পিছনে গাছটার শেকড়ে বসে একের পর এক ইটের কণা লেকটাতে টুকুর টুকুর করে ফেলতেসে
.
আহানা বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরে শান্তর দিকে তাকালো
.
কি?আগে বলে দিলে আমি তো আর এভাবে বোরিং টাইম স্পেন্ড করতাম না তাই না?
.
আহানা ব্যাগ নিয়ে হাঁটা ধরলো
শান্ত উঠে জ্যাকেট টেনে ঠিক করে দৌড়ে আহানার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
.
কি সমস্যা আপনার?চিৎকার করে মানুষ ডাকবো?
.
ডাকো না,কে মানা করেছে?তোমার চিৎকারে আমি এসেছি আর কেউ আসবে না
.
আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে আবারও কাঁদা শুরু করে দিলো
.
কাঁদলে কাঁদুক আমার কিছু না,কিন্তু থুতনির উপরের তিলটার উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায় কেন,আর ব্যাপারটা আমি কেন সহ্য করতে পারতেসি না!
শান্ত হাত উঠিয়ে আহানার হাত ধরে বললো কি হয়েছে সেটা খুলে বলতে
.
আহানার কালকের কথা মনে পড়তেই গা কেঁপে উঠলো শান্তর টাচে,হাত জোরে টান দিয়ে ছাড়িয়ে নিলো সে,
পিছিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো।



আমি সত্যিটা জানতে চাই,আমি জানতে চাই তোমার এমন করে কান্নার কারণ কি?
.
কেন?জেনে কি করবেন?আপনার কি তাতে?একটা রাস্তার মেয়ে রাস্তায় কাঁদলে সেটায় আপনার কি যায় আসে?
.
শান্ত এগিয়ে এসে আহানার দুহাত ধরে টেনে বললো কি বললে?রাস্তার মেয়ে?নিজেকে রাস্তার মেয়ে বলতে লজ্জা করে না তোমার?
.
কেন লজ্জা করবে,সত্যি কথাই তো বললাম,আমি রাস্তার মেয়ে,যাদেরকে মানুষ সামনে ফেলেই ছিলে খেতে চায়
.
শান্তর চোখ মূহুর্তেই রক্তবর্ণ ধারন করলো,সে হাত ছেড়ে দিলো আহানার
.
আহানা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শান্তর দিকে তাকিয়ে
.
শান্ত একটা ঢোক গিলে চোখ নরমাল করে আবারও আহানার দিকে তাকালো
.
কেন কাঁদছিলে?আমি সত্যিটা জানতে চাই,টেল মি Damn ইট!!!
.
আপনি সত্যিটা জানতে চান তাই না?জানতে চান?ঠিক আছে
.
আহানা এগিয়ে এসে শান্তর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো,হাত দিয়ে কাঁধ থেকে জামা টেনে নিচে নামিয়ে ফেললো
.
হাতে আঁচড়ের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে আছে
.
দেখুন!এটা হলো সত্যি
.
শান্ত চুপচাপ আহানার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে,তার নিজের হাতটা মুঠো করে
আহানা জামা ঠিক করে আরেকদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পড়লো,ওড়না ঠিক করতে করতে চলে গেলো সেখান থেকে আর একটিবারও শান্তর দিকে তাকালো না সে
শান্তর চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে,নিজেকে ঠিক করে বাইকে উঠে বসলো,বাইকের আয়নায় তাকে দেখে সে নিজেই চিনতে পারলো না,চোখ মুখ দিয়ে আগুনের লাভা বের হচ্ছে মনে হচ্ছে,সে এখন কি করবে সে নিজেও জানে না
আহানা পিউকে পড়িয়ে আকাশদের বাসার দিকে আস্তে আস্তে যাচ্ছে,ভয় করছে খুব
যাওয়ার সময় ছেলেগুলোকে দেখলো না সে,আসার সময় তাদের আবারও দেখতেই আহানা থেমে গেলো,আজ কি করে বাঁচবে,বিকাল সাড়ে ৫টা বাজে মনে হয়,তেমন লোক ও নজরে পড়তেসে না,ছেলেগুলো দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে
আহানা নড়তেসে না,কি করবে সেটার হাজারও ভাবনা মাথায় ঘুরে যাচ্ছে তার
৫মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে ঢোক গিলে হাঁটার জন্য পা বাড়াতেই একটা রিকসা সামনে এসে পড়লো
.
আপা যাবেন নাকি?
.
রিকসায় একটা ৫বছরের বাচ্চা মেয়ে বসে আছে,সে বললো তার একা বাসায় যেতে ভয় করে,আহানা যেন তার সাথে উঠে,আহানাকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না
.
এই সুযোগ আল্লাহ দিয়েছে,আমাকে বাঁচানোর জন্য
আহানা আর সাত পাঁচ না ভেবে রিকসায় উঠে পড়লো মেয়েটার হাত চেপে ধরে আছে সে,রিকসাটা ছেলেগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়া ধরতেই ছেলেগুলো পথ আটকালো
.
আহানার কলিজা কাঁপতেসে,বড় বড় করে শ্বাস নিশ্বাস নিচ্ছে সে,ছেলেগুলো আহানার হাত ধরে ওকে টেনে নামাতে যেতেই রিকসার পিছনে কেউ একজনকে দেখে সবাই একসাথে রিকসার পিছনে তাকিয়ে রইলো তারপর হঠাৎই একটু পিছিয়ে গেলো
রিকসাআলা রিকসা ঘুরিয়ে রাস্তামত চলে যেতে থাকলো
আহানা বুঝতেসে না হঠাৎ ছেলেগুলো ওকে ছেড়ে দিলো কেন
আহানা আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে মেয়েটাকে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বসে আছে
মেয়েটা মেইন বাজারে আসতেই নেমে গেলো,তারপর আহানাকে টাটা দিয়ে একটা ৩তলা বাসার ভেতরে ঢুকে গেলো
আহানা নেমে যেতে নিতেই রিকসাআলা বললো মেয়েটা বাকি পুরো ভাড়া দিয়ে দিসে আহানা যেন তার বাসার ঠিকানা দেয় তাকে সেখানে নামিয়ে দিবে
আহানা অবাক হয়ে হ্যাঁ বলে দিলো
.
আজ তো বেঁচে গেলাম কিন্তু কাল!
বাসায় ফিরে জানালার ধারে বসে আছে আহানা,বৃষ্টি আসবে মনে হয়,বাতাসের গতি বেড়েই চলেছে,আবার মাঝে মাঝে কমে,আবারও বাড়ে,উঠানে রোদে দেওয়া ওড়নাটা উড়তেসে বারবার,ক্লিপ না লাগালে হয়ত উড়ে যেতো স্বাধীনভাবে
আহানা জানালায় মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো
আজ আর খায়নি সে কিছু,মন নেই,খিধা আছে
পরেরদিন ভোরবেলা সেই ছিঁড়া জামাটার দিকে চেয়ে আছে আহানা,এটা আজ পরতে হবে,গায়েরটা তো ধুয়ে দিয়েছি,কিন্তু ছিঁড়া জায়গাটা কি করবো,জামাটা পরে নিয়ে ওড়না ভালো করে পেঁচিয়ে জায়গাটা ঢেকে নিলো সে তারপর বের হলো বাসা থেকে,মিষ্টিদের বাসায় এসে লিফট থেকে বেরিয়েই দেখলো শান্ত ওর বাসার দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
.
আহানা একবার তাকিয়ে মিষ্টিদের বাসার ভেতর চলে গেলো,মিষ্টিকে পড়িয়ে বের হয়ে দেখলো শান্ত দরজার বাইরে এখনও হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,হাতে সিগারেট 
আহানা সিগারেটের দিকে তাকিয়ে দেখতেসে তারপর ওর নজর গেলো শান্তর হাতের দিকে,হাতে ব্যান্ডেজ করা,আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সেদিকে
শান্ত ব্যাপারটা খেয়াল করে হাত লুকিয়ে আরেকদিকে তাকিয়ে সিগারেট খাওয়ায় মন দিলো
আহানা কিছু না বুঝে হেঁটে চলে আসলো সেখান থেকে
ভার্সিটিতে এসে ক্যামপাসে বসে আছে সে,ভেবে যাচ্ছে আজ নিজেকে কি করে বাঁচাবে
.
কিরে?গরমের মধ্যে ওড়না এমন চাদরের মত করে পরেছিস কেন?খোল
.
না,আমার শীত করছে,বৃষ্টি হওয়ার পরেরদিন আমার শীত লাগে
.
এটা আবার কেমন কথা?
.
রুপার কথায় আহানা কোনো জবাব দিলো না
আহানা এখন শান্তর দিকে তাকিয়ে আছে আর শান্ত বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,আহানা শান্তর এমন চাহনি দেখে চোখটা নামিয়ে নিলো
.
কিরে শান্ত?তুই আবার মাইরপিট করেছিস?
.
না
.
তাহলে তোর হাতে ব্যান্ডেজ কেন?
.
হকি খেলেছি তাই হাতে লেগেছে
.
শান্ত ভাই সহজে হকি খেলে না,যখন খেলে তখন বিপক্ষ দলের হাঁড় আস্ত থাকে না,তা কার সাথে হকি খেলেছিস?
.
কলেজে পড়ুয়া কিছু নিব্বার সাথে
.
বেঁচে আছে তো?কোন হসপিটালে এখন?
.
এদের হসপিটালে ভর্তি করাইনি টাকা দিয়ে দিসি
.
তুই পারিস ও বটে,তা এমন রাগ ঝাড়লি কেন,কি এমন করেছে?
.
যা করেছে তা আমার সহ্য হয়নি তাই মেরেছি
.
তোর থেকে জীবনে ঠিকঠাক প্রশ্নের জবাব পাই না আমরা
.
শান্ত হাতের ব্যান্ডেজটা খুলে ফেলে দিলো,কাল রিকসাআলাকে সে পাঠিয়েছিল, আর বাচ্চা মেয়েটা হলো তমালের বোন,তমালকে ফোন করে ওর বোনকে এনে রিকসায় বসিয়ে আহানার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল,সব শিখিয়ে পড়িয়ে,কাল পুরোটা সময় শান্ত আহানাকে ফলো করেছে,ছেলেগুলো যখন আহানার রিকসা আটকেছিলো ঠিক তখনই শান্ত সিউর হয়ে গেছে এরাই তারা যারা আহানার গায়ে আঁচড় দিয়েছে তারপর তারা আহানাকে আবারও ডিস্টার্ব করতে যাবে তখনই রিকসার পিছনে শান্তকে দেখতে পেলো হাতে হকিস্টিক,শান্ত তখন জ্যাকেট খুলতেসিলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,ছেলেগুলো শান্তকে দেখে থেমে গেলো,কারন সে ইশারা করেছিল আহানাকে যেতে দিতে
আহানা চলে যেতেই শান্ত হকিস্টিক দিয়ে ৫জনের মধ্যে একজন একজন করে গলা টেনে টেনে জিজ্ঞেস করেছে আহানার হাত ধরতে গেছিলো কে,একজন সামনে এসে বললো আমি করেছি,তো?কি করবে?
শান্ত তার হাত ধরে ঘুরাতেই হাতটা বাঁকা হয়ে গেলো তার,সে নিচে বসে ছটফট করতে লাগলো যন্ত্রনায়,শান্ত জাস্ট হাতটা ঘুরিয়ে দিয়েছে যার কারনে হাতের হাঁড় নড়ে গেছে তার,বাকিরা দৌড়ে পালাতে যেতেই শান্ত ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,খুববববব ভালো করে বুঝিয়ে দিলো ৫জনকে যে আহানাকে কিভাবে সম্মান করতে হবে,আহানার সব দায়িত্ব তাদের উপর দিয়ে দিলো শান্ত,এটাও বললো আর কোনোদিন আহানার কোনো সমস্যা হলে এবার তো হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে পরেরবার মাথা ফাটিয়ে দিবে
.
শান্ত?ইফ আই এম নট রং তুই এসব আহানার জন্য করেছিস?
.
কাম অন নওশাদ!আমি ওর জন্য কেন করবো,আমি এলিনার জন্য করেছি
.
ওহ আচ্ছা
.
আহানা কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে
উপর থেকে ফুল এসে তার মুখে পড়তেসে,আহানা চোখ বন্ধ করে অনুভব করতে লাগলো এই অনুভূতি
হঠাৎ খেয়াল করলো আর ফুল পড়তেসে না,চোখ মেলতেই দেখলো শান্ত তার মুখের উপর হাত দিয়ে রেখেছে
.
আহানা চমকে শান্তর দিকে ফিরে তাকালো
.
ফুলগুলো কিউট তাই না?দেখো না সব তোমার আশেপাশেই পড়ে,আমি হাত দিলে আমার হাতে পড়ে না,তাই বুদ্ধি করে তোমার মুখের উপর হাত দিয়ে এই এতগুলো ফুল কালেক্ট করতে পারলাম
.
আহানা কিছু বললো না,সোজা হাঁটা ধরলো,তারপর থেমে পিছন ফিরে শান্তর হাতের দিকে তাকালো,শান্ত হাতটা পকেটে ঢুকিয়ে লেকের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ততক্ষণে
.
আহানা সেখানে আর থাকলো না বেশিক্ষণ,চলে আসলো সেখান থেকে
আজ আবারও আকাশদের বাসায় যাচ্ছে সে,ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে আছে,যাওয়ার পথেই দেখা হলো,বুক কেঁপে যাচ্ছে,কি করবো এখন আমি
ছেলেগুলো অসহায়ের মত আহানার দিকে তাকিয়ে আছে,একজনের হাতে ব্যান্ডেজ,আরেকজনের পায়ে,আরেকজনের ঘাড়ে
আহানা নিচের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো,ওমা কেউ কিছু বললো না,স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আহানা কেটে পরলো সেখান থেকে,আসার সময় আকাশদের বাসা থেকে বের হতেই দেখলো একটা রিকসা দাঁড়িয়ে আছে
.
৫টা ছেলের মধ্যে যে আহানার হাতে আঁচড় দিয়েছিলো সে দাঁত কেলিয়ে বললো আপু রিকসায় উঠেন,আপনাকে বাসায় পোঁছে দিবে
আহানা ভয় পেলো কারন এটা তাদের ষড়যন্ত্র ও হতে পারে
আহানা হেঁটে চলে যেতে লাগতেই ছেলেটা চোখ বড় করে আহানার সামনে এসে মাটিতে বসে পড়ে বললো আপু প্লিস রিকসায় উঠেন,আপনাকে সোজা বাসায় দিয়ে আসবে
.
নাহ,দরকার নেই
.
আপু প্লিস,আপনার পায়ে পড়ি আমি,আপু,আল্লাহর কসম আমি আর জীবনেও আপনার ক্ষতি করবো না আপু
আহানা চোখ তুলে পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেলো
ছেলেটা মাথার ঘাম মুছতে মুছতে আবারও আহানার সামনে গিয়ে বসে আহানার পা ধরতে যেতেই আহানা পিছিয়ে গেলো
.
প্লিস রিকসায় উঠুন প্লিস,আপনার কোনো ক্ষতি কেউ করবে না,আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি,আজ আপনি রিকসায় না উঠলে আমার মাথা ফেটে যাবে
.
মানে???
.
না কিছু না,আপনি প্লিস রিকসায় উঠুন,ভাড়া আমি দিয়ে দিছি
আহানা ছেলেটার জন্য রোড ক্রসই করতে পারছে না,শেষে বাধ্য হয়ে রিকসায় উঠলো
রিকসায় বসে ভাবতেসে ছেলেটা এমন কেন করতেসে,পথে আর কোনো বিপত্তি আসেনি,আহানা ঠিকমত বাসায় ফিরে আসলো,বুঝতেসে না এমনটা কেন হচ্ছে তার সাথে,ছেলেগুলো কোনো প্ল্যান করছে না তো আমাকে ফাঁসানোর??
নাহহহ এরকম ভাবে চলতে পারে না,রান্নাঘরে এসে এসব ভুলে গিয়ে হাসলো আহানা,কারন কাল সে বেতন পাবে,পিউ আর আকাশের মায়ের থেকে,কাল নতুন মাসের এক তারিখ,কি ভালো লাগতেসে,সেই টাকা তো তারেক রহমানকে দিয়ে দিতে হবে আবার,তাও ভালো,আমাকে তো আর বাসা থেকে বের করে দিতে পারবে না,এটাই অনেক
ওমা কাঁচা মরিচ শেষ,শুধু ভাত আর নুন আছে
মরিচের গুড়া এক চামচ ভাতে ছিঁটিয়ে খেতে বসলো সে
চাল ও তো কমে এসেছে,চাল কিনবো কি করে,হাতে এক পয়সাও নেই,যা কাল পাব পুরোটায় তারেক আঙ্কেলকে দিয়ে দিতে হবে,কানের দুল এগুলা বিক্রি করে ২০টাকা দিয়ে আবারও ২কেজি চাল পাবো,কিন্তু কথা হলো ঐ ছেলেটার জন্য আমি বিক্রি করতে পারবো না,১০০টা প্রশ্ন করে আর শেষে কোথা থেকে আমার দুলটা এনে হাজির করে ফেলে উফ!!
ভোরে উঠে রেডি হয়ে বের হলো আহানা,কাল ঐ ছেলেটার কথা মনে পড়ে হাসতে হাসতে যাচ্ছে সে,মনে হয় জ্বীন ধরছে ছেলেটাকে তাই আর মেয়েদের ডিস্টার্ব করার জায়গায় পা ধরতে আসে
আহানা হাসতে হাসতে মিষ্টিদের বিল্ডিং এর ভিতরে গেলো
শান্ত বারান্দায় দাঁড়িয়ে আহানার হাসি স্পষ্ট দেখতে পেয়ে সেও হাসলো,দূর থেকে আহানার আসা দেখা যায়,ছেলেগুলোকে একদিন চা খাওয়াবো,আমার কাজ করে দিচ্ছে ভালো মতন
.
আহানা মিষ্টিকে পড়িয়ে বের হয়ে শান্তর বাসার দরজার দিকে তাকালো,শান্ত দরজা আটকিয়ে ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে
আহানা দরজার এপাশে আর ওপাশে শান্ত,দুজন দুজনকে দেখছে না,কিন্তু দুজনের মনের ভেতর একই অনুভূতি
.
আহানা চলে গেলো ওখান থেকে,শান্ত গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো,আগে সকাল ১০/১১টা ছাড়া তার ঘুম ভাঙ্গতো না আর এখন কিনা ভোর ৬টায় সে উঠে যায়,unbelievable!!
.
হ্যাঁ জানি unbelievable! তুমি মজা নিতেসো মা?নওশাদ,রিয়াজ আর সূর্য ও মজা নেয় আর তুমি বাকি ছিলে!!হুহহ
শুনো আমি কিন্তু এবার বাবাকে দেখতে যাবো,আর তোমাকেও,তোমার কবরে আমি রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে আসবো,তোমার তো প্রিয় ফুল সেটা তাই না?
মায়ের ছবিতে হাত বুলাতে বুলাতে কথা বলে যাচ্ছে সে
.
আর কি লাগবে বলো?গোলাপি চুড়ি আনবো?পরবে?তোমার তো খুব প্রিয় ছিল
বিবাহ বার্ষিকির দিন বাবা যখন অফিস থেকে আসতো  তখন তোমার জন্য গোলাপি চুড়ি নিয়ে আসতো,তোমার নাকি সবচেয়ে প্রিয় ছিল সেই রঙ সেই মুগ্ধতা 
তোমার জন্য এবার তোমার ছেলে নিয়ে আসবে এসব
মুখটা ফ্যাকাসে করে শান্ত কেঁদে দিলো,কাঁদতে কাঁদতে বললো মা আমাকে ক্ষমা করে দিও,আমি বাবাকে ভালো রাখতে পারলাম না,বাবাকে তার নতুন স্ত্রী একটুও ভালোবাসে না,আমি পারলাম না তার পাশে থেকে তার ডেইলি ডিপ্রেশন দূর করতে,তারা আমাকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছে মা,তুমি তো বুঝবা ব্যাপারটা তাই না?
আমার সাথে যেমন কথা বলো বাবার সাথেও কি বলো?রাগ করে থেকো না মা
বাবার সাথেও কথা বলিও,বাবার কোনো দোষ নেই,বাবা আজও আমাকে আর তোমাকে ভালোবাসে,পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে আবারও বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি
আমি চাকরি পেয়ে সবার আগে তোমার জন্য গোলাপি চুড়ি আর রজনীগন্ধা কিনে নিয়ে যাব আর বাবার জন্য ক্রিম কালারের পাঞ্জাবি,ভালো হবে না?হুম হবে,তুমি বেঁচে থাকতে তোমাকে আমি খুশি উপহার দিতে পারিনি যখন এখন দিতে কি সমস্যা,আর এটাও জানি আল্লাহর কাছে থেকে তুমি কিভাবে সুখী হবে,তোমার কবরের পাশের আশ্রমের যত অনাথ শিশু আছে আমি সবাইকে পেট পুরে খাবার খাওয়াবো ইনশাল্লাহ,এতে করে দোয়া করবে তারা তোমার জন্য।






চলবে...






Writer:- Afnan Lara
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner