এমন সময় রোদমিলা ওর কাধে হাত রাখলো,,
শিশীর পিছনে তাকিয়ে ওকে দেখে অনেক খুশি হলো,, কিন্তু রোদমিলা বললো তোমাকে বলেছিলাম একটু সাবধানে থেকো,, মিষ্টি গুলো কেনো ফেলে রেখে গিয়েছিলে?
ও বললো আমি সত্যি ভুলে ফেলে রেখেগিয়েছিলাম,,
রোদমিলা বললো,, তোমার জ্বর আসার কারন টাই হলো, সেই মিষ্টি গুলো মানুষ দেখেছে,, এর জন্য,,,
তোমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতো,, যদি আমি না থাকতাম,, তাহলে,,
শিশীর কথার মানে কিছুই বুঝতেছে না,,,
বললো আমি অসুস্থ হওয়ার পেছনে এই মিষ্টি গুলোর কি কারন হতে পারে?
রোদমিলা বললো সময় হলে সবকিছু জানতে পারবা,,
রোদমিলার মন খারাপ দেখে শিশীর বললো,, কি হয়েছে তোমার?
রোদমিলা বললো,, তুমি আর এখানে এসো না,, যদি আমার জন্য তোমার সংগে কোনো খারাপ কিছু হয়,, তাহলে নিজেকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারবো না,,
শিশীর ওকে বুঝানোর চেষ্টা করলো,, আর বললো আজকে তোমার জন্য একটা উপহার এনেছি,,
রোদমিলা হাসি দিলো,, তারপর বললো কি এনেছো?
শিশীর পকেট থেকে একটা পায়েল বের করে বললো,, এটা তোমার জন্য,,
রোদমিলা পায়েলটা খুব পছন্দ করলো,, তারপর ওকে বললো পায়ে পরিয়ে দেওয়ার জন্য,,
শিশীর হাটুগেরে বসে,, ওর হাটুর উপরে রোদমিলার পা টা তুললো,,
এত সুন্দর রমনীর পা,,, সেই পায়ে ও পায়েল টা পরিয়ে দিলো,,
তারপর আলতো করে পায়ে একটা চুমু দিলো শিশীর,,
রোদমিলা ওকে টেনে তুলে জরিয়ে ধরলো,,
দুজন দুজনকে অনেকক্ষন জরিয়ে ধরে রাখলো,,
রোদমিলা হঠাৎ মনে মনে ভাবলো,, এ হয়না,, শিশীর মানুষ আর আমি জলপরী,,
তারপর নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো,,
শিশীর বললো,, আমি তোমাকে ভালোবাসি,, রোদমিলা,,
রোদমিলা বললো,, এ হয়না শিশীর,, তুমি শহরের ছেলে আর আমি গায়ের মেয়ে,, আমাকে তোমার পরিবার কোনদিন ও মেনে নিবে না,,
শিশীর বললো,, ধুর, কি যে বলো,, কেন মেনে নিবে না,, তোমার মাঝে কিসের কমতি আছে,,?
রোদমিলা বললো,, সময় হলে সব জানতে পারবা,, এখন এসব কথা বাদ দাও,,
রোদমিলা বললো,, তুমি কি আজকে বাঁশি বাজাবে না?
শিশীর বললো,, অবশ্যই,, তারপর বাঁশি বাজানো শুরু করলো,,
রোদমিলা বাশির সুর শুনে নাচতে লাগলো,, শিশীর ওর নাচ দেখে মুগ্ধ হতে লাগলো,, একটা গায়ের মেয়ে এতো সুন্দরী আর এতো ভালো নাচে কিভাবে,, এসব ভাবতে লাগলো,,
যতই রোদমিলাকে দেখতে থাকলো,, ততই মুগ্ধ হতে লাগলো,,
রোদমিলা একটু পর বললো,, আমি দিঘীর পানিতে গোসল করবো,,
শিশীর বললো,, কি দরকার প্রতিদিন রাতে দিঘীর পানিতে গোসল করার,,
রোদমিলা বললো,, এই দিঘীতে আমাদের অনেক বছরের সম্পর্ক,, কিছু হবে না,,
এই বলে পানিতে ঝাপ দিলো,,
তারপর ভেসে উঠলো পানিতে,,
দিঘীর পানিতে জোসনার আলোর রোদমিলাকে অপরুপা সুন্দরী লাগতেছে,,
ডুব দিয়ে ঝিনুক,, কুরিয়ে শিশীরের হাতে দিলো,,
শিশীর ওর পাগলামি দেখে হাসতে লাগলো,,
এভাবে অনেকক্ষন পানিতে সাতরানোর পর রোদমিলা উঠলো,,
ভেজা শরীর নিয়ে,, চুলের পানি ছিটিয়ে দিলো শিশীরের গায়ে,, তারপর বললো,,, আর কোন সমস্যা হবে না,,, তুমি পুরোপুরি সুস্হ হয়ে যাবে,,
শিশীর জিজ্ঞেস করলো,, আজকে তোমার বান্ধবীরা আসলো না কেনো?
রোদমিলা বললো ওরা ভয় পেয়েছে,, তুমি মিষ্টি গুলো ফেলে গেছো,, তাই
আর ওরা তোমার প্রতি রাগ করেছে,,
আমিও একটু রাগ করছিলাম,, কিন্তু তোমার দর্শনে সব রাগ মুছে গেছে,,,
আচ্ছা শিশীর যদি এমন হয়,, এখানে এই দিঘীর পানির নিচে একটা রাজ নগরী হয়,,,
আর সেই রাজ্যের রাজকুমারী তোমার প্রেমে পড়ে,,
তখন তুমি কি করবা?
শিশীর বললো,, এসব শুধু রুপকথাতেই হয়,,, বাস্তবে এমন হয় না,,
রোদমিলা হাসি দিয়ে বললো,, কে বললো হয় না,,
আমি তো সেই রুপকথার রাজকুমারী,,
শিশীর বললো,, তাহলে সেই রুপকথার রাজকুমারীর প্রেমে আমি প্রতিনিয়ত পরতে চাই,,
রোদমিলা বললো,, সত্যি তো,, পরে আবার ভয় পাবা না তো?
শিশীর বললো,,ভয় পাবো কেনো?
এমন রাজ্যটাও দেখার আমার খুব ইচ্ছে,,
রোদমিলা হাসি দিয়ে বললো,, ঠিক আছে,, তুমি কালকে কিছু পান আর সুপারি নিয়ে আসবা,,
শিশীর বললো,, তুমি পান খাও?
ও বললো,, আরে পাগল,, বলছি নিয়ে আসবা,,, আসবা বাসসস,,
শিশীর বললো,, জ্বি,, ঠিক আছে,,
কালকে কিন্তু তোমার বান্ধবীদের সংগে নিয়ে এসো,,
রোদমিলা বললো,, ঠিক আছে,,
ফজরের সময় হয়েছে,,, রোদমিলা বললো এখন যেতে হবে,,
শিশীর ওকে বিদায় দিলো,,,
রোদমিলা হাটতেছে,,, আজ শিশীর মনে মনে ভাবলো একটু ওর পিছু নেওয়া যাক,, ওর বাড়িটা চিনে রাখি,,
রোদমিলা হাটতেছে,, পিছু পিছু শিশীর হাটতেছে,,,
রোদমিলা অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে,,
শিশীর ওকে খুজে বের করার জন্য একটু জোরে হাটা শুরু করলো,, এমন সময় এক লোক শিশীর কে থামিয়ে বললো,,, কি মিয়া ওই জঙলের দিকে এতো রাইতে কই যাও,,,
শিশীর লোকটার কথা শুনে থেমে গেলো,,
বললো,, এমনেই রাতে একা একা বেরিয়েছি একটু ঘুরতে,,
লোকটা বললো,, এই জায়গা ভালো না,, যাও বাড়িতে ফিরা যাও,,
শিশীর বললো,,আচ্ছা,,,
তারপর পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখলো লোকটি নেই,,
শিশীরের শরীরের পশম দাড়িয়ে গেলো,,
লোকটি হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেলো,,,
আর রোদমিলাই বা এই জঙলের কোথায় গেলো,,,
চলবে...
Writer:- Unknown