> এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩১ - Romantic Love Story - Boipoka365
-->

এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩১ - Romantic Love Story - Boipoka365


Romantic Love Story


তপ্ত দুপুরের ঝাঁ ঝাঁ করা রোদে সবকিছু ঝলসে যেতে চাইছে।এসি গাড়ির ভেতরে বসে সেই তাপ অবশ্য অনুভব করা সম্ভব নয়।তবুও তুলি তা অনুভব করতে পারছে।এই তাপটা তো বাইরের নয়,অন্তরের ভেতরের।তার অন্তর ঝলসে আছে।তপ্ত নিঃশ্বাস ভূতের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে গোটা পরিবারটাকে।

গাড়ির উইন্ড শিল্ডে রোদ পরে চকচক করছে।রাস্তায় বিশ্রী ট্রাফিক।গাড়ি এগোচ্ছে না।তুলি আশেপাশে তাকিয়ে গাড়ি,রিকশা,সিএনজি ছাড়া কিছুই দেখতে পেলো না।সে সামনে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"ড্রাইভার চাচা,মেজপার বাসা এখান থেকে আর কতক্ষণে যাওয়া যেতে পারে?"

ড্রাইভার ঘাড় ফিরিয়ে উত্তর দিলো,

"জ্যাম ছাড়লে দশ মিনিটে যাওয়া যাবে।"

তুলি মনে মনে হিসাব কষে নিলো।গাড়ি নিয়ে যেতে যদি দশ মিনিট সময় লাগে,তাহলে হেঁটে গেলে আধ ঘন্টায় কি যাওয়া সম্ভব?যদি হয়,তবে হেঁটে যাওয়াই ভালো।এই জ্যাম কত ঘন্টায় ছাড়বে তার কোনো ঠিক নেই।তুলি বলল,

"ড্রাইভার চাচা,এসি বন্ধ করে দিন।"

ড্রাইভার বলল, 

"এসি বন্ধ করলে তিষ্টাতে পারবা না,ছোট আম্মা।বহুত গরম।"

"হোক বহুত গরম।তবুও বন্ধ করুন।"

ড্রাইভার বিরস মুখে এসি বন্ধ করলো।বড়লোকের কন্যাদের কখন কি মর্জি হয় বোঝা মুশকিল।

তুলি গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দিলো।কিছুটা সামনে দাঁড়ানো একটা সিএনজি ক্রমাগত হর্ণ বাজিয়ে চলেছে।কি বিরক্তিকর!এই জ্যামে বসে হর্ণ বাজালে কি সামনে এগোনো যাবে?ক্রমাগত হর্ণের বিতিকিচ্ছিরি শব্দে বিরক্ত হয়ে তুলি শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমেই পরলো।ছোট্ট ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে সে হাঁটতে শুরু করলো।ড্রাইভার তাড়াতাড়ি কাঁচ নামিয়ে মাথা বের করে বলল, 

"ছোট আম্মা,কই যাও?"

তুলি একটু থেমে জবাব দিলো,

"আমি হেঁটে যাবো।জ্যাম ছাড়লে আপনি মেজপার বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন।"

"অনেক রোদ,ছোট আম্মা।সাথে ছাতা নিয়া যাও।"

তুলি ভ্রু কুঁচকে বলল, 

"ছাতা নিয়া যাও মানে কি?আপনার কাছে কি ছাতা আছে?"

"না,আম্মা।নাই।"

"তাহলে ছাতা নিয়ে যাও কথাটা বললেন কেন?"

"ভুল করে বলেছি।ছাতা যে নাই সেটা স্মরণ ছিল না।"

তুলি আর কথা বাড়ালো না।এই মধ্যবয়স্ক ড্রাইভারকে এক মাস আগে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তাকে তুলির মোটেই পছন্দ নয়।কেননা অতিরিক্ত এবং অর্থহীন কথাবার্তা বলা তার স্বভাব।কখন যে কথা বলা একটু বন্ধ রাখতে হবে,তাও সে বোঝে না।এদিক থেকে পুরানো ড্রাইভার চাচা অনেক ভালো।

.

উত্তপ্ত ফুটপাত ধরে টানা চল্লিশ মিনিট হাঁটার পর তুলি যখন তুরার উত্তরার বাসায় পৌঁছালো,তখন সে ঘামে ভিজে ধুলাবালিতে মাখামাখি হয়ে একাকার।বাসায় ঢুকতেই দারোয়ান এগিয়ে এলো।বলল, 

"আপামনি,আপনে আবরার সাহেবের শালিকা না?"

তুলি ওড়না দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে উত্তর দিলো,

"হ্যাঁ।"

দারোয়ান পকেট থেকে চাবি বের করে বলল, 

"এই লন চাবি।"

তুলি অবাক হয়ে বলল, 

"ওদের ফ্ল্যাটের চাবি আপনার কাছে কেন?দুলাভাই তো বলেছিল যে ফ্ল্যাটে তালা দেওয়াই হয় নি।"

দারোয়ান বলল,

"আপা গো,কাল তো ভাইজান তাড়াতাড়ি কইরা ভাবিরে লইয়া হাসপাতালে গেল।তালা ক্যামনে দিবো?টাকা পয়সা সাথে নেওয়ারও হুঁশ ছিল না।কিন্তু দরজা কি আর খুইলা রাখা যায়?আমার একটা দায়িত্ব আছে না?তাই আমিই দরজায় তালা দিয়া দিছি।আর চাবি নিজের কাছে রাখছি।"

তুলি অবাক হয়ে গেল।এত দায়িত্ববান দারোয়ান এর আগে সম্ভবত সে দেখে নি।সে হাত বাড়িয়ে চাবি নিলো।দারোয়ান বলল, 

"আপা,বাড়ির সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা একবার দেইখা নিয়েন।"

কথাটা বলেই দারোয়ান তার নিজের জায়গায় ফিরে গেল।তুলি চাবি হাতে নিয়ে লিফটের দিকে অগ্রসর হলো।

____________________________

তালা খুলে ভেতরে ঢুকলো তুলি।ড্রয়িং রুমে গিয়ে ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখেই রান্নাঘরের দিকে গেল।রান্নাঘরে ঢুকেই সে থমকে গেল।কিছু সবজি কেটেকুটে রাখা হয়েছে।সম্ভবত তুরা সেদিন রাতের রান্নার জন্য রেখেছিল এসব।তুলি সেগুলো ফ্রিজে তুলে রাখলো।তারপর ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলো।ঠান্ডা পানি দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ ধরে হাতমুখ ধুয়ে নিলো সে।তারপর ড্রয়িং রুমে এসে ফ্যান চালু করে দিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসে পরলো।সে মূলত এখানে এসেছে বাড়িটা একটু গোছগাছ করে রাখবে বলে।কারণ আজ বিকালে তুরাকে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করা হবে।মায়ের কড়া হুকুম আছে,যতগুলো জিনিস তুরা তার বাচ্চার জন্য কিনেছিল সে সবকিছু এখান থেকে সরাতে হবে।সেগুলো নিয়ে যাওয়া হবে ধানমন্ডিতে।মা বলেছে এগুলো স্টোর রুমে রাখবে।কিন্তু তুলি ঠিক করেছে এগুলো স্টোর রুমে রাখতে দেবে না কিছুতেই।জিনিসগুলো সে খুব যত্ন করে রাখবে।তার মেজ আপার কোল জুড়ে যখন কেউ আসবে,তখন আবার সেগুলো এই বাসায় আনবে সে।

তুলি উঠে আবরার তুরার শোবার ঘরের দিকে গেল।ঘরে ঢুকতেই তার শিরায় বয়ে যাওয়া রক্ত শীতল হয়ে এলো।দোলনাটা কাত হয়ে পরে আছে।মেঝেতে চাপ চাপ রক্ত জমাট বেঁধে আছে।বিছানার চাদরটাও রক্তে রঞ্জিত।গোটা ঘরটা গুমোট হয়ে আছে  নষ্ট রক্তের গন্ধে।তুলির চোখ জলে ভরে উঠলো।সে নিজেকে সামলে নিয়ে কাজে লেগে পরলো।প্রথমেই রক্তমাখা চাদরটা তুলে সেটা ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দিলো।তারপর বালতি ভর্তি পানি নিয়ে মেঝে মুছতে শুরু করলো।রক্তের দাগ মেঝে থেকে উঠতে চাইছে না।তুলির মনে হলো এই রক্ত তার মেজ আপার সন্তানের অস্তিত্ব।সে যেন ক্রমাগত বলে চলেছে, ‘আমাকে মুছে ফেলো না।আমায় থাকতে দাও।’

তুলির হাত পা কাঁপছে।সে মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে বসে পরলো।

.


সূর্য হেলে পরেছে।তুরাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি আনা হয়েছে।রত্না বেগম তুরাকে বিছানায় বসিয়ে দিলেন।তুরা কারোর সাথে কোনো কথা বলছে না।কিছুক্ষণ পর পর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে।কাউকে কিছু বোঝাতে পারছে না সে।নিজেই মেনে নিতে পারছে না যে তার কাজল আর নেই।বিশ্বাস করতে পারছে না।তার হৃদয়ে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছে।এই কষ্ট সে কাকে বোঝাবে?সে ছাড়া কে বুঝবে এই যন্ত্রণা?

তুরার নিজেকে কেমন অপ্রকৃতিস্থ লাগছে।মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।স্বাভাবিক জিনিসগুলোও সে মনে করতে পারছে না।

রত্না বেগম অতিকষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছেন।মেয়েটার দিকে উনি তাকাতে পারছেন না।একদিনে যেন ওর চেহারাই বদলে গেছে।সারাক্ষণ চোখে পানি।

উনি তুরার পাশে বসে বললেন,

"কিছু খাবি,মা?আমি বানিয়ে দেবো?"

তুরা উত্তর দিলো না।কারোর সাথে কথাবার্তা বলতে তার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা করছে না।

রায়না ঘরে ঢুকলো।তুরার কাছে গিয়ে বলল, 

"তুরা,আমি চা বানাচ্ছি।তোকে এনে দিই?"

তুরা এবারও উত্তর দিলো না।কিছুক্ষণ উত্তরের অপেক্ষা করে রায়না আবার বলল, 

"আনবো,তুরা?আনি?তুই,আমি আর মাওয়াই মা মিলে চা খেতে খেতে গল্প করি?"

রত্না বেগম তুরার চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, 

"হ্যাঁ,রায়না।তুমি নিয়ে এসো।"

তুরা এবার মুখ খুললো।শীতল গলায় বলল, 

"চা লাগবে না,আপু।"

রায়না থমকে গেল।রত্না বেগম একবার রায়নার দিকে তাকালেন।তারপর তুরার হাতে চুমু খেয়ে বললেন, 

"আচ্ছা,ঠিক আছে।আমরা তাহলে এমনিই গল্প করি।মা রে,তুই কি একটু শুবি?"

তুরা মৃদু গলায় বলল, 

"হ্যাঁ।তোমরা এখান থেকে যাও।"

রত্না বেগম আর রায়না একজন আরেকজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন।তুরাকে একা রেখে যেতে কারোর মনই সায় দিচ্ছে না।

তুরা শক্ত গলায় বলল, 

"কি হলো?বললাম তো তোমরা যাও।আমাকে একা থাকতে দাও।"

রত্না বেগম কিছু বলতে চাইলেন।কিন্তু তুরা উনাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 

"মা,আমাকে এত কথা বলিও না।বিরক্ত লাগছে আমার।প্লিজ যাও।"

রত্না বেগমের চোখ ভিজে উঠলো।উনি ধীরে ধীরে ঘরের বাইরে চলে গেলেন।রায়নাও বেরিয়ে গেল।তুরা বিছানা ছেড়ে নেমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।তারপর বিছানায় আছড়ে পরে কাঁদতে শুরু করলো।তুরা চিৎকার করে কাঁদছে।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তুরার কান্না শুনে রত্না বেগম চোখের জল থামাতে পারলেন না।উনার চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি পরতে শুরু করেছে।রায়নার চোখও ভিজে উঠেছে।তুরা দরজা বন্ধ করেছে যাতে তার কান্নার শব্দ কেউ শুনতে না পায়।কিন্তু লাভ হচ্ছে না।তার কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।বেশ ভালোভাবেই শোনা যাচ্ছে।কারণ সে হাহাকার করে কাঁদছে।

.

আবরার ড্রয়িং রুমে বসে আছে।তুরার কান্নার আওয়াজ তার কানেও পৌঁছেছে।তার সামনে বসে আছে তনয়।সে তনয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, 

"দুলাভাই,তুরার কপালটা খুব খারাপ।আমার মতো অভাগার সাথে ওর জীবনটা না জড়ালে হয়তো এত কষ্ট ওকে পেতে হতো না।"

তনয় বলল, 

"ওর নিজেকে সামলে উঠতে অনেকটা সময় লাগবে।তোমাকেই ওর পাশে থাকতে হবে।তাই আগে নিজেকে সামলাও।"

আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 

"আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি।আমার কষ্ট পাওয়ার অভ্যাস আছে।এ তো নতুন নয়।সেই ছোটবেলা থেকে সবসময়ই আমার জীবনের সুখগুলো হারিয়ে যায়।"

তনয় মৃদু হেসে বলল, 

"তোমার জীবনের সব সুখ তো হারিয়ে যায় নি।"

আবরার বুঝতে পারলো না।প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো।তনয় বলল, 

"তুরা তো এখনও আছে তোমার জীবনে।"

আবরারের যেন হুঁশ হলো।সত্যিই তো তাই।তুরা তো আছে।এই সুখটুকুকে যত্ন করে রাখাই এখন তার সবচেয়ে বড় কাজ।

___________________________

রাত দশটা।রত্না বেগম আজ তুরার কাছেই রয়ে গেছেন।রায়নাও বাড়ি ফেরে নি।সে টুকুনকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে।রত্না বেগম একটা থালায় খাবার বেড়ে আবরারের হাতে দিলেন।বললেন, 

"নাও,বাবা।তুরার খাবার।"

.

আবরার থালা হাতে নিয়ে ঘরে গিয়ে ঢুকলো।তুরা ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছে।আবরার আলো জ্বালিয়ে দিলো।খাবারটা টেবিলের উপর রেখে সে তুরাকে ডাকলো,

"তুরা,খাবে না?"

তুরা উত্তর দিলো না।নড়াচড়াও করলো না।আবরার এবার মুখে হাসি টানার চেষ্টা করে বলল, 

"তুরা,ওঠো।দেখো,মা আজ চিংড়ি মাছ রান্না করেছেন।"

কথাটা বলে ফেলেই নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নির্বোধ মনে হলো তার।সদ্য সন্তান হারা একজন মাকে কিনা সে চিংড়ি মাছের লোভ দেখিয়ে খাওয়াতে চাইছে!

তুরা কোনো উচ্চবাচ্য করলো না।আবরার এবার তুরার কাঁধে হাত রাখলো।মৃদু স্বরে বলল,

"তুরা,শুনতে পাচ্ছো?"

তুরা এবার উঠে বসলো।এক ঝটকায় আবরারের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, 

"খবরদার!আমার গায়ে হাতে দেবে না।আমার বিরক্ত লাগছে।"

আবরার থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেল।কিছুক্ষণ বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলল, 

"আচ্ছা,ঠিক আছে।আমি তোমাকে বিরক্ত করছি না।আসলে তুমি সকাল থেকে না খেয়ে......"

আবরার কথা শেষ করতে পারলো না।তার আগেই তুরা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"দেখছো যে আমি উত্তর দিচ্ছি না,তাও তুমি ডেকেই যাচ্ছো ডেকেই যাচ্ছো।সমস্যাটা কি তোমার?বুঝতে পারছো না আমার ভালো লাগছে না?"

আবরার স্তব্ধ হয়ে গেল।এতদিনে এই প্রথম বার তুরা তার সাথে এভাবে কথা বলেছে।সে এক মুহূর্ত হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।তারপর তুরার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল, 

"তুরা,তুমি..."

তুরা পিছনে সরে গিয়ে বলল, 

"না,একদম আমার কাছে আসবে না।একদম না।সরো বলছি এখান থেকে।"

আবরার প্রচন্ড ব্যথিত হলো।সে স্ত্রীর কাছ থেকে সরে এলো।মৃদু গলায় বলল, 

"আচ্ছা,আমি আর তোমাকে বিরক্ত করছি না।"

আবরার বারান্দায় চলে গেল।বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকালো।মনটা বিক্ষিপ্ত লাগছে।একটা সিগারেট ধরাতে পারলে ভালো হতো।সিগারেট যে কোথায় আছে কে জানে?আবরার ঘরের ভেতরে এলো।ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার নিয়ে আবার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো।সিগারেট ধরিয়ে বিমর্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।সে সিগারেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিল।কাজলের জন্য।এখন আর সেই কারণ নেই।

হঠাৎ কাঁধে তুরার কোমল হাতের স্পর্শ পেয়ে আবরার ঘুরে তাকালো।তাড়াহুড়ো করে সিগারেট ফেলে দিয়ে হাত দিয়ে ধোঁয়া সরাতে ব্যস্ত হয়ে পরলো সে।তুরা আবরারের বুকের কাছে সরে গিয়ে বলল, 

"সরি।তুমি আমার কথা ধরো না।আমার মাথার ঠিক নেই।"

বারান্দার টিমটিমে আলোয় তুরার চোখের জল স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।আবরার স্ত্রীর চোখ মুছে দিলো।তুরার হাত নিজের হাতে নিয়ে চুমু খেয়ে বলল, 

"আমি কিচ্ছু মনে করি নি।"

তুরা ডুকরে উঠে বলল, 

"এত ভালো কেন তুমি?"

আবরার মৃদু হেসে বলল, 

"তুমি এত ভালো তাই।"

তুরা চোখ তুলে তাকিয়ে বলল, 

"আর কত আড়ালে আবডালে কাঁদবে তুমি?চলো না,আজ আমরা দুজন একসাথে কাঁদি।"

আবরার চট করে তুরাকে বুকে জড়িয়ে নিলো।তুরা কেঁদে উঠেছে।তার নিজের চোখেও পানি এসে গেছে।দুজনের একই ব্যাথা,হৃদয়ে একই হাহাকার।দুজনের জীবনেরই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আজ হারিয়ে গেছে।চোখের জলে সেই দুঃখ ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করছে দুজনেই।

.



চলবে.......





Writer: Alo Rahman

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner