> চা - Inspiration - Boipoka365
-->

চা - Inspiration - Boipoka365


Inspiration

"কি বলেছে আংকেল আন্টি? যেসব ছবি পাঠিয়েছিলাম সেগুলো দেখিয়েছো তো?" চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলো ইনায়া। 

   গতকাল সকাল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে, দুপুর থেকে সাজগোজ করে, বিকেলের সবচেয়ে সুন্দর আলোয় ছাদে গিয়ে ছবিগুলো তুলেছে সে। ছবিগুলো দেখার পর অবশ্য ইনায়ার সারাদিনের এত পাপড় বেলা উসুল হয়েছে মনে হয়েছে। কালকের ছবিগুলো আর্গুয়েবলি ওর আজ পর্যন্ত তোলা সবচেয়ে সেরা ছবি। এত পরিশ্রম জারাফের বাবা-মাকে ইমপ্রেস করার জন্য। 

   জারাফ ওপাশে নিরব থাকলো থাকলো কিছুক্ষণ। ইনায়ার উৎসুকভাবটা কমে এলো, কেন যেন মনে হচ্ছে এ মৌনতা সম্মতির লক্ষণ নয়। 

"জারাফ? কিছু বলো?" 

"ছবিগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। তোমাকে একদম টার্কিশ নায়িকাগুলোর মতো লাগছে।" 

"এটা আন্টি বলেছে? নাকি আংকেল?" খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলো ইনায়া। 

  আবার নিরবতা। একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ। 

"তুমি মন খারাপ করো না ইনায়া। আমিতো তোমাকে ভালোবাসি। আব্বু আম্মুরও একদিন ঠিকই তোমাকে পছন্দ হবে।" 

    ইনায়ার মন খারাপ হয়ে গেলো। হাতের চা টা আর খেতে ইচ্ছে হলো না। তবু গলায় হাসি মিশিয়ে বললো, 

"অফকোর্স না। আমরা অন্য কোনোভাবে চেষ্টা করবো।" 

এবার যেন মুখে খই ফুটতে শুরু করলো জারাফের।

"ঠিক বলেছো। নেক্সট মুভ আমি প্ল্যান করেছি। আমার ফ্রেন্ড সৈকত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার, ওর সাথে কথা বলেছি। তুমি কাল বিকালে আসবে, বাকিটা ওর দায়িত্ব।" 

   প্ল্যান আছে শুনে ইনায়া ভেবেছিলো এবার বুঝি জারাফ সরাসরিই ওর মা বা বাবার সাথে দেখা করাবে। কথা বলে ইমপ্রেস করাটা ইনায়ার কাছে কঠিন কিছু না।

"কাল তো ইতুর জন্মদিন। বিকালে কত কিছু করবো প্ল্যান করে রেখেছি।" 

ইতু ইনায়ার একমাত্র ছোট ভাই, ক্লাস সেভেনে পড়ে।

   "ইনুসোনা, ইতুর বার্থডেটা নাহয় সন্ধ্যার পর সেলেব্রেট করো, কিন্তু বিকালে প্লিজ আসো। আমি আর দেরি করতে চাইনা।" 

   জারাফকে এভাবে উতলা হতে দেখে ইনায়া কিছু বলতে গিয়েও বললো না। সকাল থেকে সব রেডি করে রাখলে বিকালে ছবি তুলে বাসায় ফিরেও অ্যারেঞ্জ করতে পারবে। এসব ইনায়ার বা হাতের খেল। তাই জারাফের কথায় রাজি হলো। 

   ফোন রেখে রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে যাওয়া পুডিংটার দিকে আস্তে আস্তে হাত বাড়াচ্ছে ইতু। 

"অ্যাই দস্যি ছেলে, অ্যাই! খবরদার ধরবি না বলে দিচ্ছি।" চেচিয়ে উঠলো ইনায়া। 

   সন্ধ্যার পর আপু আর দুলাভাই আসবে। ইনায়ার হাতের ছানার পুডিং দুলাভাইয়ের ফেভরেট, তাই প্রতিবার আসার আগে আপু ফরমায়েশ দেয় ফোন করে। ইতুকে সরিয়ে ইনায়া দেখলো মোল্ড থেকে স্মুদলি ছেড়ে এসেছে পুডিং। কাটার পর ইতুর মুখে একপিস দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কেমন হয়েছে রে?" 

   ইতু চোখ বন্ধ করে স্বাদ নিতে ব্যস্ত। ইনায়ার কথার উত্তর দিলো না, খাওয়া শেষে ঠোঁটে লেগে থাকা ক্যারামেলটাও চেটে খেয়ে নিলো।

   ইনায়া রান্নাবান্নায় খুব একটা দক্ষ না। তবে ইম্পর্ট্যান্ট কয়েকটা রেসিপি সে ভালো মতো শিখে নিয়েছে। এই যেমন বাবার প্রিয় লইট্টা শুটকির ভুনা, ইতুর প্রিয় আমের টক-মিষ্টি আচার, মায়ের প্রিয় দুধ চা, জারাফের প্রিয় গরুর বিরিয়ানি, আর নতুন যোগ হয়েছে দুলাভাইয়ের প্রিয় ছানার পুডিং।জারাফের বাবা-মায়ের প্রিয় ডিশগুলোও ইতোমধ্যে শেখা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো তাদের রেধে খাওয়ানোর মতো স্টেজেই সে যেতে পারছে না।

   পুডিংটা কাটা শেষ করে আবার চা বসালো ইনায়া। চা টা অবশ্য নিজেরও প্রিয়, ওদের বাসার সবারই প্রিয়। দিনে তিন চারকাপ চা অন্তত খাওয়াই হয়। আর সেটা একা বসে না, সবাই একসাথে বসে। চায়ের কাপে আড্ডা দিতে দিতে। বাবা প্রায়ই ইনায়াকে বলে, 

"রানী এলিজাবেথ যদি তোর চা একবার খেতো তাহলে তো তুই বাকিংহাম প্যালেসে চাকরি করতি এখন।" 

ইনায়া তখন হেসে বলে, "আমি ওদের মতো ইংলিশ টি বানাতে পারলে তো খেতো। কুইন কি আর তোমার আমার মতো এতগুলো দুধ চিনি দেওয়া চা খাবে!"

   টুকটাক রান্নাবান্না ছাড়া ইনায়া পারে কবিতা আবৃত্তি করতে, ছবি আকতে, আর ঘর সাজাতে। ওকে যদি একটা গরুর গোয়ালও খালি করে দেওয়া হয়, ইনায়া সেটাকে বোহো শিক বা স্ক্যান্ডিনোভিয়ান ধাচে চমৎকার সাজিয়ে ফেলবে। কিন্তু সেগুলো সবই আজকাল বেকার মনে হয় ইনায়ার। তারচেয়ে উপরওয়ালা ওকে আরেকটু সুন্দর করে বানালে কি হতো? সৌন্দর্যটাতেই তো ঘাটতি পড়ে গেছে। এমন না যে ইনায়া দেখতে খারাপ। সাদামাটা, একহারা গড়নের সুস্থ একটা মেয়ে। আহামরি সুন্দরী না।

    চা হতে হতে আপু-দুলাভাই এসে পড়লো। তারপর সবাই মিলে বসলো গল্পের ঝাপি খুলে। এবাড়ির মানুষগুলো এক কাপ চা পেলেই হয়েছে, এদের বসা থেকে আর ওঠানো যায় না। ভাগ্যগুণে সিথি আপুর জামাইও হয়েছে চা-খোর। জারিফদের বাসায় কেউ সেভাবে চা খায় না। দুবেলা আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দেবে, দুগাল গল্প করবে, হেসে গড়াগড়ি করবে এত সময় সচরাচর হয়না কিনা। ইশ! ও বাড়িতে চায়ের অভ্যাস করাতে না পারলে এই চায়ের আসরটা সে বড্ড মিস করবে, ভাবে ইনায়া।

    পরদিন সকালে উঠেই ইতুর কেক বানানো, বেলুন দিয়ে ঘর সাজানোর কাজে লেগে পড়লো ইনায়া। মা মূল রান্নাবান্না করলেন, ইনায়াও একটু আধটু হাত লাগালো। তবে ভয়ে চুলার কাছে বেশি গেলো না, স্কিন বেশি ইনফ্লেমড হয়ে গেলে ছবি ভালো আসবে না। এই ছবির অনেক মূল্য। বিকালে ইতুর জন্য গিফট কেনার নাম করে বাসা থেকে বেরলো। ক্যাম্পাসের কাছের পার্কটায় জারাফের থাকার কথা। সেখানে গিয়ে জারাফের সাথে সৈকত আর খুব সম্ভবত বিউটিশিয়ান এক্সপার্ট রীমাকে পেলো ইনায়া। জারাফ আসলেই সব প্ল্যান করে রেখেছে। মেয়েটার হাতে জাদু আছে বলতে হবে। কথা বলতে বলতে দু মিনিটে পার্কের মধ্যেই ওকে অনেকটা বদলে দিলো। 

    ছবি তোলার সময় বারবার জারাফের দিকে চোখ যাচ্ছিলো ইনায়ার। ভার্সিটির ইভেন্ট গুলোতে সবার সাথে সাজগোজ করে যাওয়ার পর কোনো ফটোগ্রাফার ফ্রেন্ডের ক্যামেরায় ছবি তুললেও এই জারাফ কত মন খারাপ করতো। অন্য ছেলেমানুষের সামনে ইনায়া কেন পোজ দেবে, কেন মিষ্টি করে হাসবে তার দিকে তাকিয়ে? এসব নিয়ে কত রাগ... প্রয়োজন পড়লে যে সবই করতে হয় তা হয়তো জারাফ বুঝেছে এতদিনে।

    ফটোশুট শেষ হলে টাউন হলের সামনে থেকে ফুচকা খেয়ে বাসার নিচে ইনায়াকে নামিয়ে দিয়ে গেলো জারাফ। আজই ছবিগুলো দেখাবে বাসায়। তর সইছে না তার আর। এদিকে ইনায়ার বুকটা বাসায় ঢুকেই ঢিপঢিপ করা শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর ইতুর ফ্রেন্ডরা, কাজিনরা আসলো। কিন্তু কারও দিকেই মনোযোগ দিতে পারলো না ইনায়া। সবাই চলে যেতেই রুমে গিয়ে ফোন চেক করলো, জারাফ নিশ্চয়ই এতক্ষণে ফোন করেছিলো। তবে জারাফের মিসড কল না পেয়ে ইনায়া নিজেই ফোন করলো। 

"হ্যালো।" ঘুম জড়ানো গলা ভেসে এলো জারাফের। 

"ঘুমাচ্ছিলে? এত তাড়াতাড়ি? শরীর খারাপ?" 

"উহু, শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।"

ইনায়া ঢোক গিললো, তারপর সোজাসাপ্টা বলে ফেললো, 

"ছবি দেখিয়েছিলে? আপডেট কি?" 

"ব্যাপারটা এত সহজ না ইনায়া,আমি দেখছি। তুমি চাপ নিও না প্লিজ। আমি দেখছি।"

"আমার ডিএস্লারে তোরা ছবিও পছন্দ হয়নি তাইতো?"  ইনায়া কান্না চেপে বললো, অপমানে ওর নিজেকে মাটিচাপা দিতে ইচ্ছা করছে।

"মন খারাপ করছো কেন পাগল মেয়ে?" গলার সুর একটু নরম শোনালো জারাফের, ওর সেই শান্ত, পেইন কিলারের মতো কণ্ঠটা।

"বাবা-মায়ের তোমাকে পছন্দ হয়নি বলে আমিতো তোমাকে ভালোবাসা ছেড়ে দিচ্ছি না, আমি শিওর অন্য কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে কনভিন্স করার।" 

"তুমি তাদের কাছে কখনো নরমালি আমার গল্প করেছো জারাফ?" 

"আরে আজব নরমালি কি গল্প করবো? তোমাকে সরাসরি দেখলে তো এমনিই মায়ের পছন্দ হবে। আর মা-বাবার আমার বিয়ে নিয়ে এই সামান্যই রিকোয়ারমেন্ট ছিলো, আমার বউ সুন্দরী হবে, ওয়েল ম্যানারড হবে। আর তাতে ভুল তো কিছু নেই তাই-না? সবাই-ই তো আগে দর্শনধারী তারপর গুণবিচারি।" 

   জারাফের কথাগুলো ইদানীং ইনায়ার হৃদপিণ্ডের বহিঃপ্রাচীরে তীরের ফলার মত বিধে সেটা কি জারাফ বোঝে? খেয়াল করেছে? নাকি বুঝে, খেয়াল করেও গুরুত্বহীন লাগে এখন এসব? 

"তুমি আমাকে একটু সময় দাও, অন্য কোনো উপায় আমি বের করবো।" 

ইনায়া ক্লান্ত গলায় বললো, 

"এখন প্লাস্টিক সার্জারি করানো ছাড়া আর কোনো উপায় বাকি নেই জারাফ।" 

    এরপরে প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলো। নতুন কোনো উপায় বের হলো না। ইনায়ার একবার ভয় হলো জারাফ সত্যিই না একদিন ফোন করে বলে যে ডক্টরের সাথে কথা বলেছে, প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে। আবার অতিশয় লজ্জার সাথে আবিষ্কার করে যে জারাফ যদি বলে, তাহলে হয়তো এ কাজও সে করবে। মানুষের ভেতরে যে জায়গায় আত্মসম্মানবোধ নামক জিনিসটা থাকে, সেই জায়গাটা ইদানীং নড়েচড়ে গেছে ইনায়ার। এই একমাসে সে আয়না পারতপক্ষে দেখেইনি। নিজের দিকে তাকাতে অস্বস্তি হয়। ক্লাসেও যায় একরকম হেলায়। গরমকালে কাচা আমের সময় যাচ্ছে, ইতুটা আচার আচার করে কিছুদিন কতই না ইনায়ার ওড়নার আচল ধরে ঘুরলো, ইনায়া বকাঝকা করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

    জারাফের সাথে ইনায়ার সম্পর্ক যখন ইনায়া ফার্স্ট ইয়ারে ছিল, আর জারাফ সেকেন্ড ইয়ারে। প্রায় সেইম এজ রিলেশনশিপ, তাই শুরু থেকে চিন্তা একটাই ছিলো। জারাফের কবে একটা চাকরি হবে। গত পাঁচ বছরে বাসা থেকে মোটামুটি পরিমাণ পাত্র দেখা হয়ে গেছে ইনায়ার জন্য। খুব একটা সিরিয়াস ভাবে না যদিও। এরমধ্যে কিছু ছেলেপক্ষের থেকেই না করে দিতো, যারা আগাতো সেগুলো ইনায়া বাবাকে বুঝিয়ে না করে দিতো, আর বাবা যখন শুনতো না তখন জারাফ কোনো না কোনোভাবে সেটা ক্যানসেল করিয়ে দিতো। তারপর অপেক্ষা। 

    পাঁচবছরে চড়াই উতরাই কম যায়নি। তবে মূল পরীক্ষাটা ছিলো অপেক্ষার। ইনায়া এখন মাস্টার্স করছে। এলজিইডির চাকরিটায় জারাফ জয়েন করেছে আজ নয় মাস হলো। পরিশ্রম আর পরিচয় দুটোই জারাফের যথেষ্ট ছিলো বলে অনার্স শেষ করে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি।

    ইনায়া তখনো বোঝেনি, ভালোবাসার পরীক্ষা শেষ হলেও আসল পরীক্ষা কেবল শুরু। ইনায়ার পরীক্ষা। এতদিন পরে জানলো জারাফের বাবা-মায়ের ওকে শুধু দেখেই পছন্দ না হলে কোনো আশা নেই। তারপর অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি রায়হানা। রোজ দুবার করে ক্লেনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং। বেশি বেশি এসপিএফ দেওয়া সানস্ক্রিন লাগিয়ে বাইরে যাওয়া, বাসায় ফিরেই বরফ ঘষা। সময় পেলেই ফেসিয়াল, স্ক্রাবিং তো আছেই। মাঝেমাঝে ক্লান্ত, বিরক্ত লাগলেও এ পরীক্ষায় পাশ তো করতেই হবে ওকে, একথা ভেবে লেগে থেকেছে। কিন্তু সব বিফলে যাচ্ছে, কোনোভাবেই তাদের পছন্দসই হতে পারছে না। প্রথম লেভেলেই আউট। 

    ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির রাগুলোতে এখন আর জারাফের সাথে রাত জেগে গল্প করা হয়না। এই করবো, ওই করবো, সেই করবো বলে প্ল্যান করা হয়না। আজও দুপুর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, আকাশ অন্ধকার করে মন খারাপ করিয়ে দেয়া বৃষ্টি। ইনায়া কাথা গায়ে দিয়ে জানালা দিয়ে অঝোর বর্ষণ দেখছিলো৷ তখনই জারাফের ফোন এলো। প্রায় তিন সপ্তাহ হচ্ছে জারাফ ফোন করেনা, ইনায়া করলে কথা হয়। তাছাড়া এ সময় জারাফ অফিসে থাকে, তাই এখন ফোন আসাতে একটু অবাক হলো ইনায়া। আবার একইসাথে একটা থ্রিলও বয়ে গেলো ভেতরে, প্রতিবছর প্রথম বৃষ্টির বিকালটা ওরা একসাথে ক্যাম্পাসে বৃষ্টিবিলাস করতো। পানি জমে টুবুটুবু হয়ে থাকা রাস্তাগুলো ধরে স্যান্ডেল হাতে খালি পায়ে হেটে বেড়াতো। জারাফ বডিগার্ডের মতো মাথায় ছাতা ধরে রাখতো, আর ছাতার বাইরে বেরলেই কড়া চোখে তাকাতো। তারপর টঙের দোকানের পেয়াজু আর ধোঁয়া ওঠা দুধ চা খেয়ে বাসায় ফিরতো। ইশ! কি স্বপ্নের মতো সুন্দর ছিলো দিনগুলো।

  মনটা ভালো হয়ে এলো, তিন সপ্তাহে জমা অভিমান গুলো কোথায় উধাও হয়ে গেলো। বেশ আমুদে স্বরে ফোন ধরে ইনায়া বললো, 

  "আপনি এসময়ে? প্রথম বৃষ্টি দেখে আমার কথা মনে পড়লো?" 

"তোমার কথা আমার সারাদিনই মনে পড়ে মাই লাভ।" 

সেজন্যে এখন দিনে আধাঘন্টাও কথা হয়না দুজনের, ভেবে হাসলো ইনায়া। 

"তবে একটা গুড নিউজ দিতে ফোন করেছি। মা তোমার সাথে দেখা করতে রাজি হয়েছে।"

  ইনায়া ঝট করে উঠে বসলো। "রিয়েলি?" 

"হুম। এখন তোমাকে কি করতে হবে বলি। আমি একটু দেখেশুনেই দিন ঠিক করবো। যেদিন দেখা হবে তার দু-তিন দিন আগে তুমি একটু পার্লার থেকে ঘুরে এসো। আর যেদিন দেখা হবে সেদিনও পার্লার থেকেই রেডি হয়ে নিও। নাথিং ওভার দ্যা টপ, মায়ের ভালো লাগবে না। ন্যাচারাল সাজিও। আর অলিভিয়াতে যেও, আমি ওখান থেকে তোমাকে পিক করে নেবো।" 

    ইনায়ার ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো, এতটাই যে বাহিরটা কথা বলতে ভুলে গেলো। 

"হ্যালো? ইনায়া? হ্যালো?" 

   ইনায়া বিছানা ছেড়ে ব্যালকনির দরজাটা খুললো। বৃষ্টির ঝাপটা আসছিলো বলে দরজা আটকে রেখেছিলো। ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা গায়ে লাগতে শিউরে উঠলো। বললো, 

"তোমার সাথে যখন রিলেশনে যাই ঠিক কি দেখে তোমাকে ভালো লেগেছিল জানো?" 

  কাজের কথা ছেড়ে এই অকাজের প্রসঙ্গ তোলায় জারাফ একটু বিরক্তই হলো। 

"কি?" 

"তোমার সেন্স অব হিউমার। যাই বলতে এমনভাবে বলতে যে ভীষণ হাসি পেতো। আমি রাগ করতে চাইলেও হাসিয়ে ফেলতে।" আনমনে হাসলো ইনায়া।

"কিন্তু আমার ফ্রেন্ডরা ভেবেছিলো আমি তোমার লুকস দেখে পছন্দ করেছি। অবশ্য ভাবাটা অস্বাভাবিক না। নাইন্টি নাইন পয়েন্ট নাইন পারসেন্ট মানুষ চেহারা দেখেই প্রেম করে। তবে বটম লাইন হলো তুমি ভীষণ রকম হ্যান্ডসাম ছিলে। এখন আরও বেশি হয়েছো, চাকরি করছো। আমার মনে হয়না এমন কোনো মেয়ে আছে যে তোমাকে অপছন্দ করবে। " 

    ঢোক গিললো ইনায়া। এরপরের কথাগুলো গলা দিয়ে বেরচ্ছে না। ভেতরে কিছু একটা প্রাণপণে শক্ত করে আকড়ে ধরে রেখেছে। ইনায়া নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে, নিজের কয়েক মুহূর্ত আগে ফিরে পাওয়া আত্মসম্মানবোধের জোরে ভেতরটা রক্তাক্ত করে কথাগুলোকে বাইরে টেনে আনলো,

"অলিভিয়াতে যে কয়বার গিয়েছি, কম করে হলেও হাফ ডজন সাক্ষাৎ স্বর্গের হুরপরীর মতো সুন্দর মেয়ে 

দেখেছি। আইয়েম শিওর তাদের মধ্যে কেউ না কেউ সিংগাল হবেই। তুমি তাদের কাউকে তোমার গার্লফ্রেন্ড হিসেবে আন্টির সাথে দেখা করিয়ে দিও। দশজনের মধ্যে ছয়জন অন্তত তোমার গার্লফ্রেন্ড হবার জন্য একবাক্যে রাজি হবেই।" 

"হয়েছে তোমার?" দাঁতে দাঁত পিষে বললো জারাফ। 

"এখন দেখা করিয়ে দিলাম আর বিয়ের সময় কি করবো?" 

   ইনায়া এত কষ্টের মধ্যেও বিস্ময়ে হা হয়ে গেলো। জারাফ কি বোঝেইনি? সত্যিই ওখান থেকে কাউকে দেখা করিয়ে দেবার কথা ভেবেছে?

"বিয়েও তাকেই কোরো। আমি ইনায়া এই চেহারা নিয়ে জন্মেছি, বড় হয়েছি। যত যাই করি দেখতে আমি এমনই থাকবো। আর একই ঘরে যার সাথে থাকতে হবে, যে আমার ঘাম মাখা চেহারা, আমার ক্লান্ত-বিদ্ধস্ত চেহারা রোজ দেখবে তার কাছে গ্রীনকার্ড পাওয়ার জন্য সঙ সাজতে আমি আর রাজি নই। ভালো থেকো জারাফ।" 

   ফোনটা কেটে ব্যালকনির ভেজা মেঝেতে বসে পড়লো ইনায়া। ফোন থেকে সীমকার্ডটা বের করে দু'টুকরো করে বাইরে ছুড়ে ফেললো। তারপর দু'হাতে মুখ ঢেকে হুহু করে কেঁদে উঠলো। ইনায়া কতক্ষণ কেঁদেছিলো জানে না, একসময় পাশে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে থামলো। দেখলো ব্যালকনির দরজায় ইতু দাঁড়িয়ে, দু'হাতে দুটো কাপ।

"তোমার জন্য চা বানানো শিখে ফেলেছি আপু, চেঞ্জ করে এসো তাড়াতাড়ি।" 

  ইমোশনাল হয়ে গেলে ইতু ইনায়াকে তুমি করে বলে, ইনায়া ওর দিকে তাকিয়ে বললো, 

"আমি এখন খাবো না ইতু। মাকে দিয়ে আয়।" 

ইতু নাছোড়বান্দা। "প্লিজ আপু প্লিজ! একবার খেয়েই দেখো না। এমন কি দুঃখ আছে যা চা খেলে ঠিক হবে না?"

  ইনায়া নাক টেনে কাপ নেয়ার জন্য হাত বাড়ালো। ইতু ঝট করে কাপটা সরিয়ে নিলো।

"উহু! আগে চেঞ্জ করে আয় যা! এভাবে তোকে কেমন ব্যাঙের মতো দেখাচ্ছে। ছি!" 

    ইনায়া ইতুর কান টেনে ধরলো, তবে চেঞ্জ করতে গেলো। সেদিন সারা রাতেও বৃষ্টি থামলো না। ইনায়া প্রায় সারারাত জেগে ছিলো,তবে যেমনটা ভেবেছিলো তেমনটা হয়নি। রাত জেগে সে বৃষ্টি দেখেছে, জানালা দিয়ে হাত গলিয়ে বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলেছে। অন্ধকারে গান গেয়েছে। আর ভোর হবার আগে খেয়াল করেছে, এখন আর চেষ্টা করতে হচ্ছে না। অসম্ভব খারাপ লাগাটা সত্যিই আর কাজ করছে না।হয়তো ভেতরে ভেতরে ও অনেকদিন থেকেই নিজেকে সামলাতে শিখে নিয়েছিলো। অনেকদিন পর মনে হচ্ছে ও ইনায়া, একজন সুস্থ, সাধারণ মানুষ। যে অসুন্দর না, শুধু সাধারণ। 

     দু'দিন পর ইনায়াকে দেখতে নতুন ছেলে পক্ষ এলো। এই দু'দিনে ইনায়ার রুটিনে আমূল পরিবর্তন এসেছে, গত একমাসে যত গল্প, চায়ের আসর মিস করেছে সব দু'দিনে পোষানোর চেষ্টা করেছে। খুব বেশি চেষ্টা করতে হয়নি, মন মেজাজ নিজে থেকেই ফুরফুরে ছিলো। কিন্তু আজ দেখতে আসবে শোনার পর থেকে পানিও গলা দিয়ে নামছে না। এত কষ্ট করে যেই আত্মবিশ্বাস, যেই নিজেকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগা নিজেকে শেখাচ্ছিলো সেটা যদি ওরা দেখে যাওয়ার পর আবার গুড়িয়ে যায়? 

    বিকেলে ছেলে পক্ষ এলো। ছেলে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, নাম কাজী ইশতিয়াক হোসেইন সাদি। নানান রকম আয়োজন করে ড্রয়িংরুমের সেন্টার টেবিলটা ভরে ফেললো মা। ইনায়াকে কিছু করতে হয়নি। টেনশন কমাতে নিজের জন্য চা বানাচ্ছিলো, পরে মায়ের কথায় সবার জন্য বানিয়েছে। 

   পাত্র-পাত্রী দু'জনকে বাবার স্টাডি রুমটায় বসতে দেয়া হলো। ইনায়া যখন চা নিয়ে গেলো ইশতিয়াক তখন পকেটে হাত গুজে বাবার ডেস্কের ওপরের দেয়ালে টাঙানো ছবিটা দেখছিলো। ইনায়ার আঁকা একটা পেন্সিল স্কেচ। তবে সাধারণ আকা একটা ছবির সাথে তফাত হলো পারিপার্শ্বিক জিনিসগুলো ইনায়া একেছে পেন্সিল দিয়ে। ছবির মূল বস্তুটা, ফেরি কাধে ফেরিওয়ালাটাকে ফুটিয়ে তুলেছে জায়গাটা খালি রেখে, চারপাশের সবকিছুকে আউটলাইন করে। ইশতিয়াক শুধু দেখছে না, অনেকটা দেয়ালের দিকে ঝুঁকে এখন ছবির নিচে করা সিগনেচারটা পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুম করে ইনায়ার ট্রে রাখার শব্দে ফিরে তাকালো ইশতিয়াক। ইনায়া কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নিলো। ইশতিয়াক বেতের সোফাটায় এসে বসতে ইনায়া চা বানিয়ে এগিয়ে দিলো।

   "থ্যাংকস।" 

    চায়ের কাপটা হাতে নেওয়ার পর আর কোন কথা হলো না দুজনের। ইনায়া বসে বসে ঘড়ির কাটার শব্দ গুনলো। বাতাসে জানালার পর্দাটা কত ইঞ্চ উড়লো ধারণা করার চেষ্টা করলো। চায়ে চুমুক দিয়ে ইশতিয়াক শুধু একবার জিজ্ঞেস করেছিলো চা টা ইনায়া বানিয়েছে কিনা। চা শেষ করে আরেকবার জিজ্ঞেস করেছিলো ইনায়ার কোনো প্রশ্ন বা বিয়েতে কোনোরকম আপত্তি আছে কিনা। ইনায়া মৃদু হেসে প্রথমবার হ্যাঁ, দ্বিতীয়বার না বলে শুধু। 

    স্টাডি থেকে বেরিয়ে ইনায়া নিজের ঘরে চলে গেলো। মনটা আবার খারাপ হয়ে গেছে। কারণ ও জানে চলে যাবার পর আর কোনো ফোন আসবে না ওদের থেকে। সাইলেন্ট রিজেকশন। ইনায়ার নিজের ইশতিয়াককে পছন্দ হয়েছে কিনা জানে না, তবে মানুষটার উপস্থিতি কি যেন অদ্ভুত একটা প্রশান্তি এনে দেয়। যতক্ষণ সামনে বসে ছিলো ইনায়ার টেনশন হচ্ছিলো না।

     হাতের চুড়ি গুলো খুলতে যাচ্ছিলো তখন হঠাৎ মা আর আপু রুমে আসলেন। এত তাড়াতাড়ি চলে গেছে? এতই অপছন্দ হয়েছে আমাকে? 

    মা ইনায়ার কাছে এসে বললেন, "ওরা আজই আকদ করে ফেলতে চাচ্ছে। তোর কোনো আপত্তি আছে মা?" 

   ইনায়া জমে গেলো। "হোয়াট?" 

"তোর বাবা অনেকভাবে বোঝাচ্ছেন যে তুই বাড়ির ছোট মেয়ে, কত কিছু ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু মনে হয়না ওরা রাজি হবে। এবার তুই বল, তোর আপত্তি আছে?" 

ইনায়া হা করে চোখের পলক ফেলতে থাকলো শুধু। 

    সেদিন ইনায়ার বিয়ে হলো না। কিছুটা ইনায়াকে ওভাবে বাকরুদ্ধ দেখে বাসায় সবাই চিন্তায় পড়ার কারণে, কিছুটা ছেলে পক্ষকে বাবা বুঝাতে পারার কারণে। ইশতিয়াকের সাথে ইনায়ার বিয়েটা হলো দু'সপ্তাহ পরে। কিভাবে সব ম্যানেজ হয়েছিল তা বলতে গেলে আরেকদিন লেগে যাবে। তবে বেশিরভাগই ম্যানেজ হয়েছিলো ইশতিয়াকদের পক্ষ থেকে কেনাকাটা আগে থেকেই করে রাখার কারণে। 

    এই দু'সপ্তাহে অন্তত দুহাজার বার ইনায়া ফোন চেক করেছিলো জারাফ একবার ফোন করলো কিনা দেখতে। সীম টাই তো ভেঙেছে, জারাফ চাইলে ইনায়ার কোনো ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিতে পারতো না? পরদিন নতুন একটা সীম এনেছিলো। সেটা থেকেও রোজ ফোন দেওয়ার জন্য ডায়াল করে কেটে দেয় সে। সে কি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে? যতই হোক, জারাফ তো শুধু এটাই চেয়েছিলো যাতে ওর পরিবার ইনায়াকে পছন্দ করে। সত্যিকারের ইনায়াকে না হলেও, মেকি ইনায়াকে যেন পছন্দ করে। 

    ইনায়া বিয়ের চারদিন আগে পর্যন্তও ওর বন্ধুদের কাউকে বলেনি বিয়ের কথা। কি যেন আটকাচ্ছিলো। বলেনি তখনও যখন কারিমা ফোন করে বলেছিলো,

"জারাফ ভাইকে আজ একটা রেস্টুরেন্টে দেখলাম। একটা মেয়ের সাথে।" 

"কোনো কলিগ হবে হয়তো।" 

"মেয়েটা বারবার জারাফ ভাইয়ের হাত ধরছিলো ইনু, উনিও হাত সরাচ্ছিল না। ঘটনা কি?" 

"ঘটনা হলো এই ফ্রাইডে আমার বিয়ে। তোদের আজই ফোন করতাম বলার জন্য।" ইনায়া রোবটের মতো বলেছিলো। টিয়ার ডাক্টগুলোকে বলে রেখেছে সে, বিয়ের আগে না কাঁদতে। একবার কান্না শুরু করলে সে থামতে পারবে না।

      বিয়ের রাতে, টানা দেড়ঘন্টা শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থেকেও মাথাটা ব্যাথায় টনটন করছিলো ইনায়ার। সারাদিনে অনেক ধকল গেছে। তবে মাথাব্যথা সেজন্য নয়, মাথাব্যথা অতিরিক্ত কাঁদার কারণে। সালোয়ার কামিজ পড়তে চাইলেও ওর বড় জা হালকা গোলাপি পাড়ের ম্যাজেন্টা একটা সুতি শাড়ি বেছে দিয়ে গেছেন পড়ার জন্য। ইনায়া বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো ইশতিয়াক বিছানায় সাজানো ফুলগুলো সব সরিয়ে দু'হাতে মাথা ধরে বসে আছে। থ্যাংক গড। এত ফুলের ঝাঝালো গন্ধে মাথাটা আরও বেশি ব্যথা করছিলো৷ ইনায়ার উপস্থিতিতে মুখ তুলে চাইলো ইশতিয়াক। 

"মাথাটা ধরেছে খুব। আমি চা বানাতে যাচ্ছি, আপনি খাবেন?" 

   ইনায়া মাথা থেকে টাওয়েলটা খুলে ব্যালকনিতে মেলে দিয়ে এসে বললো, "আমি বানিয়ে আনছি।"

   দরজার দিকে পা বাড়াতে ইশতিয়াক ডাকলো,

"কিচেনটা কোথায় জানেন?" 

"খুঁজে নেবো।"

   ইশতিয়াক তবু সাথে এলো, "ওরা কেউ আপনাকে এখন চা বানাতে দেখলে হাসাহাসি করবে, আমি সাথে যাচ্ছি। তাছাড়া কোথায় কি আছে সেটাও খুঁজে পাবেন না।" 

    কোথায় কি আছে খুঁজতে সাহায্য করার কথা বললেও ইশতিয়াক কাউন্টারের ওপর বসে পা দুলানো ছাড়া কিছুই করলো না। ইনায়া নিরবে চা-পাতা, চিনি, গুড়া দুধ, ছাকনি খুঁজে নিয়ে কড়া লিকারের চা বানালো। ইশতিয়াকের হাতে একটা কাপ ধরিয়ে দিয়ে নিজে এক কাপ নিলো। চায়ে লম্বা একটা চুমুক দিয়ে কি যেন মনে করে হাসলো ইশতিয়াক। বললো, 

"আমার ফ্রেন্ডরা সবাই আমাকে ক্যালকুলেটর বলে, কেন জানেন?" 

"কেন?" 

"কারণ আমি যেকোনো কাজ করার আগে অতিরিক্ত হিসাব করি, তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এনালাইসিস করি। সেদিন জীবনে প্রথম আমি এত দ্রুত কোনো ডিসিশন নিয়েছি, আজ মনে হচ্ছে ঠিক ডিসিশন নিয়েছি।" সন্তুষ্টির হাসি হেসে বললো ইশতিয়াক। 

ইনায়া ভ্রু কুচকে তাকালো।  "মানে?" 

    ইশতিয়াক ইনায়ার চোখে তাকালো। 

"বিয়ে করার ডিসিশন। তোমার হাতের এই চা সারাজীবন খাওয়ার জন্যই তো সেদিনই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।"

   ক্যাফেইন আর ট্যানিন কাজ করা শুরু করেছে, মনটা চনমনে লাগছে এখন। ইনায়া চায়ের কাপের পেছনে লুকিয়ে  হাসলো। 

আফটার অল, এমন কি দুঃখ আছে যা এক কাপ চা খেলে ঠিক হবে না?



( সমাপ্ত )




লেখা: মারুফা সুলতানা 

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner