> এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩৩ - Romantic Love Story - Boipoka365
-->

এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৩৩ - Romantic Love Story - Boipoka365

 


Romantic Love Story 


বৈশাখ মাস শেষের দিকে। হঠাৎ দুপুর থেকে ঝড় উঠেছে। পশ্চিমাকাশের কালো মেঘ দেখতে দেখতে গোটা আকাশকে ঢেকে ফেলেছে।কাঠফাটা রোদ হুট করেই মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়ে ফেলেছে।প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়েছে। ঝড়ের তোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দায়।

তুরা ছাদে শুকাতে দেওয়া কাপড়গুলো তুলছে।প্রচন্ড বাতাসে আশেপাশের ধুলাবালি উড়ে এসে চোখেমুখে পরছে।সে চোখ অর্ধেক বন্ধ করে রেখেছে।মাঝে মাঝে চোখ পিটপিট করে খুলছে।বাতাসের ধাক্কা থেকে জামাকাপড় রক্ষা করাই কঠিন।সবকিছু উড়ে দিগন্ত পেরিয়ে নাগালের বাইরে চলে যেতে চাইছে।সবগুলো কাপড় গুছিয়ে না উঠতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হলো।মুহূর্তের মধ্যেই বৃষ্টিস্নান হয়ে গেল তুরার।সে কোনোমতে সবগুলো কাপড় নিয়ে দৌড়ে ভেতরের দিকে চলে গেল।

ছাদের দরজার কাছে যেতেই আবরারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেলো সে।কপাল কুঁচকে বলল, 

"তুমি এখানে হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন?আমাকে সাহায্য করলেও তো পারতে?"

.

আবরার লজ্জিত ভঙ্গিতে হেসে বলল, 

"সরি।"

তুরা হাতের কাপড়গুলো আবরারের হাতে দিয়ে বলল, 

"ধরো,এগুলো নিয়ে নিচে যাও।"

আবরার কাপড়গুলো নিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করলো।তুরা ছাদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিচে নেমে গেল।

.

তুরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছছে।বৃষ্টির পানি মুছতে মুছতে তুরা বলল, 

"কি যে যন্ত্রণা!একটু আগেই গোসল করেছিলাম।বৃষ্টি এসে আবার ভিজিয়ে দিলো।এমনিতেই একটা কাপড়ও শুকোয় নি।তার উপর এই শাড়িটাও ভিজে গেল।ভালো লাগে না।বৃষ্টি এখনই আসতে হলো?গোসলের আগে এলে কি হতো?"

আবরার মুখ টিপে হাসলো।তুরার কথা কেমন যেন পাকা গৃহিণীর মতো শোনায়।ইদানীং তুরা নিজেকে অনেকখানি সামলে নিয়েছে।এখন নিজের খেয়াল সে রাখে।তার চেহারার শ্রী ফিরেছে।তবে ভালো করে খেয়াল করলে চোখমুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়।ক্লান্তি তো আসবেই।কি ভীষণ এক দুঃখের সাথে লড়াই করে উঠেছে মেয়েটা!এ এক বিষম লড়াই।

আবরার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তুরার দিকে।বহুদিন পর তুরাকে ভীষণ আবেদনময়ী লাগছে।ঠোঁটের উপরে বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি ফোঁটা জমে আছে তার।কপাল থেকে পানিগুলো গাল বেয়ে পরছে।লাল পাথরের নাকফুলটা চকচক করছে।ভেজা শাড়ি লেপ্টে আছে গায়ে।তুরার ওষ্ঠাধরে গভীরভাবে চুমু খেতে ইচ্ছা করে আবরারের।ইচ্ছাটাকে এই মুহূর্তে প্রশ্রয় দেওয়া কি ঠিক হবে?অবশ্যই ঠিক হবে।এখন প্রশ্রয় না দিলে এই ইচ্ছাকে আর কখন প্রশ্রয় দেবে সে?

আবরার বিছানা ছেড়ে নেমে ধীরে ধীরে পা ফেলে তুরার দিকে এগিয়ে গেল।তুরাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেই চুলে মুখ ডুবিয়ে দিলো সে।আবরারের হঠাৎ স্পর্শে তুরা চমকে উঠলো।হকচকিয়ে গিয়ে বলল, 

"আরেহ!ছাড়ো,তুমি ভিজে যাচ্ছো।"

আবরার ছাড়লো না।ফিচেল গলায় বলল, 

"ভিজতে আপত্তি নেই আমার।"

আবরারের কন্ঠস্বর শুনে আরও খানিকটা চমকে গেল তুরা।আবরারের এই কন্ঠস্বর সে চেনে।এই স্বর স্বাভাবিক নয়,অস্বাভাবিকও নয়।তার এই কন্ঠস্বরের অন্য মানে আছে।তুরা কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না।শক্ত হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো।তারপর চট করে আবরারের দিকে ঘুরে বলল, 

"আ...আজ তো শুক্রবার।আমাদের আজ ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল না?"

আবরার হাসলো।তুরার চোখের দিকে তাকিয়ে তার কপালে পরে থাকা অবাধ্য চুলগুলো কানের পিঠে গুজে দিতে দিতে বলল, 

"এই ঝড়ে কি ঘুরতে যাওয়া যায়?ঝড় থামতে তো দাও।"

তুরা তাকিয়ে থাকতে পারলো না।চোখ নামিয়ে ফেললো।আবরারের কথার মানে সে বুঝতে পেরেছে।এই ঝড় বাইরের ঝড় নয়;অন্য ঝড়।

আবরার তুরাকে আরও কাছে টেনে আনলো।তুরার চোখ বন্ধ হয়ে এসেছে।তবুও সে আমতা আমতা করে বলল, 

"চ...চলো না,আজ আপুর বা...বাসায় যাই।"

আবরার কথাটা শুনতে পেলো কিনা বোঝা গেল না।সে পরম আদরে তুরার গালে চুমু খেলো।তুরার হাত থেকে তোয়ালেটা ইতোমধ্যে পরে গেছে।সে আর কোনো কথা বলার সুযোগ পেলো না।কারণ ততক্ষণে চোখে চোখ,কপালে কপাল,নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস,ঠোঁটে ঠোঁট মিশে গেছে।আবরারের তপ্ত নিঃশ্বাসে তুরার ঠোঁটের শেষ জলবিন্দুও বাষ্প হয়ে উঠছে।

.


বিকাল হয়ে এসেছে।বৃষ্টি থেমেছে বটে।তবে আকাশ এখনও মেঘলা।হালকা বাতাসও বইছে।তনয় বারান্দায় বসে আছে।রায়না দু কাপ চা নিয়ে বারান্দায় গেল।এক কাপ তনয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, 

"নাও,তোমার চা।"

তনয় চা নিলো।একবার চুমুক দিয়ে বলল, 

"আজকের আবহাওয়াটা খুব সুন্দর।তাই না,রায়না?"

রায়না ভ্রু কুঁচকে বলল, 

"ঝড়ের মধ্যে আবার সুন্দরের কি আছে?"

তনয় চেয়ারটা রায়নার কাছে এগিয়ে নিয়ে গেল।এক হাত রায়নার কাঁধে রেখে বলল, 

"আছে আছে।ঝড়ের মধ্যে না থাকলেও বৃষ্টির মধ্যে আছে।এই যে দেখো,তুমি আর আমি কাছাকাছি বসে আছি।সামনে বৃষ্টিস্নাত শহর,মেঘাচ্ছন্ন আকাশ।মনে কেমন প্রেম প্রেম ভাব জাগছে না?"

রায়না ভ্রু কুঁচকে বলল, 

"বুঝেছি,তোমার মতলব ভালো না।সরো তো।দূরে গিয়ে বসো।"

তনয় শব্দ করে হেসে উঠলো।রায়না বলল, 

"নির্লজ্জের মতো হাসবে না তো।যাও,দূরে যাও।"

তনয় নিচু আওয়াজে বলল, 

"বউয়ের সাথে নির্লজ্জতা না করলে আর কোথায় যাব?"

তনয় রায়নার ঠোঁটের দিকে ঠোঁট এগিয়ে আনছিল।হঠাৎ টুকুনের গলার আওয়াজ পেয়ে তনয় রায়নাকে ছেড়ে দিলো।টুকুন বারান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের ডেকেছে,

"মা।বাবা।"

তনয় দূরে সরে গেল।রায়না মুখ টিপে হাসলো।টুকুন দৌড়ে মা বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।বলল, 

"মা,আমিও চা খাব।তোমরা আমাকে রেখে চা খাচ্ছো কেন?"

তনয় চায়ের কাপ সামনের টেবিলে রাখলো।তারপর পরম মমতায় ছেলেকে কোলে তুলে নিলো।ছেলেকে আদর করতে করতে বলল, 

"অন্যায় করে ফেলেছি,বাপ।এই রায়না,যাও।ছেলের জন্য চা নিয়ে এসো।"

রায়না নিজের কাপে একবার চুমুক দিয়ে বলল, 

"ওর কি চা খাওয়ার বয়স হয়েছে নাকি?এইটুকু ছেলের চা খাওয়ার কোনো দরকার নেই।"

টুকুন বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, 

"বাবা,দেখো মা কেমন করছে।আমি কালও চা চেয়েছিলাম।কিন্তু মা দেয় নি।"

রায়না মৃদু হেসে বলল, 

"তোমাকে কেন চা দেবো,বাপ আমার?তুমি সারাদিনে মাত্র একবেলা খাও। ভাত অর্ধেকটা নষ্ট করে চা চাইলে তো হবে না।ঠিকমতো না খেলে চা পাওয়া যাবে না।"

তনয় রায়নার দিকে তাকিয়ে বলল, 

"ভেরি ব্যাড,রায়না।আমি না থাকলে আমার ছেলেটার সাথে তুমি এরকম করো নাকি?"

রায়না নাক ফুলিয়ে বলল, 

"ছেলে তোমার একার নাকি?ও আমারও।আর আমি আমার ছেলেকে অতি আদরে একদম নষ্ট হতে দেবো না।একটামাত্র ছেলে আমার।"

তনয় এবার নিজের চায়ের কাপ টুকুনের হাতে দিয়ে বলল, 

"নে,বাবা।তুই এখান থেকেই চা খা।"

টুকুন মহানন্দে চা খেতে শুরু করলো।রায়না রাগী গলায় বলল, 

"তনয়,তুমি ওকে খুব বেশি আহ্লাদ দাও।এটা ঠিক নয়।"

তনয় হেসে উঠে বলল, 

"তো আহ্লাদ দেবো না?একটামাত্র ছেলে আমার।"

রায়না কথা বলল না।বলেও লাভ নেই কিছু।কলিং বেল বেজে উঠলো।তনয় বলল, 

"কে এলো?রায়না,দেখো তো।"

রায়না মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, 

"পারবো না।যে বাড়ির লোকজন আমার কথা শোনে না,সে বাড়ির একটা কাজও আমি করবো না।"

তনয় হেসে ফেললো।তারপর টুকুনকে কোলে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালো।রায়না মুখ ফুলিয়ে বসে রইলো।কিছু হলেই বাবা ছেলে তাকে একা করে দিয়ে একদলে হয়ে যায়।স্বার্থপরের দল!

বাইরে থেকে টুকুনের গলা পাওয়া গেল।সে চিৎকার করে বলছে,

"মা,বাইরে এসো।মামা মামী এসেছে।"

রায়নার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।সে হুইল চেয়ার ঠেলে বারান্দা থেকে ভেতরের দিকে গেল।

__________________________

রায়না তুরাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে।অনেকদিন পর তুরাকে দেখে সে স্বস্তি পেয়েছে।তুরা হালকা সেজে এসেছে আজ।গোলাপি রঙের শাড়ি পরেছে,চূলে খোঁপা বেঁধেছে,হাত ভর্তি চুড়ি পরেছে।অপূর্ব লাগছে মেয়েটাকে।তুরার মুখে হাসি দেখে রায়নার চোখে জল এসে গেছে।সে তুরাকে জড়িয়ে রেখেই বলল, 

"তোর মুখে হাসি দেখে আমি শান্তি পেয়েছি, তুরা।আমার খুব ভালো লাগছে।তোকে কি যে সুন্দর লাগছে!"

তুরা মুখে হাসি টেনে বলল, 

"আমরা এসময় এসে তোমাদের বিরক্ত করলাম না তো?"

রায়না তুরাকে ছেড়ে দিয়ে বলল, 

"কি যে বলিস!তোরা এলে আমি বিরক্ত হবো?তোরা এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে।এরকম কথা আর বলবি না।"

"আচ্ছা,বলবো না।"

রায়না হেসে বলল, 

"তোরা বোস।তোদের জন্য চা আনি।"

তুরা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 

"চলো,আমিও যাচ্ছি।"

বলেই তুরা টুকুনকে কোলে তুলে নিলো।তারপর টুকুনের সাথে কথা বলতে বলতে রান্নাঘরে চলে গেল।

তনয় আবরারের পাশে বসলো।বলল, 

"তো শালাবাবু,তুরা তো দেখছি ভালোই আছে এখন।"

আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 

"হয়তো আছে।কিন্তু ওর ভেতরের ক্ষত এখনও তাজা আছে।রোজ রাতেই আমি ওকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুনি।"

তনয় বলল, 

"ভেতরে ক্ষত তো থাকবেই।সন্তান হারানোর ক্ষত চিরকালই দাগ কেটে থাকে।ও তো সারে না।তবে প্রতিদিন কান্নাকাটি করাটা কমিয়ে আনা সম্ভব।"

আবরার চকিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কিভাবে?"

তনয় সোফায় হেলান দিয়ে বলল, 

"ও যখন কাঁদে তখন তুমি কি করো?ওকে থামানোর জন্য চেষ্টা করো?"

"না,দুলাভাই।আমি কি করে ওকে থামাবো?সন্তান হারানো মাকে কি সান্ত্বনা দেওয়া যায়?"

তনয় মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল, 

"সান্ত্বনা দেওয়ার দরকার নেই।ও যখন কাঁদবে তখন তুমি এমন কিছু একটা করবে,যাতে করে তুরার মনে হয় যে তুমি ওর পাশে আছো।ও যেন বুঝতে পারে যে ও একা নয়।"

আবরার ভ্রু কুঁচকে বলল, 

"কি করবো?"

তনয় মুচকি হেসে বলল, 

"সে তো আমি জানি না।সেটা তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে।"

আবরার কিছু বুঝে উঠতে পারলো না।এমন কি করবে সে?

তনয় বলল, 

"আর একটা কথা।তোমরা দ্বিতীয় বার বেবি প্ল্যান করো।"

আবরার ইতস্তত করে বলল, 

"আব...তুরা আর একটু সুস্থ হোক।"

"এক কাজ করো।তুরাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাও।তোমরা তো হানিমুনেও যাও নি।এই সুযোগে তোমাদের মধুচন্দ্রিমাও হয়ে যাবে।"

আবরার মাথা নিচু করে ফেললো।হালকা কেশে বলল, 

"কোথায় যাওয়া যায়?"

তনয় হেসে উঠে বলল, 

"বাংলাদেশে পাহাড়,পর্বত,সমুদ্র,নদী,বন,জঙ্গল,সবই তো আছে।তুরার যা পছন্দ সেখানেই যাও।"

আবরার কথা বলল না।রান্নাঘর থেকে রায়নার গলার চিকন সুর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।সে গান গাইছে।কি গান তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।গানের সুরের সাথে ভেসে আসছে তুরা আর টুকুনের হাসির আওয়াজ।অনেক দিন পর একটা অদ্ভুত সুন্দর বিকেল এসেছে তাদের জীবনে।

.


রাত নয়টা বাজে।রিকশা প্রচন্ড গতিতে ছুটছে।হুহু করা বাতাসে তুরার হিম ধরে যাচ্ছে।আবরার তুরার হাত আঁকড়ে ধরে বসে আছে।তারা রায়নার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রিকশা নিয়েছে।সন্ধ্যা হতেই বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।কিন্তু রাতে না খেয়ে কিছুতেই আসতে দিলো না রায়না।যদিও রায়না বলেছিল আজ থেকে যেতে।কিন্তু আবরার রাজি হলো না। 

তুরা আবরারের কাঁধে মাথা রাখলো।শিরশির করা বাতাসে তুরার মন ফুরফুরে লাগছে।সোডিয়াম বাতির আলোয় শহরটাকে অসহ্য মায়াবী লাগছে।বৃষ্টি ভেজা রাস্তা,পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্ট,উপরে নিকষ কালো আকাশের ছাদ,পাশে প্রিয় মানুষ।আর তার সাথে বৈশাখের মাতাল হাওয়া।অদ্ভুত রকমের ভালো লাগে তুরার।মনে হয়,এ কোনো স্বপ্নের দেশ।আবরার তুরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,

"কিছু দুঃখ নিয়েও আমরা সুখেই আছি।তাই না,তুরা?"

তুরা উত্তর দেয় না।মুখ লুকিয়ে হাসে।হঠাৎ রাস্তার ধারে টঙ দোকান দেখতে পেয়ে আবরার রিকশা থামাতে বলে।রিকশা থেমে যায়।তুরা মাথা তুলে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

"কি হলো?"

আবরার হেসে বলল, 

"চলো,দুজন মিলে চা খাই।"

তুরা বামদিকে তাকিয়ে একটা টঙ দোকান দেখতে পেলো।হাসিমুখে তারা রিকশা থেকে নামলো।দুজন হাত ধরাধরি করে টঙের দিকে এগিয়ে গেল।আবরার বলল, 

"মামা,দু'কাপ কড়া করে চা দিন।"

সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চিতে বসতে গিয়েই তুরার হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল।সেখানে এক দম্পতি বসে আছেন।তাদের কোলে ছোট্ট একটা বাচ্চা।দৃশ্যটা দেখে তুরার বুকের শূন্যতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।সে স্তব্ধ হয়ে বেঞ্চিটার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো।আবরার দুই কাপ চা হাতে এগিয়ে এলো।তুরার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, 

"কি হলো?দাঁড়িয়ে আছো যে?"

তুরা বলল, 

"ভালো লাগছে না।চলো,বাড়ি যাই।"

আবরারকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তুরা এগিয়ে গেল।আবরার কিছু বুঝে উঠতে পারলো না।কিছুটা সামনে গিয়েই তুরা থামলো।কি মনে করে যেন আবার ফিরে এলো।আবরারের হাত থেকে চা নিয়ে বলল, 

"চলো একসাথে চা খাই।"

আবরার কিছুই বুঝতে পারলো না।তাড়াতাড়ি চা শেষ করে রিকশায় উঠে বসলো দুজন।

___________________

রাত এগারোটা।তুরা বিছানায় শুয়ে আছে।আবরার বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেটে টান দিচ্ছে।তুরা কেঁদেকেটে বালিশ ভেজাচ্ছে।আবরার প্রথমে ভেবেছিল সে তুরার কাছে যাবে না।সান্ত্বনা দিতে গেলে যদি হিতে বিপরীত হয়?কিন্তু তনয়ের বলা কথাটা মনে পরতেই সে সিদ্ধান্ত বদল করলো।

 সিগারেট শেষ করে ঘরে ঢুকলো আবরার।বিছানায় শুয়েই তুরাকে বুকে টেনে নিলো।তুরার কান্না থামলো না।উল্টো বাড়লো।আবরার বলল, 

"এত কষ্ট একা কেন পাও?আমাকেও দাও না তোমার কষ্টগুলো।"

তুরা কিছু বলল না।আবরার তুরার কপালে চুমু দিলো।থুতনিতে হাত রেখে তুরার মুখ উঁচু করে ধরলো।চোখে চোখ রেখে বলল,  

"কেন এত কাঁদো?আমি কি নেই?আমি তো তোমার কাছেই আছি।"

তুরা মৃদু হাসলো।তার চোখে জল,আর মুখে মৃদু হাসি।ভীষণ সুন্দর লাগলো তাকে।তুরা নিঃশব্দে আবরারের বুকে মাথা রাখলো।আবরারের কথায় কি আছে তুরা জানে না।কিন্তু কথাগুলো শুনে তুরার মন ভালো হয়ে গেছে।প্রশান্তিতে হৃদয় ভরে উঠেছে।তার মনে হচ্ছে,এই মানুষটাই তার সবচেয়ে আপন।সবচেয়ে বেশি আপন।

.



চলবে.........





Writer: Alo Rahman 

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner