![]() |
Romantic Love Story |
বর্ষার শেষ দিক।তবুও সারাদিন মুষলধারে বৃষ্টি।সামনেই বৃষ্টির একটু বিশ্রাম নেওয়ার সময় আসছে।সে কারণেই বোধহয় বৃষ্টির বেগ ভীষণ বেশি।বাতাসের ঝাপটায় বৃষ্টি সরাসরি আবরারের মুখের উপর এসে পরছে।রিকশা খুব ধীরে চলছে।কেন ধীরে চলছে সেটা আবরার বুঝতে পারছে না।
আবরার বাসার সামনে রিকশা থেকে নামলো।নেমে হাতের ছাতাটা মেলতে পারার আগেই সে ভিজে গেল।রিকশাওয়ালার দিকে ত্রিশ টাকা ভাড়া এগিয়ে দিতেই উনি বলে উঠলেন,
"হইবো না।একশ ট্যাকা দেন।"
আবরার ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কি বলছেন আপনি?এটুকু রাস্তার ভাড়া একশ টাকা হয়?ভাড়া তো ত্রিশ টাকাই।"
রিকশাওয়ালা ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বলল,
"এই বরষার মাজে ভাড়ার হিসাব বদলাইয়া যায়।সারা রাস্তা ভিজতে ভিজতে আপনেরে লইয়া আইলাম যে।"
আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।একবার বলতে চাইলো,একশ তো মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়ে যাচ্ছে।ষাট টাকা নিন।কিন্তু পরক্ষণেই সে সিদ্ধান্ত বদল করলো।সারাদিনের কাজকর্ম শেষে আবরার ভীষণ ক্লান্ত।তার উপর এই ঝমঝম করা বৃষ্টি।কাজেই কথা বাড়াতে ইচ্ছা হলো না।টাকাটা রিকশাওয়ালার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আবরার ভেতরে চলে গেল।এই রিকশাওয়ালা আজ নিশ্চয়ই নিজের বন্ধুমহলে গর্ব করে বলবে, "আজ একখান আহাম্মক যাত্রী পাইছিলাম।দ্বিগুণ না,তিনগুণেরও বেশি আদায় কইরা ফালাইছি।"
.
লিফট থেকে বেরিয়ে ক্লান্ত পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল আবরার।আজ দরজায় তালা নেই।এর মানে হলো তুরা বাসায় ফিরেছে।কলিং বেলের সুইচ টিপলো আবরার।তারপর পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।কেন যেন ভীষণ রকম ক্লান্ত লাগছে আবরারের।আজ অফিসের লাঞ্চ ব্রেকের সময় আবরার একটু কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল।তুরার জন্য কিছু উপহার কিনতে চেয়েছিল।কিন্তু কি কিনবে সেটা বুঝেই উঠতে পারছিল না।এক ঘন্টা ঘুরেফিরে শেষে একটা বেলী ফুলের মালা কিনেই ফিরে এসেছিল সে।এই ঘোরাফেরার জন্য দুপুরে খাওয়াও হয় নি।সম্ভবত ক্লান্ত হওয়ার সেটাই কারণ।
বেশ কিছুক্ষণ পরেও দরজা খুললো না।আশ্চর্য তো!তুরা তো এত দেরি করে না দরজা খুলতে।আবরার আরেকবার বেল বাজালো।এবার দরজা খুলে গেল।দরজা খুলে তুরা হাসিমুখে বলল,
"সরি,দেরি হয়ে গেল একটু।"
তুরাকে দেখে আবরার প্রথমে হতভম্ব হয়ে গেল।সাথে সাথে তার সব ক্লান্তিও দূর হয়ে গেল।তুরা খুব সুন্দর করে সেজেছে।হলুদ রঙের ছাপার শাড়ি পরেছে,চোখে গাঢ় করে কাজল পরেছে,হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি।নাকের লাল পাথরের নাকফুল চিকচিক করছে।কি সুন্দর!কি অপূর্ব!সাজছিল বলেই কি দরজা খুলতে দেরি হলো তার?
তুরা বলল,
"দাঁড়িয়ে আছ কেন?ভেতরে এসো।তুমি তো দেখছি ভিজে গিয়েছ।"
কথা শেষ করে তুরা আবরারের হাত থেকে ছাতা আর ব্যাগটা নিয়ে ভেতরে চলে গেল।আবরারও পিছু পিছু গেল।আবরারের বলতে ইচ্ছা করছে,তুরা তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।একেবারে পরীর মতো।কিন্তু বরাবরের মতোই বলতে পারলো না আবরার।সে মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারে না,অনুভূতির প্রকাশ এত কঠিন কেন?
.
তুরা ঘরে ঢুকে আবরারের ব্যাগটা রাখলো।তারপর বলল,
" তুমি ফ্রেশ হও।আমি আসছি।"
তুরা চলে যাচ্ছিলো।আবরার ডাকলো,
"তুরা,একটু শুনবে?"
তুরা দাঁড়ালো।পিছনে ঘুরে বলল,
"বলো।"
আবরার ইতস্তত করে বলল,
"তোমার কি কিছু মনে আছে?"
তুরার ঠোঁটে হাসি খেলে গেল।সে ভেতরের উচ্ছ্বাস চেপে রেখে বলল,
"কি মনে থাকবে?"
"কিছুই মনে নেই?"
তুরা আমতা আমতা করে বলল,
"না,আমার কিছুই মনে নেই।"
বলেই দ্রুত পায়ে খানিকটা এগিয়ে গেল।দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে তাকালো।মৃদু গলায় প্রশ্ন করলো,
"তোমার কিছু মনে আছে?"
আবরার হেসে বলল,
"না তো।"
তুরা মুখ টিপে হেসে ঘর থেকে প্রস্থান করলো।আবরারও মৃদু হেসে নিজের কাজে মন দিলো।ব্যাপারটা হলো,আজ তাদের বিয়ের তারিখ।কত দ্রুত সময় গড়িয়ে বছর হয়ে গেল!আবরার ভাবতেই পারছে না এতগুলো দিন পেরিয়ে গেছে।গত বছর এমনই এক বর্ষার দিনে সে তুরাকে বউ করে ঘরে নিয়ে এসেছিল।তার মনে হয়,এইতো সেদিন সে তার বুবুর সাথে তুরাকে দেখতে গিয়েছিল।সাদা ওড়না মাথায় দিয়ে জড়সড় হয়ে বসেছিল মেয়েটা।আবরার তো এক বাক্যে না করে দিয়েছিল।একে তো এত ধনীর কন্যা,তার উপর তার তুলনায় মেয়েটা নিতান্তই বাচ্চা।তবে শেষ পর্যন্ত রায়নার জেদের কাছে হেরে গিয়ে রাজি হতে হয়েছিল তাকে।ভাগ্যিস রায়না জেদ করেছিল!নইলে নিজের এই প্রাণ ভ্রোমরকে সে পেতো কোথায়?
দিন তারিখ মনে না থাকার অসুখে আবরার আক্রান্ত।আজকের তারিখে যে সে বিয়ে করেছিল,সেটাও সে ভুলেই বসেছিল।অথচ দুপুরবেলা হুট করে ক্যালেন্ডারে চোখ যেতেই আবরার নড়েচড়ে বসলো।আবরার আশ্চর্য হয়ে গেল।কখনো দিন তারিখ মনে রাখতে না পারা মানুষটার কেমন অদ্ভুতভাবে একটা দিনের কথা মনে পরে গেল।কি আশ্চর্য!
.
রেখা মলিন মুখে বিছানায় বসে কানাডা যাওয়ার প্যাকিং করছে।গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে এসেছে তারা।আগামী পরশু তাদের ফ্লাইট।নিজেকে ভীষণ নির্লজ্জ মনে হচ্ছে রেখার।মাহিন তো তার জন্য কখনো ভাবে না।তবুও সে বেহায়ার মতো মাহিনের সাথে কানাডা যেতে চাইছে কেন?তার তো উচিত,অভিমানে মাহিনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যাওয়া।অবশ্য তাতেই বা লাভ কি?মাহিন তো তার অভিমানও বোঝে না।তাকে বেহায়া হয়েই বাঁচতে হবে।কারণ,সে যে ভালোবাসে!
রেখা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে নিতে রেখার হাতে পরলো একটা ছোট্ট বাক্স।রেখা সেটা হাতে তুলে নিলো।বাক্সটা খুলতেই বেরিয়ে এলো একটা ডায়মন্ডের নাকফুল।রেখা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।এই নাকফুল গতবছর বিবাহবার্ষিকীতে মাহিন তাকে দিয়েছিল।বউকে ভালোবাসতে না জানলেও বিবাহবার্ষিকীতে বিরাট একটা পার্টি মাহিন অবশ্যই করতে জানে।সেই সাথে দামী উপহার দিতেও ভুল করে না।রেখা নাকফুলসহ বাক্সটা বিছানার একধারে ছুড়ে ফেলে দিলো।কি দরকার এসব লোক দেখানো দামী উপহারের?এর থেকে তুরার মতো একটা সাধারণ লাল পাথরের নাকফুল পরে ঘুরে বেড়ানো অনেক বেশি সুখের।
মাহিন ঘরে ঢুকলো।অফিস থেকে ফিরেছে সে।এখানকার কাজগুলোর দায়িত্ব সে দিয়ে যাচ্ছে তার এক ভাইয়ের উপর।কাজগুলো বুঝিয়ে দিয়ে ফিরতে ফিরতে দেরি হয়ে গেছে আজ।রেখা মাহিনকে দেখেও দেখলো না।মাহিন সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে বলল,
"প্যাকিং শেষ?"
রেখা মাহিনের দিকে না তাকিয়েই সংক্ষেপে জবাব দিলো,
"না।"
"মিতি তিতি কোথায়?"
"ওদের দাদির কাছে বোধহয়।আমরা চলে যাচ্ছি বলে মায়ের খুব মন খারাপ।ভাবছি,আমি তোমার সাথে যাব না।মিতি তিতিকে নিয়ে এখানেই থেকে যাই।কি বলো?"
মাহিন স্থির দৃষ্টিতে রেখার দিকে তাকালো।শান্ত গলায় বলল,
"যাবে বলে যখন ঠিক করেছ,তখন চলো।আমি সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি যাওয়ার।মাও আমাদের সাথে যাবে।"
রেখা চকিত হয়ে মাহিনের দিকে তাকালো।স্বামীর দায়িত্ববোধ দেখে খুশি হলো।হেসে বলল,
"তাহলে তো ভালোই হলো।যাই,মাকে জানিয়ে আসি।মায়ের জিনিসও তো গোছাতে হবে।কিন্তু...."
"কিন্তু কি?"
"আমাদের বাড়ি কি ফাঁকা পরে থাকবে?"
"কেয়ার টেকার থাকবে।আর বাকি সবাই তো আছেই।আর আমি চেষ্টা করবো খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার।"
রেখা উঠে দাঁড়ালো।বলল,
"ভালোই হলো।মায়ের খেয়াল কে রাখবে সেটা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।তুমি ফ্রেশ হও।আমি চা আনি।"
রেখা চলে যাচ্ছিলো।মাহিন ডেকে উঠলো,
"রেখা,শুনো।"
রেখা থামলো।বলল,
"কি?"
মাহিন কিছুটা ইতস্তত করে বলল,
"দুই কাপ চা এনো।"
রেখা ভ্রু কুঁচকে বলল,
"দুই কাপ কেন?কোনো অতিথি আসবেন নাকি?"
মাহিন একটু থেমে বলল,
"না।"
"তাহলে?"
"আ...আজ তুমি আর আমি একসাথে বসে চা খাই?"
রেখা চমকে উঠলো।তার সারা শরীরে শিহরণ বয়ে গেল।তার হাত পা অদ্ভুতভাবে কাঁপতে শুরু করেছে।সে কি ঠিক শুনেছে?এরকম লাগছে কেন তার?সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করে কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলো,
"আমার সাথে চা খাবে?"
মাহিন আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলো,তার স্ত্রীর চোখ ভিজে উঠেছে।কি কথায় তার চোখে এত জল এসে পরলো সেটা মাহিন বুঝতে পারলো না।রেখা কি খুশিতে কাঁদছে?এই সামান্য ব্যাপারে এত খুশির কি আছে?তুলির কথা অনুযায়ী কি এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলোই মানুষকে ভালো রাখে?কে জানে?সে এসব অত বোঝে না।সে উঠে দাঁড়ালো।রেখার কাছে এগিয়ে গেল।রেখার গালে হাত রেখে বলল,
"আরেহ!কান্নাকাটির কি হলো?কেঁদো না,রেখা।যাও,চা নিয়ে এসো।"
বলেই তোয়ালে হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।রেখা হাঁটু গেরে মেঝেতে বসে পরলো।মুখে আঁচল চাপা দিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো সে।কেন এত কান্না পাচ্ছে সেটা রেখা বুঝতে পারছে না।বোঝার চেষ্টাও করছে না।তার অত বোঝার দরকার নেই।কিছু কিছু সময় অকারণেই কাঁদতে হয়।
.
আবরার বারান্দায় বসে আছে।মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছে সে।রাতের বর্ষণের আলাদা কিছু সৌন্দর্য থাকে।তার মধ্যে অন্যতম হলো,ল্যামপোস্টের আলোয় হলুদ বৃষ্টি দেখা।
বৃষ্টির জল বারান্দার ভেতরে এসে আছড়ে পরছে।আবরারের মনে পরছে,এক বছর আগের এই দিনের কথা।সেদিনও এভাবেই বৃষ্টি পরছিল।বৃষ্টির মাঝেই সে বরবেশে উপস্থিত হয়েছিল তার শ্বশুর বাড়িতে।তুরাকে যখন তার পাশে বসানো হয়েছিল,তখন অত মানুষের ভিড়ে সে ভালো করে তুরাকে দেখতে পারে নি।প্রথমবার ভালো করে দেখেছিল গাড়িতে ওঠার পর।গায়ে লাল শাড়ি জড়িয়ে,গা ভর্তি ভারী গয়নাগাটি পরে,পৃথিবীর সমস্ত রূপ নিয়ে তার পাশে বসে ঠোঁট ফুলিয়ে ফুলিয়ে কাঁদছিল তুরা।
আবরার তখন শুধু ছোট করে বলেছিল,তুমি এত কান্নাকাটি করো না প্লিজ।আমার সামনে কেউ কান্নাকাটি করলে আমার ভালো লাগে না।এই এক কথাতেই তুরার কান্না ধীরে ধীরে কমে এসেছিল।উত্তরার এই বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে তুরার নাজেহাল অবস্থা।সে না পারছিল ভারী বেনারসিটা সামলাতে,আর না পারছিল উঁচু জুতাটা সামলাতে।তার উপর বৃষ্টি।নতুন বউ বাড়ির ভেতরে পা রাখার আগেই তার বৃষ্টি বরণ হয়ে গেল।কি বিশ্রী দশা!তনয় সেদিন মজা করে বলেছিল,বৃষ্টির দিনে বিয়ে হলে ভালোবাসা বেশি হয়।আবরার কথাটা সেদিন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল।কারণ তখনও তার মনে বাসা বেঁধে ছিল অতীতের বেদনা।তুরা মেয়েটা যে এত জাদুকরী তা তো সে তখন বোঝে নি।
আবরারের স্পষ্ট মনে আছে,বাসর রাতে সে তুরাকে হারমোনিকা বাজিয়ে শুনিয়েছিল।তুরা ঠোঁট ফুলিয়ে বলেছিল, "এই গানের সুরটা কেন বাজালেন?আমি কি আপনাকে বেদনা দিয়েছি?"
কথাটা শুনে আবরার হোহা করে হেসে উঠেছিল।আজ এই কথা মনে হতেই আবরার আবারও হেসে ফেললো।
.
তুরা বারান্দায় এসে আবরারের পাশে বসলো।ভ্রু কুঁচকে বলল,
"একা একা হাসছো কেন?"
আবরার ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়েই বলল,
"তুমি কিন্তু বিয়ের সময় সত্যিই একটা বাচ্চা মেয়ে ছিলে।"
তুরা মুখ বেঁকিয়ে বলল,
"মোটেও না।আমার তখন ২৪ বছর বয়স ছিল।এখন ২৫ হয়েছে।"
আবরার হেসে ফেললো।হঠাৎ মনে পরার ভঙ্গিতে বলল,
"আচ্ছা,ভালো কথা।আজ এতকিছু রান্না করেছিলে কেন বলো তো?"
তুরা স্বাভাবিক গলায় বলল,
"আমার ইচ্ছা হয়েছিল তাই।"
বলেই উঠে দাঁড়ালো।গোলাপ গাছটার পাশে গিয়ে বসে পরলো।গাছের ফুলগুলো স্পর্শ করতেই অদ্ভুত আনন্দ হলো তার।কি সুন্দর ফুলগুলো!বৃষ্টি ছিটকে এসে গাছটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে।সেই পানিতে তুরার হাত ভিজে যাচ্ছে।কাঁচের চুড়িগুলো ঝুনঝুন শব্দ করছে।পানির কিছু ছিঁটেফোঁটা তুরার চোখেমুখেও পরছে।আবরার তুরার পাশে গিয়ে বসলো।একটা গোলাপ ছিঁড়তে যেতেই তুরা বাধা দিয়ে বলে উঠলো,
"খবরদার ফুল ছিঁড়বে না।আমার গাছের ফুল গাছেই সুন্দর।"
"মাঝে মাঝে গাছের ফুল তো খোঁপাতেও ভালো লাগে।"
"সেসব ফুল তো দোকান থেকেও কিনে আনা যায় না।গাছ থেকে ছিঁড়তে হবে কেন?"
"দোকানদার তো গাছ থেকেই ফুলগুলো নিয়ে আসে।"
"হ্যাঁ,আনে।কারণ উনারা ফুল ব্যবসায়ী।তুমি তো আর ফুল ব্যবসায়ী নও।"
আবরার হেসে ফেললো।তুরা এবার শাড়ির আঁচলের ভেতর থেকে আবরারের হারমোনিকা বের করলো।আবরারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"আজ এটা একটু বাজাবে?"
আবরার কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলো।তারপর হাতে নিয়ে বাজাতে শুরু করলো।তুরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।হারমোনিকার সাথে বৃষ্টির সুর মিলে কেমন অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করছে।তুরা সুরের সাথে তাল মিলিয়ে গুণগুণ করে গেয়ে উঠলো,
"এত প্রেম আমি কোথা পাবো নাথ....
তোমারে হৃদয়ে রাখিতে....
আমার সাধ্য কিবা....!"
হঠাৎ আবরার হারমোনিকা বাজানো থামিয়ে দিলো।তুরার ভ্রু কুঁচকে গেল।আবরার উঠে ঘরের ভেতরে গেল।প্রায় সাথে সাথেই হাতে বেলী ফুলের মালা নিয়ে ফিরে এলো।তুরাকে কাছে টেনে খোঁপায় ফুলের মালাটা জড়িয়ে দিলো।তুরা অবাক দৃষ্টিতে আবরারের দিকে তাকালো।আবরার স্ত্রীকে চুম্বন করে বলল,
"আমার মনে আছে,তুরা।আজকের দিনের কথা আমার মনে আছে।"
তুরার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো।সে আবরারের বুকে মাথা রেখে বলল,
"আমারও মনে আছে।"
আবরারের হৃদস্পন্দন কানে যেতেই তুরার চোখে হঠাৎ জল এসে পরলো।মাঝে মাঝে তার খুব ভয় হয়।এত সুখ সহ্য হবে তো?
.
চলবে........
Writer: Alo Rahman
