![]() |
Romantic Love Story |
আবরার আপাদমস্তক ভিজে দাঁড়িয়ে আছে।তার শরীর থেকে পানি বেয়ে পরে ড্রয়িং রুমটা ভিজে যাচ্ছে।তুরা ভ্রু কুঁচকে আবরারের দিকে তাকিয়ে আছে।একটা মানুষ এত বোকা কি করে হয়?এই ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কেউ ছাতা ছাড়া বের হয় নাকি?
আবরার হাসার চেষ্টা করে বলল,
"আসলে হয়েছে কি?আমি বাসা থেকে বের হতেই ছাতাটা ঝড়ো বাতাসে উল্টে গেল।তারপর কোনোরকমে রিকশা পেলাম।কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কি!ওই রিকশায় কোনো পলিথিনও ছিল না।পুরো রাস্তা এসেছি ভিজতে ভিজতে।আর এখানে এসে তো গেইটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে প্রায় আধঘন্টার মতো।কি যে ঝামেলা!এজন্যই বড়লোকদের বাড়িতে যাওয়া উচিত নয়।"
তুরার কপাল আরও কুঁচকে গেল।আবরার সেটা লক্ষ্য করে বলল,
"না....না মানে,কেন যাওয়া উচিত নয়?অবশ্যই যাওয়া উচিত।মা বাবার আদর পাওয়ার জন্য হলেও যাওয়া উচিত।"
তুরা বাঁকা চোখে তাকিয়ে রইলো।আবরার হাসার চেষ্টা করে বলল,
"দেখো,এভাবে তাকিয়ে থাকবে না।তোমাকে এমন গম্ভীরভাবে একদম মানাচ্ছে না।"
তুরা চোখমুখ স্বাভাবিক করে ফেললো।হাতে থাকা একটা তোয়ালে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"ঘরে যাও।"
আবরার ইতস্তত করে বলল,
"ইয়ে....কোন ঘরে?"
"এ বাড়িতে এসে যে দু'একবার থেকেছ,সেই দু'একবার কোন ঘরে থেকেছ?"
"তোমার ঘরে।"
"হ্যাঁ!তো সেখানেই যাও।"
আবরার ইতস্তত করে বলল,
"আজ কি এখানে থাকতে হবে?"
তুরা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জবাব দিলো,
"ইচ্ছা হলে থাকবে,ইচ্ছা না হলে থাকবে না।জোর করছে না কেউ।"
"ঠিক আছে,চলো তাহলে বাড়ি যাই।"
"আমি কোথাও যাচ্ছি না।"
কথা শেষ করে তুরা সেখান থেকে চলে গেল।আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে দোতলার ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
তুরার ঘরে সোনালি রঙের একটা আলো জ্বলে আছে।বরাবরের মতোই খুব সুন্দরভাবে গোছানো ঘরটা।আবরার ঘরে ঢুকলো ঠিকই,কিন্তু কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না।পায়ের আওয়াজ পেয়ে আবরার পিছনে ফিরে তাকালো।তুরা এসেছে।তার হাতে সাদা রঙের পায়জামা আর পাঞ্জাবি।সম্ভবত এগুলো তার বাবার।তুরা সেগুলো বিছানার উপর রেখে বলল,
"ভেজা জামাকাপড় বদলে নাও।তারপর নিচে এসো।মা খেতে ডাকছে।"
বলেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।আবরারকে কথা বলার সুযোগ দিলো না।আবরার দেয়ালে টাঙানো বিশাল ঘড়িটার দিকে তাকালো।রাত নয়টা বেজেছে প্রায়।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জামাগুলো হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
__________________________
মাহিন সবেমাত্র কাজ শেষ করে গা এলিয়ে দিয়ে বসেছে।তুলি ঘরে ঢুকলো।মাহিনের সামনে এগিয়ে এসে বলল,
"দুলাভাই,বড় আপা কাঁদছে কেন?"
মাহিন চমকে তাকালো।অবাক হয়ে বলল,
"রেখা কাঁদছে?"
তুলি অস্থির হয়ে বিছানায় এসে বসলো।বলল,
"হ্যাঁ,কাঁদছেই তো।বাইরে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে।"
মাহিন ইতস্তত করে বলল,
"আসলে....ও কেন যে কাঁদছে সেটা আমিও বুঝতে পারছি না।তখন হুট করে কাঁদতে শুরু করলো।কিছুই বুঝতে পারলাম না।"
তুলি এবার উঠে দাঁড়ালো।কাঠ কাঠ গলায় বলল,
"আজব মানুষ তো আপনি!আপনার বউ কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল,আর আপনি কিছুই করলেন না?বসে বসে কাজ করলেন?"
মাহিন থতমত খেয়ে বলল,
"ও যদি কাঁদে তাহলে আমার কি করার আছে?রেখা তো আর ছোট বাচ্চা নয়,তুলি।"
"দুলাভাই,আপনার উচিত ছিল আপার কান্না থামানোর চেষ্টা করা।একবার যদি বলতেন,রেখা,কেঁদো না।তাহলেই আপা থেমে যেতো।"
"আমি বললেই রেখার কান্না থেমে যেতো?"
"হ্যাঁ,যেতো।কারণ আপা নিশ্চয়ই আপনার কোনো ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছে।তাই কাঁদছে।"
"আমাকে এভাবে দোষারোপ করা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না,তুলি।আমি রেখার সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করি নি।আমি তো ওকে জিজ্ঞেসও করেছিলাম যে ও কেন কাঁদছে।কিন্তু ও তো বললই না,তার উপর কিসব এলোমেলো কথা বলে চলে গেল।"
তুলি কিছুক্ষণ রাগী চোখে তাকিয়ে থাকলো মাহিনের দিকে।তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।রেখা এখনও খোলা বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।হাপুশ নয়নে সে কাঁদছে।তুলি এগিয়ে গেল।রেখার পাশে দাঁড়ালো।কাঁধে হাত রেখে ডাকলো,
"বড় আপা।"
রেখা চমকে গেল।তাড়াহুড়ো করে ওড়নায় চোখমুখ মুছে ফেললো।নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,
"কিরে,তুলি?কিছু বলবি?"
তুলি ঠান্ডা গলায় বলল,
"হ্যাঁ,বলবো।তুমি এভাবে পাগলের মতো কাঁদছো কেন বলো তো?"
রেখা আমতা আমতা করে বলল,
"কাঁদছি কোথায়?কাঁদছি না তো।"
"ভেউভেউ করে কাঁদলে এতক্ষণ।আর এখন বলছো কাঁদছি না।কি আশ্চর্য,আপা!"
রেখা এবার থতমত খেয়ে বলল,
"ন...না।মানে,কানাডা চলে যাব তো।তাই খুব মন খারাপ লাগছে।"
তুলির কথাটা বিশ্বাস হলো না।সে বাঁকা চোখে রেখার দিকে তাকালো।তার বড় আপা এত সহজে কাঁদে না।সে যথেষ্ট শক্ত মনের মেয়ে।এই সামান্য কারণে সে মোটেও কাঁদছে না।তুলির দৃষ্টিতে রেখা ভড়কে গেল।মনে হচ্ছে,মেয়েটার দৃষ্টি তার অন্তর ভেদ করে ফেলছে।রেখা হাসার চেষ্টা করে বলল,
"আমি যাই,তুলি।মিতি তিতিকে খাওয়াতে হবে।"
রেখা চলে গেল।বলা ভালো,পালিয়ে গেল।তুলি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গায়ে বৃষ্টির জল মাখলো।তারপর রেখার ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো।মাহিন আধশোয়া হয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।তুলি দরজায় শব্দ করে বলল,
"দুলাভাই?আমি একটু আসবো?"
মাহিন চোখ খুলে উঠে বসলো।বলল,
"অবশ্যই,এসো।"
তুলি গিয়ে সেখানে দাঁড়ালো।গম্ভীর গলায় বলল,
"আপনাকে কিছু কথা বলবো আমি।একটু ধৈর্য ধরে শুনবেন?"
"বলো।"
"আচ্ছা,দুলাভাই?আপনি এত কাজ করেন কেন?"
মাহিন হেসে ফেলে বলল,
"এ আবার কেমন কথা?কাজ না করলে চলবে কি করে?আমাদের জীবন তো চালাতে হবে।তাছাড়া আমার মেয়ে দুটোর ভবিষ্যৎ আছে না?"
"শুনেন,দুলাভাই।জীবনে সবকিছুর প্রয়োজন আছে।আর সবকিছুতেই ভারসাম্যের দরকার আছে।শুধু একটাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যটাকে পাশে ঠেলে দিলে চলে না।"
"আমি কোনটাকে পাশে ঠেলে দিয়েছি?"
তুলির অত্যন্ত রাগ হলো।সে চোখ বন্ধ করে একবার শ্বাস নিলো।তারপর বলল,
"জীবনে কাজের বাইরে কি কিছু নেই?মাঝে মাঝে তো নিজের প্রিয় মানুষগুলোকেও একটু সময় দিতে হয়।আপার জন্য কখনো একটু সময় বের করেছেন আপনি?মিতি তিতিকে নিয়ে কিছুক্ষণ গল্প করেছেন কখনো?আমার আপা কি চায় তা বুঝতে চেষ্টা করেছেন?"
মাহিন নড়েচড়ে বসলো।খানিকটা বিভ্রান্ত হয়ে বলল,
"তোমার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না,তুলি।যাদের সাথে আমি একই বাড়িতে থাকি,তাদের আলাদা করে সময় দেওয়ার কি আছে?"
তুলি ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো।তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল,
"অত বুঝতে হবে না।শুধু আমি যা বলছি,তাই শুনবেন।তাহলেই দেখবেন সবাই ভালো থাকবে।আপনি নিজেও।এবার শুনেন।"
"বলো।"
"কাজ করার পরিমাণ সামান্য কমিয়ে দেবেন।এই ধরুন,মাত্র এক ঘন্টা।আর এই এক ঘন্টায় আপনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবেন।প্রথম কাজ,আপনার মায়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলবেন।উনি সারাদিন কি করেছেন সেসব শুনবেন।উনার শরীর কেমন আছে সেই খোঁজ নেবেন।দ্বিতীয় কাজ,বড় আপার সামনে দাঁড়াবেন।আপার দিকে ভালোবাসা নিয়ে তাকাবেন।আপাকে কেমন লাগছে সেটা বলবেন।তারপর আপার হাত ধরে বসে কিছুক্ষণ গল্প করবেন,একসাথে চা খাবেন।মাঝে মাঝে আপার জন্য বেলী ফুল,কাজল,শাড়ি,এসব কিনে আনবেন।আর তৃতীয় কাজ,মিতি তিতিকে কোলে নিয়ে আদর করবেন,ওদেরকে গল্পের বই পড়ে শোনাবেন।মাঝে মধ্যে একটু খাইয়েও দেবেন।পরিবারের সবার সাথে এমন কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে দেখবেন।আপনার ভেতরের যন্ত্র সত্তা ভেঙে মানব সত্তা বেরিয়ে আসবে।একটু ভালোবাসতে শিখুন,দুলাভাই।তাহলে আমার আপাকে আর কাঁদতে হয় না।"
তুলি থামলো।মাহিন কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।তুলি বলল,
"কি হলো?বুঝতে পেরেছেন আমার কথা?"
মাহিন হালকা কেশে জবাব দিলো,
"এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারি নি।তবে বোঝার চেষ্টা করছি।"
তুলি এবার হতাশ হলো।তারপর বিরক্ত গলায় বলল,
"থাক,আর বোঝার চেষ্টা করতে হবে না।আপনার মতো গর্দভেরা কিছু বোঝার জন্য এই পৃথিবীতে জন্মায় না।নিচে আসুন,মা খেতে ডাকছে।"
বলেই হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।মাহিন অবাক হয়ে গেল।আশ্চর্য মেয়ে তো!এভাবে মুখের উপরে গর্দভ বলে গেল?
.
ঘড়িতে রাত দশটা।টুকুন বিছানার একপাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।রায়না পাশেই বসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।তনয় ঘরে ঢুকলো।বেচারা ভালোই বিপদে পরেছে।বউয়ের পা ভেঙেছে বলে সব কাজ সেই করছে।রায়না বুঝতে পারছে না,তাকে কাজ করতে দিলে সমস্যাটা কি?সে তো এমনিতেই হাঁটতে পারে না।অন্য সময়েও হুইলচেয়ার ঠেলেই কাজকর্ম করে।এখনও তাই করতো।অসুবিধা কোথায়?
তনয় বিছানায় বসতে বসতে বলল,
"সব গুছিয়ে রেখেছি।তোমাকে কোনো চিন্তা করতে হবে না।"
রায়না তনয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি কিন্তু কাজগুলো করতে পারতাম।"
"রায়না,তুমি বেশি কথা বলো।আজকে বিকালেই তোমার পা ভেঙেছে।কোনোভাবে যদি ব্যাথা লেগে যায়।"
রায়না কথা ঘুরিয়ে বলল,
"মা ঘুমিয়েছেন?"
"হ্যাঁ,ঘুমিয়েছে।"
"মা কি খুব রেগে গিয়েছেন?"
তনয় ভ্রু কুঁচকে বলল,
"রেগে যাবে কেন?"
"এই যে,আমার অসাবধানতার জন্য তোমাকে যে কাজ করতে হলো।"
তনয় হেসে ফেলে বলল,
"জ্বি না,ম্যাডাম।বরং মা আমাকে কাজে সাহায্য করছিলেন।মা তো নিজেই সব কাজ করতে চাইছিল।কিন্তু ছেলে থাকতে মা কাজ করবে,এটা হয়?"
রায়না হেসে ফেললো।তার মন স্নিগ্ধতায় ছুঁয়ে গেল।তনয় মানুষটা খুব ভালো।রায়নার মাঝে মাঝে মনে হয়,এই মানুষটা আরও ভালো কাউকে পাওয়ার অধিকার রাখে।ভালোবেসে তনয়কে বিয়ে করে কি সে ভুল করে ফেলেছে?তনয়ের জীবনকে কি অহেতুক ঝামেলায় জড়িয়ে দিয়েছে সে?সারাজীবন কি একজন পঙ্গু মেয়েকে তনয় কেন বয়ে বেড়াবে?
তনয় বালিশ ঠিক করে শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।রায়না হঠাৎ বলে উঠলো,
"তনয়,একটা পঙ্গু মেয়েকে তুমি বিয়ে না করলেও পারতে।"
তনয় হকচকিয়ে রায়নার দিকে তাকালো।একমুহূর্ত চুপ থেকেই চিৎকার করে উঠলো,
"রায়না!কি ভাবো কি আমাকে তুমি?"
তনয়ের চিৎকারে টুকুন নড়েচড়ে উঠলো।রায়না টুকুনের গায়ে হাত রেখে তাকে শান্ত করে বলল,
"তনয়,রেগে যেও না।আমি সরি।টুকুনের ঘুম ভেঙে যাবে।"
তনয় উঠে দাঁড়িয়ে চাপা গলায় বলল,
"তুমি ঠিকই বলেছ।তোমাকে বিয়ে করে আমি ঠিক করি নি।চার বছর তোমার সাথে প্রেম করার পর যখন তোমার এক্সিডেন্ট হলো,তখন আমার উচিত ছিল তোমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া।"
কথা শেষ করে তনয় ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।রায়না নির্নিমেষ চেয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।তনয় যে এতটা রেগে যাবে সেটা সে ভাবতে পারে নি।পাশের ঘরে মা আছেন।কিছু যদি শুনতে পেয়ে থাকেন?রায়না চিন্তায় পরে গেল।তবে চিন্তা খুব বেশি সময়ের জন্য করতে হলো না।কারণ তনয় অল্পক্ষণ পরেই ফিরে এলো ঘরে।রায়নার পাশে বসে স্বাভাবিক গলায় প্রশ্ন করলো,
"ওষুধ খেয়েছ?"
তনয়ের শান্ত স্বরের প্রশ্নে রায়নার চোখে হঠাৎ পানি এসে গেল।সে মাথা নিচু করে কোনোরকমে উত্তর দিলো,
"হুম।"
তনয় রায়নার হাত ধরে বলল,
"স্বামী স্ত্রী একে অন্যের অপূর্ণতাগুলো ভালোবেসে মেনে নিয়ে পরস্পরকে পূর্ণ করবে,এটাই তো হওয়ার কথা।তাই না?এধরণের কথা আর কখনো বলবে না।"
রায়নার চোখ থেকে বড় বড় পানির ফোঁটা পরছে।সে ভেজা চোখ লুকানোর জন্য তনয়ের বুকে মুখ গুঁজে দিলো।এই চোখের পানি রায়না তাকে দেখাতে চায় না।
.
আবরার তুরার ঘরের বারান্দায় রাখা দোলনাটায় বসে আছে।অদূরে দাঁড়িয়ে তুরা বৃষ্টি গায়ে মাখছে।ঘরে সোনালি আলোটা জ্বলছে।সেই আলো তুরার গায়ে এসে পরছে।আবরার মুগ্ধ দৃষ্টিতে তুরাকে দেখছে।তার মনে হচ্ছে,বিশাল রাজপ্রাসাদের এক রাজকন্যার পাশে সে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।কি আশ্চর্য!এত ঝুম বৃষ্টিতেও এখন অব্দি একবারও লোডশেডিং হয় নি।বড়লোকদের বাড়িতে বোধহয় লোডশেডিং হলেও টের পাওয়া যায় না।
আবরার দোলনা ছেড়ে উঠে গেল।তুরার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
"সরি,আর কখনো এরকম করবো না।"
তুরা কিছু বলল না।সে বৃষ্টিস্নাত হতেই ব্যস্ত।আবরার আবার বলল,
"জীবনে আর কখনো ফোন সাইলেন্ট করবো না।"
তুরা তাও কথা বলল না।টেনশনে তো সে প্রায় মারা যাচ্ছিলো।আর এখন এসেছে ঢঙ করতে!
আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"তুরা,তোমার গোলাপ গাছটায় ফুল ফুটেছে জানো?"
তুরা আবরারের দিকে ঘুরে তাকালো।উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল,
"সত্যি?কয়টা গোলাপ ফুটেছে?ছোট নাকি বড়?"
আবরার হেসে বলল,
"এইতো!মুখে কথা ফুটলো শেষ পর্যন্ত।"
তুরা রাগ দেখিয়ে বলল,
"তুমি অত্যন্ত খারাপ একটা মানুষ।"
"সরি।আমি সত্যি বলছি,আর এমন করবো না।তোমাকে আর চিন্তায় রাখবো না।ক্ষমা করে দেওয়া যায় না?"
তুরা বলল,
"দেওয়া যেতে পারে।তবে শর্ত আছে।"
"কি শর্ত?"
তুরা হাতের উপর হাত গুঁজে বারান্দার কার্ণিশে হেলান দিয়ে বলল,
"আমাকে বৃষ্টি দিতে হবে।"
আবরার প্রথমে বুঝতে পারলো না।অসহায়ের মতো বলল,
"বৃষ্টি দেবো কি করে?"
তুরা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
"আমি অত জানি না।আমাকে বৃষ্টি দিতে হবে।তবেই তুমি শেষবারের মতো ক্ষমা পাবে।"
আবরার কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।তারপর হঠাৎই ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলল,
"চলো,আজ তোমাকে বৃষ্টি দেই।"
তারপর স্ত্রীর হাত ধরে ছাদের দিকে পা বাড়ালো।ছাদে পা রাখতেই ঝুম বর্ষণে ভিজে গেল দুজনে।বাগান থেকে আসা এক চিলতে আলো,ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ,পায়ে পায়ে উছলে পরা পানি;তার মাঝে জড়াজড়ি করে বৃষ্টিতে ভিজছে দুজনে।কি অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্ত!
.
নিজের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছে রেখা।এক জোড়া মুগ্ধ তরুণ তরুণী বৃষ্টির কথপোকথনের সাথে নিজেদের ভালোবাসা ছড়াতে ব্যস্ত।কি চমৎকার!
.
চলবে..........
Writer: Alo Rahman
