![]() |
Romantic Love Story |
বর্ষণমুখর সন্ধ্যারাত। ঘড়ির কাঁটা গড়িয়ে রাত আটটায় পৌঁছেছে। আবরার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো।বারান্দার ধার ঘেঁষে বৃষ্টির এক পশলা পানি এসে পরেছে। আবরার বারান্দার টিমটিমে নিয়ন বাতিটা জ্বালিয়ে দিলো। বৃষ্টির পানিটুকুকে পাশ কাটিয়ে বারান্দার কার্ণিশ ধরে দাঁড়ালো।শিরশির করা বাতাস এসে তার সারা শরীরে লাগলো।বাইরে প্রবল বৃষ্টি।রাস্তার সোডিয়াম বাতির আলো বৃষ্টিকে অন্যরকম মায়াময় করে তুলেছে।ভেজা রাস্তাটা কেমন যেন চিকচিক করছে।আবরার গোলাপ গাছটার দিকে তাকালো।আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলো,গোলাপ গাছে ফুল ফুটেছে।চার চারটা গোলাপ ফুটিয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে গাছটা।গোলাপের রঙ টকটকে লাল,নাকি ফ্যাকাশে লাল তা নিয়ন আলোয় ভালো বোঝা যাচ্ছে না।বৃষ্টির জলে গাছটা ভিজে গেছে,ঠান্ডা হাওয়ার সাথে মনের সুখে সে তার ডালপালা দুলিয়ে চলেছে।অতি সামান্য দৃশ্যও বড় অসাধারণ হয়ে ধরা পরলো আবরারের চোখে।আনন্দের আতিশয্যে সে চিৎকার করে তুরাকে ডেকে উঠলো,
"তুরা...!তুরা,জলদি এসো।তোমার গাছে গোলাপ ফুটেছে।"
ডাকার পরমুহূর্তেই তার মনে পরলো যে তুরা বাড়িতে নেই।ধুর!এমন হুটহাট করে বাপের বাড়ি যাওয়ার কোনো মানে আছে?বউয়ের বাপের বাড়ি খুব বেশি কাছে হওয়া উচিত নয়।আবরার বারান্দার দরজা আটকে দিয়ে ঘরে ঢুকলো।ঘরে আলো জ্বলছে।কেমন শূন্য শূন্য লাগছে।গোটা বাড়িতে তুরা নেই!উফ,কি অস্বস্তি!স্তব্ধতা চেপে বসছে আবরারের বুকে।
আবরার বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পরলো।সে ইতোমধ্যে তুরাকে অনেকবার ফোন করে ফেলেছে।কিন্তু তুরা একবারও ফোন ধরে নি।সম্ভবত তুরা প্রতিশোধ নিচ্ছে।আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে বসলো।অদূরে টেবিলের উপর তুরার আঁকার খাতাটা রাখা।আবরার সেদিকে এগিয়ে গেল।সোফায় বসে খাতাটা হাতে নিলো।তুরা একটা নতুন স্কেচ করেছে।স্কেচটা একটা বাচ্চা মেয়ের।মেয়েটা দাঁত বের করে হাসছে।কি সুন্দর হাসি!ছবির নিচে লাল রঙ দিয়ে তুরা লিখেছে, ‘কাজলপাখি’।সবটা দেখে প্রথমে আবরারের ভীষণ মন খারাপ হলো।মনের ভেতরে মা হওয়ার অদম্য ইচ্ছা আর কতটা হাহাকার নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তার বউটা!কিন্তু পরক্ষণেই পেন্সিলে আঁকা বাচ্চাটার হাসির দিকে তাকাতেই আবরারের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো।সে স্কেচবুক টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়ালো।নাহ,আর ভালো লাগছে না।তুরাকে নিয়ে আসা দরকার।আবরার মোবাইল আর ওয়ালেট নিয়ে দ্রুত পায়ে বাইরের দিকে পা বাড়ালো।
____________________________
দোতলায় দক্ষিণের খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে তুরা।বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছে সে।হুহু করা বাতাসে ঢেউ তুলে তার চুল উড়ছে,ওড়নার আঁচল উড়ছে।তার হাতে এক কাপ চা।চা খাবে বলেই এনেছিল।কিন্তু মুগ্ধ চোখে বৃষ্টির দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে তার চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।এখন আর চা খেতে ভালো লাগছে না।তুরা গলা উঁচিয়ে কমলাকে ডাকলো,
"কমলা খালা....কমলা খালা।"
সাড়া পাওয়া গেল না।দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে আবার বৃষ্টি দেখায় মন দিলো।বাগানে হলুদ আলো জ্বলছে।সেই আলোয় বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা সব গাছপালা দেখা যাচ্ছে।ঠান্ডা বাতাসে বৃষ্টির শীতল জল পান করতে করতে গাছগুলো নেচে চলেছে মহা আনন্দে।বাড়ির সদর দরজা বন্ধ।মজিদ মিয়া কিছুক্ষণ আগেই দরজায় লোহার বড় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তার থাকার ঘরটায় গিয়ে ঢুকেছে।তার জানামতে,বাড়িতে আর কেউ আসবে না।কিন্তু তুরা জানে যে আবরার আসবে।নিশ্চয়ই আসবে।আর এসে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে যে আবরারকে কি মহা ঝামেলাই পোহাতে হবে সেটা ভেবেই তুরা হেসে ফেললো।ঠিক হবে,একেবারে উচিত শিক্ষা হবে!
রেখা নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে তুরার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।জিজ্ঞেস করলো,
"কিরে?কি করছিস?"
তুরা চমকে পাশ ফিরে তাকালো।হেসে বলল,
"বৃষ্টি দেখছিলাম,আপা।মিতি তিতি কোথায়?"
"মায়ের কাছে আছে।নানিকে পেলে ওদের আর আমাকে লাগে না।"
তুরা হাসলো।রেখা বলল,
"কমলা খালাকে ডাকছিলি শুনলাম?"
"হ্যাঁ,চায়ের কাপটা নিয়ে যেতে বলতাম।কিন্তু খালা সাড়া দিলো না।"
"শুনতে পায় নি বোধহয়।আমায় দে।আমি রেখে আসছি।"
"না,বড় আপা।এখন আমিই যাবো নিচে।"
রেখা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
"আবরারের উপর রাগ করে চলে আসাটা কি ঠিক হলো?"
তুরা হেসে ফেলে বলল,
"অবশ্যই ঠিক হয়েছে।আমাকে সারাদিন এত চিন্তায় রাখলো যে!"
"আমার ধারণা আবরার কিছুক্ষণের মধ্যেই এখানে আসবে।তোরও তাই ধারণা।তাই না,তুরা?"
তুরা উত্তর দিলো না।সে কিঞ্চিৎ লজ্জা পেয়েছে।রেখা শান্ত গলায় বলল,
"ছেলেটা তোকে খুব ভালোবাসে,তুরা।"
তুরা মাথা নিচু করে বলল,
"বাসে।ভালোবাসে।ও হয়তো মুখে বলতে পারে না।কিন্তু আমি বুঝতে পারি।যেহেতু ও মুখ ফুটে কিছু বলে না,তাই বিয়ের পর অনেকদিন অব্দি আমি দোলাচলে ছিলাম।ও যেবার আমার রাগ ভাঙাতে এখানে চলে এলো,সেদিন আমার সব দ্বিধা কেটে গেল।কারণ ও মেকি কিছু করতে পারে না।ওর লিখা চিঠিটার প্রতিটি শব্দ কি গভীরভাবে অনুভব করেছিলাম আমি!আমি জানি,ও সবকিছু মন থেকেই লিখেছিল।কারণ ও মন ভোলানো মিথ্যা কথা বলতে পারে না।যতটুকু বলে মন থেকেই বলে।"
"আবরার তোকে চিঠিও লিখে নাকি?"
তুরা মাথা নিচু করে হাসলো।রেখা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"মুখে ভালোবাসার কথা বললেই তো ভালোবাসা হয় না।ভালোবাসতে সবাই জানে না।খুব বেশি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ কম হয়।"
তুরা ঝুম বর্ষণের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল,
"ঠিক বলেছো,আপা।আমরা কেউ কাউকে ভালোবাসি বলি নি কখনো।কিন্তু দিনের পর দিন একে অন্যকে অনুভব করেছি।মান অভিমান হয়েছে,তবে সেসব তো ভালোবাসারই অংশ।আমি এতদিনে যে জিনিসটা বুঝেছি সেটা হলো,একে অপরকে বুঝলেই সবটা সহজ হয়ে যায়।এই যে আমি খুব ভালো রান্না করতে পারি না,মাঝে মাঝেই অফিস থেকে দেরি করে ফিরি,এসব নিয়ে ও কখনো কোনো অভিযোগ করে নি।"
রেখা মৃদু হেসে বলল,
"আমার জানামতে,তুই নিজেও তো কোনো কিছু নিয়ে আবরারের কাছে অভিযোগ করিস না।এত বিলাসিতার মাঝে তুই বড় হয়েছিস,গাড়ি ছাড়া এক ধাপ কোথাও যাস নি,অথচ কি সুন্দর মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করছিস এখন।কোনোদিন এসব নিয়ে তুই আবরারকে অভিযোগ করিস নি,তা আমি জানি।"
তুরা হেসে বলল,
"আমার তো কখনো কোনো কিছুতে অসুবিধাই হয় নি।অভিযোগ করবো কি?"
রেখা মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
"তোরা দুজনেই দুজনকে বুঝতে পারিস।তাই তোরা এত সুখী।তুই খুব ভাগ্যবতী,তুরা!"
সুখ কথাটা শুনে তুরার চোখ ভিজে উঠলো।সে সত্যিই ভাগ্যবতী।শুধু তার কাজল যদি তার কাছে থাকতো!
রেখা তুরার গায়ে হাত রেখে বলল,
"কাঁদছিস কেন,বোকা?"
তুরা মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
"কিছু না।আমি যাই,আপা।চায়ের কাপটা রেখে বাবার সাথে একটু গল্প করে আসি।"
তুরা চলে গেল।রেখা ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে চলে গেল।মাহিন বিছানায় বসে ল্যাপটপে মুখ গুজে আছে।সন্ধ্যা থেকেই মাহিন একইভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে।রেখা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।এই মানুষটা কেন এরকম?তার কি কখনো স্ত্রীর সাথে একটু কথা বলতে ইচ্ছা করে না?কখনো ইচ্ছা হয় না?একসাথে দু'কাপ চা খেতে?কোনোদিন কি শখ হয় না স্ত্রী কন্যাদের নিয়ে একটু বেড়াতে যেতে?প্রশ্নগুলো রেখার দীর্ঘশ্বাস বাড়ায়।কেমন যেন ফ্যাকাশে তার জীবনটা।তার জন্য তার স্বামীর একবিন্দু সময় নেই।নিজের প্রয়োজন ছাড়া স্ত্রীকে সে কাছেও টানে না।রেখার ভেতর কেমন যেন ছেলেমানুষি জাগে।আচ্ছা?অষ্টাদশী প্রেমিকার মতো আবদার করলে কি এই মানুষটা তাকে একটু সময় দেবে?নাকি সারাজীবন শুধু টাকাপয়সাই দিয়ে যাবে?ভালোবাসতে কি শিখবে না একটু?তুলি ঠিকই বলে বোধহয়,সে আসলে যন্ত্রমানব!
রেখা উঠে দাঁড়ালো।ধীরে ধীরে মাহিনের পাশে গিয়ে বসলো।মাহিন নড়াচড়া করলো না।তার মনোযোগে একটুও ব্যাঘাত ঘটলো না।কেমন যেন মানুষটা!সুন্দরী স্ত্রী কাছে এসে বসেছে,অথচ তার কোনো ভাবান্তর নেই।রেখা বলতে চাইলো,আমার দিকে তাকাও।আমার সাথে একটুখানি কথা বলো।কিন্তু বলে উঠতে পারলো না কথাগুলো।রেখা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মাহিনের দিকে।চশমার আড়ালে মাহিনের চোখ দুটোয় শুধুই ব্যস্ততা।মাহিন এবার পাশ ফিরে তাকালো।ভুরু কুঁচকে বলল,
"কিছু বলবে?"
রেখার অনেক কথা বলার আছে।তবুও সে দু'দিকে মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো।মাহিন আবার বলল,
"তাহলে এখানে বসে আছ যে?"
রেখার রাগ হলো।কিছু বলার না থাকলে বুঝি তোমার কাছে আসা যাবে না?কিন্তু রেখা মুখে এসব কিছু বলল না।মৃদু গলায় বলল,
"এমনি।"
মাহিন আবার ল্যাপটপের দিকে দৃষ্টি ফেরালো।রেখা একইভাবে মাহিনের দিকে তাকিয়ে রইলো।মাহিন আবার ফিরে তাকালো।তার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।কেউ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে অস্বস্তি হয়।সে কপাল কুঁচকে বলল,
"কি হয়েছে তোমার,রেখা?মন খারাপ?"
মন খারাপ প্রশ্নটায় রেখার চোখে হঠাৎ জল এসে পরলো।সে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো।দুই ঠোঁট প্রসারিত করে বলল,
"আমার মনের খবর রাখার তোমার সময় আছে?"
মাহিন হতভম্ব হয়ে গেল।কিছুক্ষণ বিস্ময় নিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকলো।তারপর মৃদু গলায় বলল,
"রেখা,কাঁদছো কেন?"
"আমি কেন কাঁদি তুমি বুঝবে না।কোনোদিন বুঝবে না।"
মাহিন চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকলো।তারপর ধীরে ধীরে বলল,
"এভাবে কান্নাকাটি করো না,রেখা।আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছি।"
রেখার প্রচন্ড রাগ হলো।এ কেমন স্বামী?স্ত্রী কাঁদছে,তাও তার শুধু কাজেরই চিন্তা!একবার কি সে হাত বাড়িয়ে চোখের জল মুছে দিতে পারতো না?কেন দিলো না?রেখা এবার এক দুঃসাহসিক কাজ করে ফেললো,যা সাত বছরের বিবাহিত জীবনে সে কখনো করে নি।মাহিনের ল্যাপটপ বন্ধ করে সেটা বিছানার কোণায় ছুড়ে ফেলে দিলো।মাহিন ধমকের সুরে বলল,
"এটা কি করলে তুমি?তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?"
বলেই ল্যাপটপের দিকে এগিয়ে গেল।রেখার কান্না হঠাৎ থেমে গেল।কার জন্য কাঁদছে সে?তার কান্নার কোনো মূল্যই নেই লোকটার কাছে।তার দুঃখ সে বুঝলো কই?রেখা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো।শীতল গলায় বলল,
"কাজ নিয়েই তো জীবন তোমার।তাহলে কেন শুধু শুধু একটা রক্ত মাংসের মানুষকে বিয়ে করেছিলে?"
মাহিন উত্তর দিলো না।হতভম্ব চোখে রেখার দিকে তাকালো সে।রেখা আবার বলল,
"আমি বুঝেছি,আমার জন্য তোমার কখনোই সময় হবে না।শুধু শুধু বিরক্ত করলাম তোমাকে।সরি,আর এমন ভুল হবে না।"
কথা শেষ করে সে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।মাহিন হতবাক হয়ে বসে রইলো।রেখার এমন ব্যবহারের হেতু সে কিছুই বুঝতে পারলো না।কি ভুল হলো তার?
.
___________________
মাহবুব সাহেব বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছেন।পাশেই রত্না বেগম নাতনিদের সাথে বসে লুডু খেলছেন।তুরা তার বাবাকে খাইয়ে দিতে দিতে বলল,
"বাবা,অন্ধকারে আপু হুট করে পরে গেল।তারপর পায়ে ফ্যাকচার হয়ে গেল।এদিকে তোমার শরীর খারাপ।আমি যে কোন দিকে যাব সেটাই বুঝতে পারছিলাম না।কি যে দোটানা!তার উপর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি।"
মাহবুব সাহেব হাসলেন।বললেন,
"আমার শরীর তো এখন ভালোই আছে,মা।"
"না,বাবা।কিচ্ছু ভালো নেই।ডাক্তার চাচাকে আমি ফোন করেছিলাম।উনি বলেছেন তোমাকে বেশি বেশি করে খেতে।"
মেয়ের কথা শুনে মাহবুব সাহেব আবার হাসলেন।তুরা রাগ দেখিয়ে বলল,
"হেসো না,বাবা।আমি হাসির কথা বলছি না।"
বলেই তুরা উঠে দাঁড়ালো।তার বাবার খাওয়া শেষ।খাবারের বাটিটা পাশের টেবিলে রাখতেই কমলা এসে ঘরে ঢুকলো।হুড়মুড় করে তুলিও এলো।কমলা বলল,
"তুরা মা,মেজ জামাই আসছে।তোমারে খুঁজতেছে।"
বলেই সে ঘর থেকে চলে গেল।মাহবুব সাহেব প্রশ্ন করলেন,
"আবরার এসেছে?এই বৃষ্টিতে?"
তুলি ফিক করে হেসে ফেললো।তারপর বিছানায় বসে বলল,
"হ্যাঁ,বাবা।বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে উপস্থিত।এসে তো বেচারা বিরাট বিপদে পরেছিল।"
রত্না বেগম ভ্রু কুঁচকালেন।জিজ্ঞেস করলেন,
"বিপদ আবার কি?"
"মহাবিপদ,মা।দরজায় তো মজিদ চাচা তালা লাগিয়ে দিয়েছিল।কোনো উপায় না পেয়ে মিডলক্লাস দুলাভাই আমাকে ফোন করলো।আর বলল, তুলি,দরজাটা খুলে দিতে পারবে?আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।"
কথা শেষ করেই তুলি অট্টহাসিতে ফেটে পরলো।রত্না বেগমও মুখে আঁচল দিয়ে হেসে ফেললেন।সবার হাসি দেখে তুরার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।সে তুলিকে ধমক দিয়ে বলল,
"তোকে কতবার বলেছি না?ওকে মিডক্লাস দুলাভাই বলে ডাকবি না।বেয়াদব মেয়ে!"
বলেই রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
.
চলবে............
Writer: Alo Rahman
