> এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৪০ - Romantic Love Story - Boipoka365
-->

এই আলো আঁধারীর পথ পর্ব ৪০ - Romantic Love Story - Boipoka365

 


Romantic Love Story


তুরা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে বারবার ফোন ঘাটাঘাটি করছে। এই মুহূর্তে সে কাঁচের দেয়ালে ঘেরা একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে। বাইরে বৃষ্টি পরছে।ভেতর থেকে যতটুকু দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বৃষ্টি বেশ জোরেই পরছে। ঘড়িতে সময় প্রায় সন্ধ্যা ছয়টা। তুরা অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়ালো। তুরাকে উঠতে দেখে রেখা তাড়াহুড়ো করে বলল, 

"কি হলো,তুরা?উঠলি কেন?"

তুরা শান্ত গলায় বলল, 

"আপা,আমি যাই।"

রেখা অবাক হয়ে বলল, 

"এখনই যাবি মানে?আবরার তো এখনও এলোই না।"

তুরা উত্তর দিলো না।কাউকে বলল না যে সে ইতোমধ্যে আবরারকে অনেকবার ফোন করে ফেলেছে।এও বলল না যে আবরারের সাড়া না পেয়ে অনেকগুলো ম্যাসেজও পাঠিয়েছে।কিন্তু কোনোটারই কোনো উত্তর মেলে নি।

তুলি বলল, 

"মেজপা,মিডল দুলাভাই ফোন ধরছে না?"

তুরা আর পারলো না।ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, 

"আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।ও কোথায় আছে বুঝতে পারছি না।ফোন কেন ধরছে না?কোনো বিপদ হলো না তো?"

তুরার চোখে পানি আসার উপক্রম।সে দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে ভেতরের উথলে আসা কান্নাটা চেপে রাখলো।

রেখা তুরার হাত ধরে বলল, 

"আহা!চিন্তা করিস না।সব ঠিক আছে।তুই কি এখন বাড়ি যেতে চাস?"

"বুঝতে পারছি না,আপা।ও কি বাড়িতে গিয়েছে?ওর তো আমাদের অফিসের সামনে দাঁড়ানোর কথা ছিল।"

"তুই কি সেখানে যেতে চাস?"

"হ্যাঁ।"

মাহিন বলল, 

"বৃষ্টি কমুক,তারপর যেও।"

তুলি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 

"কেন,বড় দুলাভাই?আমরা তো গাড়ি নিয়ে এসেছি।বৃষ্টিতে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার তো কথা নয়।মেজপা,চলো।আমি যাচ্ছি তোমার সাথে।"

মাহিন বলল, 

"দাঁড়াও,আমরাও আসছি।"

বলেই গলা উঁচিয়ে ওয়েটারকে ডাকলো।তারপর বিল মিটিয়ে বেরিয়ে পরলো।তুরা ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।উৎকন্ঠায় সে ঘামতে শুরু করেছে।

.

গাড়ি চলতে শুরু করেছে।তুরার চিন্তা বাড়ছে।কোনো অঘটন ঘটে নি তো?তার বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করছে।আজ অব্দি আবরার কখনো এমন করে নি।তুলি বলল, 

"মেজপা,আরেকবার ফোন করে দেখো।"

তুরা তুলির দিকে তাকালো।তারপর কাঁপা হাতে আরেকবার আবরারের নম্বরে ডায়াল করলো।এবারেও কল রিসিভ হলো না।তুরা দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে শক্ত হয়ে বসে রইলো।

গাড়ি অফিসের কাছাকাছি আসতেই রাস্তার মাঝখানে ছোটখাটো একটা জটলা দেখা গেল।মাহিন গাড়ি চালাচ্ছিল।রাস্তা বন্ধ থাকায় তাকে থামতে হলো।তুরা অস্থির হয়ে বলল, 

"কি হলো,দুলাভাই?থামলেন কেন?"

মাহিন ইশারায় সামনে দেখিয়ে বলল, 

"রাস্তা বন্ধ।তোমরা বসো।আমি দেখে আসছি।"

তুরার অস্থিরতা বাড়লো।এখনই রাস্তা বন্ধ হতে হলো?মাহিন ছাতা নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেল।কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো।গাড়িতে উঠে বসে বলল, 

"সামনে আর গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না।যেতে চাইলে ফুটপাত ধরে হেঁটে যেতে হবে।"

তুলি ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইলো, 

"কেন?"

"সামনে একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে।তাই পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে।"

তুরার বুকে বিষম একটা আঘাত লাগলো।এক্সিডেন্ট হয়েছে!কার এক্সিডেন্ট হয়েছে?আবরারের কিছু হয় নি তো?তুরা হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠলো।রেখা চমকে উঠলো।তুরার গায়ে হাত বুলিয়ে বলল, 

"তুরা,তুই কাঁদছিস কেন?কাঁদিস না।"

তুলি জিজ্ঞেস করলো,

"যার এক্সিডেন্ট হয়েছে তার সম্পর্কে কিছু শুনেছেন,দুলাভাই?"

মাহিন উত্তর দিলো, 

"বেশি কিছু শুনি নি।লোকজন বলাবলি করছিল,কোনো এক যুবক ছেলের এক্সিডেন্ট হয়েছে।ছেলেটা রিকশায় করে যাচ্ছিলো।সামনে থেকে এক ট্রাক এসে ধাক্কা দিয়েছে।"

তুরার মস্তিষ্ক গুলিয়ে উঠতে চাইলো।চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে এলো।রেখা তাড়াতাড়ি গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দিলো।তুরার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, 

"তুরা,কি হয়েছে?তুরা?শরীর খারাপ লাগছে?"

তুরা উত্তর দিতে পারলো না।বন্ধ হয়ে আসা চোখজোড়া টেনে খুলে কোনোমতে বলল, 

"সে কি বেঁচে আছে?"

মিতি তিতি তুরার হাত ঝাঁকিয়ে বলল, 

"তুরা মা,আমাদের দিকে তাকাও।তুরা মা।"

তুরা চোখ খুলে রাখার চেষ্টা করলো।শেষবারের মতো মিতি আর তিতির ঝাপসা মুখ দুটো চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার।তারপরেই তার চোখজোড়া বন্ধ হয়ে গেল।

.


রায়না হাসপাতালের সাদা ধবধবে বিছানায় বসে আছে।তার পাশে বসে আছেন আম্বিয়া বেগম।ডাক্তার সাহেব রায়নার পায়ের এক্স রে রিপোর্ট দেখছেন।টুকুনের কোনো এক অজানা কারণে ভীষণ মজা লাগছে।ডাক্তারের হাতে থাকা এক্স রে প্লেটটার দিকে সে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।

তনয় জিজ্ঞেস করলো,

"সিরিয়াস কিছু,ডক্টর?"

ডাক্তার গম্ভীর মুখে বললেন, 

"খুব বেশি সিরিয়াস নয়।পায়ের হাড়ে সামান্য ফ্র‍্যাকচার হয়েছে।জাস্ট চিড়ে গিয়েছে আর কি!দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।"

তনয় উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, 

"কিন্তু ডক্টর,ও প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছিল।ব্যাথায় কাতরাচ্ছিল।"

ডাক্তার হেসে বললেন, 

"চিন্তা করবেন না।আপনারা একটু অপেক্ষা করুন।আমি এসে প্লাস্টার বেঁধে দিয়ে যাবো।আপনার স্ত্রী জলদি ঠিক হয়ে যাবেন।"

ডাক্তার বেরিয়ে গেলেন।তনয় চিন্তিত মুখে রায়নার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।রায়নার পায়ে আইস ব্যাগ দেওয়া হয়েছে।আম্বিয়া বেগম বললেন, 

"বৌমা,খুব কষ্ট হচ্ছে?"

রায়না দু'দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, 

"না,মা।"

.

আবরার হন্তদন্ত হয়ে সেখানে এলো।তাড়াহুড়ো করে রায়নার দিকে এগিয়ে গেল।অস্থির ভঙ্গিতে বলল, 

"বুবু,কি করে হলো এসব?খুব বেশি ব্যাথা পেয়েছিস?কষ্ট হচ্ছে?"

রায়না হাসার চেষ্টা করে বলল, 

"আমি ঠিক আছি,ভাই।"

তনয় বলল, 

"একদম ঠিক নেই।ফ্র‍্যাকচার হয়েছে হাড়ে।"

"বুবু,কি করে এমন হলো?"

রায়না উত্তর দেওয়ার আগেই টুকুন বলল, 

"মা পরে গেছে,মামা।"

আম্বিয়া বেগম বললেন, 

"হ্যাঁ,অন্ধকারে রান্নাঘরে যাইতে গিয়ে পরে গেল।"

আবরার করুণ দৃষ্টিতে তার বুবুর দিকে তাকালো।রায়না হেসে বলল, 

"আরেহ!তুই এত চিন্তা করছিস কেন?আমার তেমন কিছু হয় নি।"

আবরার কিছু বলল না।তার বুবুর সামান্যতম কিছু ঘটলেও সে তা সহ্য করতে পারে না।বাইরে ঠিকঠাক দেখালেও,ভেতরে ভেতরে সে আসলে চিন্তায় উলটপালট হয়ে যাচ্ছে।

ডাক্তার একজন সিস্টারকে সাথে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন।আবরার সামান্য একটু পাশে সরে গেল।ডাক্তার রায়নার পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধতে শুরু করলেন।তনয় বলল, 

"আবরার,তুরা কোথায়?"

আবরারের এবার টনক নড়লো।তুরা!তুরাকে তো সে ফোন করতেই ভুলে গেছে।এতবার কল করেছিল মেয়েটা!সে তো ফোনটা এখনও সাইলেন্ট রেখে দিয়েছে।তার বউটা বোধ হয় চিন্তায় মরেই যাচ্ছে।আবরার হতাশ ভঙ্গিতে বলে উঠলো, 

"আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে,দুলাভাই।"

রায়না বলল, 

"কি হয়েছে?"

আবরার চকিত হয়ে বলল, 

"আব...না,বুবু।কিছু না।আমি একটু আসছি।"

বলেই কেবিন থেকে বাইরে বেরিয়ে গেল।তাড়াতাড়ি ফোন বের করে অতি দ্রুত তুরার নম্বরে ডায়াল করলো সে।

______________________

তুরা মাত্রই চোখ খুলেছে।তার চোখেমুখে বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ পানি ছিটানো হয়েছে।সে রেখার বুকে মাথা রেখে বসে আছে।রেখা বলল, 

"ঠিক আছিস?"

তুরা উত্তর দিলো না।রেখা বলল, 

"পানি খাবি?"

তুরা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝালো।রেখা তুরার মুখে ঢেলে পানি খাওয়ালো।তারপর ওড়না দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিলো।তুরা ক্লান্ত গলায় বলল,

"আপা,আমি এখন কি করবো আপা?"

তুলি বলল, 

"মেজপা,তুমি অযথা চিন্তা করছো।"

তুরা ধমক দিয়ে বলল, 

"চুপ কর তুই!"

সাথে সাথেই তুরার ফোন বেজে উঠলো।তুরা তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো।আবরার ফোন করছে।তুরার বুকের ভেতর ছ্যাঁৎ করে উঠলো।তার চোখ জলে ভরে গেল।সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, 

"ও...ও ফোন করেছে!"

তুলি বলল, 

"তো কাঁদছো কেন?তাড়াতাড়ি ফোনটা ধরো।"

তুরা ফোন ধরলো।সাথে সাথে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল, 

"তুমি কোথায়?কেন এতক্ষণ ফোন ধরছিলে না?সেই দুপুর থেকে তোমাকে ফোন করছি আমি।কোথায় ছিলে তুমি?"

তুরার কান্না শুনে আবরার স্তব্ধ হয়ে গেল।এত চিন্তা করছে মেয়েটা তার জন্য?আবরার কোমল গলায় বলল, 

"তুরা!তুমি কাঁদছো?"

"তুমি কেন ফোন ধরলে না?আমার কি চিন্তা হয় না?"

আবরার অপরাধীর মতো বলল, 

"সরি,তুরা।তোমাকে এত টেনশন দেওয়ার জন্য সরি।আসলে আমার ফোন সাইলেন্ট ছিল।মিটিং শেষ করে ফোনের সাউন্ড অন করতে ভুলে গিয়েছিলাম।তোমাকে নিতে যখন অফিসের সামনে গেলাম,তখন প্রথম দেখলাম যে তুমি এতবার কল দিয়েছ।আমি তোমাকে কল দিতেই যাচ্ছিলাম,তখনই খবর পেলাম যে বুবুর পা ভেঙেছে।বুবু হাসপাতালে।তখন সেই চিন্তায় আমি ভুলে গিয়েছিলাম তোমাকে ফোন করতে।আসলে এত বেশি চিন্তা....."

আবরার কথা শেষ করতে পারলো না।তার আগেই তুরা চাপা গলায় বলল, 

"তুমি আমার কথা ভুলে গিয়েছিলে?"

আবরার থতমত খেয়ে গেল।তুরার এমন কন্ঠস্বর সে আগে কখনো শোনে নি।তুরার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হচ্ছে।তরতর করে তার মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে।এতক্ষণের সমস্ত চিন্তা আর উৎকন্ঠা পরিণত হলো রাগে।ভুলে গিয়েছি!কত সহজে কথাটা বলে দিলো!আবরার এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ কি করে করতে পারলো?রাগে তুরার মাথা ফেটে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

আবরার আমতা আমতা করে বলল, 

"তুমি ভুল বুঝছো,তুরা।আমি তোমার কথা কেন ভুলবো?আমি তো ফোন নামক বস্তুটার কথা ভুলেছি।হ্যাঁ,তোমাকে একবার ফোন না করে আমি অন্যায় করেছি।আমাকে ক্ষমা করে দাও।"

তুরা চোখ বন্ধ করে বড় করে একবার শ্বাস নিলো।তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 

"আপু কোন হাসপাতালে আছে?"

"তুরা,তুমি আমার উপর রাগ করো না প্লিজ।আমি...."

"আপু কোন হাসপাতালে আছে?"

আবরার থতমত খেয়ে বলল, 

"ইয়ে...এখন হাসপাতালে আসতে হবে না তোমাকে।বুবুকে এখনই ছেড়ে দেবে।বুবুকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে।"

তুরা কল কেটে দিলো।রাগে তার চোখমুখ লাল হয়ে গেছে।রেখা বলল, 

"কি হয়েছে,তুরা?"

তুরা কঠিন গলায় বলল, 

"কিছু না।"

রেখা আর তুলি একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো।তুরা সামনে তাকিয়ে বলল, 

"দুলাভাই,গুলশানের দিকে চলুন তো।রায়না আপুর কাছে একবার যেতে হবে।"

মাহিন বিনা বাক্য ব্যয়ে গাড়ি ঘোরাতে শুরু করলো।তুরা মিতি তিতিকে কোলে নিয়ে শক্ত হয়ে বসলো।তারপর জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো।রাগে তার চোখমুখ শক্ত হয়ে আছে।এভাবে টেনশন দেওয়ার কোনো মানে হয়?সে এবার আবরারকে এর জন্য একটা উচিত শিক্ষা দেবে।ভুলে গিয়েছি বললেই হলো?জন্মদিন ভুলে যাওয়া তো তুরা মেনেই নিয়েছে।তাই বলে সব ভুলে যাওয়া মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই।সারাটা দিন এভাবে উৎকন্ঠায় রাখবে কেন?আর একটু হলে তুরার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাচ্ছিলো।আবরার অন্যায় করেছে,অনেক বড় অন্যায়।তুরা কিছুতেই তাকে অত সহজে ক্ষমা করবে না।কিছুতেই না।অসভ্য লোক একটা!

.


রাত আটটা।বাইরে এখনও বৃষ্টি পরছে।রায়নাকে বাড়ি আনা হয়েছে।সে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে।তার পা রাখা হয়েছে একটা উঁচু বালিশের উপরে।প্রায় এক ঘন্টা হলো তুরা এখানে এসেছে।কিন্তু আবরারের সাথে একটা কথাও বলে নি।আবরার অসহায় দৃষ্টিতে তুরার দিকে তাকিয়ে আছে।তনয় আবরারের দিকে এগিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, 

"কি ব্যাপার,শালা বাবু? ঘটনা কি?তুরা রেগে আছে মনে হচ্ছে।"

আবরার ছোট করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, 

"ঝামেলা করে ফেলেছি,দুলাভাই।"

তনয় হেসে বলল, 

"সর্বনাশ!তোমার কপালে দূর্ভোগ আছে মনে হচ্ছে।"

আবরার কিছু বলল না।শুধু তুরার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

মিতি,তিতি আর টুকুন একপাশে বসে খেলছে।খেলার বিষয়বস্তু কার রেস।তিনজনের হাতে একটা করে গাড়ি আছে।মাঝে মাঝেই মিতি আর তিতি শব্দ করে হেসে উঠছে।রেখা বুঝতে পারছে না এত শব্দ করছে কেন মেয়ে দুটো?রেখা কিঞ্চিৎ ধমকের সুরে বলল,

"মিতি,তিতি,এভাবে আওয়াজ করো না।দেখছো না তোমাদের আন্টি অসুস্থ?"

মিতি বা তিতি কেউই কথাটা কানে তুললো না।আম্বিয়া বেগম বললেন, 

"থাক,মা।বাচ্চাকাচ্চারাই তো খেলবে।"

তুরা হাত থেকে চায়ের কাপ রেখে বলল, 

"আপু,তুমি সাবধানে থাকবে কিন্তু।আর ওষুধগুলো ঠিকমতো খাবে।"

রায়না হেসে মাথা নাড়লো।তনয় বলে উঠলো,

"চিন্তা করো না,তুরা।আমি খেয়াল রাখবো।আর মাও তো আছে।"

তুলি বলল, 

"এখন কিন্তু আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে।দেরি হয়ে যাচ্ছে।তাছাড়া ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।সারাটা দিন ঘুরে বেড়াবো,আনন্দ করবো ভেবেছিলাম।কিন্তু মিডল দুলাভাই যা চিন্তায় ফেললো!বাপ রে!মেজ আপার তো প্রাণ যায় যায় অবস্থা।"

আবরার বিষম খেলো।তুরা রাগী দৃষ্টিতে তুলির দিকে তাকালো।রেখা ইশারায় তুলিকে চুপ করতে বলল।তুলি মুখ টিপে হাসলো।রায়না বলল, 

"এখনই যাবে কি?রাতে খেয়ে যাবে তো।"

রেখা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 

"আজ না,রায়না।আজ এমনিতেই তোমাদের কত স্ট্রেস গেল।আরেকদিন এসে খাবো।আজ আসি।আর মাকে তো বলে আসি নি যে রাতে বাইরে খাবো।মা নিশ্চয়ই রান্নাবান্না করে বসে আছে।"

আম্বিয়া বেগম বললেন, 

"সময় করে এসো,মা।"

"জ্বি,আসবো।"

মাহিন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 

"তাহলে আজ আসি।আপনারা ভালো থাকবেন।"

তারপর মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বলল, 

"কই,মামনিরা?চলো,যেতে হবে তো।নানি আর নানুভাই অপেক্ষা করছে।"

মিতি তিতি দৌড়ে এলো।মাহিন তাদের নিয়ে বেরিয়ে গেল।তুলি রায়নার দিকে তাকিয়ে বলল, 

"আপু,আসছি তাহলে।আপনি সাবধানে থাকবেন।"

রায়না হেসে বলল, 

"সবাই এসেছিলে,খুব ভালো লাগলো।আবার এসো।"

তুরা উঠে দাঁড়ালো।হাসিমুখে সবাইকে বিদায় জানালো।টুকুনকে আদর করে দিয়ে বলল, 

"আজ তাহলে আসি।"

আবরার সাথে সাথে বলল, 

"হ্যাঁ,তুরা।চলো।রাত অনেক হয়েছে।"

তুরা রেখার দিকে এগিয়ে গেল।শক্ত গলায় বলল, 

"বড় আপা,আমি কারোর সাথে কোথাও যাচ্ছি না।আমি ধানমন্ডি যাবো,আমার বাবার বাসায়।"

আবরার অসহায় ভঙ্গিতে বলল, 

"তুরা!প্লিজ?"

তুরা একই ভঙ্গিতে বলল, 

"আপা,কেউ যেন আমাকে অযথা বিরক্ত না করে।"

বলেই রেখা আর তুলিকে নিয়ে গটগট করে বেরিয়ে চলে গেল।আবরার হতাশ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো।কি করবে সে এখন?

.



চলবে........





Writer: Alo Rahman 

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner