> জল পরী পর্ব ৫
-->

জল পরী পর্ব ৫

তোর ভাগ্যভালো তুই সততার পরিচয় দিয়েছিস,,
শিশীর এসব কথা কানে নিলো না,,
কারন ও জানে,, ভালো কিছু করলে,,তার ফলও ভালোই হয়
রাত হলো,,, পান সুপারি গুলো নিয়ে শিশীর বেরিয়ে পরলো
তারপর শিশীরের ঠোটে চুমু দিয়ে,,, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রদান করে পানিতে ডুব দিলো.  ..... 

শিশীর এই অন্ধকার পানিতে কিছুই বুঝতেছে না,, 
একটুপর খেয়াল করলো পানির গভীরে আলোর আবির্ভাব হয়েছে,, 
শিশীর চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো,, রোদমিলা এবার ওকে ছেরে শুধু হাত ধরে রেখেছে,, 
আলোটা এতটাই স্পষ্ট যে এই গভীর রাতেও মনে হচ্ছে সূর্যের আলো জ্বলছে,, 
রোদমিলার শরীর আর স্বাভাবিক মানুষের শরীরের মতো নেই,, 
ওর বিশাল একটা রঙীন লেজ,,, পোশাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে রোদমিলা একজন জলপরী,,,

শিশীর নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারতেছেনা,, 
আদৌ কি এমন সম্ভব নাকি ও স্বপ্ন দেখতেছে,,,

এখন পানির নিচে আর শিশীরের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে না,,

ওরা দুজন চলছে গভীর থেকে আরো গভীরে,,,
দীঘি যতটুকু গভীর না,, তার চাইতেও কয়েকশো গুন বেশি গভীরে ওরা চলে গিয়েছে,, 

বিভিন্ন রকমের অদ্ভুত জলজপ্রানী দেখতে পাচ্ছে,, 

শিশীর এতো সুন্দর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতে লাগলো,,
পানির নিচে আরেকটা জগতের বসবাস,,,
বিভিন্ন রকমের সাপ,ব্যাঙ,, কচ্ছপ,,  আর অনেক রকমের ছোট বড় প্রানীর চলাচল,, 

একটু দুরে একটা প্রাসাদের মতো দেখা গেলো,,

এমন প্রাসাদ শুধু রুপকথার গল্প শোনা যায়,,, 

গেটে দুজন প্রহরী,,
ওরা রোদমিলাকে দেখে সম্মান করে,, গেট খুলে দিলো,, 
শিশীরকে নিয়ে রোদমিলা প্রাসাদে প্রবেশ করলো,,

হাজার হাজার উৎসুক জলপরীরা শিশীরকে দেখতে আসলো,,,

শিশীর এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা ভয় পেলো,,, রোদমিলা ওকে শান্তনা দিলো,, বললো ভয় পাওয়ার কিছু নেই,, 
তুমি ই প্রথম মানব যে কি না এই জলপরীর রাজ্যে এসেছো,,
তোমার কোনো ক্ষতি কেউ করবে না,,, এরা সবাই তোমাকে স্বাগতম জানাতে এসেছে,, 

একটু পর,, শিশীরকে রাজদরবারে নিয়ে গেলো,,

উপস্থিত সবাই শিশীরকে দেখতেছে,,
শিশীর ও রাজপ্রাসাদের সৌন্দর্য উপভোগ করতেছে,,
একটু পর পর বিভিন্ন রকমের মিষ্টি আর সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করছে শিশীরের সামনে,,,
জলপরীদের নৃত্য দেখতেছে,,

আরো বিভিন্ন রকমের আয়োজন করা হইছে শিশীরের জন্য,, 

রোদমিলা বললো আমরা এখন পাতালে আছি,, এই প্রাসাদটা পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থিত,,  এখানে এর আগে কোন মানব প্রবেশ করেনি আর জানেওনা এখানে যে একটা রাজ্য আছে,,

তুমি খুব ভাগ্যবান,, এর জন্যই তুমি এখানে আসার সুযোগ পেয়েছো,,,

একটু পর রাজা ও রানী এসে সিংহাসনে বসলো,,

উনাদের দেখেই শিশীর চিনলো যে দুপুরের বুড়ো-বুড়ি এরা,,

তাহলে উনারা শিশীরকে পরিক্ষা  করার জন্যই গিয়েছিল,, 

রাজা-রানি শিশীরকে সম্মান প্রদর্শন করে,,  জিজ্ঞেস করলো সবকিছু,, 
কোনকিছুর আপ্যায়ন বাকি আছে কিনা,, জিগ্যেস করলো 

উপস্থিত সব খাদেম বললো,, তাদের সাধ্য অনুযায়ী সব রকমের আপ্যায়ন করা হইছে,,

শিশীরকে জিজ্ঞেস করলো,, জনাব আপনি কি সন্তুষ্ট? 

শিশীর খুশি হয়ে বললো,, জি জাহাপনা,, আমি সন্তুষ্ট আপনাদের মেহমানদারিতে,,

সবাই খুশি হলো,,

তারপর রানী জিজ্ঞেস করলো,,  আমাদের রাজকুমারী আপনাকে বিবাহ করতে চায়,,
আপনি কি রাজি আছেন? 

শিশীর বললো,, আমিও রোদমিলাকে ভালেবাসি,, কিন্তু কিভাবে সম্ভব এটা? 

রাজা বললো,, রোদমিলা তুমি কি চাও এখন? 

রোদমিলা বললো,, শিশীরের চাওয়াই আমার চাওয়া,, জাহাপনা

শিশীর বললো,,
আমি রোদমিলাকে মানুষ বানিয়ে ওকে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ হিসেবে রাখতে চাই,,

রাজা বললো,, এটা অসম্ভব,,  
ও এই রাজ্যের রাজকুমারী,,  ও কিভাবে সাধারন মানুষের মতো জীবন যাপন করবে?

এর চেয়ে ভালো হয়,, তুমি আমাদের মতোই একজন হয়ে যাও,,

শিশীর বললো,, বেয়াদবি মাফ করবেন,, জাহাপনা,,  
আমি একজন মানুষ,,  আমার আলাদা একটা জগৎ আছে,,

আর আমাদের জগতে কেউ তার স্ত্রীর পরিবারে থাকে না,,
রোদমিলা বললো,, জাহাপনা আমি মানবসভ্যতায় গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবো,, 
যদি আপনি আমাকে অনুমতি দেন,

রাজা রানী মন খারাপ করলো,, তাদের একমাত্র কন্যা তাদের ছেরে ভিন্ন জগতে চলে যাবে,,  এটা তাদের মানতে খারাপ লাগছে,, 

বললো,, ঠিক আছে,, এটার সিদ্ধান্ত আমরা পরে জানাবো,,

তারপর শিশীরের সংগে রোদমিলার পুরাতন সব বান্ধবীগুলো এসে মজা করলো,,

সবাই বিভিন্ন রুপে সেজে আছে,, 

ওদের মধ্যে একজন একটু গোমরা মুখ করা,,, 
শিশীরকে দেখে ও পছন্দ করতেছে না

শিশীর জিজ্ঞেস করলো,, কি হয়েছে আপনার? 
মন খারাপ কেনো? 

ওই জলপরী এসব শুনেই ভেসে চলে গেলো,, 

রোদমিলা বললো,,, ও তোমার উপরে রাগ,,
তুমি সেদিন মিষ্টি গুলো ফেলে রেখে গিয়েছিলে,,  তারপর সেই মিষ্টি গুলো অন্যমানুষের হাতে পরে,,
এর জন্য ও তোমাকে গরম নিশ্বাস দিয়েছিলো,, এর জন্যই তোমার জ্বর আসছিলো,,

শিশীর কিছু মনে করলো না,,

রোদমিলাকে বললো,,এখন আমাকে যেতে হবে,,

বাড়ির সবাই চিন্তা করতেছে,, 

রোদমিলা বললো,, ঠিক আছে,,  চলো তোমাকে নিয়ে যাই,,

এরপর আবার ওকে পানির উপরে নিয়ে আসলো,,

ফরজের আজান হয়নি এখনো,,

শিশীর তরিঘরি করে ফিরে গেলো,,

ভেজা শরীর এ ওর মামা হঠাৎ ওকে দেখতে পেলো,,
উনি অন্ধকারে লুকিয়ে দেখলো শিশীর কি করে?

শিশীর এতো রাতে কোথা থেকে আসলো,,
ও কি প্রতিদিন এমন করে,, এসব প্রশ্ন রতন গাজীর মনে জেগে উঠলো,,

উনি কথাটা মনে মনে রাখলো,, 
ভাগিনার হঠাৎ এমন পরিবর্তন কেনো,, সেই কারন খুজে বের করার পরিকল্পনা করলো,,

শিশীর সকালে উঠেই সবার সংগে জলপরী জগতের গল্প করতে লাগলো,,
সবাই এগুলো রুপকথার গল্প হিসেবে উপভোগ করতে লাগলো,, (পরের পর্ব পেতে আমার সাথে সংযুক্ত থাকুন, না হলে হোমে গল্প আসবে না) 
কিন্তু রতন গাজী এই গল্প টা শুনে,, আর অতিতে এই গ্রামে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা মিলিয়ে দেখলো,,,

তাহলে কি উনার ভাগিনা জলপরীর সংগে প্রেম করে? 






চলবে...






Writer:- Unknown
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner