> ডাক্তার ম্যাডাম পর্ব ১, ৩
-->

ডাক্তার ম্যাডাম পর্ব ১, ৩

ঘটক সাহেব আবার এসেছিলেন বাসায়।এবারের ছেলে একজন বড়সড় ডাক্তার।বিদেশ থেকে ডাক্তারি পাশ করে এসেছে। আমি তোর মতামত না জেনে কি করে হ্যাঁ করি,সেজন্য কিছুই বলি নি,এবার অন্তত রাজি হয়ে যা

তানিশা চেম্বারে যাবে বলে তাড়াতাড়ি করে রেডি হচ্ছিলো।তার মা মিসেস শিউলি বেগমের মুখে ডাক্তার ছেলের কথা শুনেও কোনো তোয়াক্কা না করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো তানিশা।
 এদিকে তার মা চিৎকার করে বলছে তানিশা কিছু তো বল?উত্তর দিচ্ছিস না কেনো?তুই কি জীবনেও বিয়ে করবি না?এভাবে আর কতদিন?

তানিশা নিজেও জানে না এভাবে আর কতদিন?তবে তারও ইচ্ছা করে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে।ভালোবাসার মানুষ টাকে সাথে নিয়ে জীবনটাকে সুন্দর করে সাজাতে।কিন্তু যখন সে ভালোবাসার মানুষ টাই নাই তার কাছে তাহলে কাকে নিয়ে সে এমন মধুর স্বপ্ন দেখবে?কার উষ্ণ ভালোবাসায় নিজের জীবন টা আরো রঙিন করবে?
তানিশা মনে করে কাউকে যদি একবার মন থেকে ভালোবাসা যায়,তাহলে তাকে শত চেষ্টা করেও ভোলা যায় না।আর যে চোখের আড়াল হওয়ার সাথে সাথে মন থেকে বের হয়ে যায়,তাকে আর যাই হোক ভালোবাসা বলা যায় না।সেজন্য তানিশা পুরনো ভালোবাসার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছে এখনো।সেই প্রথম স্পর্শ, সেই প্রথম ভালোবাসার অনুভূতি এতো সহজ এ কি করে সে ভুলতে পারে।এখনো সেসব স্মৃতি চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ভেসে ওঠে তার।

তানিশা নিজেও একজন এমবিবিএস ডাক্তার।সে বর্তমানে ঢাকা সরকারি হাসপাতালেই গাইনি বিভাগে আছে।তার অনেক বড় ইচ্ছা সে বিদেশ থেকে আরো অনেক বড় ডিগ্রি নিয়ে আসবে।দেশের নাম্বার ওয়ান গাইনিকোলজিষ্ট হবে সে।

চেম্বারে আজ অনেক রোগী এসেছে।কানায় কানায় পূর্ন চেম্বার।এই পরিস্থিতিতে দম ফেলার উপায় নেই তানিশার।ঠিক এই সময়ে ভয়ে ভয়ে এক বয়স্ক মহিলা (রোগীর লোক) তানিশার চেম্বারে ঢুকলো।আর বললো,

❝ডাক্তার ম্যাডাম❞একটা কথা বলতে পারি?

তানিশা আজ অনেক ব্যস্ত।তবুও সে ব্যস্ততার মধ্যেও চোখ তুলে তাকালো,
তানিশার তাকানো দেখে মহিলাটির চোখে মুখে ভয় আরো বেড়ে গেলো।মহিলাটি আমতা আমতা করছে।

তানিশা তখন বললো,জ্বি বলেন।

ম্যাডাম,আমার নাতনী জীবনেও এতো বড় ডাক্তার দেখেনি,তাই আপনাকে দেখতে চায়। সে এবার ক্লাসে এক রোল করেছে।পড়াশোনা করতে ভীষণ পছন্দ করে সে।সেও বড় হয়ে আপনার মত ডাক্তার হতে চায়। তাকে কি একটু আনবো ভেতরে? 

তানিশা সাথে সাথে বললো,হ্যাঁ অবশ্যই।

বয়স্ক মহিলাটি কথাটা শোনামাত্র তার নাতনিকে নিয়ে আসলেন।মেয়েটি ভয়ে ভয়ে তানিশার কাছে এগিয়ে আসলো। তার চোখে অবাক বিস্ময় আর খানিকটা সংকোচ। কিন্তু চোখে মুখে শ্রদ্ধার অবয়ব।মনে হচ্ছে  সে কোন মহামানব কে দেখছে!এমনভাবে হা করে তাকিয়ে আছে।

মেয়েটি দেখতে একদম পরীর মতো ছিলো। তানিশা দেখামাত্র মেয়েটিকে তার কাছে টেনে নিলো।আর বললো,কি মিষ্টি দেখতে তুমি!
তানিশা এবার মেয়েটির মাথায় হাত দিয়ে বললো, দুআ করে দিলাম। একদিন তুমিও অনেক বড় ডাক্তার হবে। 

মেয়েটি সেই কথা শুনে মুচকি হেসে দিলো এক দৌঁড়।তানিশা মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করার ও সুযোগ পেলো না।তানিশা অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো মেয়েটির দিকে।ছোট বাচ্চাদের প্রতি ভীষণ দূর্বল সে।পরিনত বয়সে বিয়ে করলে আজ তারও এমন পরীর মতো মেয়ে থাকতো।

হঠাৎ তানিশার ফোনে রিং বেজে উঠলো। তানিশার মা ফোন দিয়েছে।তানিশা বুঝতে পারলো তার মা কেনো ফোন দিয়েছে।তার মা আবার তাকে সেই বিয়ের কথাই বলবে।সেজন্য তানিশা কল রিসিভ করলো না।তাছাড়া তার এখন এমারজেন্সি একটা সিজারের রোগী আছে।তানিশা সেজন্য তাড়াহুড়ো করে অপারেশন রুমে চলে গেলো।

রোগী কে ইতোমধ্যে অপারেশন বেডে নেওয়া হয়েছে।আইভি ফ্লুইড দেওয়া হয়েছে।এমনকি এনাসথেসিয়াও করা হয়েছে।
কিন্তু তানিশা বেডে শুয়ে থাকা রোগীকে দেখে একদম চমকে উঠলো।তার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো।কারণ এ আর অন্য কেউ নয়।তারই বেস্ট ফ্রেন্ড তন্নি।

তন্নি নিজেও জানতো না তার সিজার তানিশাই করবে।কারন তন্নির হাজব্যান্ড ইকবাল নিজে নিজেই ব্যবস্থা করেছে সব।আর তখনকার সেই মিষ্ট পরীটা হলো তন্নিরই মেয়ে।তানিশা সবচেয়ে বেশি অবাক হলো তন্নির হাজব্যান্ড কে দেখে।কারন তন্নির বিয়ে তো তানিশার প্রেমিকের সাথে হয়েছে।তাহলে এ ছেলের সাথে তন্নির কিভাবে বিয়ে হলো?তানিশার মাথা যেনো মুহুর্তের মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠলো।সে এখন মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছে!তার এই বেস্ট ফ্রেন্ড তন্নির জন্যই আজ সে একাকি জীবনযাপন করছে।নিজের ভালোবাসার মানুষ কে ছেড়ে দিয়ে আজ সে এখন পর্যন্ত অবিবাহিতই রয়ে গেছে।

তন্নি ছোটো থেকে তার মামার বাসায় বড় হয়েছে।কারণ তন্নির বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় তন্নির মামা মিঃ তায়েব চৌধুরী তন্নি আর তার মাকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন।আর যেতে দেন নি তন্নিদের।তন্নির দুইজন মামাতো ভাই ছিলো।একজনের নাম ছিলো আমান আর আরেকজনের নাম ছিলো নোমান।

তানিশা আর তন্নি ছিলো বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী। 
আমান তখন অনার্স কম্পিলিট করে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আর নোমান তখন ঢাকা সরকারি মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের স্টুডেন্ট ছিলো।আমান অনেক সহজ সরল আর মিশুকে স্বভাবের হলেও নোমান মোটেও তেমন ছিলো না।নোমানের ভীষণ অহংকার ছিলো।ঢাকা সরকারি  মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতো দেখে ভীষণ অহংকার ছিলো নোমানের।অহংকারে মাটিতে যেনো পা পড়ে না তার।

তন্নি ছিলো তানিশার কলেজের একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই সুবাদে তানিশা অনেকবার গিয়েছে তার মামার বাসায়।কিন্তু একই বাসাতে থাকার পরও নোমান নিজের থেকে কোনোদিন তানিশার সাথে কথা বলে নি,সেজন্য তানিশাও কথা বলে নি।যদি নোমান আর তানিশা কোনোদিন মুখোমুখি হয়েছে যে যার মতো পাশ কেটে চলে গিয়েছে।তবে আমান সবসময় তানিশার সাথে কথা বলতো।তানিশার পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতো।দুই ভাই ছিলো সম্পূর্ণ দুই টাইপের।

ছোটবেলা থেকেই তানিশারও ভীষণ ইচ্ছা ছিলো সে মেডিকেলে পড়বে,ডাক্তার হবে।
আর হবেই না কেনো, সেই ছোটোকাল থেকে "এইম ইন লাইফ" রচনায় যে লিখে আসতেছে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই।ক্লাস টিচার থেকে শুরু করে পাশের বাসার আন্টি যখন জিজ্ঞেস করতো, তানিশা! বড় হইয়া কি হবে?বুক ফুলিয়া তখন বলেছে ডাক্তার হবো।এলাকার সবাই ভালো স্টুডেন্ট বলে জানতো তানিশাকে।তাই সে বড় কোনো সাবজেক্ট এ পড়ালেখা করবে এ নিয়ে সবার বেশ আগ্রহ।

অবশেষে অনেক পড়ালেখা আর প্রতিযোগিতা করে তানিশা ও চান্স পেয়ে গেলো ঢাকা সরকারি মেডিকেল কলেজে।বাবা মা আর আশেপাশের মানুষ জন তো ইতোমধ্যে ❝ডাক্তার ম্যাডাম❞বলে ডাকা শুরু করে দিয়েছে।শুনতে কিন্তু সেইরকম লাগে তার।!খুশির ঠেলায় ডানা মেলে পাখির মতো উড়তে ইচ্ছা করে তার।এতো আনন্দ এখন সে কই রাখে!

আর সবচেয়ে বড় কথা ঢাকা সরকারি মেডিকেল কলেজ এ চান্স পেয়ে সে যে নোমানের সমস্ত অহংকার ধুলিৎসার করতে পেরেছে এর জন্যই সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে তানিশার।
নোমান নাকি সবসময় তন্নিকে বলে,তোদের মতো স্টুডেন্ট দের নিয়ে আমার ভীষণ টেনশন হয়।তোরা যেভাবে পড়াশোনা করিস আমার তো মনে হয় না ভালো কোনো ভার্সিটিতে তোরা চান্স পাবি।

তন্নি নোমানের এমন কথা শুনে তানিশার ডাক্তার হওয়ার কথা বলে দিয়েছে।নোমান তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছে কথাটা।
মেডিকেলে পড়বে!ডাক্তার হবে!হাসালি আমাকে।ভালো স্টুডেন্ট এর কোনো নমুনায় তো দেখি না ওর মধ্যে।সারাদিন এদিক ওদিক যেভাবে ছুটে বেড়ায় ডাক্তার হওয়া তো দূরের কথা নার্স ও হতে পারবে না।



ডাক্তার ম্যাডাম!আই লাভ ইউ
উইল ইউ ম্যারি মি ডাক্তার ম্যাডাম?

মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর থেকে এইরকম মেসেজ দিনেরাতে আসতে থাকে তানিশার কাছে।সেজন্য মেসেজ অপশন অফ করে রেখেছে তানিশা, যাতে বাহিরের কেউ বিরক্ত করতে না পারে।কিন্তু আজ এই অচেনা ছেলেটার মেসেজ দেখে তানিশার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো।তানিশা ভাবতে লাগলো,
এই  ছেলেটি তার ফ্রেন্ডলিস্টে আসলো কিভাবে? তানিশার জানামতে সে তো অচেনা কোনো ছেলের ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করে নি।

তানিশা সেজন্য তাড়াতাড়ি করে মেসেজ টা চেক করতে লাগলো।কিন্তু মেসেজ টা সীন করার আগেই হঠাৎ তন্নি কল দিলো। তানিশা সেজন্য তন্নির কল আগে রিসিভ করলো।তানিশা ফোন রিসিভ করতেই তন্নি বললো,
তানিশা আজ তো বৃহস্পতিবার।সেজন্য কলেজ শেষ হওয়া মাত্র আমাদের বাসার দিকে রওনা দিবি।এক সেকেন্ড ও দেরী করবি না।কারণ তোকে আমার ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে।মনে হচ্ছে কত দিন ধরে দেখি না তোকে।
তানিশাকে দেখার জন্য নাকি তন্নির মন টা ভীষণ ছটফট করছে।আসলে তন্নি মেয়েটা ভীষণ একগুয়ে আর জেদী।সেজন্য যখন যেটা করতে বলে তানিশাকে সেটাই শুনতে হয়।আবার তানিশারও সব কথা শোনে তন্নি।কারণ অসম্ভব রকমের ভালো বন্ডিং ছিলো দুই বান্ধুবীর মধ্যে।মানে একজন আরেকজনের জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে রাজি আছে।
এই রকম বন্ধুত্ব সচারাচর দেখা যায় না আজকাল।

তন্নির এমন জোরাজোরি দেখে তানিশা কলেজ শেষ করেই তন্নির মামার বাসার দিকে রওনা দিলো।আগে মাঝেমধ্যে প্রায়ই যেতো,কিন্তু এখন আর যাওয়ার সময় হয় না তার।
তানিশা তার ড্রেস চেঞ্জ করার ও সুযোগ পেলো না।কারণ তন্নি তাকে আর এক মুহুর্ত ও থাকতে দিচ্ছে না দূরে।সেই থেকে কল করেই যাচ্ছে।তন্নির সাথে কথা বলতে বলতে তানিশা মেসেজ দেওয়া ছেলেটির কথা একদম ভুলেই গেলো।

মেডিকেলের স্টুডেন্টদের কাছে বৃহস্পতিবার  দিনটা সবচেয়ে বেশি আনন্দের দিন।কারণ বৃহস্পতিবার আসলেই যেনো প্রতিটা স্টুডেন্ট ঈদের আনন্দ অনুভব করে।সেজন্য বৃহস্পতিবারে হোস্টেলের সকল মেয়েরা অনেক অনেক আনন্দ করে।এই বৃহস্পতিবার হচ্ছে তানিশাদের রেস্টুরেন্ট বার।কারণ শনিবার কোনো বড়সড় পরীক্ষা না থাকলে তারা বাহিরেও ঘুরতে যাই সবাই।
সারা সপ্তাহ তাদের যেমনই কাটুক, এই একদিনের আনন্দে তারা পুরো সপ্তাহের সকল কষ্ট ভুলে যায়।কারো বার্থডে করা,একসাথে খাওয়া,চুটিয়ে আড্ডা,ক্লাসের খুনসুটি এগুলো নিয়ে খুব মজা করে হোস্টেলের প্রতিটা মেয়ে।

তানিশাদের এবারের শনিবারে কোনো এক্সাম নাই বিধায় সে তন্নিদের বাসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।তানিশা বাসার দিকে যাচ্ছে আর মনে মনে নোমান কে নিয়ে ভাবতেছে,
নিজেকে নিয়ে খুবই অহংকার করো।ভেবেছো তুমি ছাড়া আর এ দুনিয়ায় কেউ মেধাবী নেই।ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনা করো দেখে অহংকারে মাটিতে পা পড়ে নাই।আমাদেরকে মানুষ ই মনে করো নাই।এখন কোথায় গেলো তোমার সেই অহংকার?তোমার সব অহংকার তো একদম ধূলিসাৎ হয়ে গেলো।আমিও তো তোমার মেডিকেলেই চান্স পাইয়া গেলাম।এখন ঐ অহংকারী মুখখানা কেমনে দেখাবে?ইসঃ কি যে আনন্দ লাগছে আমার।এই ভেবে তানিশা খুশিতে একদম গদগদ হয়ে রয়েছে।

তানিশা তন্নিদের বাসায় ঢুকতেই তন্নির বড় ভাই আমানের সাথে দেখা।
আমান কোচিং এ যাচ্ছে।সেজন্য বেশ তাড়াহুড়ো করে বের হচ্ছিলো বাসা থেকে।তানিশাকে দেখামাত্র বলে উঠলো,
আকাশের চাঁদ আজ কোনদিকে উঠেছে?তোমাকে তো আজকাল দেখাই যায় না!

তানিশা আমানের কথা শুনে হেসে উঠে বললো,ভাইয়া সময় হয় না এখন।পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ প্যারার মধ্যে আছি।আগে জানলে মেডিকেলে কখনো ভর্তিই হতাম না।

--জানি জানি।আমাকে আর বলতে হবে না সে কথা।আমাদের ছোটো মিয়া তো মেডিকেলের পড়া পড়তে পড়তে  ইতোমধ্যে পাগল হয়ে গেছে।কোনদিন যে আমাদের ভুলে যায়।এই বলে আমান হো হো করে হেসে উঠলো।

হঠাৎ কলেজ থেকে নোমান ও বাসায় আসলো।তানিশার দিকে একবার তাকিয়েই তার ভাইকে জিজ্ঞেস করলো,ভাইয়া কয় টা বাজে দেখেছো?কোচিং এ যাবে কখন?

আমান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,ওহ শীট।ইটস টু লেট।তানিশা তুমি বাসার ভিতর চলে যাও।কোচিং থেকে এসে কথা বলছি।এই বলে আমান তাড়াতাড়ি করে চলে গেলো।

কিন্তু নোমান কোনো কথা না বলে তানিশার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করলো।
এই প্রথমবার অহংকারী ছেলেটার হাসি দেখার সৌভাগ্য হলো তানিশার।তানিশা মনে মনে ভীষণ চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলো।
সে ভাবতে লাগলো নোমান তাকে দেখে এভাবে হাসলো কেনো?না সে মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে ভাব জমাতে চাচ্ছে।
তানিশা ঠিক করলো সে কিছুতেই নোমান কে পাত্তা দিবে না।এতোদিন কথা বলা তো দূরের কথা সে তার সামনেই আসে নি।আর আজ হঠাৎ এমন হাসি দিয়ে চলে গেলো মনে হয় কত বছরের পরিচয় তাদের।
তানিশা তার লম্বা চুলের বেনুনি টা পিছন থেকে সামনে টেনে নিয়ে বাসার ভিতর প্রবেশ করলো।

আসলে তানিশার ধারণা ছিলো সম্পূর্ণ ভুল।কারণ নোমান হেসেছে অন্য কারণে।তানিশার গায়ে এখনো সেই সাদা এপ্রোণ টি জড়িয়ে রয়েছে।সে ড্রেস চেঞ্জ পর্যন্ত করে নি।নোমান তানিশাকে কলেজের ড্রেসে দেখেই এভাবে মুচকি একটা হাসি দিলো।নোমান মনে মনে ভাবলো মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে এপ্রোণ গায়ে দিয়েই গেস্টের বাসায় চলে এসেছে।হায়রে মেডিকেলের ছাত্রী!দুনিয়ায় আর মনে হয় কেউ মেডিকেলে পড়ে না।

 তানিশা বাসার ভিতর প্রবেশ করতেই দেখে নোমান ডাইনিং টেবিলেই বই নিয়ে বসে পড়েছে।মাত্র কলেজ থেকে ফিরেছে সে,কই একটু ফ্রেশ হবে,খাওয়াদাওয়া করবে তা না করে সোজা পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে।

আসলে নোমান সারাক্ষণ শুধু পড়ালেখাই করে।ফ্যামিলির যেকোন প্রোগ্রামেও তাকে দেখা যায় না।
এটা অবশ্য তার দোষ নয়।কারণ মেডিকেলের স্টুডেন্ট রা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ কিছুটা আনন্দে কাটালেও তৃতীয় বর্ষে কমিউনিটি মেডিসিন ও ফরেনসিক মেডিসিনের মতো কঠিন কঠিন সাবজেক্ট পড়তে হয়।সেজন্য চাপ টা একটু বেশি তাদের।আর সেজন্যই প্রচুর পড়তে হয়।কারো সাথে বসে গল্প করে অযথা টাইম ওয়েস্ট করে না তারা।

নোমানের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় অনেক আনরোমান্টিক আর ভীষণ  অহংকারী ছেলে একজন!যার হাতে সবসময় একখানা বই থাকবেই। আর মাথাটা থাকবে সবসময় নিচু।চশমা ছাড়া তো তার এক সেকেন্ড ও চলে না।সারাদিন পড়তে পড়তে অকালেই চোখ দুটি নষ্ট করে ফেলেছে সে।চশমা ছাড়া সবকিছু আবছা আবছা দেখে নোমান।
তানিশা নোমানকে দেখে মনে মনে ভাবতেছে আসলেই আপনার অনেক বেশি দেমাক,তা না হলে একবার তো কিছু একটা জিজ্ঞেস করা যায়,যেহেতু এটা তাদের বাসা।
 তানিশার মতো এমন সুন্দরী, মেধাবী আর ভদ্র মেয়ের সাথে কথা বলে না তাকে তো অহংকারীই বলা যায়।নোমানের ভাই আমান আবার ভীষণ পছন্দ করে তানিশাকে।তানিশার সাথে কি সুন্দর করে কথা বলে। দেখা হলেই ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে।

 হঠাৎ তন্নি এসে উপস্থিত হলো সেখানে।সে তো তানিশাকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরলো।আর আনন্দে তাকে নিয়ে ঘোরাতে লাগলো।তার খুশি যেনো আর ধরছে না।কতদিন পর দেখা তাদের!

তানিশাকে এভাবে ঘোরানোর ফলে তার মাথা যেনো বনবন করে ঘুরতে লাগলো।সে তখন বললো,তন্নি থাম এবার।পরে যাবো তো।
তন্নি সেই কথা শুনে থেমে গেলো।আর তানিশার হাত ধরে তার রুমের দিকে যেতে ধরলো। 

নোমান তবুও একটিবার তাকালো না অথচ দুই বান্ধুবি এতোক্ষণ কি চিৎকার চেঁচামেচিই না করলো।মনে হচ্ছিলো পাঁচ মিনিটের একটা সুনামি হয়ে গেলো।

তন্নির রুমে ঢুকতেই তানিশার, তায়েব চৌধুরীর সাথে দেখা।তায়েব চৌধুরীও তানিশাকে ভীষণ পছন্দ করেন।আর নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন।তানিশা মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে তায়েব চৌধুরী ভীষণ খুশি হয়েছেন।

তানিশা তায়েব চৌধুরী কে দেখামাত্র সালাম দিলো।তায়েব চৌধুরী সাথে সাথে সালামের উত্তর দিয়ে বললো, মা তানিশা কেমন আছো?পড়াশোনার কি অবস্থা।
তানিশাও হাসিমুখে উত্তর দিলো, আলহামদুলিল্লাহ মামা। অনেক ভালো আছি।আর পড়াশোনাও ভালোই চলছে।

হঠাৎ তায়েব চৌধুরী তন্নির দিকে তাকিয়ে বললো,এই না হলো আদর্শ বাপের আদর্শ মেয়ে।দেখ,এক চান্সেই সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলো।আর তুই কি করলি?
একই কলেজে পড়লি তোরা,একই সাথে কোচিং করলি তবুও তুই সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইলি না।আর তানিশাকে দেখ কোনো টাকা পয়সা খরচ না করেই এক চান্সে সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলো।

তন্নি তার মামার কথা শুনে এক মুহুর্ত ও থাকলো না সেখানে।মন খারাপ করে বেলকুনিতে চলে গেলো।কারণ তায়েব চৌধুরী এই কথাটা এখন রোজ রোজ বলে।যেটা শুনলে তন্নির ভীষণ কষ্ট হয়।এমনিতেই সে কোথাও চান্স পায় নি,তার উপর তার মামা আবার কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়।



তন্নি এবং তানিশা দুইজনই এইচ,এস,সি তে  গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে মেডেকেল এ চান্স পাওয়ার জন্য রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়।
দূর্ভাগ্যবশত তন্নি কোনো সরকারি মেডিকেল এ চান্স না পাওয়ায় সে দ্বিতীয় বার সুযোগ নিচ্ছে।যদি দ্বিতীয় বার ও না হয় তখন তার মামা প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করে দেবে।
কিন্তু তানিশা প্রথম সুযোগেই চান্স পেয়ে যায়।

তানিশা এই ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে।সে একটি রাত ঠিকভাবে ঘুমায় নি।তার মনের মধ্যে ভীষণ জিদ ছিলো।সে সবসময় একটি কথাই ভাবতো,
"সবাই যদি পারে তাহলে সে কেনো পারবে না"।

এদিকে তন্নি তায়েব চৌধুরীর কথা শুনে মন খারাপ করে বেলকুনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।তানিশাও সেখানে চলে গেলো।তানিশা তন্নির কাছে গিয়ে বললো,
তুই কি আমাকে সেই জন্য ডেকেছিস তোদের বাসায়?তুই মুখ গোমড়া করে থাকবি আর আমি তোর রাগ ভাঙ্গাবো?

তন্নি তখন কাঁদতে কাঁদতে বললো,মামা সবসময় শুধু তোর ই উদাহরণ দেয় এখন।কেনো যে তোর সাথে আমার দেখা হলো,আর কেনোই বা তোকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে এই বাসায় আনলাম!এখন দিনরাত তো শুধু এটাই শুনতে হয় আমাকে।আমি তো একজন মানুষ।আমার তো খারাপ লাগে।মামা কেনো যে এভাবে কষ্ট দেয় আমাকে বুঝি না কিছু।

তানিশা তখন তন্নির চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো, মামা তোর ভালোর জন্যই এভাবে বলে।তুই তাহলে মন দিয়ে পড়াশোনা করবি।প্রথমবার সুযোগ পাস নি তো কি হইছে,আরো একবার তো চান্স আছে।দ্বিতীয় বার ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবি।

তন্নি সেই কথা শুনে তানিশাকে জড়িয়ে ধরে বললো,তুই আবার মন খারাপ করলি নাকি?আমি কিন্তু মন থেকে কিছু বলি নি।

--না না। কিসের মন খারাপ?

হঠাৎ টুং করে আবার মেসেজ আসলো তানিশার ফোনে।

আই লাভ ইউ ডাক্তার ম্যাডাম প্লিজ রিপ্লাই দাও।আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।

তানিশা মেসেজটি এড়িয়ে যেতে চাইলো।কিন্তু তন্নি তার আগেই তানিশার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বললো,

কি ব্যাপার তানিশা?প্রেম করছিস নাকি?এতো টুং টুং করে কিসের আওয়াজ হচ্ছে?এই বলে তন্নি মেসেজটি সিন করলো।তন্নি মেসেজটি দেখে মাথায় হাত দিয়ে বললো,

--ও মাই গড।তানিশা এই ছেলেটা কে?১০০+ মেসেজ।

তানিশা তখন তন্নির হাত থেকে ফোন টা নিয়ে বললো,দূর চিনি না আমি।

তন্নি তখন তানিশার মাথায় একটা টোকা দিয়ে বললো,আমি কি ছোট বাচ্চা।যেটা বোঝাবি ওটাই বুঝবো।তুই যদি না চিনিস তাহলে এই ছেলে তোর ফ্রেন্ড লিস্টে আসলো কিভাবে?

তানিশা তন্নির কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে ছেলেটির সকল মেসেজ চেক করতে লাগলো।কারণ তানিশা নিজেও বুঝতে পারছে না,আসলে ছেলেটা কে?

কিন্তু ছেলেটির প্রথম মেসেজ দেখে তানিশা যেনো শূন্যে ভাসতে লাগলো।

এই তো সেই মেয়েটা, যে তানিশাকে তার ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট এক্সসেপ্ট করার জন্য বার বার অনুরোধ করেছিলো।আর বলেছিলো, আপু আমিও এবার মেডিকেলে চান্স নিতে চাই।প্লিজ হেল্প মি। আপনি কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন জানাবেন প্লিজ।

তানিশা তার সাধ্যমতো মেয়েটাকে সাহায্য করেছিলো।কোন কোচিং সেন্টার ভালো হবে,কি কি বই কিনতে হবে এসব বিষয় এ পরামর্শ দিয়েছিলো।তারপর থেকে রেগুলার মেয়েটি তাকে মেসেজ দিতে থাকে।কিন্তু তানিশা ব্যস্ত থাকার কারণে যথাসময়ে রিপ্লাই দিতে পারে না।কিন্তু যখন সময় হয় তখন কথা বলে।

কিন্তু আজ হঠাৎ সেই মেয়ে ছেলে হয়ে গেলো কিভাবে?কুইন শামিমা থেকে আজ কিং শামিম হয়ে গিয়েছে।তারমানে এটা ফেক আইডি ছিলো!এতোদিন সে এই ফেক আইডির সাথে কথা বলে তার মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে।

এদিকে তন্নি শুধু বার বার বলছে,কি হলো তানিশা?কিছু বলছিস না যে?ছেলেটাকে রিপ্লাইও দিচ্ছিস না?

তানিশা তখন তন্নিকে সব কিছু খুলে বললো।

এদিকে তানিশা মেসেজ সীন করায় ছেলেটি একের পর এক মেসেজ দিতেই আছে।ছেলেটি লিখেছে,

"এতোদিন আমি মিথ্যা কথা বলেছি।
আসলে আমি কোনো মেডিকেলে চান্স নিতে চাই না।এটা ছিলো তোমার সাথে কথা বলার বাহনা মাত্র।
আমি একজন ছেলে।
তোমাকে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে।
কিন্তু বলা হয়ে ওঠে নি। 
আমি একজন পুলিশ অফিসার।
আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি আর বিয়েও করতে চাই।

তানিশা কোনো উত্তর দিলো না।সে মনে মনে ভাবলো রিয়েল আইডির ছেলেদেরকেই পাত্তা দেই না,আর এই ছেলে আসছে ফেক আইডি দিয়ে প্রপোজ করতে। এসব লোকের সাথে আজাইরে কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না।সেজন্য ব্লক দেওয়ার জন্য ব্লক অপশনে যেতেই ছেলেটি আবার মেসেজ দিলো তানিশাকে,

--হ্যালো ডাক্তার ম্যাডাম!কিছু বলছো না কেনো?এতোদিন তো ভালোই কথা বলতে।তা আজ হঠাৎ এতো অহংকারী হয়ে গেলে কেনো?আমিও কিন্তু একজন নামকরা পুলিশ অফিসার।ইচ্ছা করলে তোমাকে তুলে নিয়ে যেয়ে বিয়ে করতে পারি।ভালোভাবে বললাম দেখে গায়ে লাগাচ্ছো না আমার কথা?

মেসেজ টা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো তানিশা।কারণ ঢাকা শহরে সে একলা থাকে।কোনো নিকট আত্নীয় কেউ নেই।শুধু আছে এই কলেজের বান্ধুবীটাই। এভাবে কেউ যদি হুমকি দেয় তাহলে তো ভয় পাবারই কথা।তবুও সাহস করে উত্তর দিলো তানিশা,

--বিয়ে করা তো দূরের কথা আপনি আমার ধারেকাছেও ঘেষতে পারবেন না।আর আপনি যত বড়ই অফিসার হন না কেনো আমার তাতে কিছু যায় ও আসে না।

--এতো অহংকার তোমার?মেডিকেলে পড়ছো দেখে কি এতো অহংকার দেখাতে হবে? 

তানিশা তখন বললো, অনেক পরিশ্রম করে মেডিকেলে চান্স পাইছি,সেজন্য তো একটু অহংকারী হবোই।

ছেলেটি তখন রাগের ইমোজি দিয়ে বললো,
--এই যে মিস তানিয়া।এরকম দুই চারটা মেডিকেল স্টুডেনদের আমি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

তানিয়া নাম শুনে ভীষণ হাসি পেলো তানিশার।সে তখন হা হা ইমোজি দিয়ে বললো,যে আমার নামটাই ঠিক করে জানে না,সে আবার নাকি আমাকে উঠে নিয়ে যাবে।তানিয়া না।আমি মিস তানিশা।আর আপনার পকেটে আপনি কাকে কাকে রাখবেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ছেলেটি তখন বললো, চ্যালেঞ্জ রইলো তোমার সাথে।শনিবার দেখি কি করে কলেজে ঢুকতে পারো তুমি?সোজা উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো তোমাকে।

 তানিশা এই মেসেজ দেখার সাথে সাথে তাকে চিরদিনের জন্য ব্লক লিস্টে পাঠিয়ে দিলো।তবে তার ভীষণ ভয় হতে লাগলো।ছেলেটি তাকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করলো কেনো?এখন সত্যি সত্যি যদি উঠিয়ে নিয়ে যায়?

তন্নি তানিশাকে এমন ভয় করা দেখে বললো,তুই আসলেই একজন পাগল মেয়ে।ও বললো আর তোকে উঠিয়ে নিয়ে গেলো?এতো সহজ?
আরে ফেসবুকে এরকম অহরহ ছেলে আছে যাদের কোনো কাজকর্ম নেই।হুদাই মেয়েদেরকে এভাবে ডিস্টার্ব করে আর ভয় দেখায়।

তানিশা তন্নির এমন শান্ত্বনা শুনেও তার আতংক কিছুতেই দূর হলো না।তার বুক দুরুদুরু করে কাঁপতে লাগলো।

এদিকে তন্নি তানিশাকে এমন ভয় করা দেখে তার মন ভালো করার চেষ্টা করতে লাগলো।তাকে ছাদে নিয়ে গেলো।সেখানে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে তারপর নিজের হাতে তানিশাকে নুডলস রান্না করে খাওয়ালো।বিকালবেলা আবার দুই মগ কফি বানিয়ে নিয়ে বেলকুনিতে বসে কিছুক্ষণ গল্প করলো।তানিশা সবকিছু ভুলে যাওয়ার ট্রাই করলো।আর তন্নির সাথে দিনটি উপভোগ করতে লাগলো।এই ভাবে হাসি আনন্দে কখন যে দিন পেরেয়ি রাত হয়ে গেলো তানিশা টেরই পেলো না।

রাতের বেলা হঠাৎ তন্নি মিউজিক এর সাউন্ড বেশি করে দিয়ে তার তালে তালে নাচতে লাগলো আর বলতে লাগলো,

আহা ঊ ঊ আহা ঊ ঊ
সাঁহ চুটকী জো তুনে কাতী হৈং
জোরী সে কাতী হৈং, যহাঁ বহাঁ
রোতী হূঁ, মেং তুঝসে রোতী হূঁ
মুঝে মানা লে না ও জান-এ-জান

ছেড়েংগে হম তুঝক
লড়কী তূ হৈং বড়ী বুম্বাত
আহা আহা আহা আহা
উহ লা লা, উহ লা লা,
উহ লা লা, উহ লা লা
তূ হৈং মেরী ফংতাসী
চূ না না, চূ না না,
চূ না না, চূ না না
অব মেং জবান হো গযী

তন্নি এবার তানিশাকেও ডাকলো তার সাথে ডান্স করার জন্য।
কিন্তু তানিশা আসতে চাইলো না।তন্নি তখন জোর করেই তানিশার হাত ধরে লাফাতে লাগলো।একেবারে যাকে বলে উরাধুরা নাচ।
তানিশা বুঝতে পারছে না তন্নিকে আজ হঠাৎ এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো?

হঠাৎ দরজায় দাঁড়িয়ে নোমান চিৎকার করে বললো,শাট আপ!কি শুরু করেছিস তন্নি?বন্ধ কর এসব গান বাজনা।
নোমান জোরে জোরে চিল্লাছে আর বলছে,এতো জোরে সাউন্ড দিয়ে কেউ গান শোনে নাকি?বাসায় তো তুই একা না?বাকি মেম্বারদের কথাও তো ভাবতে হবে?

নোমানের এতো জোরে জোরে চিল্লানি তন্নীর কানেই পৌঁছলো না।সে চোখ বন্ধ করে সেই আগের মতোই গানের তালে তালে ডান্স করছে।কিন্তু তানিশা নোমানের কন্ঠ শুনে অনেক আগেই থেমে গেছে।সে তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেই গিয়ে মিউজিক টা অফ করে দিলো।
এতোক্ষণে তন্নির হুঁশ ফিরে এলো।গান বন্ধ হওয়ায় সে যখন চোখ মেলে তাকালো,আর নোমানকে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সাথে সাথে বললো,

নোমান ভাইয়া আপনি এই সময়ে বাসায়?
আপনার না আজ ওয়ার্ডে ক্লাস আছে।







চলবে...







Writer:- মুমতাহিনা জান্নাত মৌ

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner